Mufti Muhammad Abdullah Hanafi

Mufti Muhammad Abdullah Hanafi

Share

23/04/2026

সম্মানিত ইমাম ও খতীব সাহেবদের "ভাই" বলা — একটি অনুচিত সম্বোধন প্রসঙ্গে~
---------------------------------------

আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। মসজিদের ইমাম সাহেব খুতবা দিচ্ছেন, দরস দিচ্ছেন, ফতওয়া দিচ্ছেন — আর মুসল্লিরা তাঁকে ডাকছেন "ভাই" বলে। বিষয়টি শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর মধ্যে একটি গভীর সাংস্কৃতিক ও দ্বীনি সমস্যা লুকিয়ে আছে।

আলেমের মর্যাদা কুরআনের দৃষ্টিতে
আল্লাহ তাআলা সুরা ফাতিরে ইরশাদ করেছেন —

> **إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ**
"আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করেন।"
এই আয়াত আলেমদের একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। যাঁরা আল্লাহর ভয়ে সবচেয়ে এগিয়ে, তাঁদের সাথে সাধারণ মানুষের মতো "ভাই ভাই" সম্পর্কের ভাষায় কথা বলা এই মর্যাদার অবমাননা।

সুরা মুজাদালায় আল্লাহ বলেছেন —
> **يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ**
"যারা ইমান এনেছে এবং যাদের ইলম দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করেন।"
আল্লাহ নিজে যাঁদের মর্যাদা উঁচু করেছেন, আমরা সম্বোধনের মাধ্যমে সেই মর্যাদা নামিয়ে আনব — এটি কি সঙ্গত?

#হাদিসের শিক্ষা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন —
> **لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا**
"যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" (আবু দাউদ)
ইমাম ও খতিব সাহেব শুধু বয়সে বড় নন — ইলম, দ্বীনি দায়িত্ব ও আধ্যাত্মিক মর্যাদায়ও তিনি সমাজের উঁচু স্তরে। তাঁকে "ভাই" বলা এই হাদিসের শিক্ষার পরিপন্থী।

#সালাফের আদর্শ
সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে এমন আদবের সাথে বসতেন যেন মাথায় পাখি বসে আছে — নড়াচড়া করতেও ভয় পেতেন। তাবেঈরা আলেমদের সামনে এতটাই বিনম্র থাকতেন যে ইমাম মালিক রহ.-এর দরসে উচ্চস্বরে কথা বলা অসম্ভব ছিল।

ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন — উস্তাদের সামনে পা ছড়িয়ে বসা তাঁর পক্ষে কখনো সম্ভব হয়নি।
এই ছিল আদবের সংস্কৃতি। আর আজ আমরা সেই আসনে বসা মানুষটিকে "ভাই" বলে ডাকছি।

#ভাই" বলার সমস্যা কোথায়?
প্রথমত, এটি শ্রেণিবিন্যাস মুছে দেয়। সমাজে শিক্ষক ও ছাত্র, আলেম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি স্বাভাবিক স্তরভেদ আছে। "ভাই" বলা এই স্তরভেদকে অস্বীকার করে।
দ্বিতীয়ত, এটি ইমামের কথার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়। যাকে "ভাই" মনে করি, তার ফতওয়া বা নসিহত কতটা মনে গেঁথে থাকে? কিন্তু যাকে সম্মানের আসনে রাখি, তাঁর একটি কথাও হৃদয়ে স্থায়ী ছাপ ফেলে।
তৃতীয়ত, এটি পশ্চিমা সাম্যবাদী মানসিকতার অনুকরণ। পশ্চিমে সবাই সমান — শিক্ষককেও নামে ডাকো, বড়কেও "বন্ধু" বলো। এই মানসিকতা আমাদের দ্বীনি সংস্কৃতির সাথে সাংঘর্ষিক।

#সঠিক সম্বোধন কী হওয়া উচিত?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইমাম ও খতিব সাহেবকে সম্বোধন করতে হবে —
"হুজুর", "মাওলানা সাহেব", "শায়খ", "ইমাম সাহেব" খতিব মহোদয় ,ওস্তাদ — মুহতারাম । ইত্যাদি এই শব্দগুলো আদব ও সম্মানের ভাষা। এগুলো শুধু শব্দ নয়, একটি সভ্যতার প্রতিফলন।
আদব হলো ইলমের আগের সিঁড়ি। ইমাম মালিক রহ. বলতেন —
> **تَعَلَّمُوا الأَدَبَ قَبْلَ أَنْ تَتَعَلَّمُوا العِلْمَ**
"ইলম শেখার আগে আদব শেখো।"
যে সমাজে আলেমের সম্মান নেই, সে সমাজে ইলমের আলোও ম্লান হয়ে যায়। ইমাম ও খতিব সাহেবকে যথাযথ সম্মানের সাথে সম্বোধন করা শুধু ব্যক্তির প্রতি সৌজন্য নয় — এটি দ্বীনের প্রতি, ইলমের প্রতি এবং আল্লাহর নির্দেশের প্রতি সম্মানের প্রকাশ।
ইমাম ও আলেমদের সম্মান — কুরআন, হাদিস ও ওলামাদের বক্তব্যের আলোকে

