LEGAL SOUL
পাওনা টাকা অথবা ধারের টাকা কিভাবে তুলবেন। জেনে নিন।
01715530298 ( for any query)
এন আই অ্যাক্ট / চেকের মামলায় আমার জেরার সার-সংক্ষেপ তুলে ধরলাম। আসলে জেরা করার পরে আমি নিজে সন্তুষ্ট ছিলাম তাই শেয়ার করছি। আশা করি পাঠকদের ভালো লাগবে এবং এটা শিক্ষণীয় কথা দিলাম।
মূলত মামলার বাদী একজন মাস্তান টাইপের লোক আর আমার মক্কেল (আসামী) কে জোরপূর্বক অনেকটা ফিল্মি স্টাইলে তার অনুসারীদের দিয়ে তুলে নিয়ে অন্যায়ভাবে লাভবান হবার জন্য ব্লাঙ্ক চেক এবং ৩০০ টাকার ব্লাঙ্ক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং পরবর্তীতে চেকের মামলা দায়ের করে ১ কোটি টাকার। মামলার মুল বাদী (সন্ত্রাসী লোকটি) মারা গেলে তার সব ওয়ারিশদের অনুমতিক্রমে তার স্ত্রী মামলাটি চালাচ্ছে। আমি মূলত তাকেই জেরা করেছি। যাইহোক ভুমিকা শেষ এবার মুল জেরা প্রসঙ্গে আসা যাক
পেশকার সাহেব মামলার নম্বর ধরে ডাকতেই আমি জজ সাহেবকে বললাম বিজ্ঞ আদালত আমি আসামী পক্ষে আছি জেরার জন্য আমি প্রস্তুত আছি। মহিলা ডকে উঠলেন এবং শপথ পরলেন। আমি আদালতের থেকে ফের অনুমতি নিয়ে,
আমিঃ শুরু করতে পারি বিজ্ঞ আদালত?
আদালতঃ জি শুরু করুন
আমিঃ আপনার নাম কি?
মহিলা বাদীঃ ______________
আমিঃ আপনি কি আসামী কে ব্যাক্তিগত ভাবে চিনেন?
মহিলাঃ জি চিনি
বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে আমি মহিলাকে একটি সাজেশন দিতে চাইলাম । আদালত অনুমতি দিলেন।
আমিঃ আপনি নিশ্চয়ই জানেন আদালতে এসে মিথ্যা মামলায় মিথ্যা সাক্ষী দেওয়া শাস্তি যোগ্য অপরাধ এবং আপনার জেল জরিমানা হতে পারে সুতরাং ভেবে চিন্তে কথা বলবেন না হয় জেলে ঢুকবেন। মহিলাকে মূলত ঘাবড়ানোর জন্য একটা কৌশল অবলম্বন করলাম এবনং মহিলা যথারীতিই ঘাবরিয়ে গেলেন আমার কথা শুনে।
আমিঃ আপনি কি সত্যবাদী ?
মহিলাঃ জি
আমিঃ আপনি কি মিথ্যাবাদী নন?
মহিলাঃ জি (ওনি বুঝতে ভুল করায় এমনটা বলেছে)
আমিঃ আসামিকে আপনি কিভাবে চিনেন?
মহিলাঃ আমি ডেভোলপার্স এর বিজনেস করি আর আসামী টাইলস সাপ্লাই দেই তাই ব্যাবসায়িক সুত্রে অন্য একজনের মাধ্যমে পরিচয়।
আমিঃ আপনি কি এই মামলার মুল বাদী?
মহিলাঃ জি
আমিঃ আসামির চেক আপনার কাছে কিভাবে আসল?
মহিলাঃ আমি টাকা ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে ওনাকে ধার দিয়েছিলাম। ধারের টাকা পরিশোধের জন্য আসামি আমাকে চেক দিয়েছিল। ব্যাঙ্কে গিয়ে টাকা পাই নাই তাই মামলা দিয়েছি।
আমিঃ আমি যতটুকু জানি আপনার স্বামী অর্থাৎ এই মামলার মুল বাদী আসামীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে চেকে স্বাক্ষর নেয় এবং এমন অনেক অপকর্ম আপনার স্বামী করেছে? তাই কি না বলেন ?
মহিলাঃ সত্যি নয়
আমিঃ তাহলে সত্যি টা কি আবার পরিস্কার করে বলুন
মহিলাঃ আমি টাকা ধার দিয়েছিলাম ১ কোটি সেই টাকা পরিশোধের জন্য আসামী আমাকে চেক দিয়েছিল। সেই চেক দিয়েই আমি মামলা দিয়েছি।
আমিঃ ভালো খুব ভালো। তো এত গুলো টাকা আপনি কিভাবে দিলেন তাকে? কোন মাধ্যমে?
মহিলাঃ আমি আসামিকে চেকের মাধ্যমে টাকা দেই
আমিঃ সম্পূর্ণ ১ কোটি টাকা চেকের মাধ্যমে দিয়েছিলেন?
মহিলাঃ জি
আমিঃ কোন ব্যাঙ্কের চেক দিয়েছিলেন এবং কোন ব্রাঞ্চের ?
মহিলাঃ আমি আসামিকে ৫০ লাখ টাকার ২ টি চেক দিয়েছিলাম আমার নিজের ব্যাংক আকাউন্তের। সেতা ছিল বেসিক ব্যাংক কারোয়ান বাজার শাঁখার।
আমিঃ আপনি শিউর আপনি চেকের মাধ্যমে পুরো ১ কোটি টাকা দিয়েছিলেন?
মহিলাঃ জি শিউর
আমিঃ ব্যাংক একাউন্ত নাম্বার বলতে পারবেন আর কত তারিখে দিয়েছিলেন?
মহিলাঃ একাউন্ত নাম্বার মনে নাই তবে চেক দিয়েছিলাম ২০২০ সালে
আমিঃ এই ১ কোটি টাকার কোন ব্যাংক স্টেটমেন্ট আদালতে জমা দিয়েছেন?
মহিলাঃ না
আমিঃ কেন দেন নাই?
মহিলাঃ লাগলে দিব
আমিঃ দিতে পারবেন স্টেটমেন্ট?
মহিলাঃ জি পারব
আমি কোর্ট কে মেনশন করে __ বিজ্ঞ আদালত এই মামলার অনেক কিছু নির্ভর করছে এই স্টেটমেন্ট এর উপরে। স্টেটমেন্ট দেখলেই বুঝা যাবে মহিলা (বাদী) আসামিকে কোন টাকা আদৌ ধার দিয়েছিলান কি না? যদি স্টেটমেন্ট জমা দিতে না পারে তাহলে আমার কথাই সত্য হবে যে, আমার মক্কেল (আসামির) থেকে জোরপূর্বক ভাবে ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর নিয়েছিল এই মহিলার স্বামী।
আদালত বললেন আমি অবশ্যই রায়ের আগে স্টেটমেন্ট আদালতে জমা দিতে বলব অথবা ব্যাঙ্ক থেকে তলব করব। আমি স্বস্তির ঢেঁকুর ফেললাম। ফের শুরু করলাম।
আমিঃ এছাড়া কি অন্য কোন ভাবে আগে পরে আর কোন টাকা আপনি আসামীকে দিয়েছিলেন?
মহিলাঃ না
আমিঃ ভালো করে মনে করুন
মহিলাঃ না। আর কখন ওনাকে আমি কোন মাধ্যমে কোন টাকা দেই নাই
আমিঃ কিন্তু আমি জানি আপনার সাথে আসামির কোন ব্যাবসায়িক লেনদেন ছিল না। আপনার স্বামী জোরপূর্বক ভাবে এবং অন্নায় ভাবে চেকে স্বাক্ষর নিয়েছিল এবং পরবর্তীতে মামলা করে
মহিলাঃ সত্য নয়
আমিঃ আচ্ছা এতগুলো টাকা দিলেন তাহলে আপনি এই দেশের একজন স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী বটে। আপনার ট্রেড লাইসেন্স আছে? নিয়মিত ট্যাক্স দেন?
মহিলাঃ জি দেই আর ট্রেড লাইসেন্স সহ সব কাগজ আছে।
আমিঃ এই যে ১ কোটি টাকা ধার দিলেন এটা কি ট্যাক্স রিটার্ন ফাইলে উল্লেখ করেছেন?
মহিলাঃ না করি নাই
আমিঃ কেন এগুলো কি কালো টাকা আর অবৈধ ব্যাবসা থেকে ইনকাম করেছেন?
মহিলাঃ না
আমিঃ আমি বলে রাখছি আপনার হয়ত অবৈধ বাবসা আছে এবং আপনার বর্ণনা মতে এগুলো ব্লাক মানি। দুদক অবশই এখানে ইনভল্ভ দরকার। মহিলা আবার ঘাবড়ে গেলেন।
অন্তত ৩০ মিনিট জেরা চলার পরে আদালতকে বললাম আমার আর কিছু জেরার বাকি আছে। আমি এক্তু সময় ছেয়ে নিচ্ছি বিজ্ঞ আদালতের মর্জি হলে। আদালত পিটিশন দিতে বললেন।
কোর্ট রুম থেকে বের হয়ে আমার মক্কেল আসামির থেকে জানতে পারলাম সে ওই মহিলাকে আগে কনদিন ও দেখে নাই। আর ওই মহিলার ব্যাঙ্ক একাউন্ত থেকে কোন কালেই কোন টাকা পয়সা না চেকের মাধ্যমে না নগদে নিয়েছিল। তাহলে ওই মহিলা কোন ভাবেই ব্যাংক স্টেটমেন্ট আদালতে জমা দিতে পারবে না। আর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট কখন জাল করার প্রশ্ন উঠে না। আর স্টেটমেন্ট জমা দিতে না পারলে আমার মক্কেল এর বিরুদ্ধে আশা করি কোন রায় আসবে না। আপনি কি মনে করেন? আমাকে কমেন্ট এ জানান।
লিখাটি একান্তই আমার। গত ১১ /০৩ /২০২৪ এ জেরাটি করেছিলাম সেটাই তুলে ধরলাম। ভালো লাগলে শেয়ার দিয়ে রাখুন। আপনার ও কাজে আসতে পারে।
লেখকঃ এডভোকেট শেখ আসিফ
ঢাকা জজ কোর্ট
তিশা- মোস্তাকের বিয়ের আইনি ব্যাখ্যা
01715530298 (whatsapp)
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the practice
Telephone
Website
Address
Dhaka
1100