Rongtuli Computer

Rongtuli Computer

Share

Photos 26/12/2012
16/12/2012

ওয়েব ডিজাইন ও ডেভোলপমেন্ট শিখতে চান? ঘরে বসে প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার/ডেভোলপার হতে চান?

আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? সবাইকে বিজয় দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি আমার ১ম টিউন শুরু করছি। এটি আমার ১ম টিউন তাই অনুগ্রহ পূর্ব ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করছি এবং আপনাদের সুপরামর্শ কামনা করি।

টিউনটি একটু সময় নিয়ে পড়বেন। আমি ওয়েব ডিজাইন শিখতেছি। এখনও তেমন কিছুই শিখতে পারিনি তবে মোটামোটি ব্যসিক জানতে পেরেছি বলা যায়। টেকটিউনস এ রেগুলার ভিজিটর হিসেবে আছি অনেক দিন ধরে। কিন্তু কখনো টিউন করা হয়নি। চলুন এখন আসল কথায় যাওয়া যাক......

ওয়েব ডিজাইনার/ডেভোলপার হতে হলে কি কি বিষয় শিখতে হবে ?
ওয়েবে গ্রাফিক্সের প্রচুর ব্যবহার হয় তাই গ্রাফিক্সের জন্য

Adobe Photoshopও এ্যানিমেশন এর জন্য
Adobe Flash
আর ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য

HTML
CSS
JavaScript
PHP
MySQL
এছাড়াও আরো অনেক কিছু আছে যেমন WordPress, Joomla ইত্যাদি।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হতে চান তাহলে আপনাকে Adobe Photoshop, Adobe Flash (যদি এ্যানিমেশন তৈরি করতে চান), HTML, CSS ও JavaScript শিখতে হবে। আর যদি ডেভোলপার হতে চান তাহলে ঐগুলোর পাশাপাশি PHP ও MySQL শিখতে হবে। যদি কোন প্রকার প্রোগ্রামিং বা কোডিং ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তাহলে WordPress ও Joomla.

কোনটা কি কাজে ব্যাবহার হয় ?
Adobe Photoshop:

ওয়েব ডিজাইনে ফটোশপ কেন? ইমেজ বা ছবি ছাড়া ওয়েবসাইট নেই বললেই চলে। ওয়েব সাইটে ইমেজ ব্যবহার করার আগে এডিট করার জন্য দরকার ফটোশপ। এছাড়াও বর্তমানে ওয়েবসাইটের মূল ডিজাইন ও লে-আউট ফটোশপ এ তৈরি করা হয়। যা পিএসডি টেমপ্লেট হিসেবে পরিচিত। ওয়েবসাইটে আকর্ষনীয় গ্রাফিক্স ব্যবহার করার জন্য ফটোশপের ব্যবহার জানা জরুরী।

Adobe Flash:

ফ্ল্যাশের মাধ্যমে ওয়েবসাইটের জন্য এ্যানিমেশন তৈরি করা হয়। সুন্দর ও আকর্ষণীয় এ্যানিমেশন দ্বারা ওয়েবসাইটকে ভিজিটরের কাছে ফুটিয়ে তোলা যায়। ওয়েবসাইটে এ্যানিমেশনের ব্যবহার অতি ব্যাপক। তবে আপনার আপাতত ফ্ল্যাশ এর কাজ না শিখলে চলবে (যদি প্রয়োজন না মনে করেন)।

HTML:

এইচটিএমএল হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের মূল ও প্রথম উপাদান। এইচটিএমএল ছাড়া ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব নয়। এটি একটি হাইপার টেক্সট মার্কআপ ল্যাংগুয়েজ। অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজের মত এটি কঠিন নয়, খুবই সহজ। এর সাহায্যে ওয়েবসাইটের মূল গঠন তৈরি করা হয়। Mark Up Language এক সেট Mark Up ট্যাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়। একটা ওয়েব পেজের বিভিন্ন অংশ ব্রাউজারের মাধ্যমে কিভাবে প্রদর্শিত হবে, তা HTML এ Mark Up ট্যাগ সমূহ ব্যবহার করে প্রকাশ করা হয় । এটা শিখলেই আপনি একটা ওয়েব পেজ তৈরী করতে পারবেন।

