Textile Learner by Rafiul
Seamless Garments এবং বাংলাদেশে এর সম্ভাবনা (পার্ট - ০১)
Seamless Garments কি?
Seamless Garments হল কোন Sewing, কোন Seams এবং কোন Stitches ছাড়া একটি নির্দিষ্ট Knitting প্রযুক্তির সাহায্যে Circular Loom ব্যবহার করে তৈরি করা এমন পোশাক যা শরীরের সাথে পুরোপুরি মিশে থাকে, যা পরিধান করে মানুষ ভুলে যায় যে তারা আসলে কোন পোশাক পরেছে। আমরা জানি যে, বেশিরভাগ পোশাক কিছুদিন ব্যাবহার করার ফলে সেলাইতে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয় যা এই প্রযুক্তি ব্যাবহার করে কমিয়ে আনা যায়। কাটিং এবং সেলাইয়ের প্রক্রিয়াগুলো বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ পোশাক তৈরি ও উৎপাদনে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদান করে যেমন খরচ এবং সময় সাশ্রয়ের সাথে সাথে দ্রুত পণ্য উৎপাদনে ও গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।
Seamless Garments একধরনের বিশেষ পোশাক যা Seamless Knitting Machine দ্বারা তৈরি করা হয়। বর্তমানে যে পদ্ধতিতে Garments তৈরি করা হয় তার বেশিরভাগ কাজ শ্রমিকদের উপর নির্ভরশীল যে কারনে Garments তৈরিতে অনেক ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। অন্যদিকে Seamless Garments Technology পোশাক শিল্পকে এক অনন্য অগ্রগত এনেছে যার ফলে কাপড় কাটা এবং সেলাই প্রক্রিয়ার দরকার পড়ছেনা।
Seamless Garments Technology কিভাবে কাজ করে?
Seamless Garments তৈরি করার জন্য Cutting-edge Circular Knitting Machine ব্যবহার করা হয়, যার বেশিরভাগ ইতালিতে তৈরি হয়। এই Machine Preprogram করা কম্পিউটার কমান্ডের উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ Garments তৈরি করে যার সাহায্যে বিভিন্ন সেলাই প্যাটার্ন দিয়ে Garments তৈরি করা যায়। এটি একটি Finished বা Semi-finished Garments যেটাতে কোন সেলাইয়ের প্রয়োজন হয় না। এটি প্রচলিত Knitting Technology এর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে।
Seamless Garments এর সুবিধা
১। উন্নত এবং আরামদায়ক পোশাক
২। কম উৎপাদন খরচ
৩। কম বর্জ্য উৎপাদন
৪। কম লিড-টাইম
৫। গুণগতমান এবং স্থায়িত্ব
৬। Fabric কাটা এবং Garments সেলাই প্রক্রিয়া নির্মূল
৭। সীমিত জায়গায় কাজ সম্পন্ন করা যায়
৮। উৎপাদন সময় এবং খরচ সাশ্রয়
৯। ন্যূনতম সুতা খরচ
১০। উচ্চ উত্পাদনশীলতা
১১। মাল্টি-গেজ Knitting
১২। শরীরের নড়াচড়ার সর্বোচ্চ স্বাধরাছরা
১৩। Knitwear ডিজাইনারদের জন্য আরও সৃজনশীল সম্ভাবনা
Seamless Garments এর অসুবিধা
১। Seamless Garments উৎপাদনের কৌশলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে যার মধ্যে প্রধান সমস্যা হল প্রতিটি Loop এর Tension সমান রেখে ফ্যাব্রিক Take-down করা।
২। Seamless Garments তৈরির জন্য ব্যবহৃত মেশিনগুলি ব্যয়বহুল, এবং আরও দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন।
৩। Knitting এর সময় একটি ত্রুটি (বিশেষ করে একটি ছিদ্র) পুরো পোশাকের ক্ষতি করে।
৪। Seamed Garments এর তুলনায় পোশাকের দাম বেশি।
Seamless Garments এর ব্যাবহার
১। শার্ট
২। আন্ডারওয়্যার
৩। এয়ার ব্যাগ
৪। হাত মোজা
৫। টুপি
৬। মোজা
৭। সোয়েটার
৮। ট্রাউজার্স
৯। স্কার্ট
১০। ব্যান্ডেজ
১১। মেডিকেল টেক্সটাইল
১২। স্পোর্টস টেক্সটাইল
১৩। প্রতিরক্ষামূলক টেক্সটাইল
বাংলাদেশের কিছু Seamless Garments প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান
Fakhruddin Textile Mills Ltd.
Ecta Dhaka Ltd.
Ever Fashion
Shanghai All Link Logistics Ltd.
