Diary Of Esa
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৯
A Dark Romantic Thriller with a Touch of Humor
---
মায়া, মায়ার শান্ত পাড়ার দোতলা বাড়ির বাগানে বসে আছে। মায়ার হৃৎপিণ্ড ধকধক করছে, মন্দিরে অজানা আক্রমণকারীর হুমকি এখনো মায়ার মনে ঘুরছে। মায়ার বাগানে ফুলের গাছগুলো সন্ধ্যার হাওয়ায় দুলছে, ছোট পুকুরে আলোর প্রতিবিম্ব ঝিকিমিক করছে। মায়ার মা ফারজানা মায়ার পাশে বসে আছেন, হাতে এক কাপ চা। মায়ার বাবা রহিম কাগজ পড়ছেন, আর ছোট বোন মিশু মায়ার পাশে এসে বসে।
ফারজানা মায়ার হাত ধরে বলেন,
— “মায়া, তুই আজ যা ঝুঁকি নিয়েছিস, আমি ভাবতেও পারছি না। তুই আমাদের কাছে থাক।”
মায়া তার মায়ের হাতে চেপে বলেন,
— “মা, আমি ঠিক আছি। আমি সত্য জানতে চাই।”
মিশু মায়ার হাত ধরে বলে,
— “দিদি, তুই ভয় পাস না। আমি তোর জন্য গান গাইব!”
মিশু একটা মিষ্টি গান ধরে, যা মায়ার মনে একটু শান্তি ফিরিয়ে আনে।
রহিম হেসে বলেন,
— “মায়া, আমার মেয়ে সাহসী। কিন্তু সাবধানে থাকবে।”
মায়া তাদের দিকে তাকিয়ে ভাবছে—আমার পরিবারের এই ভালোবাসা আমাকে শক্তি দেয়।
---
সন্ধ্যা ৬:৩০-মায়া রাইসার বাড়িতে উদ্দেশ্য যাই। তার ছোট্ট ফ্ল্যাটের বাইরে বেল পাতা আর সাইকেল আছে। রাইসার মা জাহানারা মায়াকে দেখে হাসি মুখে ডাকেন।
— “মায়া, আয়। রাইসা তোর জন্য অপেক্ষা করছে।”
ভেতরে রাইসা, তার বাবা হাবিব, আর ছোট বোন নুসরাত আছে। হাবিব চা বানাচ্ছেন, নুসরাত একটা পুতুল নিয়ে খেলছে। রাইসা মায়াকে দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে।
— “মায়া?
— মায়া বলে ঠিক আছি, রাইসা। কিন্তু আমার মনে একটা টান আছে। আমি অভিকে বুঝতে চাই।”
নুসরাত ছুটে এসে বলে,
— “মায়া দিদি, তুমি হিরোইনের মতো! আমি তোমার জন্য পুতুলের বিয়ে করব!”
সবাই হাসে। রাইসা বলে,
— “মায়া, তুই অভির সঙ্গে যদি যাস, আমি তোর পাশে থাকব।”
মায়া রাইসার হাত ধরে হাসে।
---
চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার, রাত ৮:০০-মায়া অফিসে আসেন। অভি তার কেবিনে মায়ার জন্য অপেক্ষা করছে। অভি আজ তার বাসায় ফিরেনি একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে তাই।তার পাশে মা ঈশিতা আর বাবা আদিত্য। আদিত্য আমেরিকা থেকে এসেছেন। ঈশিতা মায়াকে দেখে উঠে দাঁড়ান।
— “মায়া, তুমি ঠিক আছিস? আমরা শুনলাম তুমি বিপদে পড়েছিলি।”
মায়া বলে,
— “আমি ঠিক আছি, আন্টি। কিন্তু আমি জানতে চাই, কী চলছে।”
আদিত্য বলেন,
— “মায়া, আমি আমেরিকা থেকে এসেছি তোমাদের জন্য। অভি সব বলবে।”
অভি মায়ার দিকে তাকায়, তার চোখে একটা গভীর আবেগ।
— “মায়া, আমি তোমাকে সব বলব। তুমি আমার Flamebird, আমি তোমাকে হারাতে পারব না।”
মায়া অভির হাত ধরে বলে,
— “অভি, আমি আপনাকে বিশ্বাস করতে চাই। কিন্তু আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
অভি মায়ার হাত শক্ত করে ধরে।
— “আমি তোমার পরিবারকেও রক্ষা করব।”
---
মন্দিরের কাছে, রাত ১০:০০-অভি মায়াকে আবার মন্দিরে নিয়ে যায়। চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধু নদীর শব্দ। অভি মায়ার হাত ধরে মন্দিরের ভেতরে যায়। সে একটা ছোট বাক্স বের করে।
— “মায়া, এটা আমার পুরনো স্মৃতি। আমি তোমাকে এখানে প্রথম দেখেছিলাম।”
মায়া বাক্স খুলে দেখে—একটা পুরনো চিঠি, যেখানে লেখা—“মায়া, তুমি আমার আলো।” মায়া অভির দিকে তাকাই।
— “অভি, তুমি আমাকে এত ভালোবাসো?”
অভি মায়াকে তার বুকে টেনে নেয়। তার হাত মায়ার পিঠে, মায়ার শরীরে একটা উষ্ণতা ছড়ায়।
— “মায়া, তুমি আমার জীবন। আমি তোমাকে পৃথিবীর সব দিয়ে ভালোবাসি।”
মায়া তার বুকে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করেন। হঠাৎ একটা শব্দ—অজানা লোকটা আবার আসে। কিন্তু অভি তাকে ঠেকায়।
অভি এবার কিছু না বলেই তার পকেট থেকে পিস্তল বের করে এবং আগান্তক ব্যক্তি এর দিকে তাক করে, আর তখনই অপর পাশের ব্যক্তির আওয়াজ অভির কানে আসে অভির সেটা বুঝতে আর বাকি থাকে না যে এই ব্যক্তিকে কে পাঠাইছে। অভিয়ার কিছু না বলে আগন্তুক ব্যক্তিকে সুট করে দেই।
মায়া তো অভির কান্ড দেখে হতবাক হয়ে যায়, বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। মায়া নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না যে তার চোখের সামনে কেউ খুন হলো।
---
মায়ার বাড়ি, রাত ১১:৩০-মায়া বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু মায়ার এখনো একটি ট্রমার ভিতরে আছে, আগন্তিক ব্যক্তিটি কে, কেনই বা অভি তাকে খুন করলো ।
অভি ফোন করে বলে,
— “মায়া, আমি ঠিক আছি। আমি তোমাকে রক্ষা করব।” তোমার ফ্যামিলিকে রক্ষা করব।
মায়া হাসে, “মায়ার মনে একটা শান্তি কাজ করছে , আবার ভয় ও করছে।” → “মায়ার মনে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব—একদিকে অভির সুরক্ষার আশ্বাস, অন্যদিকে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া খুনের দৃশ্য।”
---
চলবে...
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৮
A Dark Romantic Thriller with a Touch of Humor
---
মায়া, নিজের ছোট্ট ফ্লাটে বাড়ির বসার ঘরে বসে আছেন। মায়ার হৃৎপিণ্ড ধকধক করছে, কারণ গত রাতের মেসেজের পর আজ অভির সঙ্গে দেখা করার কথা। মায়ার বাড়ি একটি শান্ত পাড়ায়, দোতলা বাড়ি, বাগানে ফুলের গাছ আর একটা ছোট পুকুর। মায়ার মা, ফারজানা, রান্নাঘরে ব্রেকফাস্ট তৈরি করছেন—আমলেট আর পরোটা। আপনার বাবা, রহিম, সকালের কাগজ পড়ছেন, তাঁর চোখে চশমা। ছোট বোন, মিশু, ঘুম থেকে উঠে টিভি দেখছে, তার হাতে একটা চকলেট।
ফারজানা মায়াকে ডাকে,
— “মায়া, তুই আজ অফিসে যাবি না? এত ভোরে চিন্তায় ডুবে আছিস কেন?”
