Crue Rang
06/07/2026
বেচারা ব্রাজিল
05/07/2026
হারানোর ভয় আর পায় না ❤️ সে হারিয়ে যাবে যার কাছে আমি নেই ❤️
মর্ডান স্টাইল 😀
I Love You মানে জোশ 😂
30/06/2026
অসাধারণ গল্প পড়তে চাইলে অনুভবের ডায়েরি সাথে যুক্ত হোন 🌹
সম্পর্কের সাতকাহন
পর্ব: ১০
⏳ সময়ের ওপারে ⏳
লন্ডনের হিথ্রো এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসে অনন্যা কফির কাপে চুমুক দিল। বাইরে তখন ঝিরঝির করে তুষারপাত হচ্ছে।
ঠিক সাত বছর পর অনন্যা আজ কলকাতায় ফিরছে। তার হাতের দামি ট্রলি ব্যাগ আর পরনের ব্র্যান্ডেড ওভারকোট বলে দিচ্ছিল, সে আজ ক্যারিয়ারের শীর্ষে।
কিন্তু বুকটার ভেতরে এক অদ্ভুত শূন্যতা। ঠিক সাত বছর আগে এই এয়ারপোর্ট থেকেই সে আকাশকে পেছনে ফেলে এসেছিল।
আকাশ আর অনন্যা ছিল এক মফস্বল শহরের সহপাঠী। আকাশ ছিল শান্ত, উদাসীন আর থিয়েটার-পাগল একটা ছেলে। আর অনন্যা ছিল উচ্চাকাঙ্ক্ষী, বাস্তববাদী।
লন্ডনে যাওয়ার আগের সন্ধ্যায় তারা দুজনে শহরের পুরনো নদীর ঘাটে বসেছিল। অস্তগামী সূর্যের আলো নদীর জলে লাল আভা ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
অনন্যা হালকা হেসে বলেছিল,
— "সাত বছর পর যদি আমি অনেক বদলে যাই?"
আকাশ নদীর জলের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসেছিল।
— "মানুষ বদলাতে পারে, কিন্তু যে মানুষটাকে ভালোবেসেছিলাম, তাকে তো আর ভুলতে পারব না।"
অনন্যা আবার মজা করে বলেছিল,
— "আমি যদি আর কোনোদিন ফিরে না আসি?"
আকাশ একটা ছোট্ট পাথর নদীর জলে ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিল,
— "তাহলে আমি অপেক্ষা করব। কারণ অপেক্ষা করাও তো ভালোবাসারই আরেকটা ভাষা।"
কথাটা শুনে অনন্যা হেসে ফেলেছিল। তখনও সে জানত না, এই কথাটাই একদিন তার জীবনের সবচেয়ে ভারী স্মৃতি হয়ে থাকবে।
অনন্যা যখন স্কলারশিপ পেয়ে লন্ডনে যাওয়ার সুযোগ পেল, আকাশ তাকে আটকায়নি। সে শুধু বলেছিল,
— "তুমি তোমার স্বপ্ন পূরণ করো অনন্যা। আমি এখানেই তোমার জন্য অপেক্ষা করব।"
লন্ডনে যাওয়ার প্রথম দু-বছর তাদের নিয়মিত কথা হতো। কিন্তু আস্তে আস্তে অনন্যার কর্পোরেট জীবনের ব্যস্ততা বাড়ল। টাইম জোনের ফারাক আর কাজের চাপে আকাশের ফোনগুলো তার কাছে একসময় বিরক্তিকর মনে হতে লাগল।
একদিন অনন্যা নিজেই ফোন করে বলেছিল,
— "আকাশ, আমরা দুজনে সম্পূর্ণ আলাদা জগতের মানুষ হয়ে গেছি। এই দূরত্বের সম্পর্ক টেনে নিয়ে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। তুমি নিজের জীবনটা গুছিয়ে নাও।"
ওপাশে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর আকাশ শুধু বলেছিল,
— "তুমি ভালো থেকো অনন্যা।"
এটাই ছিল তাদের শেষ কথা।
সাত বছর পর কলকাতায় নেমে অনন্যা সোজা চলে গেল তাদের সেই পুরনো মফস্বলের নাট্যক্লাবে।
সে ভেবেছিল, আকাশ হয়তো এতদিনে বিয়ে করে সংসারী হয়েছে, অথবা কোনো বড় নাট্যপরিচালক হয়েছে।
ক্লাবের দরজায় ঢুকতেই তার চোখ আটকে গেল।
দেয়ালে ঝুলছে বহু বছরের পুরনো একটি নাটকের পোস্টার।
নিচে লেখা—
পরিচালনা: আকাশ সেন।
পোস্টারের কোণগুলো সময়ের ছাপে হলদেটে হয়ে গেছে।
অনন্যা অজান্তেই হাত বুলিয়ে দিল পোস্টারের ওপর।
ঠিক তখনই ক্লাবের এক প্রবীণ সদস্য ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।
তিনি কিছুক্ষণ অনন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
— "তুমি... অনন্যা?"
