Students Guide Academy
18/12/2023
বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নেবেন কীভাবে
যাঁরা বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যেতে চান, কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন? কী কী চ্যালেঞ্জ আছে সামনে?
করোনা-পরবর্তী সময়ে আবারও উচ্চশিক্ষার অনেক সুযোগ উন্মুক্ত হচ্ছে। পুরোনো বৃত্তিগুলো যেমন চালু হয়েছে, তেমনি নতুন অনেক বৃত্তির জন্যও আবেদন আহ্বান করা হচ্ছে। যাঁরা বৃত্তি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুত হতে চান, তাঁদের কী করণীয়?
তাড়াহুড়া নয়
বৃত্তি নিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ। তাড়াহুড়া করলে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। একদিকে যেমন পড়াশোনার প্রস্তুতির প্রয়োজন, অন্যদিকে কাগজপত্র ও প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ও কম গুরুত্বপূর্ণ নায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামে পূর্ণ অর্থায়নে পড়ার সুযোগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) সহযোগী অধ্যাপক খালেদ মাহমুদ। তিনি জানান, একেক দেশের বৃত্তির প্রক্রিয়া একেক ধরনের। আবার বিষয়ভিত্তিক ভর্তির প্রক্রিয়াও ভিন্ন। আগে থেকে শিক্ষার্থীরা যদি প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন, তাহলে বৃত্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করতে পারবেন।
প্রথম ধাপ—প্রস্তুতি
শুরুতে একটি বছরভিত্তিক পরিকল্পনা নেওয়া ভালো। ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য আলোচিত বৃত্তি ইরাসমাস মুন্ডাস। এই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অনুপমা নিলয়া বর্তমানে স্প্যানিশ রিসার্চ কাউন্সিলে গবেষক হিসেবে কর্মরত। তিনি মনে করেন, শুরুতেই একেকটি কাজের জন্য ‘টাইমলাইন’ ঠিক করে ফেলা উচিত।
দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা: ভাষাসংশ্লিষ্ট দক্ষতার ক্ষেত্রে আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম) বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত।
অনুপমা বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক ও সম্মানজনক বৃত্তিগুলোর জন্য ৭.০ বা ৭.৫ আইইএলটিএস স্কোর গ্রহণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তিগুলোতে ৬.৫ স্কোরও গ্রহণ করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে টোয়েফল (টেস্ট অব ইংলিশ অ্যাজ আ ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ) স্কোর লাগে। অতএব প্রয়োজন বুঝে ভাষা দক্ষতার পরীক্ষা দেওয়া উচিত। জার্মানি, ফরাসি, চীনা— নানা ভাষাই আপনি শিখতে পারেন। সেই ভাষাসংশ্লিষ্ট বৃত্তি পাওয়া তাহলে সহজ হবে।
যাঁরা ব্যবসায় শিক্ষা নিয়ে পড়বেন, জিম্যাট (গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট) তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আর বিজ্ঞান ও প্রকৌশল, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে পড়তে চাইলে জিআরই (গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনস) স্কোর দরকার। তবে অনুপমা নিলয়া জানান, ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তির জন্য জিআরই-জিম্যাট স্কোর প্রয়োজন হয় না।
অধিকাংশ বৃত্তির ক্ষেত্রে নেতৃত্বের গুণাবলি, স্বেচ্ছাসেবক বা গবেষক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা, এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই এসব অর্জনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে আগে থেকেই।
সনদ, সুপারিশপত্র, পাসপোর্ট: শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নম্বরপত্র ইত্যাদি জোগাড় করে ফেলতে হবে। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সনদ তুলতে গেলেও একধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়তে হয়। তাই শেষ মুহূর্তের জন্য ফেলে না রেখে সনদ সংগ্রহ করুন যত দ্রুত সম্ভব। হালনাগাদ পাসপোর্টও হাতে রাখুন।
ফুলব্রাইট বৃত্তিপ্রাপ্ত খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি) ও লেটার অব রিকমেন্ডেশন (এলওআর) বৃত্তির জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রায়ই একটি সাধারণ মানের এসওপি ও শিক্ষকের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নিয়ে বৃত্তির জন্য জমা দেন। যেহেতু সব বৃত্তিই প্রতিযোগিতামূলক, তাই এসব হেলাফেলার জন্যও অনেকে বাদ পড়ে যান। আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য নিজের স্টেটমেন্ট অব পারপাস নিজেকেই লিখতে হবে। আপনি যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের চেষ্টা করছেন, সেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে সুপারিশপত্র নিন। অনেক সময় ভাষা দক্ষতা বা জিআরই-জিম্যাটের স্কোর কম হলে ভালো সুপারিশপত্রই আপনাকে এগিয়ে রাখবে।’
