MITU

MITU

Share

26/03/2026

স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর,কোকিলের গান,
বয়সী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।

- শামসুর রাহমান।

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
স্বাধীনতা দিবস ২০২৬।

Photos from MITU's post 26/01/2026

বাইকে করে ভারত ভ্রমণ (দিন ৭)

এই দিন ছিল আমাদের ঘুরে বেড়ানোর দিন।সকাল শুরু করলাম দেরি করে।আগের দিনের লম্বা সফরের জন্য ভালো করে ঘুমালাম রাতে।আসলে দিনের পর দিন যখন আপনাকে রাস্তায় থাকতে হবে তখন ঘুমই আপনার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।একটা ভালো ঘুম সারাদিনের জন্য কি যে জরুরি। তো আস্তে ধীরে উঠে রেডি হয়ে গেলাম।হোটেলের আসে পাশে ছোট খাটো ধাবা খুজে নিয়ে নাস্তা করলাম।তারপর শহ্রে ঘুরতে বেড়িয়ে পরলাম।
এত এত যায়গা ঘুরার মত,কোথায় যাব কোথায় যাব না ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না।আসলে লখনউ শহ্রটা ঘুরে দেখতে হলে তিন থেকে চার দিন দরকার।এত এত বাগান এই শহরে আর ঐতিহাসিক স্থাপনা। নবাবদের শহর বলে কথা।প্রথমেই গেলাম বড়া ইমামবাড়া দেখতে।অনেক সুন্দর।ভেতরে একটা ভুলভুলাইয়া আছে যা দেখার জন্য গাইড নিতে হয়।অনেক সুন্দর মসজিদ আছে কিন্তু ভেতরে ঢুকার সুযোগ নেই।পাশেই রুমি দারওয়াজা।অনেক সুন্দর এর স্থাপত্যশৈলী। এরপর আছে ছোটা ইমামবাড়া। পাশেই আছে ক্লক টাওয়ার,পিকচার গ্যালারি। ক্লক টাওয়ার এর পাশেই খুব সুন্দর একটা পুকুর। এসব যায়গা ঘুরতে ঘুরতে দুপুর গরিয়ে যাচ্ছিল। তাই চলে গেলাম পেট পুজা করতে।নবাবদের শহরে এসে নবাবী খানা খাব না তাই হয়।এক ভাই বলে দিয়েছিল মুবিনসে যেতে। খুঁজে খুঁজে ওখানেই গেলাম।আমি বিরিয়ানি খেলাম আর আমার সাহেব পায়া আর কুলচা।মজার খাবার।কিন্তু এইসব নামকরা খাবারের দোকান গুলোতে এত ভিড়।বাপরে বাপ রীতিমতো লাইন ধরে দারিয়ে থাকতে হয় বাইরে। খাওয়ার জন্য জায়গাই পাওয়া যায় না।অনেক সময় দাড়িয়ে থেকে তবেই জায়গা পেলাম।একে তো পুরানা লখনউ রাস্তায় অনেক জ্যাম,সাথে পার্কিং এর জায়গা নাই। তাই অনেক সময় বের হয়ে গেল হাতে থেকে।
তাই বিকেল বেলা আর কোথাও ঘুরতে গেলাম না। গেলাম লখনউ এর বিখ্যাত বাজার আমিনাবাদে শাড়ি কিনতে।ভাই কিছুই চিনি না কই যাব।কত মানুষকে জিগেস করি শাড়ির দোকান কই, এক এক জন ওক এক রকম ইনফরমেশন দেয়। তারপর হতাশ হয়ে গুগল মামার হেল্প নিয়ে চলে গেলাম একজায়গায়।তারপর আর বেশি ঘুরতে হয়নি। আমার বাজেট আর পছন্দমত শাড়ি পেয়ে গেলাম।কিন্তু রাত হয়ে গেছে।আর ঘুড়ার ইচ্ছা এনার্জি কোনটাই নেই।তাই বিখ্যাত টুন্ডে কাবাবে চলে গেলাম।ওখানে গিলাওয়াটি কাবাব পাওয়া যায়। একই অবস্থা অনেক ভিড়।কিন্তু খাবার মজার।
এরপর আর কোথাও যাই নি। সোজা নিজেদের ডেরায়।শরীরে অনেক ক্লান্ত।রেস্ট নিতে হবে,পরের দিন আবার সফরে বের হয়ে যেতে হবে।

চলবে......