অনন্যা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলতেই বৃদ্ধের মুখে এক অদ্ভুত বিষণ্ন হাসি ফুটে উঠল।
তিনি খুব আস্তে বললেন,
— "খুব দেরি করে ফেললে মা..."
অনন্যার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
ঠিক তখনই আকাশের এক পুরনো বন্ধু এগিয়ে এসে তার হাতে একটা পুরনো ডায়েরি তুলে দিল।
বন্ধুটি বলল,
— "আকাশ আর নেই রে অনন্যা। তোদের আলাদা হওয়ার ঠিক এক বছর পর ওর লিউকেমিয়া ধরা পড়ে। আমরা তোকে খবর দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ও-ই বারণ করেছিল। বলেছিল—'অনন্যা এখন অনেক বড় জায়গায় আছে। ও জানলে ভেঙে পড়বে। ওর স্বপ্নের পথে আমি কোনোদিন বাধা হতে চাই না।'"
অনন্যার হাত কাঁপতে লাগল।
সে কোনো রকমে জিজ্ঞেস করল,
— "শেষ সময়টায়... কিছু বলেছিল?"
বন্ধুটি মৃদু হেসে বলল,
— "শেষ দিন পর্যন্ত এই ডায়েরিতে তোকে নিয়ে নাটক লিখেছে। ওর বিশ্বাস ছিল—একদিন তুই ফিরবিই।"
অনন্যা কাঁপতে কাঁপতে ডায়েরির শেষ পাতাটা খুলল।
সেখানে আকাশের দুর্বল হাতের অক্ষরে লেখা—
"সময় মানুষকে বদলে দেয় অনন্যা, কিন্তু ভালোবাসা তো সময় মেনে চলে না।
তুমি যখন এই ডায়েরিটা পড়বে, তখন হয়তো আমি আর থাকব না।
তবু একটা কথা মনে রেখো—
আমি কোনোদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করা বন্ধ করিনি।
তুমি আমার জীবনে ফিরে এসো বা না-এসো, তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে—এই খবরটাই আমাকে শেষ দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছিল।
যদি কোনোদিন খুব একা লাগে, আকাশের দিকে তাকিও।
একটা তারা হয়তো একটু বেশি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলবে।
ভাববে, আমি আজও তোমার সাফল্যে হাততালি দিচ্ছি।"
ডায়েরির পাতার ওপর অনন্যার চোখের জল টুপটুপ করে পড়তে লাগল।
আজ তার কাছে ছিল বিদেশের চাকরি, সম্মান, সাফল্য, অর্থ—সবকিছু।
শুধু ছিল না সেই মানুষটা, যে কোনো প্রতিদানের আশা না করেই তাকে নিঃশর্ত ভালোবেসেছিল।
অনন্যা বুঝতে পারল, ক্যারিয়ার মানুষকে প্রতিষ্ঠা দিতে পারে, অর্থ নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া একটি সত্যিকারের সম্পর্কের কোনো বিকল্প পৃথিবীতে নেই।
আমরা অনেক সময় সফলতার সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে উঠতে সেই মানুষটাকেই নিচে ফেলে আসি, যে আমাদের জন্য নীরবে অপেক্ষা করে। অথচ যখন ফিরে তাকাই, তখন সময় আমাদের জন্য আর অপেক্ষা করে না।
নাট্যক্লাব থেকে বেরিয়ে অনন্যা মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকাল।
সন্ধ্যার আকাশে সত্যিই একটা তারা যেন অন্য সবার চেয়ে একটু বেশি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছিল।
অনন্যা চোখের জল মুছে খুব আস্তে বলল,
— "এবার আমি ফিরেছি আকাশ... শুধু একটু দেরি হয়ে গেল।”
~ অনুভবের ডায়েরি ~
💬 CTA:
কখনো কি এমন হয়েছে, সময় থাকতে কারও মূল্য বুঝতে পারেননি?
গল্পটি পড়ে আপনার অনুভূতি ও মতামত মন্তব্যে শেয়ার করলে আনন্দিত হব। ❤️
#সম্পর্কেরসাতকাহন
#অনুভবেরডায়েরি
#হারানোপ্রেম
#বাংলাগল্প
#হৃদয়ছোঁয়া
Click here to claim your Sponsored Listing.