Marinetrans India Pvt. Ltd
New Line Clothings Ltd
Lm Trading Co. Ltd
16/04/2021
অস্তিত্ব সংকটে বাংলাদেশের তাঁতিরা
বাংলাদেশের তাঁত সম্প্রদায় অস্তিত্ব সংকট ও কঠোর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের দিন কাটাচ্ছেন যার প্রধান কারণ হল রঙ, সুতা, সানা, জ্যাকেট, ধনুক সহ কাপড় বুননে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং কোভিড -১৯ এর প্রভাব।
ইতিমধ্যে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে শাড়ি-লুঙ্গির দাম কমেছে। যার কারনে তাঁতীরা এই পরিস্থিতিতে একটি কঠিন সময় অতিবাহিত করছেন।
কোভিড -১৯ এর কঠিন সময়ে তারা ঋণ এবং সরকারী সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করলেও এটি কার্যকর হয়নি।বাংলাদেশের পাবনা, কুষ্টিয়া, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, কিশোরগঞ্জ এবং ঢাকার ধামরাই তাতঁ শিল্পের জন্য বিখ্যাত। এক সময় এই জেলাগুলোতে হাজার হাজার তাঁত ছিল। কিন্তু বর্তমানে এই তাঁত গ্রামগুলোতে তাঁতের সংখ্যা এখন প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। কারণ অনুসন্ধানের সময় তাঁতিদের দুর্দশার চিত্র বেরিয়ে আসে। এসব এলাকার তাঁতিরা পৈতৃক পেশা ছেড়ে যেতে না পারায় কোনওভাবে অর্থ ধার করে তাদের পৈত্রিক ব্যবসা এখনো ধরে রেখেছেন।
পাবনা জেলার আটঘরিয়া উপজেলার গোপালপুর, চাচিকিয়া ও একদন্ত অঞ্চল পরিদর্শন করে জানা গেছে যে আড়াইশো পরিবারের প্রায় ৯০০ জন তাঁতি শিল্পের সাথে জড়িত। এই গ্রামগুলোর প্রতিটি বাড়িতে দুটি বা তিনটি তাঁত রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি, যা স্থানীয়ভাবে "মেটে" তাঁত হিসেবে পরিচিত, যেখানে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সমান্তরালভাবে কাজ করেন। একজন মহিলা তাঁতির সাথে কথা বলা হলে তিনি জানান যেহেতু তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না, তাই তারা বাড়িতে লুঙ্গি বুননের কাজ করেন। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে তারা তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন। সাধারণ তাঁতগুলো ছাড়াও এই অঞ্চলগুলোতে এখন পাওয়ারলুম দিয়ে শাড়ি লুঙ্গি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যার ফলস্বরূপ পূর্বের তুলনায় অর্ধেক শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হচ্ছে, যে কারণে অনেক তাতঁ শ্রমিক তাদের চাকরি হারিয়ে অন্যান্য পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। আগে ক্রেতারা এখানে নিয়মিত তাঁতের তৈরি শাড়ি-লুঙ্গি কিনতে আসতেন তবে এখন তাদের আর দেখা যায় না। বিশেষত কোভিড -১৯ এর কারণে কোন ক্রেতা শাড়ি-লুঙ্গি কিনতে এখানে আসতে আগ্রহী নয়। স্থানীয় নির্মাতারা যানান তারা যত দ্রুত সম্ভব এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসলে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
তাঁত সম্প্রদায়ের এই সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায়?
এই পরিস্থিতিটি কাটিয়ে উঠতে নিম্নোক্ত কয়েকটি উপায় অবলম্বন করা যায় সেগুলো হলো
১। তাতঁ শিল্পের আধুনিকীকরণ: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মাতারা তাদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করতে পারে। যেহেতু তাঁত পণ্য তৈরি করতে প্রচুর পরিমাণে পানি প্রয়োজন হয়, তাই পোশাক শিল্পের পাশাপাশি এখানেও ইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করে এটি আধুনিকায়ন করা যায়। যেহেতু বিদেশে তাঁত পণ্যগুলির বিশাল চাহিদা রয়েছে, তাই বাংলাদেশি নির্মাতাদের তাদের শিল্পের পরিবেশের উন্নতি করে সরকারী সহায়তায় রফতানিতে অংশ নেওয়া উচিত।
২. সরকারী সহায়তার মাধ্যমে: সরকার নির্মাতাদের শূন্য সুদের ঋণ দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে পারে। বছরের শুরুতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের লাহোরপুরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেছিলেন যে তাঁত শিল্প বাঙালি জাতির একটি ঐতিহ্য তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এই শিল্পকে আধুনিক ও আধুনিকায়নে কাজ করছে এবং তারা তাঁতিদের কম সুদে ঋণ দেওয়ার কথা ভাবছে।
তাঁত শিল্প বাঙালি জাতির ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের সাক্ষী, তাই আমাদের সবার উচিত এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করা।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Contact the business
Telephone
Address
Pabna
6600