CSS:

CSS এর পূর্ণরুপ হচ্ছে ক্যাসকেডিং স্টাইল শীট( Cascading Style Sheet). এইচটিএমএল দিয়ে তৈরি করা ওয়েবসাইট কে স্টাইল করার জন্য CSS ব্যবহার করা হয়। সহজ ভাষায় ওয়েব পেজের বিভিন্ন উপাদানের গঠন, আকার, আকৃতি, অবস্থান, রং, গতিশীলতা ইত্যাদি নির্ধারণের সহজ কৌশল হচ্ছে CSS । সিএসএস দিয়ে ওয়েবসাইটের লে-আউট ও কন্ট্রোল করা হয়। যা আগে এইচটিএমএল এর টেবিল এর সাহায্যে করা হত।

JavaScript:

জাভাস্ক্রিপ্ট একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। একে স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ ও বলা হয় । জাভাস্ক্রিপ্ট কোন জেনারেল পারপোজ প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ নয়, এটি শুধুমাত্র ওয়েব ব্রাউজারে রান করতে পারে। তবে জাভা আর জাভাস্ক্রিপ্ট দুইটা ভিন্ন ভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। জাভাস্ক্রিপ্টের সাহায্যে একটি ওয়েবসাইট ডাইনামিক হতে শুরু করে। এর মাধ্যমে ভিজিটরকে সাইটের এর প্রতি আর্কষন সৃষ্টি এর যায়। জাভাস্ক্রিপ্ট ক্লায়েন্ট এবং সার্ভার উভয় দিকেই কাজ করতে পারে ও ইউজারের নিকট থেকে ডাটা নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রসেস সম্পন্ন করে সার্ভারে প্রেড়ণ করতে সক্ষম। এটি একটি অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। জাভাস্ক্রিপ্টের সাহায্যে ওয়েব পেজে ঘড়ি ও তারিখ, এলার্ট মেসেজ, পপআপ উইন্ডো, ফর্ম ভেলিডেশন, স্লাইড শো, ইত্যাদি কাজ করা হয়।

PHP:

এটিও একটি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ। পিএইচপি (PHP:Hypertext Preprocessor ) একটা সার্ভার সাইড ও ক্রস প্লাটফর্ম স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ। পিএইচপি এর বেশিরভাগ syntax গুলো C,Perl,Java থেকে ধার করা।এই ল্যাংগুয়েজটির উদ্দেশ্য হল ওয়েব পেজ দ্রুত তৈরী করা ডাইনামিকালি। PHP ছাড়াও আরো অনেক সার্ভার সাইড টেকনোলজি রয়েছে তবে PHP সবচাইতে বেশি জনপ্রিয় কারন এটি ফ্রী। পিএইচপি রান করাতে হলে আপনার পিসি কে একটি লোকাল সার্ভারে পরিণত করতে হবে কারন পিএইচপি সার্ভার ব্যাতিত ব্রাউজারে রান করতে পারে না। পি এইচপি ওয়েবে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে। পি এইচ পি কে এইচ টি এম এল (HTML) এর সাথেও ব্যবহার করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেস জুমলা সহ বেশ কিছু এডভান্সড ওপেনসোর্স কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (CMS) পি এইচ পি দ্বারা তৈরি। পি এইচ পি ব্যবহার করে কাস্টম কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি করা যায়। এছাড়া ই-কমার্স, ম্যানেজমেন্ট, অনলাইন ব্যাংকিং সফটওয়্যার ইত্যাদি তৈরিতেও পি এইচ পি ব্যাপকভাবে ব্যবহুত হচ্ছে।

MySQL:

