Studio Sorowar
“আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ”—একটি ছোট দোয়া, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন, সবচেয়ে গভীর আকাঙ্ক্ষা। অর্থ— “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই।” এই দোয়ার ব্যাকগ্রাউন্ড আমাদেরকে শিখিয়ে দেয়, আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য বড় বড় শব্দ বা জটিল ভাষা দরকার নেই; দরকার শুধু আন্তরিকতা আর এক টুকরো সত্যিকারের হৃদয়। সুনান আবু দাউদ-এর একটি হাদিসে বর্ণিত আছে, এক সাহাবি (রাঃ) দীর্ঘ দোয়া করতে পারতেন না। তিনি সহজভাবে বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাই।” তখন মুহাম্মদ (সা.) তাকে শুনে বলেছিলেন— “আমিও এই দোয়ার আশপাশেই ঘুরপাক খাই।” (হাদিস: ৭৯২)।
ভাবুন, যে দোয়ার চারপাশে রাসূল (সা.) নিজেই ঘুরতেন, সেই দোয়া আমাদের জন্য কতটা মূল্যবান! দুনিয়ার হাজারো ব্যস্ততা, দুঃখ, চাওয়া-পাওয়ার ভিড়ে আমরা কত কিছুই না চাই—কিন্তু আসল চাওয়া কি ভুলে যাই না? এই ছোট দোয়াটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনের আসল লক্ষ্য দুনিয়ার সাময়িক সফলতা নয়; বরং চিরস্থায়ী শান্তির ঠিকানা—জান্নাত।
যখন আপনি ক্লান্ত, যখন মনে হয় কেউ আপনার কষ্ট বুঝছে না, তখন শুধু বলুন— “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ।” বিশ্বাস রাখুন, এই একটি বাক্য আপনার হৃদয়কে আকাশের সাথে যুক্ত করে দেয়। এটা শুধু একটি দোয়া নয়, এটা একটি আশা… একটি প্রতিশ্রুতি… যে, আপনি হারিয়ে যাননি—আপনি এখনও জান্নাতের পথেই। সরোয়ার ১৩.০৪.২৬
পশ্চিমাদের বস্তুবাদী জীবনধারা আমাদের চিন্তা-চেতনার উপর এমন এক অদৃশ্য প্রভাব বিস্তার করেছে, যার ফলে আমরা ধীরে ধীরে নিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছি। কুরআন আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে— “আর তুমি তাদের অনুসরণ করো না যারা আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল, যারা তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে” (সুরা আল-কাহফ ১৮:২৮)। আজ বাস্তবতা হলো, আমরা ভালো-মন্দের মানদণ্ড নির্ধারণ করছি সেই সমাজের আলোকে, যারা আল্লাহর বিধানের তোয়াক্কা করে না। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “তোমরা অবশ্যই পূর্ববর্তী জাতিদের পথ অনুসরণ করবে, হাতের এক বিঘত পরিমাণও বাকি রাখবে না…” (সহিহ বুখারি: ৭৩২০, সহিহ মুসলিম: ২৬৬৯)। এই হাদিস আমাদের বর্তমান অবস্থার স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি। দাড়ি, টুপি, আরবি ভাষা বা ইসলামি সংস্কৃতির বাহ্যিক প্রতীকগুলোকে অবজ্ঞা করা আসলে অন্তরের দুর্বলতার প্রকাশ, যা মুনাফিকির দিকে নিয়ে যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয়ই মুনাফিকরা আগুনের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে” (সুরা আন-নিসা ৪:১৪৫)। তাই আমাদের উচিত রাসূল ﷺ-এর জীবনাদর্শে ফিরে আসা, নিজের সংস্কৃতি ও আকীদাকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং আল্লাহর বিধানকে জীবনের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা—এটাই মুক্তির একমাত্র পথ। সরোয়ার ১০.০৪.২৬
প্রতিদিন বেশি বেশি দরূদ শরীফ পাঠ করার ফজিলত সম্পর্কে সহীহ হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা এসেছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর উপর দরূদ পাঠ করেন; হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ কর” (সূরা আহযাব ৩৩:৫৬)।
এই আয়াতের আলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেও উম্মতকে বেশি বেশি দরূদ পড়তে উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করে, আল্লাহ তার উপর দশটি রহমত নাযিল করেন” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ৪০৮)।
অন্য বর্ণনায় এসেছে, “একবার দরূদ পাঠ করলে তার দশটি গুনাহ মাফ করা হয় এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়” (সুনান আন-নাসাঈ, হাদিস নং ১২৯৭; মুসনাদ আহমাদেও বর্ণিত)।