01/01/2026

সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা
২০২৬

Photos from MITU's post 25/12/2025

লৌখনৌ এর বিখ্যাত টুন্ডে কাবাব।এর এত নাম ডাক কি আর বলব।না খেয়ে কি পারা যায়, তাই ট্রাই করতে চলে গেলাম।এত ভীড় এখানে, এমনিতেই ওল্ড টাউনে হওয়াতে রাস্তায় অনেক জ্যাম। সেই জ্যাম ঠেলে যাওয়ার পর দেখি রেস্টুরেন্টেও অনেক ভীড়। পার্কিং পাইতে অনেক টাইম লাগলো। এই রেস্টুরেন্টের গ্রাউন্ড ফ্লোরতো আছেই সাথে উপরে আরও তিনতলা পর্যন্ত বসার যায়গা। তারপরও মানুষ দাঁড়িয়ে আছে টেবিল খালি হওয়ার অপেক্ষায়। আমরা খুঁজে খুঁজে বসে পরলাম এক জায়গায়।আমি তো টুন্ডে কাবাবই খাব কিন্তু জামাই কয় সে খাবে না তার এসব ভালো লাগে না।তাই তার জন্য শিক কাবাব দিলাম অরডার।টুন্ডে কাবাবটা হল আসলে গিলাওটি কাবাব,মুখে দিলেই গলে যায়।কিন্তু এখানে এটাকে টুন্ডে কাবাবই বলে সবাই।এখানে বীফ পাওয়া যায় না। আমি বাফেলোটা নিলাম।আমি আগে এমন কাবাব খাইনি। আমার কাছে ভালই লেগেছে।বাট আমার জামাই শিক কাবাব মজা করে খাইছে।দুপুরে এত ভারি খাবার খাওয়ায় আসলে অত বেশি খাওয়ার ইচ্ছাও ছিল না।আমরা আসলে আমাদের সফরে চেষ্টা করতাম ভারি তেল মসলা আর মাংস কম খেতে। পেট আর শরীর দুইটাই ভালো রাখার জন্য কিন্তু এখানে এসে সেতা পারা গেল না।অনেক খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। ইচ্ছা করেই তাই আরও বিখ্যাত খাবার ছিল যেগুলা ট্রাই করি নাই।নবাবদের শহরে এসে নবাবী খাবার চেখে দেখবো না তা কি হয়❤️

Photos from MITU's post 30/11/2025

বাইকে করে ভারত ভ্রমণ (দিন ৫)

আমাদের আজকের গন্তব্য মুজাফফরপুর,বিহার।শিলিগুড়ি থেকে বেশ সকাল রওনা দিলাম। আমাদের প্রতিদিনই টার্গেট থাকে যতটা সম্ভব ভোরে রাইড শুরু করা।এতে করে সময় পাওয়া যায় হাতে বেশ।রাস্তায় আয়েস করে ব্রেক নেয়া যায়,দিনে দিনে রাইডটা শেষ করা যায়।এতে দিন শেষে আমাদের ক্লান্তি কম থাকে।কারন রাইড শেষ করে সবচেয়ে প্যারার কাজ হল হোটেল ঠিক করা।মনমত আর বাজেটের মধ্যে হোটেল পেয়ে গেলেই টেনশন শেষ, তখন সন্ধ্যাটা আরামে কাটে।

