Hikmah In Islam
বৈবাহিক বন্ধন একটি লোভনীয় অফার। আমরা একটু গভীরে চিন্তা করি, বিবাহ জীবনে যদি কোহ্যাবিটেশন অর্থাৎ সঙ্গমের কনসেপ্ট না থাকতো তাহলে প্রত্যেক পুরুষ কখনোই চৈত্রের ভর দুপুরে পরিশ্রম করে অন্য একটি মেয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন না। শুধু সঙ্গম নয় বরং সঙ্গমের মাধ্যমে সিমেন অর্থাৎ বীর্যপাত ঘটিয়ে আমরা অনাবিল প্রশান্তি লাভ করি, সাপোজ কোনভাবে এই অনাবিল প্রশান্তি যদি না থাকতো তাহলে কে বৈবাহিক বন্ধণে আবদ্ধ হতো? উত্তর- কেউ-ই না।
আমরা যাতে করে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই তাই ছোট্ট এই অনাবিল প্রশান্তির লোভ ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।
অন্যদিক থেকে বিবেচনা করা যেতে পারে এই যে,
মৃত্যুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ যন্ত্রণা হিসেবে যেটাকে সিলেক্ট করা হয়েছে তার নাম 'প্রসব যন্ত্রণা'। তারপরেও নারীরা জননী হতে চায়। এখানেও একটা লোভনীয় অফার দেয়া হয়েছে তাদের মস্তিষ্কে। নারীদের যদি বলা হয়- যাক ভালো হয়েছে তুমি কখনো মা হতে পারবে না। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে গেলে। ঐ নারী কি সত্যিই খুশি হবে? না। বরং প্রত্যেক নারীর জীবনের একমাত্র স্বাদ'ই হলো জননী হওয়া।
বিষয়টা আমার কাছে এক ধরনের রহস্য বলে মনে হয়। যারা তেলাপোকা দেখা ভয় পায়, যারা নরমালি প্রেমের ব্রেক'আপ টলারেট করতে পারে না, তারাও যন্ত্রণা ভোগ করে জননী হতে চায়।
এনালাইসিসের একটু গভীরে যাওয়া যাক-
কোরআনে কারীমে বৈবাহিক সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে~
সূরা রুমের ২১ নাম্বার আয়াতে বলা হলো- আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও অনুগ্রহের সম্পর্ক স্থাপন করে দিয়েছেন। কোরআন বিবাহিত জীবনকে দুটি শব্দে ব্যাখ্যা করেছে।
১) مودۃ ভালোবাসা।
২) رحمۃ অনুগ্রহ।
আর বাস্তবে দেখা যায় যে বিবাহিত জীবনের দুটি অংশ থাকে, একটি যৌবনের অংশ আরেকটি বার্ধক্যের। ব্যাপারটা মজার না?
