Xplore With Abir

Xplore With Abir

Share

21/06/2026

মৃত্যুর সাথে সাথে কি সব শেষ?
না ভাই। জান কবজের পর আসল সফর শুরু হয়।

আমরা ভাবি, কবর দিলেই রুহ সোজা ইল্লিয়্যিন বা সিজ্জিনে চলে যায়। কিন্তু হাদিস আর সালাফদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, রুহের প্রথম ৪০ দিন সবচেয়ে বেশি অস্থিরতায় কাটে। এই ৪০ দিন সে ৩টি জায়গায় বারবার আসা-যাওয়া করে।

আর ৩ নম্বর জায়গাটা শুনলে আপনার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাবে... কারণ সেটা আপনার নিজের ঘর। সে এসে কী দেখে জানেন?

১. প্রথম জায়গা: আসমানের দরজায়
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"বান্দার রুহ যখন কবজ করা হয়, তখন ফেরেশতারা তা নিয়ে উপরে উঠতে থাকে। যদি সে নেককার হয়, তাহলে আসমানের দরজাগুলো তার জন্য খুলে দেওয়া হয়... আর যদি বদকার হয়, তাহলে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।"
— সহিহ মুসলিম: ২৮৭২
নেককার রুহকে "ইল্লিয়্যিনে" নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার আমলনামা রাখা হয়। এরপর তাকে আবার কবরে ফিরিয়ে আনা হয় সওয়াল-জবাবের জন্য।

ভাবুন, আপনার রুহ আসমানের দরজায় ধাক্কা খাচ্ছে। দরজা খুলবে, নাকি মুখের উপর বন্ধ হয়ে যাবে? এটা ঠিক হচ্ছে আপনার আজকের নামাজ দিয়ে।

২. দ্বিতীয় জায়গা: নিজের কবরে
বুরাইদাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি ﷺ বলেছেন:
"মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন তার রুহকে তার শরীরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে সে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।"
— সুনান আবু দাউদ: ৪৭৫৩, সহিহ
এই সময়টা সবচেয়ে ভয়ংকর। মুনকার-নাকির আসবেন। প্রশ্ন করবেন: "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এই লোকটি কে?" — মুহাম্মাদ ﷺ কে দেখিয়ে।

নেককার হলে কবরটা জান্নাতের বাগান হয়ে যাবে। ৭০ হাত প্রশস্ত। আর গুনাহগার হলে? কবর চাপ দিয়ে পাঁজরের হাড় একটার সাথে আরেকটা ঢুকিয়ে দেবে।

৩. তৃতীয় জায়গা: আপনার ফেলে আসা দুনিয়ার ঘরে...
এবার কলিজা শক্ত করে শুনুন।

কিছু সালাফ ও বুজুর্গদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, মৃত্যুর পর ৪০ দিন পর্যন্ত রুহ আল্লাহর অনুমতিতে তার প্রিয়জনদের দেখতে আসে। বিশেষ করে যেখানে সে মারা গেছে, যেখানে তার সম্পদ আছে, যেখানে তার সন্তানরা থাকে।

সে এসে দেখে —
তার রেখে যাওয়া টাকার জন্য ভাই-বোন মারামারি করছে।
তার প্রিয় বিছানায় অন্য কেউ ঘুমাচ্ছে।
তার সন্তানরা তার জন্য ১ বার সূরা ফাতিহাও পড়ছে না, কিন্তু মোবাইলে রিল দেখছে।
তার স্ত্রী/স্বামী তার কাপড়গুলো গরিবকে দান না করে আলমারিতে তালা দিয়ে রেখেছে।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, "রুহগুলো তাদের কবর ও ঘর-বাড়িতে আসে। জীবিতদের অবস্থা দেখে। যদি ভালো দেখে খুশি হয়, খারাপ দেখলে কষ্ট পায়।"

ভাবুন, আজ রাতে আপনি মারা গেলেন। কাল আপনার রুহ এসে দেখলো, আপনার ছেলে আপনার মোবাইল বিক্রি করে দিয়েছে, কিন্তু আপনার নামে ১০ টাকা সদকা করেনি। কেমন লাগবে?

এই ৪০ দিন রুহ কী চায়?
সে চিৎকার করে বলতে চায়: "আমার নামে ১টা টিউবওয়েল বসাও! ১টা কুরআন দান করো! আমার ঋণগুলো শোধ করো! আমার জন্য ইস্তেগফার করো!"