মায়া হাসি চেপে বলে,
— “মা, একটু কাজের চাপ আছে। আজ বসের সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।”
মিশু টিভি থেকে চোখ না সরিয়ে বলে,
— “দিদি, বস তোর জন্য লকেট জমিয়ে রেখেছে শুনেছি! তুই কি হিরোইন হয়ে যাবি?”
মায়া তাকে একটা হালকা ঠাসা দিয়ে বলে,
— “চুপ কর, তুই তোর কার্টুন দেখ।”
রহিম হেসে বলেন,
— “মায়া, যতদিন আমি আছি, আমার মেয়ে কারো হাতের পুতুল হবে না।”
মায়া হাসে, কিন্তু মনে মনে অভির কথা আর Flamebird-এর রহস্য ঘুরছে। মায়া তৈরি হয়ে বেরোতে যাওয়ার সময় ফারজানা মায়ার হাতে একটা ডাব্বা দেন—বাড়ির খাবার।
---
রাইসার বাড়ি, সকাল ৮:৩০,মায়া রাইসার বাড়িতে যাওয়ার পথে তার বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েছে। রাইসার বাড়ি একটি ছোট্ট ফ্ল্যাট, বাইরে বেল পাতা আর একটা সাইকেল। রাইসার মা, জাহানারা, মায়াকে দেখে হাসি মুখে ডাকেন।
— “মায়া, আয় বোসো! রাইসা এখনো ঘুমোচ্ছে।”
মায়া ভেতরে ঢুকলে রাইসার বাবা, হাবিব, সকালের চায়ের কাপ হাতে বসে আছেন। রাইসার ছোট বোন, নুসরাত, একটা পুতুল নিয়ে খেলছে। রাইসা ঘুম থেকে উঠে এসে বলে,
— “মায়া, তুই এত ভোরে? অভির সঙ্গে ডেট আছে নাকি?”
মায়া লজ্জা পেয়ে বলে,
— “এত ফাজলামি করিস না! আমি তোর সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।”
জাহানারা হেসে বলেন,
— “মায়া, আমাদের রাইসা তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব পড়ে গেছে। তুই যত্ন করিস।”
রাইসা বলে,
— “মা, আমি বড় হয়ে গেছি! মায়া, চল, বাইরে বসি।”
মায়া রাইসা দুজনে ছাদে যাই। রাইসা বলে,
— “মায়া, তুই অভির সঙ্গে যাচ্ছিস কেন? এত রহস্যের মাঝে নিজেকে ঝুঁকিস না।”
মায়া বলে,
— “আমি সত্য জানতে চাই, রাইসা। আমি ভয় পাই, কিন্তু আমার মধ্যে একটা টান আছে।”
---
চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার, সকাল ১০:০০-মায়া অফিসে পৌঁছেছে।
অভি মায়ার জন্য অপেক্ষা করছে। তার পাশে তার মা, ঈশিতা চৌধুরী, একটি সুন্দর শাড়িতে, হাসিমুখে মায়াকে দেখছেন। অভির বাবা, আদিত্য চৌধুরী, একটু দূরে দাঁড়িয়ে, তাঁর চোখে একটা গভীর চিন্তা।
ঈশিতা বলেন,
— “মায়া, তুমি আমাদের অফিসে এসে আমাদের পরিবারের মতোই হয়ে গেছো। অভি তোমার কথা অনেক বলে।”
আদিত্য বলেন,
— “মায়া, অভি একটু আবেগপ্রবণ। তুমি যত্ন নিও।”
অভির বাবা আরো বলেন শুধু তোমার সাথে দেখা করার জন্য শুধু আমেরিকা থেকে এখানে আসছি,মায়া।
অভি মায়ার হাত ধরে বলে,
— “মা, বাবা, আমি মায়াকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। আমাদের কিছুক্ষণ সময় দাও।”
মায়া অভির সঙ্গে গাড়িতে উঠে। গাড়ি চলতে শুরু করে, মায়া এখনো জানে না তাদের গন্তব্য কোথায়। মায়া নিরবে বসে দেখতে থাকে, অফিসের পটভূমিতে রিজভী, তানিয়া, আর অন্যান্য কর্মচারী ব্যস্ত—কেউ হ্যাকিংয়ের তদন্তে, কেউ মিটিংয়ে।
---
একটি পুরনো মন্দিরের কাছে, দুপুর ১২:৩০-গাড়ি থামে। এটা একটি পুরনো মন্দির, চারপাশে বন, একটা ছোট নদী। অভি মায়াকে নিয়ে মন্দিরের ভেতরে যায়। ভেতরে একটা পুরনো ফটো—মায়া আর অভি একসঙ্গে, হাসছেন।
অভি বলে,
— “মায়া, এখানে আমরা কলেজে একটা পিকনিকে এসেছিলাম। তুমি হাসছিলে, আমি তোমাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম।”
মায়া বলে,
— “আমি এটা মনে করতে পারছি না, স্যার। কেন?”
অভি মায়ার হাত ধরে।
— “কারণ তুমি আমাকে ভুলে গেছো। কিন্তু আমি তোমাকে মনে রাখছি। তুমি আমার Flamebird।”
হঠাৎ একটা শব্দ।মায়া দেখে,একজন অজানা ব্যক্তি মন্দিরের কোণ থেকে বেরোয়। তার হাতে একটা পিস্তল।
— “অভি চৌধুরী, তুমি শেষ হয়ে গেলে। আর মায়া, তুমি এখান থেকে বেরোতে পারবে না।”
অভি মায়াকে পেছনে ঠেলে দিয়ে বলে,
— “মায়া, দৌড়াও!”
মায়া দৌড়ায়। মায়ার মনে অভির পরিবার, রাইসার পরিবার, মায়ার নিজের পরিবার—সবাই ঝাপসা হয়ে যায়। মায়া হয় কি এই রহস্যের মুখোমুখি হতে পারবে?
তারপরে অফিস আগান্তক ব্যক্তি কে বলে,তুই ভুল করছিস কার সাথে লাগতে আসছিস তোর ধারণা নেই আমি তো শেষ দেখে ছাড়বো।
---
ক্যান্টিন, বিকেল ৪:০০-মায়া ফিরে এসেছে। রাইসা, তার মা জাহানারা, আপনার মা ফারজানা—সবাই মায়াকে ঘিরে। রিজভী এসে বলে,
— “মায়া, তুমি ঠিক আছিস? অভি তো পাগল হয়ে গেছে!”
মায়া বলে,
— “আমি জানি না, রিজভী স্যার। কিন্তু আমি সত্য খুঁজে বের করব।”
ফারজানা মায়াকে জড়িয়ে ধরে।
— “মায়া, তুই আমাদের কাছে থাক।”
রাইসা বলে,
— “হ্যাঁ, আমরা তোর সঙ্গে আছি।”
মায়া হাসেন, কিন্তু মনে মনে জানে—এই গল্পের শুরু মাত্র।
---
চলবে...