যৌবনকালে স্বামী স্ত্রী যদি কোন কারনে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্তও হয় তথাপি সহবাসের কারণে কিছুক্ষণ পরই একত্রে মিলিত হয়। উভয়ের যৌন চাহিদা পরস্পরকে বাধ্য করে মেলামেশার প্রতি।
শুধু বিয়ের পরে না, বিয়ের পূর্বেও এই যৌনতার আসক্তির ফলেই আমরা বিবাহ করি। এজন্য কোরআন এক্ষেত্রে مودۃ বা পারস্পরিক ভালোবাসার শব্দ ব্যবহার করেছে। এর আর একটা অর্থ হলো বন্ধুত্ব। অর্থাৎ বন্ধুর সঙ্গে প্রেম।
কিন্তু বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর স্বামীর আর স্ত্রীর প্রয়োজন পড়েনা, আর স্ত্রীরও স্বামীর প্রয়োজন পড়েনা। যৌন চাহিদা একদম কমে যায় বা থাকেই না। এই সময় নারীদের মেনোপেজ অর্থাৎ ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। মেজাজ খিটখিটে হয়, পৃথিবীর মতই নারীদের মাথা প্রচন্ড ঘুরতে থাকে সবসময়। কিছুই ভাল লাগে না। খাবারে অরুচি। অন্যদিকে পুরুষের ক্ষেত্রে শরীর দুর্বল, বাচ্চাদের মত আচরণ করা, নিজের লুঙ্গি পর্যন্ত ঠিক রাখতে পারে না। পরস্পরকে জড়িয়ে রাখার যে যৌন সম্পর্ক ছিলো এখন তা শেষ হয়ে গেছে। তাহলে বউকে কি ডিভোর্স দিতে হবে? স্বামীকে ফেলে রেখে চলে যেতে হবে? না।
এবার কোর'আন বলছে - স্বামী স্ত্রীর একত্রে মিলেমিশে থাকার ব্যাপারে কোরআন رحمۃ বা অনুগ্রহ শব্দ ব্যবহার করেছে। অর্থাৎ তখন একে অপরের প্রতি অনুগ্রহশীল হবে, দয়াশীল হবে।স্বামীকে এ কথা ভাবতে হবে যে, আমার স্ত্রী তার পুরো যৌবন আমার জন্য নিঃশেষ করে দিয়েছে, আমার সন্তানদের প্রতি লালন-পালনে কাটিয়ে দিয়েছে। প্রিয় মানুষটি এতটা বছর রান্না করে দিয়েছে আর আমি পেট পুরে খেয়েছি। এই মানুষটি কত রজনী আমার বুকের উপরে শুয়ে তার ফেলে আসা শিকড়ের কথা বলেছে। এর শেকড় এখন আমি। এককথায় যেভাবেই থাকুক এখন তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকতে হবে তাকে দূরে সরিয়ে দেয়া উচিত হবেনা।
এমনিভাবে স্ত্রীও ভাববে যে,স্বামী তার পুরো যৌবন প্রেম-ভালোবাসায় আমাকে জড়িয়ে রেখেছেন, আমার সুখের জন্য, আমার সন্তানের জন্য জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন। এই মানুষটি আমার জন্য বৃষ্টিতে ভিজে অর্থ ইনকাম করেছে, এখন আমার উচিত স্বামীর খেয়াল রাখা,তার প্রতি অনুগ্রহশীল থাকা, তার লুঙ্গি ঠিক করে দেয়া। সবসময় তার পাশে থাকা।
কোর'আনের সৌন্দর্য দেখুন! দাম্পত্যজীবন বা বিবাহিত জীবন সম্পর্কে দুটি শব্দ ব্যবহার করেছে। বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসা শব্দটির সম্পর্ক যৌবনকালের সাথে। আর অনুগ্রহ শব্দটির সম্পর্ক বার্ধক্যের সাথে।
(সংগৃহীত)
সূরা ফুরকানের আলোকে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলে
যে ১৩টি গুনের প্রয়োজনঃ
রহমান রহীম আল্লাহ্ তায়ালার নামে-
১) আল্লাহ তাআলার দাসত্ব করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
২) পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
৩) মূর্খজনোচিত আচরণের বিপরীতে শান্তির বার্তা প্রদান করা। (সুরা ফুরকান-৬৩)
৪) সিজদা ও নামাজরত অবস্থায় রাত্রিজাগরণ করা। (সুরা ফুরকান-৬৪)
