Mishir Ali Blog
15/10/2023
জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য একটি নৈতিক স্কোয়াড হেডলাইন দিয়ে আমি আপনাদের এমন একটি দল বা গ্রুপকে বোঝাতে চাচ্ছি। যে দলের সদস্যরা হৃদয়ে, মননে ও মস্তিষ্কে জননেত্র.....
03/06/2022
আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প:
পদ্মাসেতু বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছে; আমরা যারা বিদেশী সংবাদ মাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে সাম্যক খোঁজখবর রাখি, তারা মোটামুটি অবগত আছি। উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেশে দেশে পদ্মাসেতু নিয়ে যেসব খবর ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে, তা শুধু বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকেই উজ্জ্বল করছে না;বরং বাঙালি জাতি ও সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের মনোবল, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সদিচ্ছা ও সক্ষমতা কে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে।
শুধু বাংলাদেশ নয়; সমস্ত উন্নয়নশীল দেশ ও দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রনায়কদের কাছে পদ্মাসেতু হয়ে উঠেছে উন্নয়নের মডেল, অগ্রতির মডেল, এমনকি অসম্ভবকে সম্ভব করার মডেল।
অনেক দেশের বোদ্ধারা আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে;বাংলাদেশ পারলে তারা কেন পারবে না ?
অনেক দেশের রাষ্ট্রনায়কে-রা মিডিয়া ও জনগণের দ্বারা জিজ্ঞাসিত হতে শুরু করেছে; শেখ হাসিনা ওয়াজেদ পারলে তারা কেন পারবে না ?
ভাবতেও অবাক লাগে, বিদেশীরা পদ্মাসেতুর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারলেও আমাদের দেশের একশ্রেণীর মানুষ তা অনুধাবন করতে পারছে না বা স্বীকার করতে চাইছে না। অবশ্য~
যে-দেশের মানুষের একটি বড় অংশ জন্মনেয় কোন না কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হয়ে;
যে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ রাজনৈতিক আদর্শ লালন ও পালন করে উত্তরাধিকার সূত্রে;
যে দেশের মানুষের একটি বড় অংশ বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করে; সে-দেশের মানুষের একটি অংশ যে পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যে উন্নয়নের কিছু দেখতে পাবে না, বরং পদ্মাসেতু নির্মাণের মধ্যে দেশের অর্থনীতির ধবংস দেখতে পাবে~ তাতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে ?
দেশে দেশে পদ্মাসেতু নিয়ে প্রকাশিত খবরাখবরের মধ্যে ইন্ডিয়া ও পাকিস্তানের মিডিয়ায় প্রকাশিত কিছু খবর আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে; মূলতঃ একারণেই পদ্মাসেতু নিয়ে লিখতে বসেছি~
ইন্ডিয়ান বোদ্ধারা পদ্মাসেতুর কারণে তাদের দেশ কিভাবে উপকৃত হবে, বেশ কিছুদিন হয় সেই হিসাবনিকাশ করে যাচ্ছে এবং তা ফলাও করে মিডিয়ায় প্রচার করে যাচ্ছে; বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে পদ্মাসেতুর কারণে কি কি উন্নয়ন হবে, কি কি পরিবর্তিত হবে, সেই হিসাব শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় কিছু বোদ্ধা ও মিডিয়া।
এই সেতুর কারণে ইন্ডিয়ায় চিকিৎসা করতে আসা বাংলাদেশী রোগীর সংখ্যা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ?
বাংলাদেশী পর্যটকের সংখ্যা কি পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটবে ?
ঈদ ও উৎসব পার্বণে কি পরিমান অতিরিক্ত খদ্দের বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়ায় কেনাকাটা বা মার্কেটিং করতে আসবে ? বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মার্কেটগুলোর ব্যাবসা কি পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ?