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৭
A Dark Romantic Thriller with a Touch of Humor
---
চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার, বিকেল ৫:০০, অভির পার্সোনাল লাউঞ্জ -
মায়া, লাউঞ্জের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকছেন।মায়ার হৃৎপিণ্ড ধকধক করছে, যেন কোনো অজানা আশঙ্কা আপনাকে ঘিরে ধরেছে।
ঘরের আলো মৃদু, ক্রিস্টাল ল্যাম্পের আলো দেয়ালে ছায়া ফেলছে। দেয়ালে ঝুলছে কলেজ ফেস্টের সেই পুরনো ছবি—মায়খ গান গাইতেছে, আর ভিড়ের মধ্যে অভির চোখ মায়ার দিকে। টেবিলে একটা অডিও প্লেয়ার, যেখানে মায়ার সেই গানের রেকর্ডিং।
অভি দাঁড়িয়ে আছে, তার কালো শার্টের উপরের দুটো বোতাম খোলা, চোখে একটা তীব্র আকাঙ্ক্ষা, যেন মায়া তার জগতের একমাত্র বাসিন্দা।
— “তুমি এসেছো, মায়া। আমি জানতাম তুমি আমার কথা ফেলতে পারবে না।” অভির কণ্ঠ গভীর, প্রায় ফিসফিসের মতো, মায়ার শরীরে শিহরণ জাগায়।
মায়া গলা শক্ত করে বলে,
— “আমি এসেছি কারণ আমার উত্তর চাই। আপনি আমাকে দশ বছর ধরে ফলো করছেন, আমার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত লিখে রেখেছেন। এটা কি ভালোবাসা, নাকি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করার খেলা?”
অভি এক পা এগিয়ে আসে, তার শ্বাসের উত্তাপ মায়ার গালে লাগছে। তার কোলনের তীব্র গন্ধ মায়ার ইন্দ্রিয়ে আঘাত হানে।
— “নিয়ন্ত্রণ? মায়া, তুমি আমাকে ভুল বুঝছো। আমি তোমাকে হারানোর ভয়ে পাগল হয়ে যাচ্ছি। তুমি জানো না, তোমার সেই গান, তোমার হাসি—এগুলো আমার জীবনের একমাত্র আলো।”
মায়খ পিছিয়ে যাই, মায়ার কণ্ঠে একটা চ্যালেঞ্জ।
— “এটা ভালোবাসা নয়, মিঃ অভি চৌধুরী। আপনি আমাকে একটা খাঁচায় বন্দী করতে চান। আমি আপনার কোনো পুতুল নই।”
অভির ঠোঁটে একটা তিক্ত হাসি ফুটে ওঠে।
— “পুতুল? না, মায়া। তুমি আমার জীবনের সুর। আর আমি তোমাকে কখনো হারাতে দেব না।”
হঠাৎ দরজায় নক। রিজভী ঢুকে পড়ে, হাতে একটা ট্রে—দুটো ওয়াইন গ্লাস আর এক বোতল রেড ওয়াইন। তার মুখে দুষ্টু হাসি।
— “বস, আমি ভাবলাম এই মুহূর্তটা একটু… রোমান্টিক করা যাক। মায়া, তুমি কি লজ্জা পাচ্ছো, নাকি বসের চোখে ডুবে গেছো?”
মায়া চোখ বড় করে তাকাই।
— “রিজভী স্যার! আপনি এখানে কী করছো?
রিজভী মায়াকে উদ্দেশ্য করে বলে, আমি কিছু দেখিনি।
রিজভী আবার হাসতে হাসতে বলে,
— “আরে, আমি তো বসের ডান হাত। তুমি বসের হৃদয়ে ঢুকে গেছো, আমি তো একটু মশলা যোগ করবই!”
অভি বিরক্ত হয়ে বলে,
— “রিজভী, বেরিয়ে যা। এখনই।”
রিজভী চোখ টিপে বলে,
— “আচ্ছা, বস। মায়া, বসের মনটা গলিয়ে দিও!” বলে সে হাসতে হাসতে বেরিয়ে যায়।
মায়া রাগে ফুঁসছেন, কিন্তু রিজভীর ফাজলামি মায়ার মুখে একটা হাসি ফুটিয়ে দেয়।
---
লাউঞ্জ, সন্ধ্যা ৬:৩০,অভি ওয়াইনের গ্লাসটা আপনার দিকে এগিয়ে দেয়।
— “নাও, মায়া। আমরা শান্তভাবে কথা বলতে পারি।”
মায়া গ্লাসটা নেই না। মায়ার চোখে সন্দেহ।
— “আপনি আমাকে কী দেখাতে চান? শুধু এই ছবি আর গান? নাকি আরও কিছু লুকিয়ে আছে?”
অভি তার পকেট থেকে একটা ছোট্ট বাক্স বের করে। সে বাক্সটা খোলে—ভেতরে মায়ার পুরনো লকেট, যেটা মায়া কলেজে হারিয়েছিলো। মায়ার নামের প্রথম অক্ষর “M” খোদাই করা।
— “এটা… আমার লকেট!” মায়া হতবাক। “আপনি এটা কোথায় পেলেন?”
অভি নিচু গলায় বলে,
— “কলেজ ফেস্টের দিন তুমি এটা হারিয়েছিলে। আমি খুঁজে পেয়েছিলাম। এটা আমার কাছে রেখেছি, কারণ এটা আমাকে তোমার কাছাকাছি রাখত।”
মায়া লকেটটা হাতে নেই, মায়ার আঙুল কাঁপছে।
অভি মায়ার আরও কাছে আসে, তার চোখে একটা তীব্র আকুতি।
— “মায়া, আমি তোমাকে দেখাতে চাই, আমার ভালোবাসা শুধু অন্ধকার নয়। এটা আমার হৃদয়ের সত্য।”
মায়াপিছিয়ে যাই।
— “আমার সময় দরকার, স্যার। আমি এত তাড়াতাড়ি আপনার কথায় বিশ্বাস করতে পারছি না।”
অভি হাসে।
— “আমি অপেক্ষা করব। কিন্তু মনে রেখো, মায়া—তুমি আমার জীবনের একমাত্র সুর।”
হঠাৎ লাউঞ্জের দরজা খুলে যায়। তানিয়া, অফিসের নতুন কর্মচারী, ঢুকে পড়ে। তার চোখে উদ্বেগ।
— “স্যার, একটা সমস্যা হয়েছে! অফিসের সার্ভারে কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করছে। আইটি টিম এখনো বুঝতে পারছে না কে বা কেন!”
অভি মায়ার দিকে তাকায়, তারপর তানিয়ার দিকে।
— “আইটি টিমকে বলো আমি এখনই আসছি।”
মায়া থমকে যাই। এই হ্যাকিংয়ের পেছনে কি কোনো গোপন রহস্য আছে?
---
ক্যান্টিন, রাত ৮:০০ মায়া রাইসার সঙ্গে ক্যান্টিনে বসে আছেন। রাইসা একটা চকলেট মাফিন চিবোচ্ছে।
হঠাৎ রিজভী এসে হাজির। তার হাতে একটা কোল্ড কফি, মুখে দুষ্টু হাসি।
— “কী ব্যাপার, মায়া? শুনলাম তুমি আর বস লাউঞ্জে প্রায়… রোমান্টিক সিনেমার দৃশ্য তৈরি করছিলে! আমি কি মোমবাতি নিয়ে আসব পরের বার?”
মায়া বিরক্ত হয়ে বলেন,
— স্যার আপনি একটু কম ফাজলামি করতে পারেন না?” আমাকে এগুলো না বলে আপনার বসকে বলেন ওকে। আপনার বস একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছে।
রিজভী হাসতে হাসতে বলে,
— “আরে, আমি তো বসের মনের খবর জানি। তুমি জানো না, মায়া, বস তোমার জন্য পুরো অফিসে গান বাজিয়ে দিতে চায়! আমি তো বলি, তুমি একটু নরম হয়ে দেখো, হয়তো বস তোমার জন্য কবিতাও লিখবে!”
