MOU RONG
18/01/2026
🖤 ভাষা শহীদ শফিউর রহমান — হুগলি থেকে ঢাকার রাজপথ, আত্মত্যাগে অমর 🖤
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের তালিকায় যাঁর নাম নীরবে উচ্চারিত হয়,
কিন্তু যাঁর আত্মত্যাগ ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ—
ভাষা শহীদ শফিউর রহমান তাঁদেরই একজন।
🔹 পূর্ণ নাম: শফিউর রহমান
🔹 জন্মস্থান: হুগলি জেলা, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারত
(বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
🔹 পেশা: ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী
শফিউর রহমান কোনো ছাত্রনেতা ছিলেন না,
ছিলেন একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মচারী।
কিন্তু মাতৃভাষার প্রশ্নে
তিনি ছিলেন সচেতন, সাহসী ও প্রতিবাদী।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি,
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকায় ছাত্রদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে,
শফিউর রহমান কর্মস্থলের কাছেই সেই আন্দোলনে যুক্ত হন।
১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও
তিনি রাজপথে দাঁড়ান—
কারণ তাঁর কাছে ভাষা ছিল চাকরি বা নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে,
ভাষা ছিল আত্মসম্মান ও পরিচয়ের প্রশ্ন।
সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা সংলগ্ন স্থানে
পুলিশের গুলিতে
শফিউর রহমান গুরুতর আহত হন
এবং পরে তিনি শহীদ হন।
শফিউর রহমান প্রমাণ করে গেছেন—
ভাষা আন্দোলন শুধু ছাত্রদের ছিল না,
এটি ছিল কর্মচারী, শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন।
হুগলির মাটি থেকে উঠে এসে
ঢাকার রাজপথে নিজের রক্ত দিয়ে
তিনি লিখে গেছেন ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।
🌹 ভাষা শহীদ শফিউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা 🌹
🖤 তোমার আত্মত্যাগ বাঙালির চেতনায় চিরজাগরুক
#ভাষা_শহীদ_শফিউর
#শফিউর_রহমান
#হুগলি
#ভাষা_আন্দোলন
#একুশে_ফেব্রুয়ারি
#বাংলা_ভাষা
#মাতৃভাষা
12/01/2026
🍁১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের মিয়ানওয়ালি জেলের ৭৩ নম্বর সেলে বন্দি ছিলেন। এই সময়টাতে তিনি কার্যত মৃত্যুদণ্ডের প্রহর গুনছিলেন—যেকোনো দিন তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কাই ছিল বাস্তবতা। পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের শাসনামলে বঙ্গবন্ধুকে নিঃসঙ্গ কারাবাসে রেখে আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে চরম সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি চলছিল।
কিন্তু ইতিহাস এক অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর—যুদ্ধশেষে পাকিস্তানের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙে পড়ার পর—গোপনে বঙ্গবন্ধুকে মিয়ানওয়ালি জেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁকে স্থানান্তর করা হয় জেল গভর্নর হাবিব আলি খানের সরকারি বাসভবনে। এখানে তিনি ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত অবস্থান করেন, যদিও তাঁকে তখনও তাঁর প্রকৃত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছুই জানানো হয়নি।
১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি বিকেলে বঙ্গবন্ধুকে রাওয়ালপিন্ডি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে শাহুল্লা (Shahdara/Shahulla অঞ্চল হিসেবে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখিত) গ্রামের একটি নির্জন সরকারি বাংলোয় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই রাতেই, আনুমানিক রাত ৯টার দিকে, সেখানে উপস্থিত হন পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক জুলফিকার আলী ভুট্টো।
তৎকালীন পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—শেখ মুজিব তখনও জানতেন না যে ইয়াহিয়া খানের পতনের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার আলী ভুট্টোই এখন দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ভুট্টো পরবর্তী প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন বৈঠকে বঙ্গবন্ধুকে এমন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতায় রাজি করানোর চেষ্টা করেন, যাতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বিভক্ত না হয় অথবা অন্তত ভবিষ্যতের কোনো ফেডারেল কাঠামোর সম্ভাবনা রাখা যায়।
কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন—বাংলাদেশের জনগণ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই অর্জনের প্রশ্নে কোনো আপস সম্ভব নয়। বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি পাওয়ার আগে তিনি কোনো লিখিত বা মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিতে কিংবা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবৃতি জারি করতে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকৃতি জানান। এই অবস্থানই প্রমাণ করে তাঁর অসাধারণ রাজনৈতিক দৃঢ়তা, আত্মমর্যাদা ও জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাস্তবতা ও পরিস্থিতির চাপে পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ।
হ্যাশট্যাগ
#বঙ্গবন্ধু #শেখমুজিবুররহমান
#মিয়ানওয়ালি_জেল #৭৩নম্বর_সেল
#মুক্তিযুদ্ধ #বাংলাদেশের_ইতিহাস
#১৯৭১ #স্বাধীনতা
#জুলফিকার_আলী_ভুট্টো
#ঐতিহাসিক_মুহূর্ত
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the school
Telephone
Website
Address
Mirpur
1216