POYEL
হাদি হত্যার বিচার চাই।
এক মহিলা মরে পরে আছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে।
সব ছেলে মেয়েরা তার এস্ট্যাবলিশড। কেউ খোঁজ নেয়নি জানেও না যে তাদের মা মরে পরে আছে। পাবলিক নিউজ টা শুনে সন্তানদের ক্রমশ গালমন্দ করে সমাজ বিতাড়িত করে চলেছে।
দোষ টা আসলে কার?
ছোট্ট একটা ঘটনা বলি,
সাল ২০১৩,
আমার পরিচিত একটা মানুষ যার নাম আমি উল্লেখ করলাম না। তাকে আমি বলা চলে জন্মের পর থেকে চিনি। একদিন সে তার মা কে নিয়ে গিয়েছিল তার চোখের ডাক্তার দেখানোর জন্য স্কয়ার হাসপাতালে। তো সে আর তার মা দুইজনই রামপুরা থেকে রওনা হয়েছে সিএনজি করে। ভুলক্রমে তারা কলাবাগান চলে গিয়েছে। চিনতে না পেরে তার বাবাকে কল দেয় দেওয়ার পরের কথপোকথনঃ
মানুষঃ হ্যালো আব্বু আমরা তো কলাবাগান চলে আসছি আসলে স্কয়ার হাসপাতাল টা চিনতেছি না।
মানুষের আব্বুঃ স্কয়ার হাসপাতাল কলাবাগানে কইছে তোর কোন বাপজানে?
মানুষঃ এখন কি করবো? কিভাবে যাবো?
মানুষের আব্বুঃ দে সিএনজি ওয়ালার কাছে ফোন।
এরপর সিএনজি ওয়ালা তাদের নিয়ে গিয়েছে। ছেলেটা অসুস্থ সর রাস্তা কান্না করতে করতে ডাক্তার এর কাছে গেছে।
চোখের ডাক্তার এর থেকে রিপোর্ট দেখার পর সেগুলো তার আব্বুকে দেখায় আর বলে ডাক্তার এত গুলো ওষুধ দিয়েছে এইগুলো রেগুলার খেতে বলেছে আর ব্যবহার করতে বলেছে।
মানুষের আব্বুঃ চোখ বাদ হয়ে যায় নাই?
একটু ছোট করে আর একটা ঘটনা বলি,
সাল ২০১৭
ইন্টার এর পরীক্ষা দেওয়ার পর, কলেজে ভর্তি হবে সেই সময় সে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এ এডমিশন নেওয়ার চেষ্টা করতেছে সে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছে যে সে ভর্তি হতে পারবে।
একবার তার বাবার ঘনিষ্ঠ এক পরিচিত মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়া ব্যক্তিকে দেখতে গিয়েছে, সেখান থেকে ফেরার পথে কথায় কথায় কলেজের বিষয়ে কথা উঠেছে একপর্যায়ে রেগে গিয়ে
সেই মানুষের কনফিডেন্স দেখেই এক হাসপাতাল মানুষের সামনে তাকে তার বাপ এর থেকে শোনা লাগলো "দেখমুয়ানে আগে চান্স পাইয়া দেখাও"।
আমি যখন এই কাহিনী গুলা শুনতেছিলাম আমার ভিতর টাই দুমড়ে মুচড়ে গেছে। তাইলে যার সাথে এই ঘটনা গুলো ঘটছে না যেন সে কিভাবে এইগুলো সহ্য করছে।
কলেজে ভর্তি হবার পর, সে তার সেই অধম বাপ কে নিয়েই ভর্তি হয়েছে এবং সে পুরো দুই দিন তার সাথে এই ভর্তি কার্যক্রমে ছিল।
একবার,
এক ঘর মানুষের সামনে তার দাদা বলে উঠল, শুনলাম ওই কলেজে নাকি ঘুষ দিয়েও ভর্তি হওয়া যায়? লোকের মুখে শুনলাম। কি জানি আমরা তো আবার এত কিছু বুঝি না।
ভার্সিটি শেষ হবার পর যখন দেশের বাহিরে যাওয়ার জন্য মনস্থির করলো তার বাবা মা সবাই তাকে "বেয়ারা" বলে আখ্যা দিয়েছে। এবং এই কথা অব্দি শুনিয়েছে যে, ওরে দেশের বাহিরে পাঠালে ও মেয়েদের সাথে মিশে নষ্ট হয়ে যাবে।
তো আমি যা আপনাদের শুনাইলাম তাতে আপনার কি মনে হয়? এই ছেলে বড় হলে এ তার বাবা মায়ের সাথে সুস্থ মস্তিষ্কে কথা বলবে?
পরিবার থেকে সে কি তার প্রতি হওয়া ব্যবহারে ঘৃণায় হলেও সে কথা বলবে না রাইট?
সে নিজের মতো করে বাঁচতে চাইবে তার স্বাধীনতা সে ঠিকই খুজে নেবে।
পরিবার থেকে ভালোবাসা না পাওয়া মানুষ গুলোর সাথে কোনো একদিন চুপ করে বসে কথা বলে দেইখেন।
বিশ্বাস করেন, নিজেকেও আপনি অপরাধী ভাবতে দুইবার ভাববেন না।
অনুরোধ থাকবে, পরিবার থেকে ভালোবাসা শিখান। শুধু টাকা ঢেলে মানুষ বানানোর মেশিন বানাইয়েন না কারণ রোবট যখন established হয় তখন সে তার বুদ্ধিতেই চলে।
আর আপনি মরে পরেই থাকবেন বিছানায় দেখার থাকবে না কেউ।
Click here to claim your Sponsored Listing.