রাইসা হাসতে হাসতে চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে যায়।
— “অভি চৌধুরী কবিতা লিখবে? রিজভী, তুই কি পুরো বলিউড স্ক্রিপ্ট লিখছিস?”
মায়া হাসে, কিন্তু মায়ার মনে অভির কথা আর এই হ্যাকিংয়ের রহস্য ঘুরছে।
---
অভির কেবিন, রাত ৯:৩০-অভি একা বসে আছে,হাতে একটা ফাইল—“প্রজেক্ট ফ্লেমবার্ড।” হঠাৎ তার ফোনে একটা কল আসে। স্ক্রিনে নাম—অজানা নম্বর।
— “কে?” অভির কণ্ঠে ধারালোতা।
ওপাশ থেকে একটা বিকৃত কণ্ঠস্বর।
— “অভি চৌধুরী, তুমি যা ভাবছো, তা হবে না। মায়া রহমানকে ছেড়ে দাও, নইলে তোমার অতীতের সব গোপন বেরিয়ে যাবে।”
অভির মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। সে ফোনটা কেটে দেয়, কিন্তু তার হাত কাঁপছে।
---
, রাত ১১:০০-মায়া বিছানায় বসে আছে। মায়া হাতে লকেটটা। হঠাৎ মায়ার ফোনে একটা মেসেজ আসে।
> “মায়া, আমি জানি তুমি আমাকে ভয় পাচ্ছো। কিন্তু আমাকে বিশ্বাস করো। আর এতো বেশি বুঝো না। তুমি শুধু আমার Flamebird । সবশেষে একটা কথা কাল আমি তোমাকে একটা জায়গায় নিয়ে যাব। তুমি আমার সঙ্গে যাবে?
— A.C.”
মায়ার শ্বাস আটকে যায়। এই মেসেজের উত্তর দেওয়া মানে অভির জগতে আরেক পা এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা, এই অজানা হুমকি—এসব কি অভির অতীতের ছায়া? মায়া কি প্রস্তুত এই রহস্যের মুখোমুখি হতে?
চলবে...
---
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৬
A Dark Romantic Tale of Obsession, Power, and Possession
---
রাত ১:০০,মায়া তার ডায়েরির পাতা বন্ধ করে, কিন্তু মনের ভেতরে একটা ঝড় চলছে। অভির শেষ মেসেজটা
—“এই খেলায় আমি কখনো হারি না
”—তার মনে একটা অদ্ভুত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাগিয়েছে। সে বুঝতে পারছে, অভি চৌধুরী শুধু তার বস নয়, তার জীবনে একটা রহস্যময় উপস্থিতি হয়ে উঠেছে। কিন্তু কেন?
কেন সে তার পেছনে এতটা লেগেছে?
মায়া জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। রাতের শহরের আলো তার মুখে পড়ছে। হঠাৎ তার মনে একটা পুরনো স্মৃতি ভেসে ওঠে
—দশ বছর আগে, কলেজের প্রথম দিন। একটা ছেলে, লম্বা, চুপচাপ, যে তাকে দূর থেকে দেখত, কিন্তু কখনো কথা বলার সাহস করেনি। সেই চোখে একটা অদ্ভুত তীব্রতা ছিল, যেন সে মায়ার প্রতিটি হাসি, প্রতিটি কথা মনে রাখতে চায়।
— “না, এটা সম্ভব না,” মায়া নিজেকে বলে। “অভি চৌধুরীর মতো মানুষ আমার কলেজে ছিল না। আমি নিশ্চিত।”
কিন্তু তার মনের কোণে একটা সন্দেহ জাগে। সে কি সত্যিই অভিকে আগে কোথাও দেখেছে?
---
দশ বছর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ২০১৫। অভি চৌধুরী তখন কেবল একজন তরুণ ছাত্র। চৌধুরী পরিবারের উত্তরাধিকারী হলেও সে ক্যাম্পাসে নিজেকে সাধারণ রাখত। কিন্তু তার চোখে ছিল একটা আগুন, একটা অদম্য ইচ্ছা। আর সেই চোখ পড়েছিল মায়া রহমানের ওপর।
মায়া ছিল কলেজের সবচেয়ে সরল মেয়ে। তার হাসি, তার কথা বলার ভঙ্গি।
—সবকিছু অভির মনে গেঁথে যেত। কিন্তু অভি কখনো তার কাছে যায়নি। তার মধ্যে একটা ভয় ছিল—যদি মায়া তাকে প্রত্যাখ্যান করে? তাই সে দূর থেকে দেখত, তার প্রতিটি মুহূর্ত মনে গেঁথে নিত।
একদিন, কলেজের ফেস্টে মায়া একটা গান গেয়েছিল। তার কণ্ঠে এমন একটা জাদু ছিল যে অভির হৃদয় যেন থমকে গিয়েছিল। সে বুঝেছিল
—এই মেয়ে তার জীবনে একটা অদৃশ্য শূন্যতা পূরণ করতে পারে। কিন্তু তারপরই অভির বাবা তাকে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেন। মায়ার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়।
কিন্তু মায়ার স্মৃতি অভির মন থেকে কখনো মুছে যায়নি। দশ বছর ধরে সে মায়াকে খুঁজেছে, তার খোঁজ রেখেছে। আর যখন সে জানতে পারে মায়া তার কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করেছে, সে ঠিক করে—এবার সে মায়াকে হারাবে না।
---
বর্তমান, চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার, সকাল ৯:০০।মায়া অফিসে ঢুকে দেখে অভি তার কেবিনে নেই। রিসেপশনিস্ট জানায়,
— “স্যার আজ একটা জরুরি মিটিংয়ে গেছেন। তিনি বলেছেন, আপনি এই ফাইলটা নিয়ে কাজ শুরু করুন।”
মায়া ফাইলটা হাতে নিয়ে তার ডেস্কে বসে। কিন্তু তার মন অন্য কোথাও। সে অভির মেসেজগুলোর কথা ভাবছে। হঠাৎ তার চোখ পড়ে ফাইলের একটা পুরনো ছবির ওপর। ছবিটা কলেজ ফেস্টের, যেখানে সে গান গাইছিল। তার পাশে, ভিড়ের মধ্যে, একটা চেনা মুখ।
— “এটা… এটা কি অভি?” মায়ার হৃৎপিণ্ড ধক করে ওঠে।
সে ছবিটা আরও কাছে নিয়ে দেখে। সেই চোখ, সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। এটা অভি চৌধুরী। কিন্তু কেন এই ছবি এখানে?
---
দুপুর ২:০০, অভির কেবিন।অভি ফিরে এসেছে। মায়া তার কেবিনে ঢুকে সোজা প্রশ্ন করে,
— “আপনি আমাকে কলেজ থেকে চিনতেন, তাই না?”
অভি থমকে যায়। তার চোখে একটা অদ্ভুত আলো। সে ধীরে ধীরে বলে,
— “তুমি সেই ছবি দেখেছো।”
মায়া রেগে যায়।
— “আপনি আমাকে এতদিন ধরে ফলো করছেন? এটা কী, অভি চৌধুরী? আপনি কি আমার জীবন নিয়ে খেলছেন?”
