Poet Rokon Sheikh
কবিতা: পদ্মপাড়ের কুসুম
শিশিরভেজা হাওয়ায় ওড়ায় শতরঞ্জির রঙিন প্রান্ত,
নুপূরধ্বনিতে বাজে নরম আলপনার ছন্দ,
চুলে গুঁজে রাখা শিউলি ফুলের পাশে বসে
একটা ছোট্ট প্রজাপতি।
পূর্ব দুপুরে ধীরে ধীরে আসে
কমলাক্ষী এক বাউল-বিনিতা।
— "এমন করে কী দেখছেন?"
প্রশ্ন করে সে সান্ধ্য-ধ্বনিতে।
আমি বলি,
"তোমার চোখে যেন ধরা পড়ে কুড়িগ্রামের শীতভোর।"
— "মিথ্যে বলবেন না," হাসে সে,
"আপনার অন্তর আমি খেয়াল করি খুব।"
সে বলে—
“আমাকে বুঝতে হলে
পথের ধুলোয় পা রাখতে হয়,
আত্মা ছুঁতে হয় গীতবিতানের পাতায় পাতায়,
বাউল গান শুনতে হয় একলা সন্ধ্যায়।”
এখন আর কোথাও যাওয়া হয় না—
কুমিল্লার অলস দুপুরে আমায় বেঁধে রাখে স্মৃতির কঞ্চি-ঝোপ।
পালকঢাকা একটা সাদা হাঁসের নিচে লুকিয়ে থাকি,
চেয়ে দেখি যা ছিল না কোনোদিন আমার—
তবু হৃদয়ের খাঁচায় জায়গা করে নেয় নিঃশব্দে।
তুমি আর আমি ঠিক ফাল্গুন আর চৈত্রের মতো—
তোমার শেষে আসে আমার আরম্ভ,
আমি হাঁটি বাউল বেদনার ৩৩৪ ধাপ,
তবুও তুমি চলে যাও—
যেখানে যাওয়া সম্ভব, কিন্তু ফেরা নয়।
একটা কথা দিও—
দেখবে না কোনো শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা চাঁদ
পড়েছে কারো চোখের পানে— বলবে না “চলো, গোধূলি দেখি।”
এক গুচ্ছ কষ্ট দিও,
তবে আর কারো পাশে তোমাকে দেখার দহন দিও না।
তুমি রয়ে যেও—
যেমন মাটির ভেতর গাঁথা থাকে
পদ্মপাড়ের কুসুম—শিকড়ছাড়া, অথচ অবিচ্ছিন্ন।
—রোকন শেখ
(লোক-সংস্কৃতি ও মনের গাঁথুনি থেকে জন্ম নেওয়া ছায়াপদ্য)
Click here to claim your Sponsored Listing.