৫) জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া করা। (সুরা ফুরকান-৬৫)
৬) অপচয় ও কার্পণ্য না করা। (সুরা ফুরকান-৬৭)
৭) শিরক থেকে বেঁচে থাকা। (সুরা ফুরকান-৬৮)
৮) অন্যায় হত্যাকাণ্ডে না জড়ানো। (সুরা ফুরকান-৬৮)
৯) ব্যভিচার লিপ্ত না হওয়া। (সুরা ফুরকান-৬৮)
১০) অনৈতিক ও মিথ্যা কাজে যোগদান না করা। (সুরা ফুরকান-৭২)
১১)অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হলে ভদ্রভাবে পাশ কেটে যাওয়া। (সুরা ফুরকান-৭২)
১২) আল্লাহর নিদর্শনাবলীর আলোচনা করা হলে বধিরের মতো আচরণ না করা। (সুরা ফুরকান-৭৩)
১৩) স্ত্রী-সন্তানের মাঝে চোখের শীতলতা চেয়ে দোয়া করা। (সুরা ফুরকান-৭৪)
উপর্যুক্ত ১৩ গুণে যারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হবেন, তাঁদের কি পুরস্কার দেওয়া হবে, সে ঘোষণা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন,
‘তাদের ধৈর্য্য ধারণের বিনিময়ে জান্নাতে কক্ষসমূহ দেওয়া হবে এবং সেখানে তাদের অভিবাদন ও সালাম জানানো হবে। সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করতে থাকবে। অবস্থান ও আবাসস্থল হিসেবে তা কতই না চমৎকার! (সুরা ফুরকান ৭৫-৭৬)
আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব গুণাবলিতে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
আসুন নিজে জানি, জেনে আমল করি এবং অন্যকে জানাই।।
©️
ও আচ্ছা ভুলটা আমারই,আমি ভেবেছিলাম কোরআনের কথা থেকে সবাই উপদেশ গ্রহণ করবে।কিন্তু আল্লাহ বলেই দিয়েছেন,যারা বিবেক বুদ্ধি সম্পন্ন,শুধু তারাই এই কোরআনের কথাগুলো থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।
(সূরা রা'দ-১৯)
আল্লাহর দেয়া একটা উপদেশ দেখি,
তোমরা যখন ঋণ দেওয়া-নেওয়া করো,তা লিখে রাখো লেখক বা স্বাক্ষী রেখে ন্যায় ভাবে।আর ঋণ গ্রহণকারীর কঠিন পরিস্থিতিতে তার পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিবে।[বাকারা ২৮২/২৮০]
আমরা এত সুন্দর উপদেশ জানতে বা পালনে জোড় না দিয়ে,তা কেন সুর করে শিখায় সবাই ব্যাস্ত?
শুধু তেলাওয়াত করে আল্লাহর উপদেশ ঢেকে দিয়ে কিভাবে আপনি আল্লাহর হুকুম কায়েম করবেন?
এই জন্যই আল্লাহ বলছেন,তোমাদের পূর্ব ও পশ্চিম দিকে মুখফেরানতে কল্যান নেই,কল্যান আছে সালত প্রতিষ্ঠায়।(সুরা বাকারা) আর ততক্ষন তুমি সালাতে দাঁড়াবে না যতক্ষণ না তুমি বুজতে পারছো,তুমি কি বলছো।(সুরা নিসা আয়াত ৪৩)
আর আমাদের কাছে এই কথাগুলো লুকিয়ে বলা হয়,
চুরি করুন,ডাকাতি করুন বাটপারি করুন কিন্তু নামাজ পড়ুন৷কারন,নামাজ বেহেসতের চাবি৷সারাজীবন আকাম কুকাম করে বেড়াবেন সমস্যা নাই৷শেষ বয়সে এসে একটা মসজিদ,অথবা মাদ্রাসা নির্মান করে যাবেন অথবা একটা সন্তানকে হাফেজ বানাবেন৷তাহলে জান্নাত কনফার্ম। জান্নাত আর কেউ আপনার থেকে কেড়ে নিতে পারবেনা ৷
কিন্তু এভাবে জান্নাত প্রাপ্তির প্রতিশ্রুতি আল্লাহ কই দিয়েছেন?
অন্যের টাকা মেরে দিয়েছেন,ঘুষ,খেয়ে দুর্নিতী করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন?কোন সমস্যা নাই .......