অভি উঠে দাঁড়ায়, তার কণ্ঠে একটা গভীর আবেগ।
— “খেলা? না, মায়া। এটা কোনো খেলা নয়। আমি তোমাকে দশ বছর আগে দেখেছিলাম। তোমার গান, তোমার হাসি… আমি কখনো ভুলিনি। আমি তোমাকে ভালোবেসেছি, মায়া। আর এখন তুমি আমার সামনে, আমি তোমাকে হারাতে দেব না।”
মায়া হতবাক। তার মনে হয় পৃথিবী যেন থেমে গেছে। ভালোবাসা? এটা কি সত্যি, নাকি অভির আরেকটা খেলা?
— “আপনি ভালোবাসা বলছেন? এটা ভালোবাসা নয়, এটা অবসেশন!” মায়া প্রায় চিৎকার করে ওঠে।
অভি এক পা এগিয়ে আসে, তার চোখে একটা অদ্ভুত দৃঢ়তা।
— “তুমি যাই বলো, মায়া। তুমি আমার ছিলে, আছো, থাকবে। আমি তোমাকে আমার জীবনে চাই।”
মায়া পিছিয়ে যায়। তার মনে ভয়, ক্রোধ, আর একটা অদ্ভুত কৌতূহল মিশে যায়। সে কি এই মানুষটার প্রতি কখনো কিছু অনুভব করেছিল? নাকি এটা শুধুই অভির মনের একটা ভ্রম?
---
সন্ধ্যা ৭:০০, মায়া রাইসাকে ফোন করে সব বলে। রাইসা চুপ করে শোনে, তারপর বলে,
— “মায়া, এটা সিরিয়াস। উনি তোমাকে দশ বছর ধরে ভালোবাসেন? এটা রোমান্টিক হতে পারত, যদি উনার ব্যবহার এতটা ডার্ক না হত। তুই কী করবি এখন?”
মায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
— “আমি জানি না, রাইসা। আমি শুধু জানতে চাই, এটা সত্যিই ভালোবাসা, নাকি আমি তার কাছে শুধু একটা জিনিস, যা সে জিততে চায়?”
রাতে মায়ার ফোনে আরেকটা মেসেজ আসে।
> “তুমি আমার কথা বিশ্বাস করো বা না করো, মায়া, আমি তোমাকে হারাব না। তুমি আমার গান, আমার স্বপ্ন। কাল আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাব।
— A.C.”
মায়া মেসেজটা পড়ে। তার হৃদয়ে একটা অদ্ভুত টানাপোড়েন। সে কি অভির এই ভালোবাসায় বিশ্বাস করবে? নাকি এটা তার জীবনের সবচেয়ে বড় ফাঁদ?
চলবে...
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৫
[A Dark Romantic Tale of Obsession, Power, and Possession ]
রাত ১১:৩০ মায়া ফোনটা হাতে ধরে বসে আছে, চোখে ভয় আর অস্থিরতা। অভির কণ্ঠস্বর যেন তার মাথার মধ্যে প্রতিধ্বনি তুলছে
— “এই খেলা এখনো শুরু হয়নি।” সে ফোনটা বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে, কিন্তু মনের অস্থিরতা কমছে না। হঠাৎ তার মনে হয়, এই ঘরের দেয়ালগুলোও যেন তাকে গিলে খাচ্ছে।
সে উঠে দাঁড়ায়, জানালার কাছে গিয়ে পর্দা সরায়। বাইরে রাতের শহর নিঃশব্দে জেগে আছে। কিন্তু তার মনে হয়, অভি চৌধুরীর ছায়া যেন এই অন্ধকারের মধ্যেও লুকিয়ে আছে।
মায়া নিজেকে প্রশ্ন করে,
— “আমি কি সত্যিই এত দুর্বল? আমি কেন তার কথায় এত ভয় পাচ্ছি? আমি তো মায়া রহমান, যে কখনো কারও কাছে হার মানে না!”
সে সিদ্ধান্ত নেয়—এই খেলায় সে পিছু হটবে না। কিন্তু এবার সে অভির নিয়মে খেলবে না। সে নিজের নিয়ম তৈরি করবে।
---
পরদিন, সকাল ৮:০০, চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার ।মায়া আজ একটু অন্যরকম, কালো চুড়িদার পড়া,চুল খোলা—তার চোখে একটা নতুন দৃঢ়তা। সে অফিসে ঢুকেই রাইসাকে ফিসফিস করে বলে,
— “আমি আর ভয় পাব না। আমি দেখতে চাই, অভি চৌধুরী আসলে কী চায়।”
রাইসা অবাক হয়ে তাকায়।
— “মায়া, তুই কি পাগল হয়ে গেছিস? উনি ডেঞ্জারাস! তুই ওনার খেলায় জড়াবি কেন?”
মায়া হাসে, একটা রহস্যময় হাসি।
— “আমি জড়াব না। আমি ওনাকে বুঝিয়ে দেব, আমি কারও পুতুল নই।”
রিসেপশনিস্ট তাকে আবার অভির কেবিনে ডেকে পাঠায়। মায়া এবার বুক ফুলিয়ে হাঁটে। তার পায়ের শব্দে একটা আত্মবিশ্বাসের ছন্দ।
---
অভির কেবিন, সকাল ৮:৩০।অভি তার চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছেন, হাতে একটা কফির মগ। মায়াকে দেখে তার চোখে সেই পরিচিত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ফুটে ওঠে। কিন্তু আজ মায়ার চোখেও একটা চ্যালেঞ্জ।
— “বসো,” অভি বলেন, কণ্ঠে সেই শান্ত কিন্তু কর্তৃত্বপূর্ণ সুর।
মায়া বসে, কিন্তু এবার সে চোখ নামায় না। সোজা অভির চোখে তাকায়।
— “আপনি আমাকে কেন বারবার ডাকছেন? আমি আমার কাজ ঠিকঠাক করছি। তাহলে এই মেসেজ, এই কথাবার্তা কেন?”
অভি একটু অবাক হয়। মায়ার এই সাহসী রূপ তার কাছে নতুন। সে হাসে, সেই অসমাপ্ত হাসি।
— “তুমি আজ অন্যরকম, মায়া। আমার ভালো লাগছে। তবে…” সে এগিয়ে আসে, ডেস্কের ওপর হেলান দিয়ে। “তুমি যতই চ্যালেঞ্জ করো, তুমি আমার খেলা থেকে বের হতে পারবে না।”
মায়া দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
— “আমি আপনার কোনো খেলায় নেই। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি, আপনার ব্যক্তিগত অবসেশনের শিকার হতে নয়।”
অভির চোখে একটা ঝলক। সে হঠাৎ হেসে ওঠে, গভীর, গম্ভীর হাসি।
— “ব্যক্তিগত অবসেশন? তুমি ভাবছো এটা শুধু আমার ইচ্ছা? না, মায়া। তুমি নিজেও এই খেলায় জড়িয়ে পড়েছো। তোমার চোখে আমি দেখতে পাই—তুমিও আমাকে বোঝার চেষ্টা করছো।”
মায়া থমকে যায়। সে অস্বীকার করতে চায়, কিন্তু কোথাও যেন অভির কথা তার মনে ধাক্কা দেয়। সে কি সত্যিই অভির এই রহস্যের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে?
---
দুপুর ১:০০, ক্যান্টিন,মায়া আর রাইসা ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছে। রাইসা বলে।
— “তুই ওনার সঙ্গে এভাবে কথা বললি? তুই সিরিয়াসলি বদলে গেছিস, মায়া!”
মায়া হাসে, কিন্তু তার হাসিতে একটা অস্থিরতা লুকিয়ে আছে।
— “আমি জানি না, রাইসা। আমি শুধু এটা বুঝতে চাই, উনি আমার পেছনে কেন লেগেছেন।
আমি কি ওনার কাছে শুধু একটা খেলনা? নাকি এর পেছনে আরও কিছু আছে?”