কিন্তু আফসোস, আমরা শুনতে পাই না। আমরা ৩ দিনের মিলাদ দিয়েই দায়িত্ব শেষ ভাবি।

শেষ কথাটা মাথায় গেঁথে নিন...
ভাই, এই ৩টি জায়গায় আপনার-আমার রুহ একদিন যাবেই। কোনো VIP পাসপোর্ট কাজে আসবে না।

নবীজি ﷺ বলেছেন:
"তোমরা বেশি বেশি করে মৃত্যুকে স্মরণ করো, যা সকল স্বাদকে ধ্বংস করে দেয়।"
— তিরমিজি: ২৩০৭, হাসান
আজ থেকে ১টি কাজ করুন। রাতে ঘুমানোর আগে ২ রাকাত নামাজ পড়ে বলুন: "ইয়া আল্লাহ, আমি মারা গেলে আমার রুহ যেন খুশি হয়ে আমার ঘরে আসে। আমার সন্তানরা যেন আমার জন্য দুআ করে।"

আর মা-বাবা বেঁচে থাকলে এখনই ফোন দিন। কারণ আপনার রুহ ৪০ দিন আপনার ঘরে আসবে, কিন্তু আপনি আর কখনো তাদের জড়িয়ে ধরতে পারবেন না।

আপনি কি চান মৃত্যুর পর আপনার রুহ শান্তি পাক? কমেন্টে "আল্লাহুম্মা আজিরনি মিন আযাবিল কবর" লিখুন।
এই পোস্টটা শেয়ার করুন। হয়তো আপনার শেয়ারে কারো মৃত বাবা-মার রুহ খুশি হবে। সেটাই হবে আপনার জন্য সাদকায়ে জারিয়া।

20/06/2026

যে মানুষ আপনাকে ভালোবাসে না, আবার ছেড়েও দেয় না—সে শুধু আপনার অনুভূতি নয়, আপনার সময়, মানসিক শান্তি এবং কখনো কখনো আপনার দ্বীনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ইসলামে কোনো হারাম সম্পর্ককে ঝুলিয়ে রাখার অনুমতি নেই। কারণ যে সম্পর্কের কোনো হালাল পরিণতি নেই, সেই সম্পর্ক যত দীর্ঘ হয়, ততই হৃদয়ের আসক্তি, কষ্ট এবং গুনাহ বৃদ্ধি পায়।
একটু ভেবে দেখুন—
যদি কেউ সত্যিই আপনাকে ভালোবাসে এবং সম্মান করে, তাহলে সে আপনার ইজ্জত, ঈমান ও ভবিষ্যতের কথা ভাববে। সে আপনাকে এমন একটি সম্পর্কে আটকে রাখবে না, যেখানে প্রতিদিন অপরাধবোধ, দুশ্চিন্তা, সন্দেহ আর মানসিক অস্থিরতা বাড়ে।
কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা আপনাকে জীবনের সঙ্গী হিসেবে চায় না, আবার আপনাকে হারাতেও চায় না। তারা আপনাকে প্রতিশ্রুতি দেয়, আশা দেখায়, মাঝে মাঝে খোঁজ নেয়—শুধু এতটুকু যেন আপনি তাদের ছেড়ে না যান। অথচ বছরের পর বছর কেটে গেলেও সম্পর্কের কোনো বৈধ ও হালাল পরিণতির দিকে তারা এগোয় না।
ধরুন, একজন মানুষ আপনাকে ৫-১০ বছর ধরে বলছে, "আরেকটু অপেক্ষা করো", "সময় আসলে সব হবে"। কিন্তু সে কখনো বাস্তব কোনো পদক্ষেপ নেয় না। তাহলে সে আসলে আপনাকে ভালোবাসছে, নাকি আপনার আবেগকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে?
বাস্তবতা হলো, ভালোবাসা শুধু কথা নয়; ভালোবাসা দায়িত্ব নেয়, সিদ্ধান্ত নেয়, সম্মান দেয়। আর হারাম সম্পর্কের অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষ দায়িত্বের চেয়ে আবেগের সুবিধাটুকুই ভোগ করতে চায়।
অনেকেই মনে করে, "সে ছাড়া আমি বাঁচবো না।" অথচ ইতিহাস সাক্ষী, মানুষ কাউকে ছাড়া নয়—আল্লাহকে ছাড়া ধ্বংস হয়। যে হৃদয় আল্লাহর জন্য একটি হারাম জিনিস ছেড়ে দেয়, আল্লাহ সেই হৃদয়কে শূন্য রাখেন না।
তাই কেউ যদি আপনাকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলিয়ে রাখে, বারবার কষ্ট দেয়, অথচ হালাল পথে এগিয়ে আসার কোনো ইচ্ছা না দেখায়—তাহলে তার মায়া নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বেছে নিন।
কারণ একজন মানুষকে হারানো জীবনের শেষ নয়; কিন্তু আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করতে করতে নিজের ঈমান হারিয়ে ফেলা অনেক বড় ক্ষতি।
আজ যে সম্পর্ক আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, কাল সেটি ছেড়ে দেওয়াই হয়তো আপনার সবচেয়ে বড় নাজাতের কারণ হবে।
"যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম কিছু দান করেন।"

Collected

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka