Horekmari.com

Horekmari.com

Share

16/07/2026

ফজর সালাত। দিনের প্রথম বিজয়। সারাদিনে শয়তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অন্যতম হাতিয়ার। বরকতময় সময়ের উত্তম ব্যবহার করা সম্ভব ফজর সালাতের মাধ্যমেই।

আমরা ফজর সালাত নিয়ে আমরা কতটা সচেতন?
আমরা কি পারি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই রবের সামনে মাথা নত করে তার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে?

14/07/2026

যে সাহাবির ভবিষ্যৎ স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) আগেই বলে দিয়েছিলেন।
আবু যর (রা.) ছিলেন বনু গিফার গোত্রের মানুষ। তখনকার দিনে এই গোত্রটির মূল ব্যবসাই ছিল মক্কার বাণিজ্য কাফেলাগুলোতে ডাকাতি করা। কিন্তু আবু যর ছিলেন একদম আলাদা। মারামারি আর লুণ্ঠনের এই অন্ধকার পরিবেশেও তার মন খুঁজতো এক পরম সত্যকে।
যখন তিনি খবর পেলেন মক্কায় এক ব্যক্তি নিজেকে নবি দাবি করছেন এবং মানুষকে ভালো কাজের আদেশ দিচ্ছেন, তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। সত্যের টানে একা একাই চলে এলেন মক্কায়। তখন চারদিকে কুরাইশদের ভীষণ অত্যাচার। তিনি বেশ কিছুদিন কাবার চত্বরে লুকিয়ে রইলেন, জমজমের পানি খেয়ে দিন পার করলেন। অবশেষে একদিন আলি (রা.)-এর মাধ্যমে পৌঁছালেন প্রিয় নবি (সা.)-এর দরবারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখে কুরআনের বাণী শুনে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। তৎক্ষণাৎ ইসলাম গ্রহণ করলেন। সহিহ বুখারির বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ছিলেন ইসলামের একেবারে শুরুর দিকের (চতুর্থ বা পঞ্চম) মুসলিম।
ইসলাম গ্রহণের পর আল্লাহর রাসুল (সা.) তাকে বললেন, "আবু যর, এখন পরিস্থিতি ভালো না। তুমি আপাতত নিজের গোত্রে ফিরে যাও। যখন আমাদের বিজয়ের খবর পাবে, তখন এসো।"
কিন্তু আবু যর (রা.)-এর ভেতরের ঈমানী জযবা ছিল আগ্নেয়গিরির মতো। তিনি বললেন, "যার হাতে আমার প্রাণ, তার কসম! আমি মক্কার কাফেরদের মাঝে গিয়ে চিৎকার করে এই সত্যের ঘোষণা দেব।"
তিনি সোজা চলে গেলেন কাবার চত্বরে। কুরাইশদের থমথমে ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে চিৎকার করে বললেন— "আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহ!"
ব্যস, কাফেররা হিংস্র পশুর মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাকে এত মারধর করা হলো যে তিনি প্রায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রাসুল (সা.)-এর চাচা আব্বাস (রা.) এসে তাকে বাঁচান এই বলে যে, "তোমরা কাকে মারছ? ও তো গিফার গোত্রের লোক! তোমাদের বাণিজ্যের কাফেলা কিন্তু ওদের এলাকার ওপর দিয়েই সিরিয়ায় যায়।" এই কথা শুনে কুরাইশরা ভয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু আবু যর দমবার পাত্র ছিলেন না, পরদিন আবারও তিনি একইভাবে কাবার সামনে তাওহীদের ঘোষণা দিয়ে মার খেয়েছিলেন।
আবু যর (রা.)-এর সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার জবান। তিনি যা বিশ্বাস করতেন, মুখে তা বলতে কখনো দ্বিধা করতেন না— সামনে আমির থাকুক কিংবা সাধারণ মানুষ। তার এই সততার তারিফ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন:
"আবু যরের চেয়ে অধিক সত্যবাদী এবং মুখের কথায় তার চেয়ে বেশি বিশ্বস্ত আর কাউকে এই নীল আকাশ ছায়া দেয়নি এবং এই সবুজ জমিনও বহন করেনি।" (জামে আত-তিরমিযি)
তিনি শুধু নিজেই সত্য বলতেন না, অন্যায়ের বিরুদ্ধেও ছিলেন খড়গহস্ত। রাসুল (সা.) তাকে অসিয়ত করেছিলেন, তিনি যেন আল্লাহর দ্বীনের খাতিরে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকে ভয় না পান এবং সত্য যতই তিক্ত হোক না কেন, তা যেন প্রকাশ করে দেন। আবু যর (রা.) জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই অসিয়ত অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর, বিশেষ করে সিরিয়া ও ইরাক বিজয়ের পর, মুসলিম সমাজে প্রচুর ধন-সম্পদ আসতে শুরু করে। অনেক মুসলমানের জীবনযাত্রায় কিছুটা বিলাসিতার ছোঁয়া লাগে। কিন্তু আবু যর (রা.)-এর মন এটা মেনে নিতে পারেনি। তিনি মনে করতেন, একজন মুমিনের ঠিক ততটুকুই সম্পদ রাখা উচিত, যতটুকু দিয়ে একদিনের জীবন চলে। উদ্বৃত্ত সমস্ত ধন-সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেওয়া ফরজ।
তিনি যেখানেই যেতেন, ধন-সম্পদ জমিয়ে রাখার বিরুদ্ধে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করতেন। তার এই চরম বৈরাগ্য ও আপসহীন মনোভাবের কারণে তৎকালীন ধনী ও শাসকদের সাথে তার এক ধরনের আদর্শিক দূরত্ব তৈরি হয়। কিন্তু তিনি নিজের আদর্শ থেকে এক চুলও নড়েননি। ভাঙবেন তবু মচকাবেন না— এটাই ছিল তার নীতি।
আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রিয় সাহাবির স্বভাব ও ভবিষ্যৎ খুব ভালো করেই জানতেন। তাবুক যু*দ্ধের সময় এক চমৎকার ঘটনা ঘটেছিল। আবু যর (রা.)-এর উটটি ছিল দুর্বল, তাই তিনি কাফেলার পেছনে পড়ে যান। একপর্যায়ে উটটি আর হাঁটতে না পারলে তিনি উটের পিঠ থেকে নিজের মালপত্র পিঠে তুলে নিয়ে মরুভূমির তপ্ত বালু মাড়িয়ে একাই হেঁটে কাফেলার সাথে যোগ দেন। দূর থেকে একাকী একজন মানুষকে হেঁটে আসতে দেখে রাসুল (সা.) আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেছিলেন:
"আবু যরের ওপর আল্লাহ রহমত বর্ষণ করুন। সে একা পথ চলে, একাকী মৃত্যুবরণ করবে এবং কিয়ামতের দিন একাকীই পুনরুত্থিত হবে।" (মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন)
রাসুল (সা.)-এর এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে গিয়েছিল। জীবনের শেষভাগে এসে আবু যর (রা.) মদিনার কোলাহল ছেড়ে মক্কার কাছের এক জনমানবহীন মরু প্রান্তরে (রাবযাহ নামক স্থানে) নিজের স্ত্রী ও দাসীকে নিয়ে একাকী বসবাস শুরু করেন।
হিজরী ৩২ সনে এই নিঃসঙ্গ প্রান্তরেই ইসলামের এই মহান সিংহপুরুষ ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তার ঘরে একটা কাফনের কাপড় কেনার মতো টাকাও ছিল না। তার স্ত্রী যখন কাঁদছিলেন যে এই জনমানবহীন মরুভূমিতে কীভাবে দাফন হবে, তখন আবু যর (রা.) মুচকি হেসে বলেছিলেন, "কেঁদো না, রাসুল (সা.) বলেছিলেন আমার জানাজা একদল মুমিন ব্যক্তি পড়াবে।"
সত্যিই, তার ইন্তেকালের কিছুক্ষণের মাঝেই ওই পথ দিয়ে ইরাকের এক কাফেলা যাচ্ছিল, যার মধ্যে প্রখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন। তারা মরুভূমিতে এই মহান সাহাবির মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অত্যন্ত মর্যাদার সাথে তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন।
আবু যর গিফারি (রা.)-এর জীবন আমাদের শেখায়, পুরো পৃথিবী একদিকে চলে গেলেও সত্যের আদর্শে কীভাবে একাই পাহাড়ের মতো অটল দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তিনি হয়তো একা চলেছেন, একা মরেছেন— কিন্তু কিয়ামতের দিন যখন তিনি একাই একটা উম্মত হিসেবে দাঁড়িয়ে উঠবেন, সেদিন তার সেই নিঃসঙ্গতা কোটি মানুষের ঈর্ষার কারণ হবে।
সাহাবিদের জীবনের এমন অসংখ্য অনুপ্রেরণামূলক ও ঈমানদীপ্ত ঘটনা নিয়ে সাজানো হয়েছে আমাদের #সাহাবিদের_অনন্য_জীবন' বইটি।
তাদের অবিচল ঈমানি দৃঢ়তা থেকে জীবন গড়ার সঠিক পাথেয় খুঁজে পেতে বইটি আপনাকে দারুণভাবে সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ। সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল থাকার শিক্ষা নিতে আজই সংগ্রহ করুন আপনার কপি!
অর্ডার করতে আমাদের ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।

Want your business to be the top-listed Furniture Store in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Telephone

Address

Dhaka