MySQL হচ্ছে একটা ডেটাবেস সিস্টেম যা বিনামুল্যে পাওয়া যায়। এই ডেটাবেসে যেখানে ডেটাগুলি সংরক্ষিত হয়ে থাকে তাকে বলে টেবিল। ডাটাবেজে বিভিন্ন ডাটা যুক্ত, এটির ব্যবহার ও এটি পরিচালনার জন্য যেগুলো ব্যবহার হয়, তার মধ্যে SQL সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। এর জনপ্রিয়তার পিছনে যেটা সবচেয়ে বেশি কাজ করে তা হলঃ দ্রুত কাজ করা যায়, কাজে নির্ভর, ব্যবহারও অনেক সহজ।

কিভাবে শিখবেন ?
প্রথমেই আসি গ্রাফিক্সের ব্যাপারে। ওয়েব ডিজাইন শিখতে হলে হালকা পাতলা গ্রাফিক্স ও আপনাকে জানতে হবে। নিজে নিজে গ্রাফিক্স শিখার পদ্বতি নিয়ে আমার অত্যান্ত শ্রদ্বেয় টিউনার হাসান যোবায়ের (আল-ফাতাহ্) ভাই একটি টিউন করেছেন। অনুগ্রহ করে এইখান থেকে এটি পড়ে নিন।

আশা করি উনার টিউন থেকে নিজে নিজে শিখার পদ্বতি সম্পর্কে অনেক ধারনা পেয়েছেন। হ্যা ইংলিশ ভিডিও টিউটোরিয়ালের মাধ্যমে আপনি একজন প্রফেশনাল হয়ে উঠতে পারবেন।

তবে প্রাথমিক অবস্থায় ইংলিশ ভিডিও টিউটোরিয়াল এ টেকনিক্যাল টার্মগুলো বুঝতে আপনার সমস্যা হতে পারে যেমন আমার হয়েছিল। তাই প্রাথমিক অবস্থায় বাংলায় শিখেন, তাহলে ইংরেজি ভিডিওগুলোর টেকনিক্যাল টার্ম গুলো বুঝতে কোন অসুবিধা হবে না।

এবারে আসি HTML, CSS, JavaScript, PHP, MySQL এর ব্যাপারে

আপনি যদি একে বারে নতুন হন তাহলে বাংলায় শুরু করুন। আমি কিছু বাংলা টিউটোরিয়ালের লিঙ্ক দিলাম নিচে।

টেকটিউনস।
টিউটোরিয়ালবিডি।
আইটেকবাংলা।
প্রজন্মফোরাম।
ওয়েবকোচ বিডি
উপরে উল্লেখিত সাইটগুলো থেকে বাংলায় খুব ভাল ধারনা পাবেন। তবে সববিষয় একসাথে পড়া শুরু করবেন না। একটি একটি করে শুরু করুন এবং সেটি ভাল করে আয়ত্ত করে পরে অন্য একটি শুরু করুন।

ধরুন আপনি প্রথমে এইচটিএমএল শিখবেন, প্রথমেই বাংলায় এইচটিএমএল সম্পর্কে ধারনা নিন। শুধু পড়লেই চলবে না সাথে সাথে প্র্যাকটিস ও করতে হবে। যখন দেখবেন বাংলা ব্লগে এইচটিএমএল নিয়ে যা কিছু লেখা আছে এইগুলো আপনার আয়ত্তে এসে গেছে তখনই (তখন আবার সিএসএস শিখা শুরু করবেন না) ইংরেজি ভিডিও দেখার পালা। আর ইংরেজি ভিডিও টিউটোরিয়ালের জন্য লিন্ডা.কম আমার কাছে খুব ভাল লাগে। ভিডিও গুলো সংগ্রহ করুন দীপ্ত প্রজেক্ট থেকে অথবা টরেন্ট থেকে ডাউনলোড করতে পারেন । প্রাথমিক ভাবে নিচের এই টিউটোরিয়াল গুলো দেখতে পারেন আর এইগুলো দেখা শেষ হলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কখন কি শিখতে হবে।