হাল্কা কিছু টাকা ব্যায় করে স্বামী স্ত্রী দুজনই হজ্ব করে আসুন৷নিষ্পাপ শিশুর মত পাপমুক্ত হয়ে যাবেন৷আবার আলহাজ্ব নামের টাইটেল পাবেন,উপরন্তু ইসলামি অনুষ্টানে সভাপতি হওয়ারও সম্ভাবনা বেশি৷এছাড়া আশি বছরের গুনাহ মাপের দোয়া তো আছেই।
এতিমকে গলা ধাক্কা দিয়েছেন,তার সম্পদ আত্বসাত করেছেন?কোন সমস্যা নাই,,,,,,আল্লাহর ওয়াস্তে মাদ্রাসা নির্মানে 50 বস্তা সিমেন্ট দিন৷নুরের টুপি মাথায় পরিয়ে বিনা হিসেবে জান্নাত৷তাছাড়া"সুবাহানাল্লাহ"পড়ে সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাপের সুযোগ তো আছেই।
এইসবই বর্তমান যুগের মৌলিক ইসলামি ধ্যান ধারনা।
মুসলমানেরা কুরআনকে শুধুমাত্র নামাজে পড়ার মন্ত্র হিসেবেই গ্রহণ করেছে।জিবন বিধান হিসেবে নয়।
এছাড়া প্রতি হরফে দশ নেকি পাওয়ার জন্য তেলাওয়াত করে খতম করে আর হাফেজগণ জান্নাতের টিকিট হিসেবে মুখস্থ করে!!
অথচ আল্লাহ কিতাব পাঠিয়েছেন কিতাবে বর্ণিত আদেশ গুলো পালন করতে এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকতে।
মোল্লারা কুরআনকে মসজিদের বাইরে কোন কাজেই ব্যবহার করতে চায় না।তাই বর্তমান প্রজন্ম জানেই না কুরআন তাকে সব ক্ষেত্রে পথ নির্দেশনা দিতে পারে।তারা শুধু জানে কুরআনের সুরা একেকটা মন্ত্র যা বিয়ে,কুরবানি, জন্ম,মিত্যু,দোয়াতে মুখস্থ পড়তে হয়।আর সে শুধু জানে নামাজ পড়তে গেলে কোরআনের কিছু সূরা মুখস্ত করতে হবে।ব্যাস!এটুকুই,এর বাইরে কুরআনের আর কোনো ব্যবহার নেই।
আর শুধু কোরআনকে জীবন বিধান হিসেবে মেনে নিলে ধর্মের দোকানদারদের আর ব্যবসা টিকেনা।তাই তারা কোরআনকে একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারে না।
আমি তোমাদের কাছে পাঠিয়েছি কুরআন যা বিশ্বাসীদের জন্যে প্রশান্তি ও রহমত স্বরুপ কিন্তু যারা ক্ষমতার অপব্যবহারকারী,জুলুম বা অবিচারকারী,সীমালঙ্গণ কারী,পাপ কিংবা পাপাচারী তাদের তো এই কুরআন কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে চলেছে।(সূরা বানী ইসরাঈল-৮২)
Collected
ধর্মান্ধ চেনার সহজ উপায় হলো মানব রচিত গ্রন্থের পক্ষে দাঁড়িয়ে কুরআনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন উত্থাপন ও কুরআনকে অস্পষ্ট সন্দেহজনক প্রমান করার চেষ্টা করা।অমুক হতে বর্ণিত,তমুক হতে বর্ণিত ব্যক্তির কথা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও আল্লাহ হতে কি বর্ণিত তা জানা নাই।তাই আল্লাহ প্রশ্ন করেছেন, হাদিস বর্ণনাকারি হিসেবে আল্লাহর চাইতে আর কে সত্যবাদী?এরপর তোমরা কোন কিতাবে বিশ্বাস করবে?তোমাদের কাছে কি অন্য কোন কিতাব আছে যাতে তোমাদের যা পছন্দ তোমরা তাই পাও?(সুরা ৪৫ আয়াত ৬)
কুরআন সমস্ত মানুষের জন্য প্রকৃত জ্ঞানের সমষ্টি এবং যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য পথনিদেশ ও রহমত।(সুরা জাসিয়াহ,আয়াত ২০)
