Safe Cure

Safe Cure

Share

16/11/2020

Safe Cure ( Kidney)

আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি অঙ্গের নাম কিডনি যা নীরবে আমাদের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে। শরীরের রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ মূত্র আকারে বের করে দেওয়ার কাজ করে কিডনী। তাই কিডনী ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা নষ্ট হয়ে গেলে রক্তের দুষিত পদার্থ রক্তে জমা হয়ে রোগীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। কোন কারনে যদি এটি অসুস্থ হয়ে পড়ে তবে তা আমাদের জন্যে নানাবিধ শাররীক সমস্যা ডেকে আনে। সাধারণত কিডনিতন্ত্রে যে সকল রোগ হয়ে থাকে তা হলোঃ

-প্রদাহ

- ইনফেকশন

-কিডনিতন্ত্রে পাথর হওয়া

-কিডনিতন্ত্রে টিউমার

-কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া

- আরো নানাবিধ

রোগের সম্ভাব্য লক্ষন সমূহঃ

১। কোমর ব্যাথা

২। কাপুনি দিয়ে জ্বর আসা

৩। পস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

৪। পশ্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া

৫। শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে ফুলে যাওয়া

৬। পশ্রাবের রাস্তায় জ্বালাপোড়া করা

৭। খাবারে অরুচি

৮। বমি বমি ভাব

৯। অতিরিক্ত রক্তচাপ

১০। ঘন ঘন পশ্রাব হওয়া

🔯 কিডনি রোগ নির্নয়ঃ

সাধারণত নিন্মোক্ত পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে রোগ নির্নয় করে কিডনি রোগে নির্নয় করা হয়-

(ক) URINE R/M/E পশ্রাবে কোন ইনফেকশন/ পশ্রাবের সাথে রক্ত/ অতিরিক্ত প্রটিন যাওয়া নির্নয় করা

(খ) S. CREATININE

(গ) X RAY KUB

(ঘ) USG of KUB with PVR

🔯 কিডনি রোগের চিকিৎসা :

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুটি বিভাগের মাধ্যমে কিডনি রোগের চিকিৎসা হয়ে থাকে। একটি হলো নেফ্রোলজি এবং অপরটি ইউরোলজি। সাধারণত কিডনির যে সকল রোগ ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করা হয় তা নেফ্রোলজি বিভাগে করা হয়। যেমন-ইনফেকশন, প্রদাহ, কিডনি বিকল এগুলোর চিকিৎসা নেফ্রোলজি বিভাগে হয়ে থাকে।
পক্ষান্তরে কিডনিতন্ত্রে পাথর, টিউমার, জন্মগত ত্রুটি, অন্যকোন কারনে কিডনিতন্ত্রে মূত্রে বাঁধা প্রাপ্ত হলে বা ফুলে গেলে তার চিকিৎসার জন্যে ইউরোলজি বিভাগ।
কিডনি রোগের প্রতিকারের উপায়ঃ

১। প্রচুর পানি পান করা

২। প্রচুর হাটাহাটি করা

৩। দীর্ঘ সময় পশ্রাব আটকে না রাখা

৪। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ না খাওয়া

৫। ডায়াবেটিকস ও উচ্চ চাপ নিয়ন্ত্রনে রাখা

🔯 ভুল ধারণাঃ ডায়ালাইসিস একবার শুরু করলে তা স্থায়ীভাবে করতে হবে।

🔯 সঠিক ধারণাঃ ডায়ালাইসিস হচ্ছে রক্ত পরিশোধনের একটি আধুনিকতম প্রক্রিয়া। কিডনি অতিমাত্রায় বিকল হলে এটি করতে হয়। যখন ডায়ালাইসিস করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন রোগীর চিকিৎসার জন্য কিডনি সংস্থাপন ছাড়া অন্য কোনো উপায় আর হাতে থাকে না। এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানোর জন্য ডায়ালাইসিস করা হয়। কাজেই ডায়ালাইসিস করা শুরু করলে পরবর্তীতে সেটি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আর তখন ডায়ালাইসিস না করা মানে অকালে মৃত্যুর প্রহর গোনা। কাজেই এখানে ডায়ালাইসিস শুরু করার মধ্যে কোনো ভুল নেই। তবে হঠাৎ কিডনি বিকল হলে তখন যদি কারো ডায়ালাইসিস লাগে সেটি হবে সাময়িক। কিডনি সঠিকভাবে কাজ শুরু করার পর আর তা করার দরকার পড়ে না।

🔯 ভুল ধারণা:

কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলেই কিডনি নিয়ে আর কোনো দায়িত্ব নেই।

🔯 সঠিক ধারণা :

অনেকেরই ধারণা কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার পর রোগীর সুস্থ জীবনযাপনে আর কোনো বাধা নেই। আসলে এ ধারণা একদম সঠিক নয়। কারণ কিডনি সংস্থাপনের পর কিডনিটি যাতে শরীরের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে অর্থাৎ কিডনিটি যাতে শরীর থেকে বিয়োজিত হয়ে না যায় সেজন্য রোগীকে সারাজীবন বিশেষ কিছু ওষুধ গ্রহণ করতে হয়। এই ওষুধ গ্রহণ করা অনেকেরই সামর্থ্যের বাইরে থাকে। এছাড়া রোগীর যাতে সহসা কোনো ইনফেকশন না হয় সেজন্য রোগ জীবাণু থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো না বুঝলে সংযোজিত কিডনিকে শরীর ত্যাগ করতে পারে।