Web Design Fundamentals
Lynda.com HTML Essential Training (2012)
CSS2 Essential Training (2003)
CSS Web Site Design
CSS Fundamentals
CSS: Page Layouts
JavaScript Essential Training (2011)
Practical and Effective JavaScript
PHP with MySQL Beyond the Basics
PHP with MySQL Essential Training
আর কাজ করতে গেলে হয়ত অনেক সময় অনেক সমস্যা হতে পারে সেক্ষেত্রে ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপ থেক সাহায্য নিতে পারেন যেমন,

https://www.facebook.com/groups/HTML.CSSandJavaScript/
https://www.facebook.com/groups/Wordpress2Smashing/

14/12/2012

অনলাইন ইনকাম পর্ব-২

গতপর্বেই বলেছিলাম, ওডেস্ক সবচেয়ে বড় অনলাইন জব মার্কেটপ্লেস। আজকে ওডেস্ক নিয়ে আরেকটু বিস্তারিত পরিচিতি তুলে ধরব।

ওডেস্কে বিভিন্ন বায়াররা তাদের জব পোস্ট করে এবং ফ্রীল্যন্সাররা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন জবে বিড(অ্যাপ্লাই) করে। প্রত্যেক কনট্রাক্টরদের(ফ্রীল্যন্সার) একটি প্রোফাইল থাকতে হয় ওডেস্কে বিভিন্ন জবে বিড মারার জন্য। সেইসব প্রোফাইলে তাদের স্কিলস, পরিচিতি, পোর্টফোলিও ইত্যাদি রাখতে হয় যা দেখে বায়াররা তাদেরকে জব দিতে আগ্রহী হয়। এখন ধরেন, ওডেস্কে একজন বায়ার একটি জব পোস্ট করল যে, তাকে একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে দিতে হবে যার বাজেট ৫০০ ডলার। সে আরও বলে দিল এই কাজের জন্য আপনাকে HTML, CSS, Photoshop, Wordpress, PHP এ দক্ষ হতে হবে। ধরেন, আপনি সবগুলোতেই এক্সপার্ট। তাই, আপনি এই জবে অ্যাপ্লাই করতে চান। এজন্য আপনাকে একটি কাভার লেটার লিখে সেটিসহ জবটির জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে। কাভার লেটারে আপনি সিমপ্লি আপনার স্কিলগুলোর কথা বলবেন যা যা চাওয়া হয়েছে। জবটি রিলেটেড আপনার কিছু কাজের উদাহরন দেখাবেন। এখন এরকম ১টি জবে ধরেন ১৫০ জন অ্যাপ্লাই করেছে। কিন্তু, জবটি পাবে একজন। তাহলে বায়ার কাকে পছন্দ করবেন? প্রথমত, যাদের কাভার লেটার ভালো লাগবে, তাদের প্রত্যেকের প্রোফাইলেই বায়ার ভিসিট করবে। এরপর, যার প্রোফাইলে গিয়ে দেখবেন বায়াররের জব সম্পর্কিত কোন কাজ সে ওডেস্কে আগে করেছে এবং সবগুলো কাজেই তার ফিডব্যাক বেশি, তাকেই বায়ার পছন্দ করবেন। এই ফিডব্যাক জিনিসটা হল, কনট্রাক্টররা কাজ শেষ করে জমা দেবার পর বায়াররা জবটি অফিসিয়ালভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করে এবং কাজটি কেমন হয়েছে, ঠিক সময়ে(ডেডলাইন) কাজটি শেষ হয়েছে কিনা ইত্যাদি কিছু বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কনট্রাক্টরদের একটি ফিডব্যাক প্রদান করে(যার সর্বোচ্চ মান ৫)। যেসব কনট্রাক্টরদের প্রোফাইলে বড় বাজেটের কাজগুলোতে ফিডব্যাক বেশি থাকে(৪.