Mamunur Rashid Raz
23/08/2025
ইউরোপ-আফ্রিকার মাঝে মাত্র ১৪ কিলোমিটার! তবুও সেতু নেই কেন?
ভাবুন তো, স্পেন থেকে মরক্কো — দূরত্ব মাত্র ১৪ কিলোমিটার!
অর্থাৎ আধা ঘণ্টারও কম সময়ে ইউরোপ থেকে আফ্রিকায় যাওয়া সম্ভব। এই জায়গাটাই হলো বিখ্যাত জিব্রাল্টার প্রণালী। এখানেই আটলান্টিক মহাসাগর আর ভূমধ্যসাগরের মিলন। প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ জাহাজ এই পথ দিয়ে পণ্য বহন করে, যার মধ্যে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ টন ক্রুড অয়েল।
তাহলে প্রশ্ন জাগে—এখানে এখনো কেন সেতু নেই?
#প্রথম কারণ: ভয়াবহ গভীরতা
এই প্রণালীর গভীরতা ৩০০ থেকে ৯০০ মিটার (প্রায় ৩ হাজার ফুট)! এত গভীরে সেতুর পিলার বসানো বর্তমান প্রযুক্তিতে ভীষণ কঠিন ও ব্যয়বহুল।
#দ্বিতীয় কারণ: ভূমিকম্পের ঝুঁকি
জিব্রাল্টার প্রণালী বসে আছে দুই বিশাল টেকটোনিক প্লেটের মাঝে—ইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান। ফলে ভূমিকম্প এখানে নিত্যসঙ্গী। যেকোনো শক্তিশালী কম্পনে সেতু মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
#তৃতীয় কারণ: স্রোত ও বাতাসের তাণ্ডব
আটলান্টিকের ঠান্ডা পানি প্রবেশ করছে ভূমধ্যসাগরে, আর ভূমধ্যসাগরের উষ্ণ পানি বেরিয়ে যাচ্ছে আটলান্টিকের দিকে। সঙ্গে আছে বিপরীতমুখী প্রবল বাতাস—লেভান্তে (উষ্ণ, শুষ্ক) আর পোনিয়েন্তে (শীতল, আর্দ্র)। ফলে সেতুর কাঠামো সবসময় মারাত্মক চাপের মুখে পড়বে।
এই কারণেই ১৯৭৯ সালে স্পেন-মরক্কো যৌথভাবে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও তা বাতিল হয়। পরে ইউরোমেড ট্রানজিট প্রজেক্টও থেমে যায়। এখন পানির নিচ দিয়ে টানেল তৈরির পরিকল্পনা চলছে, তবে সেটি আদৌ সফল হবে কিনা—সময়ই বলবে।
এখানে একটা তুলনা করা যায়—আমাদের পদ্মা সেতু। পদ্মার গভীরতা সর্বোচ্চ প্রায় ৪৭৯ মিটার হলেও প্রকৌশলীরা সাহসের সঙ্গে সেতু নির্মাণ করেছেন। অথচ জিব্রাল্টারের প্রণালীতে গভীরতার পাশাপাশি স্রোত, বাতাস ও ভূমিকম্প—সব মিলে এক ভয়ংকর চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
👉 এখন প্রশ্ন হলো, যদি কোনো দিন টানেল বা সেতু সত্যিই তৈরি হয়, তাহলে কি পৃথিবীর মানচিত্র বদলে যাবে না?
Click here to claim your Sponsored Listing.