#প্রথম অধ্যায় — কুরআনের দলিল
**দলিল ১**
> **لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا**
"তোমরা রাসুলকে ডাকাকে তোমাদের পরস্পর ডাকার মতো করো না।"
**(সুরা নূর: ৬৩)**
ইমাম কুরতুবি রহ. এই আয়াতের তাফসিরে লিখেছেন — রাসুলকে সাধারণ মানুষের মতো নাম ধরে ডাকা হারাম। তাঁকে "ইয়া রাসুলাল্লাহ" বা "ইয়া নাবিয়্যাল্লাহ" বলতে হবে। এই আদব শুধু নবীর জন্য নয়, নবীর ওয়ারিস আলেমদের প্রতিও এই মানসিকতা থাকা উচিত।
**(তাফসিরে কুরতুবি: ১২/৩২১)**

**দলিল ২**
> **يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ صَوْتِ النَّبِيِّ**
"হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর তোমাদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না।"
**(সুরা হুজুরাত: ২)**
ইমাম ইবন কাসির রহ. বলেন — এই আয়াত থেকে শিক্ষা হলো আলেম ও বুযুর্গদের সামনে উচ্চস্বরে কথা বলা, তাদের কথার উপর নিজের কথা প্রাধান্য দেওয়া অনুচিত।
**(তাফসিরে ইবন কাসির: ৭/৩৬৪)**
**দলিল ৩**
> **يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ**
"যারা ইমান এনেছে এবং যাদের ইলম দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করেন।"
**(সুরা মুজাদালা: ১১)**
আল্লামা আলুসি রহ. বলেন — এই আয়াতে আলেমদের জন্য বিশেষ দরজার উল্লেখ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের মর্যাদার স্বীকৃতি। বান্দার উচিত আল্লাহ যাকে যে মর্যাদা দিয়েছেন তাকে সেই মর্যাদায় রাখা।
**(রুহুল মাআনি: ২৮/২১)**

**দলিল ৪**
> **إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ**
"আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে যথাযথভাবে ভয় করেন।"
**(সুরা ফাতির: ২৮)**
ইমাম ইবন রজব হাম্বলি রহ. বলেন — এই আয়াত প্রমাণ করে আলেমরা আল্লাহর সবচেয়ে কাছের বান্দা। তাদের সম্মান করা আল্লাহর নিদর্শনকে সম্মান করার অন্তর্ভুক্ত।
**(ফাদলু ইলমিস সালাফ: পৃ. ৪৩)**

# দ্বিতীয় অধ্যায় — হাদিসের দলিল
**হাদিস ১**
> **الْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ**
"আলেমরা নবীদের উত্তরাধিকারী।"
**(আবু দাউদ: ৩৬৪১, তিরমিযি: ২৬৮২ — সহিহ)**
ইমাম মুনাবি রহ. বলেন — নবীর ওয়ারিস হওয়ার অর্থ হলো নবীর ইলম, দ্বীন ও মর্যাদার ধারক হওয়া। যে ব্যক্তি নবীর ওয়ারিসকে সম্মান করে না, সে নবীর ইলমকেই অসম্মান করে।
**(ফায়যুল কাদির: ৪/৩৮৫)**
**হাদিস ২**
> **لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يُجِلَّ كَبِيرَنَا وَيَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَيَعْرِفْ لِعَالِمِنَا حَقَّهُ**
"যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আলেমদের হক চেনে না — সে আমাদের দলভুক্ত নয়।"
**(মুসনাদে আহমাদ: ৭১৫৭, সহিহ লি গায়রিহি)**
ইমাম আহমাদ রহ. এই হাদিস বর্ণনা করার পর বলেন — আলেমের হক চেনা মানে তার ইলমের কারণে তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া, তার সামনে বিনম্র থাকা এবং তার সাথে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ না করা।
**হাদিস ৩**
> **إِنَّ مِنْ إِجْلَالِ اللهِ إِكْرَامَ ذِي الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ، وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِي فِيهِ وَالْجَافِي عَنْهُ، وَإِكْرَامَ ذِي السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ**
"আল্লাহকে সম্মান করার অংশ হলো বৃদ্ধ মুসলিমকে, কুরআনের ধারককে এবং ন্যায়পরায়ণ শাসককে সম্মান করা।"
**(আবু দাউদ: ৪৮৪৩ — হাসান)**
ইমাম খাত্তাবি রহ. বলেন — "হামিলুল কুরআন" অর্থ শুধু হাফেয নয়, বরং যিনি কুরআনের ইলম ও আমল বহন করেন অর্থাৎ আলেম। তাঁকে সম্মান করা আল্লাহকে সম্মান করার অংশ।
**(মাআলিমুস সুনান: ৪/১১৫)**
**হাদিস ৪**
> **أَكْرِمُوا الْعُلَمَاءَ فَإِنَّهُمْ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ، فَمَنْ أَكْرَمَهُمْ فَقَدْ أَكْرَمَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ**
"আলেমদের সম্মান করো। কারণ তারা নবীদের উত্তরাধিকারী। যে তাদের সম্মান করল, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে সম্মান করল।"
**(কানযুল উম্মাল: ২৮৬৮৭)**