দ্বিতীয় ধাপ—বৃত্তির খোঁজ ও আবেদন
দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনপ্রক্রিয়া ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ড বৃত্তি নিয়ে দ্য অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে পড়েছেন মো. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তো বৃত্তির খোঁজ পাওয়াই যায়। এ ছাড়া সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষকদের কাছ থেকে ই-মেইল করেও তথ্য জানতে পারেন।
বৃত্তির সন্ধান: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ কার্যকর। হালনাগাদ সরকারি বৃত্তির তথ্য পাওয়া যায় সব সময়। বিভিন্ন দূতাবাসের শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজেও বৃত্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া চোখ রাখতে পারেন পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নিয়মিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ আছে।
কানাডার লাভাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরাল গবেষক রামিম তানভীর রহমান বলেন, ‘আপনি যে বিষয়ে পড়তে বা গবেষণা করতে চান, সে বিষয়ের অধ্যাপকদের কাজের দিকে নজর রাখতে হবে। কোন অধ্যাপক কী নিয়ে গবেষণা করছেন, কেমন অনুদান পাচ্ছেন, এসব জানা থাকলে আবেদন করা সহজ হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয় সন্ধান: কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে আপনি পড়তে চান? কেন এই বিশ্ববিদ্যালয় বা বিষয়টি বেছে নিলেন? প্রশ্নগুলোর উত্তর আপনার জানা থাকা চাই। চিভনিং বৃত্তিপ্রাপ্ত শাহরিয়ার রহমান বলেন, চিভনিংসহ অনেক বৃত্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার জমা দিতে হয়। ভারতের আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী নাহরিন রাত্রী জানান, সে দেশে বৃত্তিসহ পড়তে চাইলে আবেদনের সময় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিষয়ের নাম সংযুক্ত করতে হয়। পরে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হলে যোগ্যতা অনুযায়ী এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পান।
তৃতীয় ধাপ—সাক্ষাৎকার
বৃত্তির সর্বশেষ ধাপে শিক্ষার্থীকে অনেক সময় সাক্ষাৎকারের মুখোমুখি হতে হয়। অনলাইনে মৌখিক সাক্ষাৎকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসও সাক্ষাৎকার নিতে পারে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দূতাবাসের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের সরকারি বৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীদের দূতাবাসের মাধ্যমে সাধারণ জ্ঞাননির্ভর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করতে হয়।
আরও যা মাথায় রাখতে হবে
অর্থের জোগান: জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ব্লকড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নিতে পারেন। আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক বৃত্তির জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ফাইল চালু করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টুডেন্ট ফাইল চালুর ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সংকটের মুখে পড়ছেন। অনেক ব্যাংক স্টুডেন্ট ফাইল খোলার সুযোগ বন্ধ রেখেছে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পরিস্থিতি জানিয়ে ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।
আবেদনের সময়: বৃত্তির ডেডলাইনের নির্দিষ্ট সময়ের আগে আবেদন করতে হবে। চিভনিং বৃত্তিসহ বিভিন্ন বৃত্তির অনলাইনে আবেদনের শেষ দিকে অনেক আবেদন জমা পড়ে বলে নানা জটিলতায় অনেকেই আবেদন জমা দিতে পারেন না। আবার শেষের সময় অনেক আবেদনের চাপে ভালো আবেদন উপেক্ষার আশঙ্কা থাকে। তাই কিছুটা সময় হাতে নিয়ে আবেদন করতে হবে।
কয়েকটি সরকারি বৃত্তির খোঁজ
যুক্তরাজ্যের বৃত্তি: chevening.org/scholarship/bangladesh/
যুক্তরাষ্ট্রের বৃত্তি: foreign.fulbrightonline.org/apply
চীনে বৃত্তি: campuschina.org
ইউরোপের বৃত্তি: eacea.ec.europa.eu/scholarships/erasmus-mundus-catalogue_en
জার্মানিতে বৃত্তি: daad.de/en/study-and-research-in-germany/scholarships/
ভারতে বৃত্তি: a2ascholarships.iccr.gov.in/
একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া একটি প্রতিযোগিতামূলক এবং চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া হতে পারে, তবে সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপনি ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারেন। এখানে কিছু পদক্ষেপ রয়েছে যা আপনি আপনার সম্ভাবনা উন্নত করতে নিতে পারেন:
তাড়াতাড়ি প্রস্তুতি শুরু করুন: কলেজে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করুন, যেমন SAT বা ACT, হাই স্কুলের প্রথম দিকে এবং আপনার সেরা স্কোর পেতে সেগুলি একাধিকবার নেওয়ার লক্ষ্য রাখুন।
একটি শক্তিশালী জিপিএ বজায় রাখুন: আপনার পড়াশোনায় মনোযোগ দিন এবং উচ্চ গ্রেড পয়েন্ট গড় বজায় রাখার চেষ্টা করুন। ভাল গ্রেড কলেজ ভর্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলির মধ্যে একটি।
পাঠ্যক্রম বহির্ভূত ক্রিয়াকলাপে জড়িত হন: ক্লাব, খেলাধুলা, স্বেচ্ছাসেবক কাজ বা অন্যান্য পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করা আপনার নেতৃত্ব, দলবদ্ধ কাজ, এবং কলেজ ভর্তি কমিটিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে।
সুপারিশগুলি সন্ধান করুন: শিক্ষক, পরামর্শদাতা বা অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্কদের জিজ্ঞাসা করুন যারা আপনাকে ভালভাবে চেনেন আপনাকে একটি সুপারিশের চিঠি লিখতে। এই চিঠিগুলি আপনার ব্যক্তিত্ব, চরিত্র এবং একাডেমিক ক্ষমতা সম্পর্কে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে পারে।
নিজেকে হোন: একটি আকর্ষক ব্যক্তিগত বিবৃতি লিখুন যা আপনার অনন্য পটভূমি, কৃতিত্ব এবং লক্ষ্যগুলি প্রদর্শন করে। সৎ এবং আন্তরিক হন এবং আপনার ব্যক্তিত্বকে উজ্জ্বল হতে দিন।
বিভিন্ন কলেজে আবেদন করুন: নিরাপত্তা, লক্ষ্য এবং স্কুলে পৌঁছানোর মিশ্রণে আবেদন করার কথা বিবেচনা করুন। এটি আপনার কমপক্ষে একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে এবং আপনাকে বেছে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রদান করবে।
নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন: প্রতিটি কলেজ দ্বারা প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করা নিশ্চিত করুন এবং সময়সীমার মধ্যে আপনার আবেদন জমা দিন।
মনে রাখবেন, একটি ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শুধুমাত্র গ্রেড এবং পরীক্ষার স্কোর সম্পর্কে নয়। এটি একজন ছাত্র, নেতা এবং ব্যক্তি হিসাবে আপনার সম্ভাব্যতা প্রদর্শনের বিষয়েও। শুভকামনা!
15/12/2023
বিদেশে পড়তে যাওয়ার আগে যে ১০টি কাজ আপনার করা উচিত
ভিনদেশে পড়তে যেতে হলে প্রস্তুতি শুরু করতে হয় বেশ আগে থেকে। করোনাকালে যেহেতু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জোগাড় করা কিংবা ভিসা প্রক্রিয়াকরণের মতো কাজগুলো নিয়ে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাই আগে থেকেই কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখা ভালো। কীভাবে একটু একটু করে আপনি প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখতে পারেন, জেনে নিন এ সংক্রান্ত ১০ পরামর্শ।
১. প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়, বিভাগ আর সেশন ঠিক করে নিতে হবে
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করার ধরন ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে একটু আলাদা। দেশের বাইরে পড়ালেখার পরিকল্পনা থাকলে তাই আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়গুলো সম্পর্কে ‘গুগল’ করে বিস্তারিত জেনে নিন। আবেদনের শেষ দিন, কী কী কাগজপত্র পাঠাতে হবে, খরচ কেমন...জেনে, বুঝে নিন, কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন বিষয়টি আপনার জন্য মানানসই। সাধারণত মার্চ ও অক্টোবর মাসের মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কয়েকটি সেশনে ভর্তি করা হয়, এ ক্ষেত্রে কোন সেশনে ভর্তি হতে চান, সে পরিকল্পনাও করে ফেলুন।
২. মূল সনদ জোগাড় করা
শিক্ষা বোর্ড বা কলেজ থেকে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মূল নম্বরপত্র ও সনদ সংগ্রহ করে রাখুন। স্নাতকোত্তরে আবেদনের জন্য অনার্সের নম্বরপত্র আর সনদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে সংগ্রহ করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়-নির্ধারিত খামে সনদ পাঠাতে হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