🔯 ভুল ধারণাঃ

কিডনি পাথরের সঙ্গে কিছু খাবারের সম্পর্ক রয়েছে।

🔯 সঠিক ধারণাঃ সব সময়ে এটি হয় না। যাদের কিডনিতে পাথর হওযার প্রবণতা রয়েছে তাদের বেলায় এটি কিছুটা প্রযোজ্য। তবে সুস্থ স্বাভাবিক লোকের বেলায় নয়। এ বিষয়ে আমেরিকার একজন কিডনি বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, যারা অতিরিক্ত আমিষ গ্রহণ করেন তাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কারণ বাড়তি আমিষের কারণে শরীর থেকে বাড়তি ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যায়। ফলে প্রস্রাবে অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি ঘটে। যা কিডনি পাথর তৈরিতে সহায়ক। আবার অনেকের ধারণা যেহেতু বেশিরভাগ কিডনি পাথরই ক্যালসিয়ামের তৈরি তাই ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে কিডনিতে পাথর হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম ক্যালসিয়াম শরীরে অন্যান্য বিপর্যয় ডেকে আনে। তাই স্বাভাবিক মাত্রার ক্যালসিয়াম খেতে হবে। কম ক্যালসিয়াম খাওয়ার চেয়ে স্বাভাবিক মাত্রার ক্যালসিয়াম গ্রহণই ভালো। তবে যাদের ইতিমধ্যে কিডনিতে পাথর আছে তারা কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে কম ক্যালসিয়াম গ্রহণ কখনোই কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা কমায় না।

🔯 ভুল ধারণাঃ

কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট মানে কিডনি প্রতিস্থাপন।

🔯 সঠিক ধারণাঃ অনেকেরই ধরণা কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট মানে আক্রান্ত কিডনিকে ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন একটি কিডনি জুড়ে দেয়া বা প্রতিস্থাপন করা। আসলে বিষয়টি তা নয়। কিডনি বিকল হওয়া রোগীকে যখন কিডনি সংস্থাপনের সময় বিকল কিডনিকে আগের স্থানেই রেখে দেয়া হয়। বিকল কিডনি দুটির সঙ্গে নতুন সুস্থ একটি কিডনিকে জুড়ে দেয়ার বিষয়টিই হচ্ছে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট বা কিডনি সংস্থাপন। বিকল কিডনিকে ফেলে দেয়ার ঘটনা খুবই বিরল।

🔯 ভুল ধারণাঃ কিডনিতে পাথর হওয়ার বিষয়টি বিরল ঘটনা।

🔯 সঠিক ধারণাঃ কিডনিতে পাথর কোনো বিরল ঘটনা নয়। এটি কিডনির সবচেয়ে সচরাচর ঘটনা। আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ এন্ড কিডনি ডিজিজেসের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, প্রায় ১০ ভাগ আমেরিকান তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যাদের বয়স ২০-৪০ বছরের মধ্যে।

🔯 ভুল ধারণাঃ বেশি পানি পান করলে কিডনি রোগী ভালো থাকে।

🔯 সঠিক ধারণাঃ কিডনির জন্য কখনোই অতিরিক্ত পানি ভালো নয়। পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হচ্ছে সঠিক কাজ। শুধুমাত্র কিডনিতে খুবই ছোট কোন পাথর থাকলে তখন সেটিকে পানি প্রবাহের তোড়ে বের করে আনার জন্য একটু বাড়তি পানিপান করতে বলা হয়। কিন্তু কিডনি রোগ হলে বরং পানি পানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে তখন কিডনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে পানি পান করাই শ্রেয়

🔯 ভুল ধারণাঃ কিডনি বিকল মানে একটি বা দুটি কিডনি বিকল।

🔯 সঠিক ধারণাঃ কিডনি রোগে একটি কিডনি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই কম। বিশেষ করে কিডনি বিকল বলতে দুটি কিডনিই বিকল বোঝায়। কারণ যখন একটি কিডনি বিকল হয় তখন শরীরের তেমন কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও কোনো তারতম্য ধরা পড়ে না। শরীরে যখন কিডনি রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে তখন দুটি কিডনিই আক্রান্ত হয়েছে বলে বুঝতে হবে। বিশেষ করে কিডনি বিকলের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি সত্য।

🔯 ভুল ধারণাঃ বিয়ার খাওয়া কিডনির জন্য ভালো।

🔯 সঠিক ধারণাঃ বিয়ার খেলে প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে কিন্তু তাতে বিকল কিডনির কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে এই পদ্ধতি কোনো কাজে আসবে না। আর বিয়ার খেয়ে প্রস্রাব বাড়ানোর মাধ্যমে কিডনির কার্যকারিতাকে বাড়ানো সম্ভব নয়।

🔯 ভুল ধারণাঃকিডনি দান করা নিরাপদ নয়।

🔯 সঠিক ধারণাঃ ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত নয় এমন ব্যক্তি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকেন তাহলে তার জন্য কিডনি দান কোনো ঝুঁকির বিষয় নয়।

🔯 ভুল ধারণাঃকিডনি রোগ বংশগত।

🔯 সঠিক ধারণাঃ পলিসিসটিক কিডনি ডিজিজের মতো অল্প কিছু কিডনি রোগ রয়েছে যা বংশগত কারণে হয়ে থাকে বলে জানা যায়। অধিকাংশ কিডনি রোগই বংশগত নয়।

Want your practice to be the top-listed Clinic in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka