Nazmun Runa
এলোমেলো হয়ে আছি মালিক, একটু গুছিয়ে দিন আমায়।
নিজের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আজ আমি বড্ড ক্লান্ত। হাজারটা চিন্তার ভিড়ে আমি হারিয়ে যাচ্ছি, কোনো কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। আমি জানি, আপনি ছাড়া এই বিশৃঙ্খলা আর কেউ ঠিক করতে পারবে না।
মালিক, আমার এই অগোছালো জীবনের সুতোগুলো আপনার রহমতের হাতে নিন। ঝাপসা হয়ে আসা চোখে স্পষ্ট হওয়ার আলো দিন। আমার ভেতরের এই ভাঙচুর থামিয়ে দিন আর আপনার একান্ত করুণায় আমার জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে দিন। আমি আপনার আশ্রয়েই শান্তি খুঁজে পেতে চাই।
— —
মালিক, আমার এই শব্দহীন চিৎকার তো আপনার অজানা নয়। আমার দুশ্চিন্তার প্রতিটি প্রহরকে আপনি প্রশান্তিতে বদলে দিন। আমি ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলেও, আপনি দয়া করে আমাকে ছেড়ে দেবেন না। আমার প্রতিটি অগোছালো পদক্ষেপকে আপনার রহমতের চাদরে মুড়িয়ে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিন। আপনিই তো আমার একমাত্র ভরসা। 🤲🏻
#দোয়া কবুলের গল্প |
দুরুদের বরকত
এই গল্পটি এক ভাইয়ের কাছ থেকে শোনা, যিনি একসময় নামাজহীন, গাফেল জীবনে ডুবে ছিলেন।
তিনি বলেন—
"আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো পড়তাম না, দ্বীন নিয়ে ভাবনাও ছিল না। জীবনে শুধু হতাশাই ছিল। চাকরি নেই, সংসারে টানাপোড়েন, আত্মীয়দের কাছে অপমান—সবমিলিয়ে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবে যাচ্ছিলাম।
একদিন হঠাৎ করে ইউটিউবে দরুদের ফজিলত নিয়ে একটি লেকচার দেখি। ফজিলত দেখে নিয়ত করলাম, একবার চেষ্টা করে দেখি।
আমি ঠিক করলাম—প্রতিদিন ১০০০ বার দুরুদ পড়ব, ৪০ দিন পর্যন্ত।
প্রথম কয়েকদিনেই মনে হচ্ছিল, ভেতরের ভার যেন একটু হালকা হয়ে যাচ্ছে। অজানা এক প্রশান্তি পেতাম।
দিন যেতে লাগলো। ঠিক ৩৪তম দিনে একটা কোম্পানি থেকে চাকরির কল আসে। যেই চাকরির জন্য আমি আগেও অনেকবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছিলাম—এবার একেবারে ডিরেক্ট রিক্রুট!
সেদিন শুধু সেজদায় পড়ে কেঁদেছিলাম আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে কেঁদেছিলাম। দুরুদের বরকতে আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য অসম্ভব কে সম্ভব করে দিয়েছেন।
আল্লাহ দরুদকে আমার জন্য হিদায়াতের দরজা বানিয়ে দিয়েছেন।
এই দরুদই আমাকে নামাজে ফিরিয়েছে, হতাশা থেকে মুক্ত করেছে, আর প্রমাণ করেছে—দোয়া কবুল হয়, শুধু দরজা ঠিক রাখতে হয়।
আজও আমি ১০০০ দুরুদ পড়ি, তবে আর কোনো চাওয়ার জন্য নয়, বরং আল্লাহর ভালোবাসার জন্য।
..
Click here to claim your Sponsored Listing.