এমনকি পদ্মাসেতুর কারণে পশ্চিমবঙ্গে কি পরিমান ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে~~
ইত্যাদি বিষয় নিয়ে হিসাবনিকাশ শুরু করে দিয়েছে ভারতীয় বোদ্ধাগন এবং মিডিয়ায়ও তা প্রকাশ ও প্রচার করা যাচ্ছে ফলাও করে।
বিষয়টি আমাকে দারুন আনন্দ দিয়েছে। কষ্টকরে পদ্মাসেতু নির্মাণ করলাম আমরা, আর উন্নয়নের হিসাব করে উনারা !¡! কি কইতাম কন ? হাসিও পায় আবার কষ্টও লাগে; তবে এ কষ্ট সেই কষ্ট, যে কষ্টের মধ্যে লুকিয়ে থাকে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি ।
ইন্ডিয়ান মিডিয়া অবশ্য এই সেতুর কারণে বাংলাদেশের কিছু লাভের খবরও প্রচার করছে, যেমন ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস পাওয়ার কথা বলছে, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর দিয়ে এই সেতু হয়ে অল্পসময়ে ইন্ডিয়ার মালামাল পরিবহনের কারণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে বলেও প্রচার করছে তারা, মালামাল পরিবহনে প্রায় ৮/১০ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে বলেও উল্লেখ করছে তারা।
আশ্চর্যের বিষয় হলো; ইন্ডিয়ান মিডিয়ায় এই সেতু তৈরিতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভূমিকা কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে ।
পদ্মাসেতু তৈরিতে দেশের ভিতর ও বাহিরের বিরোধিতা, বিশেষ করে বিশ্বব্যাংক, মার্কিন সরকার ও বাংলাদেশের এক বিশ্বাসঘাতকের চক্রান্তকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে সুকৌশলে।
বিশেষ করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু করার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর দেশের ভিতর ও বাহিরের হাসি তামাসার বিপরীতে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, একাগ্রতা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
পক্ষান্তরে পাকিস্তান টাইমস পত্রিকায় পদ্মাসেতুর উপর প্রকাশিত নিবন্ধে ইন্ডিয়ান মিডিয়ার উল্টোটা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে~
পদ্মাসেতুর কারণে কিভাবে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে, কিভাবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে, কিভাবে পদ্মাসেতুর লিংক রোডের দুপাশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, ইত্যাদি বিষয়গুলো পাকিস্তান টাইমস পত্রিকা খুব সুন্দর ও বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরেছে। এমনকি লেখক এই আশঙ্কাও করেছেন যে, পদ্মাসেতু চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে। লেখক অবশ্য এই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বলতে কি বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করননি, এটাকে কি তিনি ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষিতে, নাকি অন্যকোন প্রেক্ষাপটে বলেছেন তা ক্লিয়ার করেন নি। এছাড়াও এই সেতুর শুরুর ইতিহাস, বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির চক্রান্তের ইতিহাসও তুলে ধরা হয়েছে বিস্তারিত ভাবে । তাছাড়া সমস্ত চক্রান্তের বিপরীতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের ভূমিকা, দৃঢ়তা এবং অদম্য ইচ্ছা শক্তির কথাও তুলে ধরেছে এই পাকিস্তানী পত্রিকা।
সেখানে বলা হয়েছে, দেশের উন্নয়নের মূর্তিমান প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর মতো স্থাপনা তৈরিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। বিশাল প্রতিবন্ধকতার পথে তাকে হাঁটতে হয়েছে কিন্তু তিনি তার গন্তব্যে ঠিকই পৌঁছেছেন। সেতুর নির্মাণের সময় যে ষডযন্ত্র ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি তা দৃঢতার সাথে মোকাবেলা করে সত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আরও বলা হয়েছে, পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বাক্ষর বহন করে। শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরো একবার জানার সুযোগ পেল বিশ্ব। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যারা বারবার তাদের সক্ষমতা দেখিয়েছে। আরও অনেক কিছুই বলা হয়েছে।
আমার কাছে পাকিস্তানীদের পক্ষহতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের সুনাম ও সক্ষমতার কথা শুনতে ও পড়তে দারুন লাগে ।
নিয়ম অনুযায়ী তাদের শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের যেকোন সফলতায় বিরোধিতা বা সমালোচনা করার কথা, যেমন করে থাকে এই বাংলাদেশেরই একশ্রেণীর মানুষ যাদেরকে অনেকেই পাকিস্তানপন্থী বলে মনে করে।
কিন্তু নির্মম সত্যি হলো, সময়ের সাথে পাকিস্তানীদের বাংলাদেশের প্রতি মনোভাব বদলালেও; বাংলাদেশের পাকিস্তানপন্থীদের মনোভাব এখনও বদলায় নি। যেমন ছিল ১৯৭১ সালে; তেমনই ছিল ১৯৭৫ সালে; ২০২২ সালেও তেমনই আছে।
যাইহোক; সাধুবাদ পাকিস্তান, সাধুবাদ পাকিস্তান টাইমস পত্রিকা, সাধুবাদ পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক "ড: মালেকা-ই-আবিদা খাত্তাক"।
~আজিজ মিশির সেলিম~
সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি; Cuet
বর্তমান সাধারণ সম্পাদক; Cuet Chatraleague Alumni Association
Click here to claim your Sponsored Listing.
Address
1207