তো সকাল সকাল শহর থেকে বেরিয়েই দেখা পেলাম শিলিগুড়ির চা বাগানের।এই জিনিস কেম্নে মিস করি বলেন আপনারা। এত সুন্দর চা বাগান তার উপর যে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছি সেটা বেশ চওড়া। আর পায় কে আমাদের রাস্তার পাশে বাইকটা দার করিয়ে জামাইয়ের অনেক ছবি তুলে দিলাম।আমারও ছবি তোলা হয়েছে কিন্তু জামাই আমাকে ছবিগুলো দেয়নি। কেন দেয়নি যানি না।বেডার পেট ভরা হিংসা নাইলে আমার ছবি আমকে কেন দেয় না বলেন 🙂।

তো মেপ অন করে আমাদের আবার যাত্রা শুরু। জামাই একটানা দুইঘন্টা বাইক চালাইলো।এদিকে খিদায় পেট মোচড় মারে।রাস্তার পাশের এক খাবারের হোটেল পেলাম।চা বাগানের লোকজনরাই খাচ্ছে।গরম গরম রুটি সবজি দিয়ে ভরপেট নাস্তা, সাথে চা।এইরকম খাবার দোকান গুলো যারা চালায় তারা দেখলাম বেশ আন্তরিক। অনেক গল্প করে।খাবারটাও খুব যত্ন করে খাওয়ায়।

আবার শুরু হল পথ চলা।একসময় পশ্চিমবংগের রাস্তা শেষ করে বিহারের রাস্তায় ঢুকে পরলাম।আর সাথেই সাহেই যেন হুট করে চারিপাশটাও বদলে যেতে লাগল।গরমটাও খুব বাড়তে লাগল।বিহারের হাইওয়ের দুইপাশেই প্রচুর কাশফুল দেখেছি আমরা।একদম মাইলের পর মাইল ছেয়ে আছে কাশ ফুলে।নদীর ধারে, রাস্তার পাশে, খোলা যায়গায়। এদিকের বাড়িঘর গাছপালা সবই কেমন রুক্ষ, দরিদ্রতার ছোয়া চারিপাশে।তবে পথের পাশে অনেক মহিলা দেখেছি তারা অনেক কালারফুল শাড়ি পরে আর মাথায় একদম এখাত লম্বা ঘোমটা।দেখে মনে হয় লাল কমলা রং ওদের প্রিয়।

বিহার অনেক বড় রাজ্য আর জনসংখ্যাও অনেক। ঐতিহাসিক আর ধরমীয় দিক দিয়ে এই রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু খুবই আফসোস যে এইবারের সফরে আমরা বিহারের কিছুই ঘুরে দেখার সুযোগ আমাদের ছিল না।কারন আমাদের উদ্দেশ্য আর গন্তব্য দুইটাই আলাদা আর হাতে সময় কম যার কারনে অনেক কিছুই মিস করে গেলাম এবার।যা বাকি রইল তা ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখলাম।
আজকের রাইড খুব বেশি দূরের ছিল না তাই বিকেল বিকেল মুজাফফরপুর চলে আসলাম।ইচ্ছে করেই শহরের ভিতর হোটেল না নিয়ে বাইরে নিলাম কারণ সকালে বের হতে হবে।পর দিন আবার দীর্ঘ যাত্রা।হোটেল নিতে গিয়ে মজার অভিজ্ঞতা। ওরা হিন্দি ছাড়া বুঝে না আমরা হিন্দি তে কাচা।পরে দেখা গেল তারা ইংরেজি বুঝে সো কাজ চালিয়ে নিলাম।তারপর বাংলাদেশ থেকে গেছি শুনে কত গল্প।কত কিছু জানতে চাইল।বুঝা গেল তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে খুবই কম যানে কিন্তু তাদের আন্তরিক ব্যবহার আমাদের অনেক ভাল লেগেছে।আজকের রাতের জন্য এখানেই ডেরা বাধলাম।

চলবে........

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Gazipur?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Gazipur
1700