Medicine.com.bd
28/04/2024
ধর্ম বিমুখীকরণ প্রজেক্টের পরের স্টেপ এটা। প্রথম স্টেপ ছিল নারীবাদ, সেটাতে ওরা প্রায় সফল হয়ে গেছে। নারীরা পুরুষদের সমকক্ষ হয়ে কাজ করতে গেলে সন্তানদের দেখা শোনার করার সুযোগ হয় না স্বাভাবিক। কাজের মেয়ের কাছে বাচ্চা মানুষ হলে ভালো কিছু শেখার উপায় থাকে না। মায়ের ভূমিকা কখনো কাজের মেয়ে অথবা অন্য কেউ নিতে পারবে না। এটা কোনভাবেই সম্ভব না, অসম্ভব।
বিদেশে এসব ডাল ভাত হয়ে গেলেও আমাদের দেশে সম্পূর্ণ নতুন। বাবা কন্যার সম্পর্ক আগের মত নাই। ভাই বোনের সম্পর্ক ও রিস্কি হয়ে যাচ্ছে।
অনেকদিন আগে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী সাহেবের ওয়াজে শুনেছিলাম "বাবার সামনে ইয়াং কন্যারা কীভাবে যাবে তার একটা ইসলামি গাইড লাইন আছে। ইয়াং ভাইয়ের সামনে ইয়াং বোন কীভাবে যাবে তার একটা ইসলামি গাইড লাইন আছে। মায়ের রুমে ঢোকার আগেও সন্তানদেরকে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে বলা হয়েছে হাদীসে।" বিষয় গুলো তখন শুনতে কেমন কেমন লাগলেও বাস্তবতা এখন টের পাচ্ছি।
লাস্ট কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু অভিযোগ শুনেছি "বাবারা কন্যা সন্তানদের জন্য বিদপজনক!" এ কারণে অনেক মহিলা তার কন্যা সন্তানকে আলাদা রেখেছেন। চিন্তা করতে পারেন বিষয়টা? কোন লেভেলে সমাজ চলে গেছে? শুধু তাই নয় বাবা তার আপন কন্যাকে ধ.. ণ করেছে এমন নিউজ প্রতি মাসে বেশ কয়েকটা পাবেন। গুগুলে সার্চ দিলে এরকম হাজারটা নিউজ পাবেন। আমার ধারণা নিউজ আসে হাজারে ১ টা। বেশিরভাগ পরিবার এসব চেপে যায়। বাবার না হয় মান ইজ্জত নাই কিন্তু কন্যার তো আছে, কন্যার মায়ের তো আছে।
আমার ধারনা এই রেজিম চলতে থাকলে আমাদের নেক্সট প্রজন্ম নাস্তিক হয়ে যাবে। তখন এইসব ঘটনা আর অস্বাভাবিক মনে হবে না।
Authentic Source🥲
সময়ের সাথে সাথে বিয়ের অনুষ্ঠানের পরিবর্তনও হয়েছে, অনুষ্ঠানের রকমও বেড়ে গেছে। ব্রাইডাল শাওয়ার, মেহেদি, হলুদ, মূল অনুষ্ঠান ইত্যাদি একের পর এক চলতে থাকে।
আগের দিনে বিয়ের কনে চুপচাপ বসে থাকতো। এখন বিয়েতে কনেই ডিজে পার্টিতে লাফায়, হলুদের শাড়ি পরে হিন্দি গানের তালে তালে নাচতে থাকে। এসব ছবি, ভিডিও আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই শেয়ার করে।
ছেলে পক্ষের দিকেও একই অবস্থা। গান, নাচ, ডিজে পার্টি, প্রি ওয়েডিং, ওয়েডিং ও পোস্ট ওয়েডিং বিভিন্ন ফটোশ্যুট ছাড়া আজকাল বিয়ে কল্পনাই করা যায় না।
এবার একটা বিষয় কল্পনা করুন..
জোহরের আযান দিল। কেউ নামাজ শুরু করল। কানে হেডফোন, উচ্চবিটের মিউজিক বাজছে। গান শুনছেন, আর গানের তালে তালে রুকু সিজদা দিয়ে নামাজ পরছেন।
কেমন হবে ব্যাপারটা?
আসলে কেউ এটা কখনোই করবেন না। কারণ, সবাই জানেন নামাজ একটা ইবাদত, যা আদায় করতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন আমাদের। নামাজের মত বিয়েও একটা ইবাদত। আল্লাহ বলেন,
"তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ন, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ"। (সূরাহ আন-নূর, ৩২)
বিয়ে যদি আল্লাহর নির্দেশ ও ইবাদত না হত, কেউ আর বিয়ে করত না। সবাই লিভ টুগেদার বা কো-হ্যাবিটেশন করত। কিংবা যখন যার সাথে ইচ্ছে থাকতো। শুধু ইসলাম না, সকল ধর্মেই বিয়ে তাদের ধর্মীয় বিধানের অংশ। ইবাদতকে ইবাদতের মত পালন করতে হয়। কিন্তু সেদিক না গিয়ে আমরা এটাকে উল্টোভাবে পালন করছি। মেয়ের দেনমোহর পরিশোধ না করে উল্টো মেয়ের পরিবারের কাছে থেকে যৌতুক দাবী করছি। যারা যৌতুক দাবী করেনা, তারাও মনে মনে আশা পোষণ করে থাকে মেয়ের পরিবার নিজে থেকে গহণা, ফার্নিচার, গিফট দিবে। না দিলে মন খারাপ করে, মেয়ের সাথে খারাপ ব্যবহারও করে।
বিয়ের ওয়ালিমা বা ভোজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার দায়িত্ব ছেলে পক্ষের একার। মেয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা ঐচ্ছিক। অথচ উল্টো মেয়ের বাড়িতে অর্ধ হাজার লোক না নিয়ে গেলে ছেলে পক্ষের মান সম্মান থাকে না।
• পুরুষদের জন্য স্বর্ণালংকার হারাম। অথচ যে ছেলেটি সারাজীবনে কখনো আংটি পরে নি, সেই ছেলেও বিয়ের সময় সোনার আংটি পরে থাকে। সোনার আংটি দিয়ে বরকে বরণ না করলে ছেলের পরিবার যেমন অসন্তুষ্ট হয়, মেয়ের পরিবারেরও মান সম্মান নাকি থাকে না।
• স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হবে সম্পুর্ন ব্যক্তিগত। অথচ বিভিন্ন ফটোশ্যূটের নামে সবার কাছে আমরা নিজেরাই তা উন্মুক্ত করে দিচ্ছি।
বাকি জীবন একসাথে থাকার প্ল্যান করেই দাম্পত্য জীবন শুরু করা হয়। এই কাজে আল্লাহর রহমত একান্ত জরুরী।
বিয়ে যতটা না একটা সামাজিক অনুষ্ঠান, তার চেয়ে বেশি এটা ধর্মীয় অনুষ্ঠান। এটা একটা ইবাদত। ইবাদতকে ইবাদতের মত না পালন করলে, সেটার কোন গুরুত্ব থাকে না। এদিক আমাদের সবার একটু চিন্তা করা উচিত।
-ডা. তারাকি হাসান মেহেদী
23/01/2024
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Dhaka