৩. পাসপোর্ট তৈরি রাখা
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনের সময় অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্ট নম্বর প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া স্যাট, জিআরই, জিম্যাট, আইইএলটিএস, টোয়েফল পরীক্ষা দিতে পাসপোর্ট কাজে লাগে। পাসপোর্ট না থাকলে তৈরি করে ফেলতে হবে কিংবা মেয়াদ ছয় মাসের কম হলে নতুন করে বানাতে হবে। পাসপোর্টে নামের বানান যেন মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক সনদের মতোই হয়। বানানের গরমিলের কারণে অনেকেই ভর্তি বা বৃত্তির আবেদন করতে পারেন না।
৪. স্যাট, জিআরই, জিম্যাট, আইইএলটিএস অথবা টোয়েফল পরীক্ষা দিয়ে ফেলুন
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা প্রকাশের জন্য স্যাট, জিআরই বা জিম্যাট স্কোরকে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভাষা-দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস ও টোয়েফল স্কোরের গুরুত্ব অনেক। এই পরীক্ষাগুলোর জন্য সময় দিয়ে, পরিশ্রম করে, যত বেশি সম্ভব স্কোর তুলতে হবে।
৫. এলওআর, এসওপি, এলওআই তৈরি করা
বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে এলওআর, এসওপি ও এলওআই শব্দগুলো খুব পরিচিত। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা একাডেমিক ক্ষেত্রে খুব আলোচিত ব্যক্তির কাছ থেকে ‘লেটার অব রিকমেন্ডেশন’ বা এলওআর সংগ্রহ করতে হবে। সাধারণত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলওআরের নির্দিষ্ট ধরন থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করে নেওয়া যায়। যে বিষয়ে বা বিভাগে আবেদন করবেন তা কেন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সম্ভাব্য গবেষণার বিষয়, কীভাবে গবেষণা করতে চান, কিসে আগ্রহ—এসব নিয়ে ‘স্টেটমেন্ট অব পারপাস’ বা এসওপি এবং ‘লেটার অব ইন্টারেস্ট’ বা এলওআই লিখতে হয়। এই দুটি পত্র লেখার সময় শতভাগ নিজের মতো লিখতে হবে। অন্য কোথাও থেকে ‘কাট-কপি-পেস্ট’ কোনোভাবেই করা যাবে না। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নিজের ভাষায় এই পত্র লিখতে হয়। যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হবে তার জন্য আলাদা আলাদা এলওআর, এসওপি ও এলওআই তৈরি করতে হবে।
৬. অন্যান্য সনদ সংগ্রহ করে ফেলা
উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আবেদনের সময় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কার ও অংশগ্রহণের সনদ বেশ গুরুত্বের চোখে দেখা হয়। এ ধরনের সনদ আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হয়।
৭. শেষ সময়ের আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন পাঠাতে হবে
অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের শেষ তারিখের প্রায় ২০-২৫ দিন আগেই আবেদনপত্র কুরিয়ারে পাঠাতে হয়। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে আবেদনপত্র পাঠাতে একেক সময় লাগে, এ ক্ষেত্রে হাতে সময় নিয়ে কুরিয়ার করতে হবে। করোনাকালে এ সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। তাই সতর্ক থাকা উচিত। জমা দেওয়ার তারিখের পরে আবেদনপত্র পৌঁছালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হয় না।
৮. সনদ সত্যায়িত করা
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সঙ্গে মূল সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সনদ সত্যায়িত করতে হবে। ভুয়া কিংবা নকল সত্যায়ন করলে ভর্তি-প্রক্রিয়া যেকোনো সময় আটকে যেতে পারে।
৯. দূতাবাসে খোঁজখবর নেওয়া
বিভিন্ন দেশে পড়ার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য তথ্য পাওয়ার সুযোগ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আমেরিকান সেন্টার, যুক্তরাজ্যে পড়ার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল, জার্মানির জন্য গ্যেটে ইনস্টিটিউটসহ ওয়েবসাইট থেকে বৃত্তি এবং ফেলোশিপের তথ্য পাওয়া যাবে।
১০. নেটওয়ার্কিং করা
বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং করা বেশ জরুরি। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে চান সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠনসহ ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ থেকে তথ্য-সহযোগিতা নিতে পারেন।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Dhaka
1229