৬-৫.০), সেসব কনট্রাক্টররাই বায়ারদের প্রথম পছন্দে থাকে। এখন ধরেন, আপনি ওডেস্কে নতুন যোগ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আপনার প্রোফাইলে তো বায়াররা ওডেস্কের কোন জব হিস্টোরি দেখবেন না। তাহলে, তারা কেন আপনাকে পছন্দ করবেন? নতুন হিসাবে বায়ারদেরকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করতে আপনি তাই ওডেস্কে বিভিন্ন স্কিলের উপর এক্সাম দিতে পারেন। এগুলোতে আপনার যদি রেসাল্ট খুব ভালো থাকে(যেমন ওডেস্ক স্কিল টেস্টে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টপ ১০%-২০%-এ আপনার অবস্থান থাকে) তাহলে বায়াররা আপনার প্রতি আগ্রহী হতে পারবে সহজেই। যেমন, আলোচ্য জব পোস্টদাতা বায়ার যদি আপনার প্রোফাইলে গিয়ে দেখে আপনার প্রোফাইলটা নতুন কিন্তু, অন্তত HTML, CSS, Photoshop, Wordpress এ আপনার এক্সাম দেয়া আছে এবং প্রত্যেকটি বিষয়েই আপনার রেসাল্ট খুবই ভালো, তাহলে বায়ার বুঝবে যে, আপনি ওডেস্কে নতুন হলেও আপনি আসলে দক্ষ এবং জবটির জন্য উপযুক্ত। সেক্ষেত্রে, বায়ার আপনাকে কাজটি দিতে আগ্রহী হবে। আর পরীক্ষাগুলো নিয়ে টেনশনের কিছু নেই। পরীক্ষাগুলো আপনি বাসায় বসে অনলাইনে ওদের ওয়েবসাইটেই দিতে পারবেন এবং প্রশ্ন একটু কঠিন হলেও আপনি যদি সত্যিই দক্ষ হোন, তাহলে ওগুলায় ভালো রেসাল্ট করা কোন ব্যাপারই না আপনার জন্য। আর আপনি যেহেতু নতুন, তাই অন্যান্য অভিজ্ঞদের চেয়ে সামান্য কমে বিড মারতে পারেন প্রথমে। যেমন, আলোচ্য ঐ কাজটিতে যদি দেখেন অ্যাভারেজ বিড হয়েছে ৪৮০ ডলারে তাহলে আপনি বিড মারতে পারেন ৪৭০ ডলারে। তবে, বাজেটের চেয়ে খুব বেশি কমে কখনোই বিড মারবেন না। এটি হিতে বিপরীতও হতে পারে। বায়াররা ভাববে, থিউরিটিকালভাবে আপনি দক্ষ হলেও প্র্যক্টিকাল কাজ সম্পর্কে আপনার কোন ধারনাই নেই এবং এজন্য কাজগুলোর বাজারমূল্য সম্পর্কেও তাই আপনার ধারনা নেই। আবার খারাপ বায়াররা আপনার এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আপনাকে অল্প টাকায় মাত্রাতিরিক্ত কাজ করিয়ে নিবে এবং অনন্যা বায়াররা আপনার প্রোফাইলে যখন দেখবে, আপনি অনেক বড় কাজ অনেক অল্প টাকায় করেছেন, তখন আপনার কাজের মান নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হবে। ফলশ্রুতিতে, আপনাকে সারাজীবন অল্প টাকার কাজগুলোই করে যেতে হবে!