এছাড়াও রাসূল ﷺ বলেছেন, “কিয়ামতের দিন আমার নিকটতম ব্যক্তি হবে সে, যে আমার উপর সবচেয়ে বেশি দরূদ পাঠ করেছে” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ৪৮৪)।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীসে হযরত উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, “দোয়া আসমান ও জমিনের মাঝখানে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না নবীর উপর দরূদ পাঠ করা হয়” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ৪৮৬)।
একইভাবে উবাই ইবন কাব (রা.) যখন বেশি দরূদ পাঠ করার কথা বলেন, তখন রাসূল ﷺ তাকে বলেন, “তাহলে তোমার দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং তোমার গুনাহ ক্ষমা করা হবে” (সুনান আত-তিরমিযী, হাদিস নং ২৪৫৭)।
এইসব সহীহ ও গ্রহণযোগ্য হাদীস থেকে স্পষ্ট হয় যে, দরূদ শরীফ যত বেশি পড়া যায় ততই কল্যাণকর। যদিও নির্দিষ্টভাবে “প্রতিদিন ১০০০ বার” পড়ার জন্য কোনো সহীহ হাদীসে বাধ্যতামূলক সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি, তবে অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠ করলে উল্লিখিত ফজিলতগুলো অধিক হারে লাভের আশা করা যায়। তাই প্রতিদিন ১০০০ বার দরূদ পড়া একটি উত্তম নফল আমল, যা মানুষের গুনাহ মাফ, দুশ্চিন্তা দূর, রহমত লাভ এবং কিয়ামতের দিন রাসূল ﷺ–এর নৈকট্য অর্জনের শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে, ইনশাআল্লাহ। সরোয়ার ১০.০৪.২৬
08/04/2026
হজের সময় বিশেষ করে মিনায়, আরাফা এবং মুজদালিফা-তে মোবাইল ফোন ম্যানেজমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিনায় সাধারণত বিদ্যুৎ সুবিধা থাকলেও প্রচণ্ড ভিড়, নেটওয়ার্ক চাপ এবং চার্জিং পয়েন্টের স্বল্পতার কারণে ফোন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এখানে চার্জিং সকেটগুলো অনেক সময় সীমিত এবং সাধারণত ২-পিন (Type G বা কখনও ইউনিভার্সাল) হয়ে থাকে, তবে একসাথে অনেক মানুষ ব্যবহার করায় ফাঁকা পাওয়া কঠিন হয়। তাই নিজের জন্য মাল্টিপ্লাগ (multi-plug) বা একাধিক USB পোর্টযুক্ত চার্জার নিয়ে যাওয়া খুবই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে একটি সকেট পেলে একসাথে কয়েকটি ডিভাইস চার্জ করা যায়, এমনকি অন্য হাজিদের সাথেও শেয়ার করা সম্ভব হয়। এছাড়া লম্বা (২–৩ মিটার) চার্জিং ক্যাবল রাখলে দূরের সকেট থেকেও চার্জ নিতে সুবিধা হয়। অবশ্যই ভালো মানের পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখা জরুরি, যা আগে থেকেই সম্পূর্ণ চার্জ করে নিতে হবে। ফোনের ব্যাটারি সেভ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ রাখা, লোকেশন ও ব্লুটুথ বন্ধ রাখা এবং ‘Battery Saver Mode’ চালু রাখা উচিত।
অন্যদিকে, আরাফা ও মুজদালিফায় সাধারণত স্থায়ী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থাকে না, বিশেষ করে হজ-এর মূল দিনগুলোতে। তাই এখানে চার্জিং সকেটের উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই বললেই চলে। যাত্রার আগে কমপক্ষে ২০,০০০–৩০,০০০ mAh ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক সম্পূর্ণ চার্জ করে নিতে হবে এবং সম্ভব হলে দুটি পাওয়ার ব্যাংক রাখা ভালো। ফোন ব্যবহারে সংযমী হতে হবে—অপ্রয়োজনীয় ছবি তোলা, ভিডিও করা বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ফোনকে ‘Airplane Mode’-এ রেখে শুধু দরকারের সময় চালু করা যেতে পারে। এছাড়া গ্রুপ লিডার বা সাথীদের সাথে আগে থেকেই নির্দিষ্ট মিলনস্থল ঠিক করে রাখা উচিত, যাতে ফোন বন্ধ হয়ে গেলেও কেউ বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। ছোট একটি টর্চ বা চার্জেবল লাইট রাখা উপকারী, কারণ রাতে মুজদালিফায় আলো সীমিত থাকে। সব মিলিয়ে, মাল্টিপ্লাগ, পাওয়ার ব্যাংক, এবং সচেতন ব্যবহার—এই তিনটি বিষয় ঠিকমতো মেনে চললে হজের সময় ফোন সংক্রান্ত বড় কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না। সরোয়ার ০৮.০৪.২৬
Click here to claim your Sponsored Listing.