# # তৃতীয় অধ্যায় — ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য
**ইমাম শাফেয়ি রহ. (মৃ. ২০৪ হি.)**
> **مَنْ أَهَانَ العُلَمَاءَ فَقَدْ أَهَانَ الشَّرِيعَةَ، وَمَنْ أَهَانَ الشَّرِيعَةَ فَقَدْ أَهَانَ اللهَ**
"যে আলেমদের অপমান করল সে শরিয়তকে অপমান করল। আর যে শরিয়তকে অপমান করল সে আল্লাহকেই অপমান করল।"
**(মানাকিবুশ শাফেয়ি, বায়হাকি: ২/১৫৪)**
**ইমাম মালিক রহ. (মৃ. ১৭৯ হি.)**
তাঁর দরসে কেউ উচ্চস্বরে কথা বললে তিনি বলতেন —
> **هَذَا مَجْلِسُ العِلْمِ، لَا يُرْفَعُ فِيهِ الصَّوْتُ**
"এটি ইলমের মজলিস, এখানে কণ্ঠ উঁচু করা যায় না।"
**(তারতিবুল মাদারিক: ১/১৩৮)**
**ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. (মৃ. ২৪১ হি.)**
তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ বলেন — আমি কখনো বাবার সামনে পা ছড়িয়ে বসিনি, কোনো প্রশ্ন করার আগে অনুমতি নিতাম। তিনি ছিলেন আমার পিতা — তবুও আলেম হিসেবে তাঁর আদব আলাদাভাবে রক্ষা করতাম।
**(মানাকিবুল ইমাম আহমাদ, ইবন জাওযি: পৃ. ৩২১)**
**ইমাম নববি রহ. (মৃ. ৬৭৬ হি.)**
> **يَنْبَغِي لِلْمُتَعَلِّمِ أَنْ يَتَوَاضَعَ لِشَيْخِهِ وَيُعَظِّمَهُ، وَأَنْ يَعْلَمَ أَنَّ تَعْظِيمَهُ تَعْظِيمٌ لِلْعِلْمِ**
"ছাত্রের উচিত উস্তাদের সামনে বিনম্র থাকা এবং তাঁকে সম্মান করা। জেনে রাখো — উস্তাদকে সম্মান করা ইলমকেই সম্মান করা।"
**(আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব: ১/৩৭)**
**আল্লামা ইবন আবিদিন শামি রহ. (মৃ. ১২৫২ হি.)**
> **تَعْظِيمُ أَهْلِ الْعِلْمِ وَاجِبٌ شَرْعًا، وَإِهَانَتُهُمْ مِنَ الْكَبَائِرِ**
"আলেমদের সম্মান করা শরঈভাবে ওয়াজিব। আর তাদের অপমান করা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।"
**(রদ্দুল মুহতার: ১/৪৫)**
**হযরত থানভি রহ. (মৃ. ১৩৬২ হি.)**
আলেমদের সাথে সাধারণ মানুষের মতো ব্যবহার করা দ্বীনের অবমাননার আলামত। যে জাতি আলেমদের কদর করে না, সে জাতির দ্বীনি অবনতি অনিবার্য।
**(মালফুযাতে থানভি: ৩/২১৭)**
**মুফতি রশিদ আহমাদ লুধিয়ানভি রহ.**
আহসানুল ফাতাওয়ায় তিনি লিখেছেন — আলেমকে তাচ্ছিল্য করা, তাঁর সম্মানহানি করা, তাঁকে সাধারণ মানুষের কাতারে নামিয়ে আনা — এসব কাজ ঈমানের দুর্বলতার লক্ষণ এবং কিছু ক্ষেত্রে কুফরের নিকটবর্তী।
**(আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৫৩)**

#চতুর্থ অধ্যায় — সালাফের আমলি নমুনা
ইমাম শাফেয়ি রহ. বলেন — আমি ইমাম মালিকের সামনে পাতার শব্দ না হয় এ জন্য অত্যন্ত আস্তে কিতাবের পাতা উল্টাতাম, যাতে তাঁর মনোযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়।
ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন — ইমাম আবু হানিফার দিকে পা দিয়ে ঘুমানো আমার পক্ষে কখনো সম্ভব হয়নি, যদিও তাঁর বাড়ি ছিল অনেক দূরে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. হযরত যায়িদ ইবন সাবিতের উটের লাগাম ধরে হাঁটতেন এবং বলতেন — "এভাবেই আমাদের আলেমদের সম্মান করতে বলা হয়েছে।"

#সারসংক্ষেপ
কুরআন, হাদিস এবং ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য একটিই কথা বলে — আলেম ও ইমামদের সাধারণ মানুষের কাতারে রাখা শরঈ দৃষ্টিতে অনুচিত, বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুনাহ। "ভাই" বলে সম্বোধন করা শুধু ভাষার সমস্যা নয় — এটি আলেমের মর্যাদা সম্পর্কে ভুল ধারণার প্রকাশ।

আল্লাহ তাআলা আমাদের আলেমদের যথাযথ সম্মান করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

06/04/2026

এই ফতোয়া জানার পর ছাত্র বেত্রাঘাত একেবারেই ছেড়ে দিয়েছি। নতুন শিক্ষকগন ফতোয়া টি দেখতে পারেন।

কিতাবগুলোর কিছু ইবারত দেখুন-

★ فى الدر المختار: وَإِنْ وَجَبَ ضَرْبُ ابْنِ عَشْرٍ عَلَيْهَا بِيَدٍ لَا بِخَشَبَةٍ لِحَدِيثِ مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعٍ

১০ বছরের বাচ্চা কে সতর্ক করার প্রয়োজন হলে হাত দিয়ে আঘাত করবে লাঠি দিয়ে নয়। কেননা হাদীস শরীফে নামাজের জন্য সাত বছরের বাচ্চা কে আদেশ করতে বলা হয়েছে। (আঘাততে নয়) - ফতোয়ায়ে দুররুল মুখতার।

★ وفى رد المحتار: قَوْلُهُ بِيَدٍ أَيْ وَلَا يُجَاوِزُ الثَّلَاثَ، وَكَذَلِكَ الْمُعَلِّمُ لَيْسَ لَهُ أَنْ يُجَاوِزَهَا قَالَ – عَلَيْهِ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ – لِمِرْدَاسٍ الْمُعَلِّمِ إيَّاكَ أَنْ تَضْرِبَ فَوْقَ الثَّلَاثِ، فَإِنَّك إذَا ضَرَبْت فَوْقَ الثَّلَاثِ اقْتَصَّ اللَّهُ مِنْك اهـ إسْمَاعِيلُ عَنْ أَحْكَامِ الصِّغَارِ للأستروشني، وَظَاهِرُهُ أَنَّهُ لَا يُضْرَبُ بِالْعَصَا فِي غَيْرِ الصَّلَاةِ أَيْضًا،

অনুরুপভাবে শিক্ষকের জন্য তিন বেতের বেশি প্রহার করা উচিত নয়। রাসুলুল্লাহ সাঃ মিরদাস রাঃ কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন, তিন বেতের বেশি প্রহার করা থেকে বিরত থাকো। কেননা তিন বেতের বেশি প্রহার করলে আল্লাহ তোমাকে শাস্তি দিবেন-(হাদিসটি কিতাবুল আসরারে সনদ ছাড়া উল্লেখ রয়েছে) । আসতারুশীনি রঃ এর আহকামুস সিগার থেকে ইসমাইল বর্ণনা করেন, মোট কথা হচ্ছে নামাজ ছাড়া অন্য কারণে ছাত্রকে বেত্রাঘাত করা হবে না।

- ফতোয়ায়ে শামী।

★ أما المعلم فله ضربه، لأن المأمور يضربه نيابة عن الأب لمصلحته، والمعلم يضربه بحكم الملك بتمليك أبيه لمصلحة التعليم…. ألنقل فى كتاب الصلاة يضرب الصغير باليد لا بالخشبة، ولا يزيد على ثلاث ضربات (رد المحتار، كتاب الحظر والإباحة، باب الاستبراء وغيره، فصل فى البيع-9/616)

ছাত্রকে প্রহার করার অধিকার শিক্ষকের রয়েছে। হাদিসের বর্নিত নির্দেশানুযায়ী (নামাজ না-পড়লে প্রহার করার হাদীস) বাবার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ছেলের তা'লিম তরবিয়ত এবং সার্বিক কল্যাণার্থে প্রহারের ব্যাপারে শিক্ষক আদিষ্ট ব্যাক্তি। ছাত্রকে হাত দিয়ে প্রহার করবে বেত দিয়ে নয় এবং সর্বোচ্চ তিন বেতের বেশি প্রহার করবে না। - ফতোয়ায়ে শামী।

★ يجوز للمعلم أن يضربه بإذن أبيه نحو ثلاث ضربات ضربا وسطا سليما… لا بخشبة، فلأن الضرب بها ورد فى جناية صادرة عن المكلف ولا جناية عن الصغير (حاشية الطحطاوى على الدر المختار، كتاب الصلاة-1/170)

অভিভাবকের অনুমতি সাপেক্ষে মধ্যম পন্থায় সর্বোচ্চ তিনবার হাত দিয়ে প্রহার করা জায়েজ। কেননা মুকাল্লাফ থেকে জেনায়েত প্রকাশ পেলে বেত্রাঘাত করার নুসূস রয়েছে কিন্তু শিশুরা তো মুকাল্লাফ বিশ-শরীয়াহ নয়।

-হাশিয়ায়ে তাহতবী

لو ضرب المعلم الصبى ضربا فاحشا قيد به، لأنه ليس له أن يضربها فى التاديب ضربا فاحشا وهو الذى يكسر العظم أو يخرق الجلد أو يسوده، قال فى البحر: وصرحوا بأنه إذا ضربها بغير حق وجب عليه التعزير، أى وإن لم يكن فاحشا ويضمنه لو مات، وكذا المعلم إذا أدب الصبى فمات منه يضمن عندنا (رد المحتار-6/131)

যদি কোন শিক্ষক শিশুকে সীমাতিক্রমী আঘাত করে তাহলে তাকে জেলে বন্ধি করা হবে। কেননা আদব শিখানোর জন্য হাড় ভেঙ্গে দেওয়া,চামড়া ফাটিয়ে দেওয়া অথবা কালো বানিয়ে ফেলার অধিকার শিক্ষকের নেই। ফতোয়ায়ে বাহরুর রায়েকে রয়েছে;অন্যায়ভাবে কোন শিক্ষক ছাত্রকে আঘাত করলে, সীমাতিক্রমী আঘাত না-হলেও তার উপর তা'জীর করা আবশ্যক। এবং শিক্ষকের আঘাতে ছাত্রের মৃত্যু হলে শিক্ষক জামিনদার হবেন।

শিক্ষার্থিদের শাসনের ক্ষেত্রে ফতওয়ার কিতাবগুলোর রেফারেন্সে কয়েকটি নীতিমালা দাঁড় করাতে পারি। তন্মধ্যে-

১। তিনটির বেশি বেত্রাঘাত করা যাবে না।
২। শরীরে দাগ পড়ে যায় এত জোরে আঘাত করা যাবে না।
৩। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছাত্রদের শাসনের ক্ষেত্রে কোনক্রমেই বেত ব্যবহার করা যাবে না।

21/03/2026

শাওয়ালের ছয় সিয়াম/রোযা ~
---------------------------------------
~মুফতী মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ হানাফী হাফিজাহুল্লাহ

রমযানের পরের মাস শাওয়াল। আর রমযানের আগের মাস হল শাবান। শাওয়াল ও শাবান হল রমযান সংশ্লিষ্ট ও রমযানের আগে-পরের মাস। তাই রমযানের সম্মানার্থে শাবান ও শাওয়াল মাস এবং এ দুই মাসে রোযা রাখার প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত। বিশেষত শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া চাই। কেননা হাদীস শরীফে এর প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবু আইয়ূব আনছারী রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمّ أَتْبَعَهُ سِتّا مِنْ شَوّالٍ، كَانَ كَصِيَامِ الدّهْرِ.