এবার আসি ওডেস্কের জব টাইপ নিয়ে। ওডেস্কে ২ টাইপের জব পোস্ট হয়। একটি হল Fixed Job আরেকটি হল Hourly Job

-Fixed Job হল ফিক্সড বাজেটের জব। বায়ার আপনাকে হায়ার করলে অর্থাৎ জবটি দিলে আপনার সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবার পরই বায়ার আপনাকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবে। অবশ্য, এর আগে অ্যাপ্লাই করার সময় আপনি আপফ্রন্ট বা অ্যাডভান্সড পেমেন্ট চাইতে পারেন। তবে, এটি কখনোই ২০-২৫% এর বেশি চাওয়া উচিৎ না। আর আপনি নতুন হলে এটির রেঞ্জ হওয়া উচিত ১০-১৫%।

-Hourly Job হল, এর নির্দিষ্ট কোন বাজেট নেই। জবটি শেষ করতে যত hour বা ঘণ্টা লাগবে, তত ঘণ্টা * আপনার Hourly Rate হবে আপনার পেমেন্ট। যেমন, ধরেন, আপনার কাজটি শেষ করতে আপনার মোট সময় লেগেছে ৩০ ঘণ্টা। এবং আপনার hourly rate $5.0 তাহলে আপনি পেমেন্ট পাবেন 30*5 = $150. এখানে পেমেন্ট পেতে হলে আপনাকে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। এক সপ্তাহ শেষ হলেই সেই সপ্তাহের আপনার কাজের পরিমানের সময় অনুসারে পেমেন্ট পেয়ে যাবেন। ধরেন, আপনার বায়ার আপনাকে Hourly Limit দিয়ে দিল 15 hour(এর মানে, আপনি এক সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। এবং এর বেশি কাজ করলেও অতিরিক্ত hour এর জন্য আপনি কোন পেমেন্ট পাবেন না). তাহলে প্রথম সপ্তাহে আপনি ১৫ ঘণ্টা কাজ করলে ঐ সপ্তাহ শেষেই 15*5 = $75 পেমেন্ট আপনার প্রোফাইলে যোগ হয়ে যাবে(যদিও আপনার প্রোফাইলে টাকা আসতে একটু দেরি হবে) এবং পরের সপ্তাহে বাকি কাজ শেষ হলে ওইটুকুর জন্য বাকি পেমেন্টও পেয়ে যাবেন।

সাধারনত, ওডেস্কের পেমেন্ট গ্যারান্টেড। তবে, ফিক্সড কিছু কাজে রিস্ক থাকে। hourly কাজগুলোতে আপনি পেমেন্ট পাবেন ১০০% নিশ্চিত। আর fixed কাজগুলতেও আসলে সাধারনত রিস্ক থাকে না। তবে, যেসব বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফাইড না(একজন বায়ারের জবে অ্যাপ্লাই করার সময় বায়ারের পেমেন্ট মেথড ভেরিফাইড কিনা তা দেখা যায়, পেমেন্ট মেথড ভেরিফাইড হল, একজন বায়ারকে ওডেস্কে নির্দিষ্ট কিছু পরিমান ডলার আগে জমা রাখতে হয় যার মাধ্যমে সে সবাইকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে সে ফেক কোন পার্সন নয় এবং সে সত্যিকারভাবে বিজনেস করতেই এখানে এসেছে)। যাদের পেমেন্ট মেথড ভেরিফাইড না, তাদের কাজ করা উচিত না কারোই। আর ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইনের বায়ারদেরও কাজ করা উচিত না কারন তারা সবসময় অল্প টাকায় অনেক কাজ করিয়ে নিতে চায় এবং তাদের প্রতি বিভিন্ন অভিযোগও অনেক বেশি।

ওডেস্কে কাজ করে ডলার তো অনেক পেলেন ভারচুয়ালি, এবার হাত দিয়ে সত্যি সত্যি ধরে দেখবেন কীভাবে :) ? বাংলাদেশে ওডেস্ক থেকে টাকা আনার জন্য ভালো পদ্ধতি হল ২টা। একটা হল ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার কার্ডের(Payoneer Debit Card) মাধ্যমে। আরেকটা হল, ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন ব্যাংক মানিবুকার্সের(Skrill) মাধ্যমে।

এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত না হয় পরেই বলা যাবে? আগে নিজে দক্ষ হয়ে কাজ করা তো শুরু করেন। সত্যিকারভাবে টাকা ইনকাম করলে সেগুলা হাতে আনা কোন ঘটনাই না।

এবার আসি, ওডেস্কে কি কি জব পোস্ট হয়। অনেক টাইপের জবই পোস্ট হয়। যেমনঃ


তাহলে আমরা দেখলাম অনেক টাইপের জবই এখানে আছে। এক নজরে গ্রাফের মাধ্যমে দেখে নেই, ওডেস্কে কি কি কাজ কি পরিমানে আছেঃ


এবার দেখে নেই সারা বিশ্ব(মূলত উন্নত দেশগুলো) থেকে কোন কাজগুলো ওডেস্কে বেশি করা হয়ঃ


