Buetian Rhapsody

Buetian Rhapsody

Share

16/09/2025

(001286)
এই পেজ কবে থেকে, কেনো ফলো শুরু করেছিলাম মনে নেই। তবে এর সুবাদেই বুঝলাম বুয়েটে আবার পরীক্ষা পেছানোর ভূত ঢুকেছে। সাথে এটা দেখেও ভালো লাগল অনেকেই এর প্রতিবাদ করছে। প্রায় এক যুগেরও আগে আমাদের সময়ে পরীক্ষা হতো সপ্তাহে একটা করে, এরপরেও পরীক্ষা পেছানো শেষ হতো না। লাল রুটিন, সাদা রুটিন আরো কত বাহারি নাম ছিল। আর প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস কারো হত না।

এই পরীক্ষা পেছানো নিয়ে কত নাটক যে দেখেছি! ক্যাম্পাস ভাংচুর করে হল ভ্যাকেন্ট, রোজার মাসে পরীক্ষা দিবে না বলে পাবলিক প্লেসে অজ্ঞান হয়ে যাবার নাটক কিংবা তিনবেলা ভরপেট খেয়ে রোজার মাসে পরীক্ষা দেয়ার কষ্টের বাণী, পরীক্ষার দিন সকালে ক্যাম্পাসের গেটে তালা - এসব নিয়ে লেখতে থাকলে উপন্যাস হয়ে যাবে। এই পরীক্ষা পেছানো আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় আমাদের ব্যাচের প্রথম দুই সেমিস্টার শেষ করতে দুই বছরের কাছাকাছি লেগেছিল।

পরীক্ষা পেছানোর খেলা আটকে দিয়েছে অনেক স্বপ্ন, অনেক পরিবার, অনেক সম্পর্ক। কেউ গ্র্যাজুয়েশনের দিন বাবা-মাকে আর পাশে পায়নি, কেউ ভালোবাসার মানুষকে হারিয়েছে, কেউ পরিবারের দায়িত্ব নিতে গিয়ে জীবনের সেরা সুযোগ হাতছাড়া করেছে।

হয়তো আমরা সবাই এগিয়ে গেছি, জীবনও এগিয়ে গেছে। তবুও সেই ভাঙা স্বপ্ন আর অপূর্ণ অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাসগুলো কোথাও না কোথাও এখনও রয়ে গেছে।

10/09/2025

(001278)
ঘড়িতে ৭টা ১৩ । প্রথমটাই মনে হল ধাতুর মধ্যে বাতাস আটকে উদ্ভট শব্দ হচ্ছে, ক্রমেই যেন এই শব্দ তাকে গিলে ফেলবে। জানালার ফাক দিয়ে আসা আলোর চমকে যখন খানিকটা সঙ্গা ফিরল তখন সে হাত বাড়িয়ে এলার্ম টা বন্ধ করলো। আজ সকালের আলো অন্য সকালগুলোর আলো থেকে যেন আলাদা এ আলো রোদ নয় টিউবলাইট নয় এ যেন এক মায়াবী আভা । এই আলো সোনালী নয় সাদা নয় বিবর্ণ ধূসর। দাঁত মেজে মুখ হাত ধোয়ার সময় আয়নায় চোখ পরলো তার চেহারায় কেমন একটা পরিবর্তন এসেছে। চোখের নিচে কি কালো ছায়া? নাকি চোখ দুটোই বেশি ভেতরে ঢুকে গেছে ! কিছুটা সময় নিয়ে দেখার চেষ্টা করল , ঠিক কি পরিবর্তন এসেছে তার আন্দাজ করতে পারল না। সে মাথা ঝাঁকালো তবে অনুভূতিটা ঠিক গেল না। সে বেশি না ভেবে বাইরে বের হলো, চারদিক ধূসর বর্ণে ছেয়ে গেছে , সকাল নাকি সন্ধ্যা ঠাওর করতে পারলো না।
আস্তে আস্তে সে পা বাড়ায়, কড়িডোর আজ যেন একটু বেশিই লম্বা, এত লম্বা যে মনে হল দরজার শেষে পৌঁছালে ক্লাসরুমের বদলে অন্য শহরে পৌঁছে যাবে সে । ক্লাসে ঢুকতে কিছুটা দেরিই হয়ে গেল, কিন্তু কেউ যেন তাকে দেখতেই পেল না। প্রফেসরের হাতের চক মমের মতো গলছে আর বোর্ডে লেখা সমীকরণ গুলো তার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করছে। সিটির খাতা হাতে পেয়ে আরেকবার সচকিত হয়ে উঠল সে , নম্বরের জায়গায় এ কিসের ক্ষত ? আঙুল চালাতেই রক্তে ভিজে গেল খাতা । চারদিকে সবার ঠোঁট নড়ছে কিন্তু সে কিছু শুনতে পাচ্ছে না। হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো সবার চোখে এক অদ্ভুত নিস্তব্ধতা যেন কোনো ফ্রেমে বন্দী সবাই । এই বুঝি সে জ্ঞান হারাবে , এলোমেলো পায়ে টলতে টলতে কোনোরকমে বেরিয়ে এল ক্লাস থেকে দৌড়ে হোস্টেলের রুমে ঢুকে আরেক দফা স্তম্ভিত হল সে , ঘরটা আচমকা যেন বড় হয়ে গেছে টেবিল থেকে জানালা কয়েক আলোকবর্ষ দূরে । আয়নায় চোখ পড়তে হকচকিয়ে উঠলো সে , পেছনে তার ঘরের বদলে লম্বা একটা করিডোর অসীম অন্ধকারে মিলিয়ে গেছে । করিডর শেষে দাঁড়িয়ে আছে ছায়া মানবের মূর্তি । অবয়ব দেখে কিছুটা এগিয়ে যেতেই যা চোখে পড়ল তার জন্য সে মোটেও প্রস্তুত ছিল না, এ যে সে নিজেই , হার হীম করা শীতল চোখ জোড়া থেমে থেমে প্রদীপের মতো দপদপ করে জ্বলছে। এরপর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলো না সে তলিয়ে গেল অসীম অন্ধকারে...

Want your organization to be the top-listed Non Profit Organization in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Dhaka