যে মাহে রমযানের রোযা রাখল এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল এটি তার জন্য সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য হবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৬৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ৭৫৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৩৩

রমযান মাস ও শাওয়ালের ছয় দিন রোযা রাখলে কীভাবে পুরো বছর রোযা রাখার সওয়াব হবে- এর বিবরণ এসেছে আরেক হাদীসে। ছাওবান রা. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

صِيَامُ شَهْرِ رَمَضَانَ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَصِيَامُ سِتّةِ أَيّامٍ مِنْ شَوّالٍ بِشَهْرَيْنِ فَذَلِكَ صِيَامُ سَنَةٍ.

রমযান মাসে রোযা রাখা দশ মাস রোযা রাখার সমান এবং শাওয়ালে ছয় দিন রোযা রাখা দুই মাস রোযা রাখার সমান। সুতরাং রমযান ও ছয় রোযা মিলে এক বছরের রোযার সমান। -সুনানে কুবরা, নাসাঈ, হাদীস ২৮৭৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ২১১৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৪১২; সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/২৯৩

হাদীসটির আরেক বর্ণনায় এসেছে-

جَعَلَ اللهُ الْحَسَنَةَ بِعَشْرٍ فَشَهْرٌ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتّةُ أَيَّامٍ بَعْدَ الْفِطْرِ تَمَامُ السّنَةِ.

আল্লাহ তাআলা এক নেকীকে দশ নেকির সমান করেছেন। সুতরাং (রমযানের) এক মাস (রোযা রাখা) দশ মাসের সমান। আর সাথে ঈদুল ফিতরের পরে ছয় দিন রোযা রাখা সারা বছর রোযা রাখার সমান। -সুনানে নাসাঈ, হাদীস ২৮৭৪

আল্লাহ এক নেকীতে দশ নেকীর সওয়াব দান করেন। এক দিনের রোযা দশ দিনের সমান, তিন দিনের রোযা এক মাসের সমান। ছয় দিনের রোযা দুই মাসের সমান। আর এক মাসের রোযা দশ মাসের সমান। সুতরাং যে রমযানের এক মাস ও শাওয়ালের ছয় দিন রোযা রাখবে সে এক বছরের সমান সওয়াব পাবে।

রমযানের রোযা কবুল হওয়ার আলামত ~

শাওয়ালের রোযার একটি ফযীলত হল, এই রোযা রমযানের রোযা কবুল হওয়ার একটি আলামত। রমযান মাসের রোযা রাখার পর শাওয়াল মাসে কিছু রোযা রাখা একথার আলামত যে, আল্লাহ তাআলার দরবারে রমযানের রোযা কবুল হয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলা যখন বান্দার কোনো আমল কবুল করেন তখন অন্য একটি নেক আমলের তাওফীক দান করেন।

قَالَ مَنْ قَالَ مِنْ السّلَفِ كَسَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ: إنّ مِنْ ثَوَابِ الْحَسَنَةِ الْحَسَنَةُ بَعْدَهَا وَإِنّ مِنْ عُقُوبَةِ السّيِّئَةِ السّيِّئَةُ بَعْدَهَا.

সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ. ও আরো কোনো কোনো সালাফের বক্তব্য হল, নেক আমলের প্রতিদান হচ্ছে, এর পর আরো নেক আমলের তাওফীক পাওয়া। আর গোনাহের শাস্তি হল, এর পর আরো গোনাহে লিপ্ত হওয়া। -মাজমূউল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ১০/১১

সালাফের এই কথার সমর্থন কুরআন মাজীদেই বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ الَّذِیْنَ اهْتَدَوْا زَادَهُمْ هُدًی وَّ اٰتٰىهُمْ تَقْوٰىهُمْ.

যারা হেদায়েতের পথ অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েতে উৎকর্ষ দিয়েছেন এবং তাদেরকে দান করেছেন তাদের (প্রয়োজনীয়) তাকওয়া। -সূরা মুহাম্মাদ (৪৭) : ১৭

আয়াতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হেদায়েত ও নেক আমলের পথে চললে আল্লাহ তাআলা তাকে আরো বেশি তাকওয়া ও হেদায়েতের তাওফীক দান করেন।

হাদীস শরীফেও অনুরূপ এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ، فَإِنّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ، وَإِنّ الْبِرّ يَهْدِي إِلَى الْجَنّةِ، وَمَا يَزَالُ الرّجُلُ يَصْدُقُ وَيَتَحَرّى الصِّدْقَ حَتّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ صِدِّيقًا، وَإِيّاكُمْ وَالْكَذِبَ، فَإِنّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ، وَإِنّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النّارِ، وَمَا يَزَالُ الرّجُلُ يَكْذِبُ وَيَتَحَرّى الْكَذِبَ حَتّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللهِ كَذّابًا.