এবার আরেকটি মন ভালো করার সংবাদ শুনাই। সেটি হল ২০১২ সালের র‍্যাঙ্কিং অনুসারে ওডেস্কে সবচেয়ে বেশি কাজ করার তালিকায় বাংলাদেশ ৩ নম্বরে। সবচেয়ে বেশি কাজ করার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে শীর্ষ ৭ টি দেশ হলঃ

১) ফিলিপাইন
২) ভারত
৩) বাংলাদেশ
৪) পাকিস্তান
৫) রাশিয়া
৬) ইউক্রেন
৭) ইউনাইটেড স্টেট্‌স

তবে, নিচের গ্রাফটি দেখলে আপনাদের মন একটু হলেও খারাপ হবে। রাসিয়া, ইউনাইটেড স্টেট্‌সের মত দেশগুলার ফ্রীলান্সাররা যেখানে সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ ওয়েব ডেভালাপমেন্ট সেক্টরের কাজ করে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে, সেখানে আমাদের দেশের কয়েকজন টপ ক্লাস ফ্রীল্যান্সার ছাড়া অধিকাংশ ফ্রীলান্সারই পড়ে আছে ব্লগ-আর্টিকেল রাইটিং, ডাটা এন্ট্রির মত খুবই সস্তা পেমেন্টের কাজে!


এবার দেখে নেই ওডেস্ক থেকে এই বছরে যেই কাজগুলো করে এক্সপার্ট ফ্রীল্যান্সাররা সবচেয়ে বেশি টাকা ইনকাম করেছে তার একটি র‍্যাঙ্কিং:


শুধু ওয়েব ডেভালাপমেন্ট(ওয়েব প্রোগ্রামিং-২৫%, ওয়েব ডিজাইন-২০%, ওয়েবসাইট কিউএ-৭%) সেক্টরেই ৫২% ইনকাম হয়েছে, আর বাকি সব সেক্টর মিলে ৪৮% ইনকাম হয়েছে!

এবার নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পারছেন রয়্যালকোডারের ফোকাস/সার্ভিস কেন এই বিশাল ওয়েব ডেভালাপমেন্ট সেক্টরে।

এই নোট্‌সে ওডেস্ক সম্পর্কে সবাইকে একটি স্বচ্ছ ধারনা দিতে চেষ্টা করেছি মাত্র। এখন আপনি যদি কোন কাজ না জেনে ওডেস্কের ওয়েবসাইটে গিয়ে বসে থাকেন-তাহলে তো কোন লাভ নেই। প্রস্তুতি ছাড়া কিংবা ফিট হয়ে খেলার মাঠে না নামলে যেমন ফলাফল ভালো হয় না, তেমনি কয়েকটি বিষয়ে দক্ষ না হয়ে ওডেস্কের মত ইন্টারন্যাশনাল জব ফিল্ডে প্রবেশ করলেও আপনি কিছুই করতে পারবেন না। উল্টো হতাশ হয়ে আপনি ফিরে আসবেন। হাজার হাজার দক্ষ মানুষ ওখানে আছে। তাদের সাথে আপনাকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। কি ভয় পেয়ে গেলেন আবার? ছোট বেলায় আমরা যখন বিশাল বড় ইংরেজি রচনা না বুঝে মুখস্ত করতে চাইতাম, তখন আমাদের কতই না কষ্ট হত। কিন্তু, বাংলা অর্থ বুঝে, গ্রামারের রুলসগুলো মাথায় রেখে একটু পড়লেই সহজে তা মুখস্ত হয়ে যেত! মোট কথা হল, আপনি যেখানে জব করবেন সেখানকার নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে জানা, আপনি যেই ফিল্ডে কাজ করবেন সেই ফিল্ডের টপিকগুলোর উপর ভালো দখল থাকা-ইত্যাদি কিছু কৌশল মেনে চললে যে কোন জবে আপনি সফল হবেনই। আজ তাহলে এই পর্জন্তই। সামনের পর্বে ফিরে আসব নতুন কিছু নিয়ে।

Want your business to be the top-listed Computer & Electronics Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address

32/1 Sahidfaruk Road, Jatrabari
Dhaka
1204