GateWay Trips
12/09/2014
ভুটান : বাড়ির পাশে অবাক রাজ্য
হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ ভুটান। দেশটির উত্তরে চীনের তিব্বত অঞ্চল এবং দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমে ভারত। ভুটান শব্দটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ 'ভূ-উত্থান' থেকে, যার অর্থ 'উঁচু ভূমি'। ভুটানের মানুষগুলো কর্মঠ, তাদের মুখে লেগে থাকে হাসি। অবাক রাজ্যখ্যাত দেশটি ঘুরে আসতে পারেন সহজে।
* যেভাবে যাবেন
ভ্রমণকারীদের জন্য ভুটানে যাওয়া বেশ সুবিধাজনক। দেশটিতে প্রবেশের পর পাসপোর্ট জমা দিলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পাওয়া যায় ভিসা। ঢাকা থেকে ভুটান যাওয়ার সহজতম পথ হচ্ছে ভুটানি বিমান ড্রুক এয়ারলাইন্সে যাত্রা করা। এ ছাড়া ভারতের ভেতর দিয়ে সড়কপথে ভুটান যাওয়ার বিকল্প একটি পথ রয়েছে। বিমানে ঢাকা থেকে ভুটানে পৌঁছতে সময় লাগে আনুমানিক দেড় ঘণ্টা। বিমান যখন ভুটানের মাটিতে অবতরণ করে, তখন বিমান থেকে বাইরে তাকালে মনে হবে বিমানটি যেন পাহাড়ের ফাঁকফোকর দিয়ে এঁকেবেঁকে মাটির দিকে নামতে যাচ্ছে, এই বুঝি পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগবে।
* যা করবেন
পুরো শহর আপনি পায়ে হেঁটেই দেখে নিতে পারেন। তবে শহরের বাইরে যেতে চাইলে আপনাকে ট্যাক্সি নিতে হবে। রিজার্ভ কারেও যেতে পারেন। পাওয়া যাবে কিংস ট্রাভেল থেকে। যোগাযোগ- ০৯৮৩০৪-২৮৪০১ এবং ০৯৩৩১৯-৩৯৪৮৬।
* কখন যাবেন সুখের দেশ ভুটান?
শীতকাল ভুটানে বেড়ানোর উপযুক্ত সময় নয়। আগস্ট থেকে অক্টোবর এই তিন মাস ভুটানে বেড়ানোর উৎকৃষ্ট সময়। বর্ষাকালে ভুটানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় বলে বর্ষা মৌসুমেও দেশটিতে বেড়ানো কঠিন। ভ্রমণের জন্য দেশটি বেশ নিরাপদ। পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের পছন্দের স্থানগুলোতে ঘুরতে পারেন।
* থাকার হোটেল
পারো বিমানবন্দর থেকে বাইরে এলে দেখা মেলে অনেক ট্যাক্সি ও বিভিন্ন হোটেলের প্রতিনিধিদের, যারা বিদেশি যাত্রীদের নিয়ে যাওয়ার জন্যই অপেক্ষমাণ। এদের সঙ্গে আলোচনা করেই নিজেদের বেড়ানোর ও থাকার ব্যবস্থা করে নেওয়া যেতে পারে।
* প্রবেশ পদ্ধতি
পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া ভুটান সরকার সরাসরি পরিচালনা করে না। তবে সঠিক সনদপত্র না থাকলে ভুটানে প্রবেশের ক্ষেত্রে দর্শনার্থীরা প্রত্যাখ্যাত হবেন। বাংলাদেশি পর্যটকরা যে প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে পারেন। ভুটান প্রবেশের আগে অভারতীয়দের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিস থেকে পাসপোর্টে বহির্গমন স্ট্যাম্প লাগিয়ে নিতে হয়। তাই জয়গাঁ পৌঁছে বাস ড্রাইভারকে বলুন আপনাকে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন অফিসের সামনে নামিয়ে দিতে। অফিসটি ভুটান গেট থেকে হাঁটা দূরত্বে সিনেমা হলের কাছে রাস্তার বামদিকে অবস্থিত।
ভুটান গেটে অবস্থানরত ভুটানি বর্ডার গার্ডকে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃক প্রদত্ত ভিসা ছাড়পত্র প্রদর্শন করুন। বর্তমান ভিসা ডকুমেন্ট, পাসপোর্ট, এক কপি ছবি এবং ২০ ডলার ভিসা প্রসেসিং ফি ভুটান গেটের অভ্যন্তরে অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে প্রদান করুন। অতঃপর ছাড়পত্র ডকুমেন্টে প্রদত্ত সময়সীমা অনুসারে ভুটানি কর্তৃপক্ষ আপনাকে ভিসা দেবে।
* যেখানে খাবেন
ভারতীয় শহর জয়গাঁয় খেতে পারেন। এখানে ইন্ডিয়ান রেস্টুুরেন্টে সব ধরনের বাঙালি খাবার পাবেন। ফুন্টসোলিংয়ের ভুটানি রেস্টুরেন্টে খেতে চাইলে সাধারণ রেস্তোরাঁ এড়িয়ে চলাই ভালো। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খেতে চাইলে ড্রক হোটেলের রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন। হোটেল গ্যালিংয়ে সহনীয় মূল্যে আকর্ষণীয় সব ইন্ডিয়ান ভেজিটারিয়ান রেসিপির স্বাদ নিতে পারবেন। আর টাশি কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে পেস্ট্রি শপে কেক-পেস্ট্রির স্বাদ নিতে ভুলবেন না।
* যা যা দেখবেন
ভুটানের প্রধান জাতীয় মহাসড়কের শুরু ফুন্টসোলিং থেকে। শেষ হয়েছে পূর্বদিকের ৫৫৭ কি.মি. দূরবর্তী শহর ট্রাশিজাংয়ে। রাস্তাগুলো সাপের মতো এঁকেবেঁকে ক্রমশ উঁচু পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে থিম্পুর দিকে এগিয়ে গেছে। চলমান গাড়ির হেডলাইটের আলোয় রাতের রাস্তার এই অপূর্ব দৃশ্য আপনার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হবে।
শহরের নিচ দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী তোরসা। তোরণ পেরিয়ে অদূরে বাসস্ট্যান্ড ঘিরে হোটেল, বাজার, দোকানপাট, রেস্তোরাঁ, মিগ সিনেমা প্রভৃতি দিয়ে সাজানো। বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ব্লু-ড্রাগন হোটেলের পেছনে পার্ক ও সুন্দর কারুকার্য করা মন্দির ছাড়াও বিদেশি পণ্যের দোকানপাট রয়েছে পার্ককে ঘিরে। শহরের উত্তরে তোরসা ও দুতি নদীর মাঝে উঁচু মালভূমিতে গড়ে ওঠা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট দেখে নিতে পারেন। আরও যেসব স্থাপনা আপনার মনে মুগ্ধতা ছড়াবে সেগুলো যথাক্রমে- ভুটান গেট, আমো চু, জ্যাংঢো পালরি লাখাং, কার্বান্ডি মনাস্ট্রি, খরবন্দি গুম্ফা প্রভৃতি। এর বাইরেও আরও কিছু মনোরম জায়গায় বেড়িয়ে আসতে পারেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Website
Address
Khulna