হঠাৎ তাদের পাশে রিজভী এসে দাঁড়ায়।
— “কী ব্যাপার, মায়া? তুমি তো আজ স্যারের কেবিনে ঝড় তুলে দিয়েছো শুনলাম!”
মায়া চোখ তুলে তাকায়। রিজভীর হাসিতে কিছু একটা লুকিয়ে আছে, যেন সে অভির পক্ষ থেকে কিছু জানার চেষ্টা করছে।
— “আমি শুধু আমার কথা বলেছি। এতে ঝড় তোলার কী আছে?”
রিজভী হাসে।
— “তুমি জানো না, মায়া। অভি চৌধুরী এমন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে অভ্যস্ত নয়, যে ওনাকে চ্যালেঞ্জ করে। তুমি ওনার মাথায় ঢুকে গেছো।”
মায়ার মুখ শক্ত হয়ে যায়। সে উঠে দাঁড়ায়।
— “আমি কারও মাথায় ঢুকতে চাই না। আমি শুধু আমার জায়গায় থাকতে চাই।”
---
সন্ধ্যা ৬:৩০, অভির পার্সোনাল লাউঞ্জ,অভি একা বসে আছেন, হাতে এক গ্লাস ওয়াইন। তার চোখে একটা অদ্ভুত চিন্তা। সে নিজের মনে বলে,
— “তুমি ভাবছো তুমি আমাকে ঠেকিয়ে দিতে পারবে, মায়া? কিন্তু তুমি যতই লড়াই করো, তুমি আমার কাছে এসে দাঁড়াবে। আমি তোমাকে আমার করে নেব।”
হঠাৎ তার ফোনে একটা কল আসে। স্ক্রিনে নাম—ঈশিতা চৌধুরী, তার মা। অভি কলটা রিসিভ করে।
— “মা, তুমি ঠিক আছো?”
ঈশিতার কণ্ঠ ক্লান্ত, কিন্তু উদ্বিগ্ন।
— “অভি, তুই কী করছিস? আমি শুনলাম তুই একটা মেয়েকে নিয়ে অদ্ভুত ব্যবহার করছিস। এসব কী, বাবা? তুই আমাদের নাম নষ্ট করিস না!”
অভির মুখ শক্ত হয়ে যায়। সে বলে মাম্মা কে বলেছে তোমাকে এইকথা?
_ তখনই ইষিতা চৌধুরী বলেন,নেহা বলেছে।
— “মা, তুমি চিন্তা করো না। আমি সব সামলাব।”
কিন্তু ঈশিতার কথা তার মনে একটা প্রশ্ন জাগায়। সে কি সত্যিই মায়ার প্রতি শুধু অবসেশনের বশে এগোচ্ছে? নাকি তার মনে আরও কিছু আছে, যা সে নিজেও বুঝতে পারছে না?
---
রাত ৯:০০, মায়ার অ্যাপার্টমেন্ট,মায়া তার ডায়েরিতে লিখছে।
— “আমি জানি না এই খেলা কোথায় নিয়ে যাবে। কিন্তু আমি আর ভয় পাব না। অভি চৌধুরী যদি আমাকে তার খেলায় টানতে চায়, আমি তাকে দেখিয়ে দেব—আমি তার পুতুল নই। আমি মায়া রহমান, আমার নিজের গল্প আছে।”
হঠাৎ তার ফোনে একটা মেসেজ আসে। এবারও A.C.।
> “তুমি আজ আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছো। আমি এটা পছন্দ করেছি। কিন্তু মনে রেখো, মায়া—এই খেলায় আমি কখনো হারি না।
কাল আমাদের মধ্যে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
— A.C.”
মায়া মেসেজটা পড়ে। তার হাত কাঁপছে না। সে ফোনটা রেখে দিয়ে হাসে।
— “দেখা যাক, অভি চৌধুরী। এই খেলায় তুমি হারবে, নাকি আমি জিতব।”
চলবে...
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৪
A Dark Romantic Tale of Obsession, Power, and Possession
মায়া বিছানায় বসে আছে, হাতে সেই মেসেজটা খোলা। “I don’t forget… — A.C.”।
শব্দগুলো যেন তার মাথায় বারবার ঘুরছে। সে ফোনটা নামিয়ে রাখে, কিন্তু মনের ভেতরের অস্থিরতা কমছে না।
— “এই মানুষটা কী চায়?
আমি তো কোনো ভুল করিনি! তাহলে কেন আমার পেছনে এমনভাবে লেগেছে?”
মায়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে। আজ সে একটু বেশি সতর্ক। গাঢ় নীল শাড়ি, চুলে সাধারণ খোঁপা, কানে ছোট্ট দুল। নিজেকে দেখে সে নিজেই বলে,
— “তুমি পারবে, মায়া। তুমি কারও খেলার পুতুল নও।”কিন্তু তার মনের কোণে একটা ভয় লুকিয়ে আছে। অভি চৌধুরীর সেই চোখ, সেই কথাগুলো— “তুমি কেবল আমার জন্য।” এই কথাটা যেন তার মনের মধ্যে একটা অদৃশ্য জাল বুনে দিয়েছে।
৯:৫০ মায়া অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রিসেপশনিস্ট তাকে আবার ডেকে পাঠায়।
— “মায়া, স্যার আপনাকে তার কেবিনে ডেকেছেন। এখনই।”মায়ার হৃৎপিণ্ড ধক করে ওঠে।
আবার? কেন?
সে নিজেকে শান্ত করে, ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে অভির কেবিনের দিকে এগোয়।দরজায় নক করতেই ভেতর থেকে অভির গভীর কণ্ঠস্বর ভেসে আসে,
— “আসো।”মায়া ভেতরে ঢুকে দেখে অভি তার ডেস্কে বসে আছেন, হাতে একটা কালো পেন ঘুরাচ্ছেন। তার চোখে সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, যেন মায়ার প্রতিটি অঙ্গভঙ্গি পড়ে ফেলছেন।— “বসো,” অভি বলেন, চোখ না তুলেই।মায়া চেয়ারে বসে, হাত দুটো কোলে জড়িয়ে রাখে।
— “আপনি ডেকেছেন?”অভি এবার চোখ তুলে তাকান। তার ঠোঁটে সেই অসমাপ্ত হাসি।
— “তুমি আজ তাড়াতাড়ি এসেছো। ভালো। আমি অপেক্ষা করতে পছন্দ করি না।
”মায়া কিছু বলতে যায়, কিন্তু অভি তাকে থামিয়ে দেয়।
— “আজ একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। তুমি আমার সঙ্গে থাকবে। নোটস নেবে, আর আমার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবে। বুঝেছো?”