[জ্ঞানের সমষ্টি?আমাদের জ্ঞান তো হাদিস,নেকি আর খতমে আর তেলাওয়াত সহীত আটকে গেছে]
নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি এক কিতাব নাযিল করেছি,যাতে তোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে,তবুও কি তোমরা বুঝবে না?(সুরা আম্বিয়া আয়াত ১০)
[না বুজবো না,আমরা হুজুর ভাড়া করে দ্রুত কুরআন খতম করে সোয়াব কামাবো,আমার বাপ,দাদা আশে পাশের সবাই তাই করে,সো আমিও তাই করবো।]
কুরআন উপদেশ গ্রহণের জন্য সহজ।আমি কুরআন কে সহজ করে দিয়েছি উপদেশ গ্রহণের জন্য,
উপদেশ গ্রহণ করার কেউ আছে কি?(সুরা ৫৪: আয়াত ১৭,২২,৩২,৪০)
[কি বলে,কুরআন বুজা কঠিন,আরবি ব্যকরন জানা লাগবে,হাদিস লাগবে,না হলে আমি কি পড়িয়ে মাদ্রাসা ব্যাবসা চালাবো?হাফেজ,আল্লামা,আলেম, মাওলানা,মুফতি,মুহাদ্দিস টাইটেল আর র্যাংক কিভাবে দিব?]
আল্লাহ মানুষকে জাজ করবেন তার সৎকর্ম দ্বারা কোন র্যাংক দ্বারা নয়।তাও আল্লাহ কুরআনে বলে দিয়েছেন,যারা আমার সাক্ষাৎ কামনা করে তারা যেন সৎকর্ম করে।এই দেখেন আমার ফোনে।
[এই ফোন,ইন্টারনেট হারাম,এগুলো ইহুদা নাসারাদের তৈরি।এগুলো যারা ব্যবাহার করে তারা জাহান্নামি।]
আল্লাহ কোন ব্যক্তিকে হারাম বলার বা শাস্তির বিধান দেওয়ার অধিকার দেননি বরং আল্লাহ ব্যক্তিকে
অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন আর বলেছেন, বিধান দেবার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর। (সুরা ইউসুফ আয়াত ৪০,সুরা আল মুমিনুল,আয়াত ৩৪)
বল-তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ যে রিযক তোমাদের জন্য পাঠিয়েছেন, তোমরা তার কতক গুলোকে হারাম আর কতককে হালাল করে নিয়েছ। বল,আল্লাহ কি তোমাদেরকে এর অনুমতি দিয়েছেন? না তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ(সুরা ১০,আয়াত ৫৯)
আর তোমাদের জিহবা দ্বারা বানানো মিথ্যার উপর নির্ভর করে বলো না যে,এটা হালাল এবং এটা হারাম, আল্লাহর উপর মিথ্যা রটানোর জন্য। নিশ্চয় যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না।
(সুরা নাহল,আয়াত ১১৬)
কিন্তু আমরা অন্ধভাবে ব্যক্তিকে অনুসরন ও তার দেয়া বিধানকে বাস্তবায়ন করতে যেয়ে ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে দূরে সরে গিয়ে,আমাদের জীবন জটিল করে ফেলেছি।
ব্যক্তির বক্তব্য না শুনে,আল্লাহ কি বলছে তা শুনুন
ব্যক্তি বলছে,তিন জুম্মা জামাতে না পড়লে আপনি মুমিন থাকবেন না আর আল্লাহ কুরআনে বলছেন,
আপনি দুনিয়ায় বুকে নম্রভাবে চলাফেরা না করলে আপনি প্রকৃত মুমিন নন।আপনি যদি প্রতিশ্রুতি বা ওয়াদা রক্ষা না করেন তাহলে আপনি মুমিন থাকবেন না।"যারা দুনিয়াতে নম্রভাবে চলে তারাই মুমিন"
(সুরা লুকমান আয়াত ১৮)
