Next Gen Sami

Next Gen Sami

Share

26/10/2025

লোকটা মেট্রোরেলের পাশের ফুটপাতে বসে চা খাচ্ছিল। কল্পনাতেও তিনি ভাবতে পারেননি যে, ওই এক কাপ চা শেষ হওয়ার আগেই, বের হয়ে যাবে তার প্রাণবায়ু।

চা তখনও শেষই হলো না। মেট্রোরেলে ব্যবহৃত বিয়ারিং প্যাড, যেগুলো কম্পন রোধ করা বা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, এমন একটা বিয়ারিং প্যাড খুলে গিয়ে, ছুটে এসে পড়ে লোকটার মাথায়।

একটা বিয়ারিং প্যাডের ওজন কতো জানেন? ৩৫-৪০ কেজির মতো।

হয়তো-বা ঘরে ফিরছিল বেচারা। ঘরে হয়তো অপেক্ষা করে ছিল তার মা-বা, স্ত্রী আর সন্তানেরা। তাদের এই অপেক্ষা আর কোনোদিন শেষ হবে না!

আচ্ছা, আমাকে বলতে পারেন কেউ, এই ঢাকা শহর, এবং এই দেশটা এতো অনিরাপদ কেন? মৃত্যু তো স্বাভাবিক ব্যাপারই। কিন্তু এভাবে, এই দেশে কেন ইট খুলে এসে, মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড খুলে এসে, গার্মেন্টসে আগুন লেগে এতো হাজারে হাজারে মানুষেরা মারা যাবে?

মেট্রো পিলারে এই যে কম্পনরোধী এতো ভারি ওজনের বিয়ারিং প্যাড ব্যবহার করা হলো, মেট্রোর নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন, তারা কি জানেন না—এই প্যাডগুলো খুলে পড়ার একটা ঝুঁকি থেকেই যায়? নিশ্চয় জানেন। এটা তো রকেট সায়েন্স না। জানার পরেও, কেন তারা রেগুলার বেইসিসে, প্রত্যেকদিন মেট্রো চালু হওয়ার আগে এইসব জিনিস চেক, ক্রসচেক করে সেইফটি এনশিউর করে মেট্রো চালু করেন না, যেভাবে একটা বিমানের ১০০ ভাগ সেইফটি মেজারমেন্ট এনশিউর করে বিমান উড্ডয়ন করে? কেন প্রত্যেকটা বিয়ারিং প্যাডকে ক্লোজ সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হয়নি?

কোনদিন, ঠিক কোনদিন এই দেশে আমরা একটু নিরাপদে হাঁটতে পারব? কোনদিন আমরা নিশ্চিত হতে পারব যে—বাইরে বেরুলে একটা গাড়ি এসে আমাকে পিষে দিয়ে যাবে না, মাথায় একটা ইট এসে পড়বে না, মেট্রোর বিয়ারিং প্যাড এসে থেঁতলে দিয়ে যাবে না?

ঢাকা শহরটাকে আমি বড্ড অবিশ্বাস করি।
#আরিফ_আজাদ

19/10/2025

এই আগুন দেখে যারা ভাবছেন
আরেহ, এখানে তো আমার কোনো প্রডাক্ট নাই!
তাদের জন্য দুঃসংবাদ

এয়ারপোর্টে আগুন মানে শুধু কয়েকটা পণ্য বা বিল্ডিংয়ের ক্ষতি নয়।এর মানে হলো ইমপোর্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া, শিপমেন্ট দেরি হওয়া,আর আগামী কয়েক মাসে ইমপোর্টেড জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া। যারা পোশাক, কসমেটিকস, হ্যান্ডক্রাফট, আর্ট, বা যেকোনো বিদেশি উপাদাননির্ভর কাজে যুক্ত,
তাদের প্রত্যেকের ওপর এর প্রভাব পড়বে ,সরাসরি বা পরোক্ষভাবে।
এখন এই আগুনের পর ইমপোর্টাররা শিপমেন্ট আনতে ভয় পাবেন,নতুন করে মাল আনতে খরচও বেড়ে যাবে।
ফলে যারা এসব উপাদান দিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য সামনের সময়টা হবে আরও কঠিন। এরকম অবস্থায় ক্ষতি শুধু ব্যবসায়ীদের নয়,শিল্পী, ডিজাইনার, ক্রাফট মেকার, এমনকি সাধারণ ক্রেতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কারণ, সবকিছুর দাম বেড়ে গেলে চেইন সিস্টেমে সবখানেই চাপ পড়ে।

আগুন শুধু একটা স্থাপনায় নয়,
এটা পুরো দেশের অর্থনীতি, রিজিক আর সৃজনশীলতার ওপরও আগুন ধরিয়ে দেয়।

ছাইয়ের নিচে চাপা পড়া স্বপ্ন

বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি হাজারো ব্যবসায়ীর বুকে এক গভীর ক্ষত। চোখের নিমিষে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করেছে শত শত কোটি টাকার আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য।
এই পণ্যগুলো ছিল অনেক ছোট-বড় ব্যবসায়ীর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর সঞ্চয়ের ফসল। কেউ ব্যাংক ঋণ নিয়ে, কেউবা জীবনের শেষ সম্বলটুকু বিনিয়োগ করে অপেক্ষায় ছিলেন লাভের মুখ দেখার। কিন্তু এক নিমেষে সব স্বপ্ন ধোঁয়ার সাথে মিশে গেছে।
এই ক্ষতি কেবল টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না; এর পেছনে রয়েছে বহু মানুষের জীবন-জীবিকা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ।

Want your public figure to be the top-listed Public Figure in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Dhaka