মায়া মাথা নাড়ে। কিন্তু তার মনে হয়, এই মিটিংয়ের পেছনে আরও কিছু আছে।
মিটিং রুম, দুপুর ১২:০০মিটিং রুমে বড় বড় ক্লায়েন্টরা বসে আছেন। অভি টেবিলের মাথায়, তার পাশে মায়া। তার হাতে নোটবুক, কিন্তু মন বারবার ছটফট করছে। অভির উপস্থিতি যেন তাকে একটা অদৃশ্য চাপের মধ্যে রেখেছে।মিটিংয়ের মাঝে অভি হঠাৎ বলে ওঠেন,
— “মায়া, আমার ফাইলটা দাও।”মায়া দ্রুত ফাইলটা এগিয়ে দেয়, কিন্তু তার হাত কাঁপছে। অভি ফাইলটা নেওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তার হাত স্পর্শ করেন। মায়ার শরীরে যেন বিদ্যুৎ খেলে যায়। সে তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নেয়।
মিটিং শেষে সবাই চলে যায়, কিন্তু অভি মায়াকে থামিয়ে দেন।
— “তুমি এখনো আমার কথা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছো। কেন?”মায়া সাহস জোগাড় করে বলে,
— “আমি কিছু এড়িয়ে যাচ্ছি না। আমি আমার কাজ করছি।”অভি এক পা এগিয়ে আসেন। তার কণ্ঠস্বর নিচু, প্রায় ফিসফিসের মতো।
— “তুমি ভাবছো তুমি শুধু একজন কর্মচারী? না, মায়া। তুমি আমার কাছে অনেক বেশি। আর আমি যা চাই, তা আমি পাই।”মায়ার গলা শুকিয়ে যায়। সে পিছিয়ে যেতে চায়, কিন্তু পা যেন মাটিতে আটকে গেছে।
বিকেল ৪:০০, ক্যান্টিনরাইসা মায়ার পাশে বসে চা খাচ্ছে।
— “তুই ঠিক আছিস? তোর মুখ ফ্যাকাশে কেন?”মায়া একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
— “রাইসা, আমি বুঝতে পারছি না। অভি চৌধুরী আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করছে কেন? আমি তো শুধু আমার কাজ করতে চাই!”রাইসা ভ্রু কুঁচকে বলে,
— “তুই কি বুঝতে পারছিস না? উনি তোর প্রতি ইন্টারেস্টেড। আর এটা ভালো ইন্টারেস্ট নয়, মায়া। উনি যেভাবে তোর দিকে তাকায়, যেভাবে কথা বলে… এটা অবসেশনের মতো।”মায়া চুপ করে থাকে। রাইসার কথাগুলো তার মনে গভীরভাবে বসে যায়।— “আমার কী করা উচিত?”রাইসা বলে,
— “তুই সাবধানে থাক। উনি চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির মালিক। উনার ক্ষমতা, প্রভাব… তুই কল্পনাও করতে পারবি না। তুই যদি ওনার খেলায় পড়িস, তাহলে বের হওয়া কঠিন হবে।”
সন্ধ্যা ৭:০০, চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার,মায়া তার ডেস্কে ব্যাগ গুছিয়ে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত। হঠাৎ তার ফোনে আরেকটা মেসেজ আসে।“আজ তুমি আমার কথা এড়িয়ে গেছো। কাল থেকে এটা আর হবে না।
তুমি আমার কাছে আসবে, মায়া। নিজের ইচ্ছায়।
— A.C.”মায়ার হাত কাঁপতে থাকে। সে চারপাশে তাকায়। অফিস প্রায় ফাঁকা। কিন্তু তার মনে হয়, অভির চোখ যেন এখনো তাকে দেখছে।হঠাৎ পিছন থেকে রিজভীর গলা শোনা যায়,
— “মায়া, এখনো যাওনি? চলো, আমি তোমাকে ড্রপ করে দিই।”মায়া চমকে ওঠে। রিজভীর হাসিটা স্বাভাবিক, কিন্তু তার মনে হয় এর পেছনেও কিছু লুকিয়ে আছে।
— “না, ঠিক আছে। আমি নিজেই যেতে পারব।”রিজভী হাসে।
— “অভি তোমাকে নিয়ে অনেক কথা বলে, জানো? তুমি তার কাছে স্পেশাল।”মায়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়। সে দ্রুত ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়।
মায়া তার ছোট্ট ফ্ল্যাটে, রাত ১০:০মায়া বিছানায় শুয়ে আছে, কিন্তু ঘুম আসছে না। তার মাথায় শুধু অভির কথা, তার চোখ, তার মেসেজ।
—আমি কি এই চাকরি ছেড়ে দেব?
নাকি আমি এই খেলায় টিকে থাকব?”হঠাৎ তার ফোন বেজে ওঠে। অজানা নম্বর। সে ধীরে ধীরে ফোনটা তুলে নেয়। কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে অভির কণ্ঠস্বর ভেসে আসে,
— “মায়া, তুমি কি ভেবেছো আমি তোমাকে এত সহজে ছেড়ে দেব? এই খেলা এখনো শুরু হয়নি।”মায়ার শ্বাস আটকে যায়। সে ফোনটা কেটে দেয়, কিন্তু তার হাত কাঁপছে।এই খেলা এখন আর শুধু অফিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটা তার জীবনের একটা অংশ হয়ে গেছে।
চলবে...
#অন্তহীন_অধিকার
#পর্ব_৩
A Dark Romantic Tale of Obsession, Power, and Possession
---
সাদা ঘর। নিঃশব্দ। কাঁচের জানালায় রাতের শহরের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। অভি চৌধুরী দাঁড়িয়ে আছেন জানালার সামনে, চোখে চিন্তিত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। তার ডান হাতে এখনো সেই ফাইল, যার উপর মায়া রহমানের নাম খোদাই করা।
তার ঠোঁটে এক অসমাপ্ত হাসি খেলে যায়।
— “তুমি ‘আপনি’ বলো? এই খেলার শুরুতেই তুমি দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করছো? না মায়া… এই দূরত্ব আমি মেনে নেবো না।”
অভি আস্তে করে ফাইলটা ডেস্কে রেখে নিজের সাদা চেয়ারে বসে পড়েন।
— “তুমি ভাবছো এই চাকরি তোমার যোগ্যতার কারণে পেয়েছো। না… তুমি পেয়েছো কারণ আমি চেয়েছি তুমি আসো। এখন তুমি আমার খেলায়, আমার নিয়মে বাঁধা।”
এসব ভাবতে ভাবতে অভির ফোনে কল আসে, ফোনটা হাতে নিয়ে স্কিনে নামটা দেখে একটু স্বস্তি পাই, আদিত্য চৌধুরী কল দিয়েছে অভির বাবা। অভির বাবা একজন প্রভাবশালী লোক রাজনীতিবিদ এবং চৌধুরী ইন্ডাস্ট্রির মালিক। অভির মাম্মা এবং পাপা দুজনেই আমেরিকায় থাকে। অভি বাংলাদেশে একাই চৌধুরী অফ ইন্ডাস্ট্রি সামলাচ্ছে তার বাবাও মাঝেমাঝে বাংলাদেশে আসে, তবে অভি মাম্মা ঈশিতা চৌধুরীর বাংলাদেশে আসা হয় না, সে অনেকটাই অসুস্থ তাই।অভি কলটা রিসিভ করার পরেই অভির বাবা বলে ।
অভি কেমন আছো বাবা?
অভি সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয় জ্বী পাপা ভালো আছি। তুমি কেমন আছো মাম্মা কেমন আছে?
অভির বাবা বলে তোমার মামা তোমার জন্য টেনশন করতে করতে শেষ। তুমি একবার আসো আমেরিকায় এসে ঘুরে যাও বাংলাদেশের কতদিন বিজনেস সামলাবে এখন একবার একটু এসে ঘুরে যাও মনটা ভালো লাগবে তোমার মামা খুশি হবে।
বেশ কিছু কথা বলার পরেই কথা শেষ হয়।অভি আবার তার Flamebird কে নিয়ে ভাবতে থাকে।
---
[পরদিন, সকাল ৯টা, চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ার]
মায়া খুব সকালে উঠে রেডি হয়েছিল। মাথায় এখনো গতকালের সেই মুহূর্তটা ঘুরছে—অভি চৌধুরীর শীতল অথচ শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তাঁর চোখে ছিল একধরনের অদ্ভুত চাহনি—যেটা ঠিক হুমকি নয়, আবার আগলে রাখার মতোও নয়।
— “আমি কাউকে ভাগ করে নিই না”—এই লাইনটা যেন মনের মধ্যে গভীরভাবে বসে গেছে।
মায়া এবার একটু প্যাস্টেল গোলাপি কুর্তি পরে এসেছে। হালকা মেকআপ, চোখে কাজল, ঠোঁটে একটুখানি লিপবাম। নিজের আয়নায় নিজেকে দেখে একটু সাহস জোগায়।
অফিসে ঢুকেই রিসেপশনিস্ট জানায়—
— “মায়া রহমান, আপনাকে স্যারের কেবিনে যেতে বলা হয়েছে, এখনই।”
মায়ার বুক কেঁপে ওঠে।
— “এখনই?”
— “জি। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ নাকি।”
---
মায়া অভির ক্যাবিনের ভিতরে ঢোকে। অভি বসে আছেন একগাদা ডকুমেন্ট ঘিরে। চোখ তুলে তাকান না, শুধু বলেন—
— “আসো। এই ডকুমেন্টগুলো পড়ে একটা সারাংশ তৈরি করো। আধা ঘণ্টার মধ্যে আমার হাতে চাই।”
মায়া আস্তে মাথা নাড়ে। কাগজগুলো নিয়ে ডেস্কের এক পাশে বসে যায়। অভি তখনো তাকাচ্ছেন না, কিন্তু মাঝে মাঝে চোখের কোণ দিয়ে তাঁকে পর্যবেক্ষণ করছেন।
অভি মনে মনে বলতে থাকে— “তুমি দেখছো না আমি কেমন করে তোমার চোখের ভাষা পড়তে শিখে গেছি। তুমি ভাবছো তুমি নিরাপদ, অথচ তুমি আজ আমার নিয়ন্ত্রণে।”
---
রাইসা এসে চুপিচুপি জিজ্ঞাসা করে—
— “কি হইছে? স্যার হুট করে ডেকে নিলো কেন?”
মায়া ফিসফিস করে বলে—
— “সারাংশ বানাতে বলেছে। আজ সকালেই…”
রাইসা চোখ বড় বড় করে বলে—
— “সকাল ৯টার সময় উনি কাউকে ডাকে না! তুই সিরিয়াসলি স্যারের চোখে পড়ে গেছিস মায়া!”
মায়া বিরক্ত গলায় বলে—
— “তুই এসব বলিস না তো। আমার অস্বস্তি লাগতেছে।”
রাইসা হাসে। — “অস্বস্তি? নাকি অন্য কিছু অনুভব করতেছিস?”
মায়া রাইসার দিকে তাকায়। চোখে একধরনের সংশয় আর স্বীকার না করা অনুভব।
-
অভি এবার পুরোপুরি মায়ার দিকেই তাকিয়ে আছেন। খেয়াল করছে, মেয়েটার চোখে কী নির্ভেজাল সততা! কিন্তু সেই সরলতার আড়ালেও একটা রহস্য আছে। একটা বুনো প্রলেপ, যেটা সে নিজেও বোঝে না।
হঠাৎই পিছন থেকে রিজভী বলে কিরে মেয়েদের চোখের ভাষা পড়তে শিখে গেছিাকি। দিকে তাকায় বলে কি যে বলিস না এক থাপ্প্পর দেব।
অভি নিজের ডেস্ক থেকে উঠে পড়ে মায়ার ডেডেস্কের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। অভির পিছন পিছন রিজভী আসছে সবার দৃষ্টি এখন এই দৃশ্যে আটকে গেছে। হঠাৎই রিজভী বলে__
— “তুমি উঠো। আমাদের সঙ্গে চলো।”
মায়া থমকে যায়।
— “কোথায় যাব?”
— “লাঞ্চ। আমাদের সঙ্গে।”
মায়ার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
— “আমি… আমি ক্যান্টিনে খাই…”
আমরাও তো খাই আমাদের দেখে কি মানুষ মনে হয় না গরু মনে হয়?
অভি শান্তভাবে বলে—
— “আজ নয়। আজ তুমি আমার সঙ্গে যাবে। গাড়ি রেডি।”
মায়া কিছু বলতে পারছিল না। অফিসের সবাই তাকিয়ে আছে। কেউ ফিসফিস করে, কেউ চোখ বড় করে চেয়ে আছে।
হঠাৎই সেখানে রায়সা উপস্থিত হয়। তখনই রিজভী বলে ওঠে আপনি তো মায়ার বেস্ট ফ্রেন্ড, আপনি ও চলেন আমাদের সাথে, তাহলে মায়া ও যাবে।
---
[চৌধুরী কর্পোরেট টাওয়ারের পার্সোনাল লাউঞ্জ]
এই লাউঞ্জে কেবল অভির ব্যক্তিগত অতিথিদেরই প্রবেশাধিকার। পুরো জায়গাটা যেন কোনো বিলাসবহুল হোটেলের ভিআইপি রুম—ডার্ক কাঠের দেয়াল, ক্রিস্টাল ল্যাম্প, প্রিমিয়াম কফি ওয়েল।
মায়া নিঃশব্দে বসে তারপাশে বসে রাইসা। অভি ওয়েটারের দিকে ইশারা করে—
— “Spaghetti with white sauce, and lemon mint cooler. For her.”
মায়া বলে—
— “আমি অন্য কিছু খাবো—”
— “তুমি আগে এটা খেয়ে দেখো। যদি ভালো না লাগে, অন্য কিছু আনবো।”
মায়া চুপ করে যায়।
__পাশের থেকে রিজভী বলে ওঠে মিস রাইসা জামান আপনি কি খাবেন?
রাইসা বলে ওঠে একটা খাওয়ার হলেই খাব।
অভি হঠাৎ বলে—
— “তোমার চোখের ভাষা খুব জটিল, মায়া। তুমি অনেক কিছু লুকাতে চাও, কিন্তু পারো না।”
মায়া আঁতকে ওঠে।
— “আমি… কিছু লুকাই না…”
— “তবে তোমার হৃদয়ে অনেক অজানা গল্প আছে। আমি সেগুলো জানবো।”
মায়া রেগে যায়।
— “আপনি সবসময় এমনভাবে কথা বলেন কেন? আমি কারও সঙ্গে ভাগাভাগি করে কথা বলি না?”
অভি তাকিয়ে থাকেন তার চোখে। ধীরে ধীরে বলেন—
— “কারণ আমি জেনে গেছি… তুমি কেবল আমার জন্য। আর আমি কাউকে আমার জিনিস ছুঁতে দিই না।”
---
সন্ধ্যায় মায়া নিজের রুমের বিছানায় বসে আছে। চোখে ঘুম নেই। মনের মধ্যে ভয়, কৌতূহল, আকর্ষণ—সব মিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করেছে।
— “এই মানুষটা কে? কেন সে আমাকে ঘিরে এত রহস্য তৈরি করছে? আমি কি কোনো ভুল করে ফেলেছি… না কি তার চোখে আমি ভুল করেও আটকে গেছি?”
হঠাৎ মোবাইলে একটা অজানা নাম্বার থেকে মেসেজ আসে—
> “You were late again today. Remember what I said.
I don’t forget…
— A.C.”
মায়ার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। সে জানে—A.C. মানেই Abhi Chowdhury।
এবার মায়া বুঝে যায়—এই খেলাটা আর সাধারণ অফিস-জীবনের খেলা নয়
চলবে...
Click here to claim your Sponsored Listing.