Inner Peace
১৫ বছর বয়সে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়ে হয় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে। তারা সংসার করেন প্রায় ৯ বছর। নয় বছরের সংসার জীবনে এই দম্পতির ঘরে পাঁচজন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। তারা হলেন- হাসান, হুসাইন, মুহসিন, উম্মে কুলসুম যাইনাব (আল্লাহ সবার ওপর রহম করুন)।
ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে সংসার করাবস্থায় আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আর বিয়ে করেননি, কোনো দাসীও ছিলো না তাঁর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকালের ছয় মাসের মাথায় ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিলো ২৪ বছর।
ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহার ইন্তেকালের পর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু নয়বার বিয়ে করেন। একইসময় চারজনের বেশি স্ত্রী ছিলো না অবশ্য। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর মোট সন্তান সংখ্যা ৩৩ জন। ১৪ জন ছেলে, ১৯ জন মেয়ে।
আলী-ফাতিমা (রা:) -এর মাধ্যমে রাসূলের বংশধারা বিস্তার লাভ করেছে, এখনো চলছে।
সাহাবীদের সময়ে একটা সুন্দর সিস্টেম ছিল। সাহাবারা কোনো নারীকে একা ফেলে রাখতেন না। সে বিধবা হোক, তালাকপ্রাপ্তা হোক, তার আবার বিয়ে হত।
আমরা দেখি, আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে কোনো কোনো সাহাবিয়াতের তিন-চার-পাঁচবারও বিয়ে হয়েছে! কিন্তু আমাদের বর্তমান সময়ে একজন মেয়ের এতবার বিয়ের কথা ভাবাই যায় না। ৪/৫ বার তো দূরের কথা ২য় বার বিয়েতেই কত সমস্যা।
আবু বকর, উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুম, উনাদের মত সেরা সেরা সাহাবীরাও তালাক দিয়েছেন, একাধিক বিয়ে করেছেন। তাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীদের আবার অন্য সাহাবীরা বিয়ে করে নিয়েছেন।
কেউ এমন ভাবেনি, "নিশ্চয়ই অমুক মেয়ের দোষ আছে, নইলে কি আবু বকর-উমারের মত মানুষ তাকে তালাক দেয়! এমন মেয়েকে কে বিয়ে করে!"
বরং তারা মানুষকে মানুষ-ই মনে করতেন, ফেরেশতা মনে করতেন না।
মানুষের কিছু চাহিদা বাবা-মা-ভাই-বোন-সন্তান-সন্ততি দ্বারা পুরা করা যায় না। একজন সঙ্গী লাগে। যে বিধবা তারও একজন সঙ্গীর প্রয়োজন। যে তালাকপ্রাপ্ত তারও একজন সঙ্গী দরকার। সাহাবীদের আমলে কেউ কোনো নারীকে একাকী নিঃসঙ্গ পড়ে থাকত না। মায়ের বয়সী হোক, দাদীর বয়সী হোক, তার আগে বাচ্চাকাচ্চা থাকুক -- সব রকম নারীকেই বিয়ে করে নেওয়া হত।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে ইসলাম দান করেছেন যেন আমাদের জীবনগুলো সুন্দর হয়, শান্তির হয়। একাকী পড়ে থাকার মত অসহনীয় জীবন আর কিছু নেই। তাই আল্লাহ তায়ালা বিয়ের বিধান দিয়েছেন।
বিয়ের সময় কম-বয়সী, কুমারী নারীকে বিয়ে করতে কোনো বাধা নেই। কিন্তু সমাজের সার্বিক দিকের কথা চিন্তা করে বিধবা এবং তালাক-প্রাপ্ত, গরীব, অসহায় বোনদেরও তো কাউকে না কাউকে অন্তত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিয়ে করা উচিৎ। একাধিক বিয়েকে প্রায় হারামের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে এ সমাজ,অথচ অধিকাংশ সাহাবী,আই রিপিট বেশিরভাগ সাহাবীরা একাধিক স্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন,নারীরাও যেন কেমন হয়ে গিয়েছেন! রাস্তার হলুদ বাতির নিচেও একটা মেয়ে রাতে দাড়াতে রাজি তারপরও সে একটা দ্বীনি মানুষের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্ত্রী হতে রাজি না!আপনি ৫০০ টাকায় রাত কাটাতে পারবেন অথচ ১৫০০০ টাকা দিয়ে ২য়/৩য় স্ত্রী হিসেবে সংসার চালানের জন্য এমন মেয়ে পাবেন না। আমরা আজ হালাল থেকে দুরে তাই হারাম আমাদের অতি নিকটে!
স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) তাঁর চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। দুই-এক বছরের না, বেশ কয়েক বছরের বড়। এমনকি তাঁর আগে একাধিক বিয়েও হয়েছিল। অর্থাৎ তিনি কুমারী ছিলেন না। কাজেই পূর্ব বিবাহিত পাত্রীকে বিয়ের ব্যাপারে কোন ধরনের অস্বস্তিবোধের জায়গা ইসলাম দেয় না।
আবু বকর(রাঃ) এর স্ত্রী ছিল ৪ জন, উমর (রাঃ) স্ত্রী ৭(মোট),আলী (রাঃ) এর স্ত্রী ছিল ৭(মোট), উসমান (রাঃ) এর স্ত্রী সংখ্যা ৮ (মোট),এছাড়া প্রায় সমস্ত সাহাবি বিধবা হোক,তালাকপ্রাপ্তা হোক তাদের একা থাকতে দেননি!
আমরা আসলেই গোঁড়া। একবিংশ শতাব্দিতে এসেও আমরা সাহাবীদের মত উন্নত মানসিকতা ধারণ করতে পারি না। সাহাবী-সাহাবিয়াতরা সব ক্ষেত্রেই সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত রাখতে পেরেছিলেন। সাহাবীদের থেকে আমরা আজ অনেক দুরে তাই সমাজে পরকিয়া,যিনার মত গর্হিত পাপ ভয়াবহ আকারে! যে সমাজে বিয়ে কে করা হয়েছে সর্বোচ্চ কঠিন,সেখানে যিনা,ব্যভিচার, পরকিয়া এগুলো অবশ্যই সর্বোচ্চ পরিমাণেই বৃদ্ধি পাবে,এগুলো বৃদ্ধিতে বিয়ে না হওয়া অবশ্যই একটি নিয়ামক।
একটা কথাই বলি, এ জীবন শেষ হয়ে যাবে, দিনশেষে আপনার জন্য হাত তুলে দোয়া করবে এরুপ কতগুলো মানুষ রেখে গেলেন এটাই আপনার সফলতা।
সংগৃহীত ও পরিমার্জিত।
Click here to claim your Sponsored Listing.