ব্যক্তি আপনাকে নামাজ দিয়ে মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিল আর ব্যক্তির বিধান শুনতে গিয়ে আপনার জানা হলো না,আল্লাহ কাদের মুমিনের লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছেন।এজন্য আল্লাহ,
আল্লাহর কথা বলে যারা টাকা নেয়,তাদের অনুসরন করতে নিষেধ করেছেন,কেননা তাদের কাছ থেকে আপনি সরল সঠিক পথের সন্ধান পাবেন না।এখন আবার আপনি আল্লাহর এই কথাকে ডিফেন্ড করবেন আবেগ দিয়ে।হুজুরা টাকা নিলেই দোষ,জ্বী তাহলে এই আয়াতটা আপনার জন্য
আর যারা আমার আয়াতসমূহকে ব্যর্থ করে দেয়ার চেষ্টা চালায়, তাদেরই জন্য রয়েছে কঠোর পীড়া দায়ক আযাব।( সুরা আস সাবাহ,আয়াত ৫)
কিন্তু এই আয়াতকে পাশ কাটিয়ে আপনি ঝগড়া করবেন,ওই মিয়া আপনি নিরুৎসাহিত করতেসেন!তাই আল্লাহ বলেছেন,আমি সব বিস্তারিত বলার পরও মানুষ তর্ক প্রিয়।
আর আমি এই কুরআনে মানুষের জন্য সকল প্রকার
উপমা বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। আর মানুষ সবচেয়ে বেশি তর্ককারী। সুরা আলকাহাফ আয়াত ৫৪
যারা মনোনিবেশ সহকারে কথা শুনে, অতঃপর যা উত্তম, তার অনুসরণ করে। তাদেরকেই আল্লাহ সৎপথ প্রদর্শন করেন এবং তারাই বুদ্ধিমান।"
(Az-Zumar 39: Verse 18)আর এটা বরকতময় উপদেশ, যা আমি নাযিল করেছি। তবুও কি তোমরা তা অস্বীকার করবে?(সুরা আল আম্বিয়া আয়াত ৫০)
কুরআন না দেখে হাদিস তালাস,পৃথিবী থেকে কুরআন উঠে যাবার আলামত।আমাদের ছেলে মেয়েরা এক ওয়াক্ত নামাজ মিস করলে কি শাস্তি তা জানলে ও,কাউকে মিথ্যা দোষারোপ করলে কি শাস্তি আল্লাহ ঘোষণা করেছেন তা জানা নাই।
স্রেফ অনুমানের ভিত্তিতে,অন্যের কান কথায় প্ররোচিত হয়ে কাউকে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ইসলামে জঘন্য অপরাধ।ইসলামে কারো সম্মানহানি করার অধিকার অন্যের নেই।ইসলামে মিথ্যা দোষারোপের সুযোগ নেই।এটা ঘৃণিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।আল্লাহ বলেন,তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাকো(সূরা হাজ্জ ২৩)
আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন,‘যারা বিনা অপরাধে বিশ্বাসী পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়,তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে,(সুরা আহযাব,৮৫)।
আমাদের আলোচনায় ও কাজে কোরআন নেই।আছে ধর্মকে জোড় করে চাপিয়ে দেওয়ায় মানসিকতা।আল্লাহ যেখানে বলছেন,"দীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি কিংবা বাধ্যবাধকতা নেই।"সেখানে আপনি কে বাধ্য করার?(সুরা বাকারা,আয়াত২৫৬)
শিক্ষিত শ্রোতা শিক্ষিত বক্তা তৈরি করে আর তারা অশিক্ষিত শ্রোতার মধ্যে শিক্ষিত লেবাস ধরে উগ্রতা ছড়ায় কথায় কথায় নবীর জন্য জিবন দিয়ে।তাই তাদের ভক্তরা কোথাও নবীর অবমাননা শুনলেই সেই এলাকার সবাইকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে,ঘরবাড়ি ভাংচুর করে,পুড়িয়ে দেয় আর লুটতরাজ করে।