তোমরা সত্যকে আঁকড়ে ধর। কেননা সত্য আনুগত্যের দিকে নিয়ে যায়। আর আনুগত্য জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। মানুষ সত্য বলতে থাকে এবং সত্যের জন্য চেষ্টা করতে। এক পর্যায়ে আল্লাহর নিকট তার নাম লেখা হয় ‘ছিদ্দীক’।

তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাক। কেননা, মিথ্যা পাপের পথে নিয়ে যায়। আর পাপ জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে এবং মিথ্যার জন্য চেষ্টা করতে থাকে। একসময় আল্লাহর নিকট তার নাম লেখা হয় ‘কায্যাব’। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬০৭; সহীহ বুখারী, হাদীস ৬০৯৪

হাদীসের মধ্যে এসেছে, সত্য বলার আমল আরো অনেক নেক আমলের মাধ্যম হয়। যেমনভাবে মিথ্যা আরো গোনাহের দিকে নিয়ে চলে।

উল্লিখিত আয়াত ও হাদীস থেকে জানা যায়, মানুষ যখন কোনো ভালো আমল করে তার জন্য আরো অনেক ভালো আমল করা সহজ হয়ে যায়। সুতরাং একটি ভালো আমলের পর আরেকটি ভালো আমলের তাওফীক হওয়া একথার অলামত যে, পূর্বের ভালো আমলটি আল্লাহ কবুল করেছেন। তাই তাকে আরো কিছু আমলের তাওফীক দান করেছেন। অতএব রমযান মাসের পর শাওয়াল মাসে রোযা রাখা এ কথার একটি দলীল যে, তার রমযানের রোযা আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন।

রমযানের রোযার শুকরিয়া ~

আল্লাহ তাআলা যখন কোনো নিআমত দান করেন, এর দাবি হল আল্লাহর জন্য কিছু ইবাদত করা। বিশেষ করে গোনাহমাফের শোকরস্বরূপ ইবাদত-বন্দেগি বাড়িয়ে দেওয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল দ্বারা প্রমাণিত। তিনি রাতের বেলা নামাযের মধ্যে এত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তাঁর পা মোবারক ফুলে যেত। আয়েশা রা. জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি কেন এত কষ্ট করেন, আপনার তো আগে-পরের সব গোনাহ আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন?

তিনি উত্তর দিয়েছেন-

أَفَلاَ أُحِبّ أَنْ أَكُونَ عَبْدًا شَكُورًا.

আমার কি মন চায় না, আমি শোকরগুযার বান্দা হব? -সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৮৩৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮২০

রমযানের রোযা, রমযানের তারাবী ও অন্যান্য আমল মুমিন বান্দার গোনাহ মিটিয়ে দিয়েছে সুতরাং গোনাহমাফ ও অন্যান্য নিআমতের দাবি হল রমযানের রোযার পর আরো কিছু রোযা রাখা। এটাই হল, এসব নিআমতের শুকরিয়া। সুতরাং আসুন, রমযানের রোযা ও অন্যান্য ইবাদতের শোকরস্বরূপ শাওয়াল মাসে কিছু রোযা রাখি। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফীক দান করুন- আমীন।

শাওয়ালের রোযা বিষয়ক প্রশ্ন-উত্তর ~
২৬৮৯ . প্রশ্ন:
রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

অনুরূপভাবে মাগরিবের পরের দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের সময় আওয়াবিনের দুই রাকাত নিয়ত করলে উভয় নামাযের সওয়াব হবে কি? দলিলসহ জানতে চাই।

উত্তর:
রযমানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে নিয়ত করলে শুধু রমযানের কাযা রোযা আদায় হবে। শাওয়ালের ছয় রোযা আদায় হবে না। এবং ছয় রোযার সওয়াবও পাওয়া যাবে না। শাওয়ালের ছয় রোযা রাখতে হলে পৃথকভাবে শুধু এর নিয়তে রোযা রাখতে হবে।

আর মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতের সাথে আওয়াবিনের নিয়ত করলে সুন্নতের পাশাপাশি আওয়াবিনেরও সওয়াব পাওয়ার কথা কোনো কোনো আলেম বলেছেন। তবে এমন না করে পৃথকভাবে পড়ে নেওয়াই ভালো।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৪০, ২/১৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৪৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০১