"উহারা যা বলে তা আমি জানি,তুমি তাদের উপর জবরদস্তিকারী নও;সুতরাং যে আমার শাস্তি কে ভয় করে তাকে উপদেশ দান কর কুরআনের সাহায্যে।"(সুরা কাফ্45)
আল্লাহ্ রাসুল কে নির্দেশ দিতেছেন,কুরআনের সাহায্যে উপদেশ দিতে।রাসুল কি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে নিজস্ব বানী দিয়ে উপদেশ দিয়েছিলেন,যার সংখ্যা লক্ষাধিক?আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার ক্ষমতা রাসুলের ছিলনা (39:13-14)
আল্লহ কোরআন সম্পর্কে বলছেন"এমন এক কিতাব, বিশদভাবে বিবৃত হয়েছে এর আয়াতসমূহ জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য।(হা মীম আস-সাজদা 3)
মানুষ শোনা কথা বিশ্বাস করে অবলীলায়!কিন্তু আল্লাহ বলছেন সুস্পষ্টভাবে,সেটা কিছুতেই বিশ্বাস করে না!কুরআন বিশদভাবে বর্ণনাকৃত/তাফসিরকৃত কিতাব।এর জন্য আর কোন কিতাবের প্রয়োজন নাই।
"সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। ফলে তারা শোনে না।"(হামীম আস সাজদা:4)
আল্লাহ তাঁর কিতাবকেই সুসংবাদদাতা এবং সতর্ক কারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন এখানে।আল্লাহর কথা যারা বিশ্বাস করে না,তারা বধির মূক ও অন্ধ সুতরাং তারা ফিরবে না। (বাকারা: 8)
নবী-রসুলদের দায়িত্ব ছিল মানুষের সামনে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যা আলাদা করে দেওয়া।এরপর ন্যায়পথে যারা চলতে চায় তাদেরকে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা।স্বভাবতই সেই নবীর প্রতি ঈমান আনয়নের পর প্রতিটি মোমেনের উপরও এই একই ঐশী দায়িত্ব অর্পিত হয়।সেই মোমেনদের দায়িত্ব কী,তারা কেন শ্রেষ্ঠ জাতি সেটা আল্লাহ পবিত্র কোর’আনে জানিয়ে দিয়েছেন।তিনি বলেছেন,“ তোমরাই শ্রেষ্ঠ জাতি।মানবজাতির মধ্য থেকে তোমাদের উত্থান ঘটানো হয়েছে এই জন্য যে তোমরা মানুষকে ন্যায়কাজের আদেশ করবে,অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান রাখবে।” [সুরা ইমরান ১১০]
কিন্তু যে সকল কথিত আলেম-ওলামারা ধর্মব্যবসা করেন তাদের পক্ষে এইভাবে সত্য ও মিথ্যাকে আলাদা করে দেওয়া এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হয় কি? কস্মিনকালেও না। এর কারণ তারা একটি শ্রেণির কাছে আত্মবিক্রয় করেছেন।এটা চিরকাল হয়ে এসেছে যে, কোনো শাসক যখন অন্যায় করেন তখন সঙ্গে সঙ্গে সেই অন্যায়ের সমর্থনে বা নিজ দায়মুক্তির জন্য আইনও তৈরি করেন।সেই আইন তৈরি করে দেন আইন পরিষদের সদস্যরা।আর আমরা না বুঝে পড়ে,অহেতুক প্রশ্ন করে কোরআনকে জটিল,ব্যাখ্যা ছাড়া,অস্পষ্ট প্রমাণে করে নিজেদের কোরআন বিমূখ করে রাখছি।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the place of worship
Website
Address
1000