*****

২৮৮৪ . প্রশ্ন:
শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখার নিয়ম কী? এগুলো এক সাথে লাগাতার ছয় দিন রাখা জরুরি, না মাঝে বিরতি দিয়ে রাখা যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর:
শাওয়ালের ছয় রোযা ধারাবাহিকভাবে একত্রে রাখা যায়, আবার বিরতি দিয়েও রাখা যায়। যেভাবেই রাখা হোক তা আদায় হয়ে যাবে এবং নির্ধারিত ফযীলতও লাভ হবে।
-লাতাইফুল মাআরিফ ৪৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৫; আলমাজমূ ৬/৪২৬-৪২৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬২; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৮৭; আলমুগনী ৪/৪৩৮

******

৪৪৪২. প্রশ্ন
গত রমযানে আমি অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকটি রোযা রাখতে পারিনি। এখনও তা কাযা হিসাবে রয়ে গেছে। কিন্তু রমযানের পরে কাযা রোযা না রেখে শাওয়ালের নফল রোযা রেখেছিলাম। তাই হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কাযা রোযা না রেখে নফল রোযা রাখলে তা কি সহীহ হবে।

উত্তর
হাঁ, রমযানের কাযা রোযা আদায়ের আগে নফল রোযা রাখা জায়েয। তাই কাযা রোযা না রেখে শাওয়ালের ছয় রোযা রাখা অন্যায় হয়নি। রমযানের কাযা রোযা রাখার আগে কোনো নফল রোযা রাখা যায় না- একথা ঠিক নয়। হাদীসে বর্ণিত ফযীলপূর্ণ নফল বা মুস্তাহাব রোযাগুলো রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কাযা রোযা থাকলে সর্বক্ষেত্রেই সম্ভাব্য নিকটতম সময়ে তা আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৩

******

১৫৪৭. প্রশ্ন:
من صام رمضان وأتبعه ستا من شوال كان كصيام الدهر
এই হাদীসটির সঠিক তরজমা কী? কেউ যদি الدهرশব্দের অর্থ ‘একযুগ’করে তাহলে তা কি সহীহ হবে?

উত্তর:
হাদীসটির অর্থ-‘যে ব্যক্তি পুরো রমযান এবং এর পরে শাওয়ালের ছয়টি রোযা রাখল সে যেন পুরো এক বছর রোযা রাখল।’

প্রশ্নোক্ত হাদীসে الدهر শব্দটি দ্বারা এক বছর বুঝানো হয়েছে। কেননা শাওয়ালের ছয় রোযার ফযিলত সম্পর্কে বর্ণিত ‘সুনানে নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ’-এর এক বর্ণনায় الدهر এর পরিবর্তে আসসানাহ অর্থাৎ এক বৎসর এসেছে। অতএব এখানেও الدهر দ্বারা আসসানাহ বা এক বৎসরই উদ্দেশ্য হবে। এক যুগ নয়।

উল্লেখ্য, আভিধানিকভাবে الدهر শব্দটি কোনো নির্দিষ্ট সময় বুঝায় না। তাই الدهر এর অর্থ যুগ নয়। আভিধানিকভাবে الدهر শব্দের যে সব অর্থ পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ :
(১) পুরো জীবন।
(২) দীর্ঘ সময়।
(৩) উল্লেখযোগ্য অনির্দিষ্ট সময়।
(৪) হাজার বছর
(৫) এক লক্ষ বছর।

উল্লেখ্য যে, হাদীসটিতে الدهر এর অর্থ যেমনিভাবে ১ বছর করা হয়েছে তেমনি কেউ কেউ পুরো জীবন অর্থেও তা ব্যবহার করেছেন। মূলত : এ দুটি কথায় কোনো বিরোধ নেই। কারণ একটি নেক আমলের ছওয়াব দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। সে হিসেবে শাওয়ালের ছয়টিসহ ছত্রিশটি রোযা রাখা মানে তিনশ ষাট দিনই অর্থাৎ ১ বছর রোযা রাখা। অতএব যে ব্যক্তি এভাবে প্রতি বছর ছত্রিশটি রোযা রাখল সে বস্ত্তত পুরো জীবনই রোযা রাখল।
-ইকমালুল মু’লিম ৪/১৩৯; মাআরিফুস সুনান ৫/৪৪৪; ফয়যুল কাদীর ৬/১৬১; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৮৭; আউনুল মা’বুদ ৭/৬৩

#শাওয়াল_মুবারক

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Khulna?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Telephone

Website

Address

Magura
Khulna