Book-mail
❝পড়ার কাজটি অইল অন্যরকম। আপনে যখন মনে করলেন, কোনো বই পইড়্যা ফেলাইলেন, নিজেরে জিগাইবেন যে-বইটা পড়ছেন, নিজের ভাষায় বইটা আবার লিখতে পারবেন কি না। আপনের ভাষার জোর লেখকের মতো শক্তিশালী না অইতে পারে, আপনের শব্দভাণ্ডার সামান্য অইতে পারে, তথাপি যদি মনেমনে আসল জিনিসটা রিপ্রোডিউস না করবার পারেন, ধইরা নিবেন, আপনের পড়া অয় নাই।❞
একদা জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, আহমদ ছফাকে বই পড়ার ব্যাপারে এই কথাটি বলেছিলেন।
বই- যদ্যপি আমার গুরু
লেখক- আহমদ ছফা
বৃটিশ নাট্যকার জর্জ বার্নাড শ - প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দেখে বলেছিলেন:
"War is a trade like any other trade"
পর্ব-২
দ্বিতীয় ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধ (১৮৭৮-৮০):-
ভারতবর্ষে ১৮৭৫ সালে গভর্নর হয়ে আসেন লর্ড লিটন। তিনি আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে চাইলেন। ১৮৭৮ সালে লর্ড লিটনের দূত স্যার নেভিল চেম্বারলিনকে আফগানিস্তানে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি। ক্ষিপ্ত হয়ে এবারও শায়েস্তা করতে চাইলেন ব্রিটিশরা। যুদ্ধ বাঁধল ব্রিটেন আর আফগানিস্তানের মধ্যে। ক্ষমতায় তখন দোস্ত মুহম্মদের তৃতীয় পুত্র শের আলী খান। প্রথম ধাক্কায় শের আলী খান পরাজিত হয়ে পালিয়ে গেলেন। ক্ষমতায় বসলেন ইয়াকুব খান। কিন্তু আফগানদের চোরাগোপ্তা হামলার কারণে ব্রিটিশরা একদিনও শান্তিতে থাকতে পারছিল না। আফগানরা ব্রিটিশ দূতকে হত্যা করলেন তার বাহিনীসহ। বিশাল ভারতবর্ষ কড়োর হাতে শাসন করা ব্রিটিশরা আফগানদের সাথে কোনভাবেই পেরে উঠছিলেন না। আবারও শান্তিচুক্তি করলেন আফগানরা। আমির নিযুক্ত হন শের আলীর ভাতিজা আবদুর রহমান।
১৮৮০ সালে ব্রিটিশরা আবার আফগানিস্তান ত্যাগ করে। তবে এবার পরিস্থিতি অন্যভাবে সামাল দেয় ব্রিটেন। রাশিয়াকে ঠেকিয়ে রাখাই ছিল ব্রিটিশদের প্রধান উদ্দেশ্য। রাশিয়া-ব্রিটেন-আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারিত হয়। স্যার মর্টিমার ডুরান্ডকে দায়িত্ব দেয়া হয় এ কাজটি করতে। এখনো পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা নির্ধারণকারী রেখাটির নাম হচ্ছে "ডুরান্ড লাইন"
সোর্স:গল্পে গল্পে বিংশ শতাব্দী।
আজ বর্তমান পাকিস্তান-আফগানিস্তান এর সূচনালগ্ন যুদ্ধ বিষয়ক যুদ্ধেরও প্রায় ২০০ বছর আগের আফগানিস্তান এর অবস্থা সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক:
কথিত আছে,ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কখনো সূর্য অস্ত যেত না। কিন্তু এই কথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় আফগান।সাল ১৮৩৯ থেকে ১৯৪২ প্রথম ব্রিটিশ-আফগান যুদ্ধ :
ব্রিটেন কে সূচনীয় পরাজয় উপহার দিয়ে বীরদর্পে স্বাধীন হয়ে রইল আফগানিস্তান। একবার নয়, দুবার আফগানিস্তানে হাতে প্রচন্ড মার খেলো ব্রিটিশরা। তদানীন্তন সময়ে এশিয়া মহাদেশের দুইটি স্বাধীন দেশ ছিল একটি আফগানিস্তান অন্যটি থাইল্যান্ড। ব্যাপারটা হচ্ছে আফগানিস্তানকে কখনোই কোন বিদেশী শক্তি দখল করতে পারেনি।আফগানরা বিদেশি শাসকদের বিন্দুমাত্র সহ্য করতে পারত না। সে যত বড় শাসক শক্তিশালী ভালো হোক না কেন।?আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, চেঙ্গিস খান, ব্রিটিশ, রাশিয়া এবং সবশেষে আমেরিকা ও আফগানিস্তানের সফল হতে পারেনি। এজন্য আফগানিস্তানকে বলা হয় "সামাজ্যবাদীদের গোরস্থান"।
ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন পাকাপোক্ত হওয়ার পর ব্রিটিশরা নজর দিতে চাইলো আফগানিস্তানের দিকে। আসলে ব্রিটিশরা আফগানিস্তানের রুক্ষ পাহাড় ও মরুভূমির রাজত্বে নজর দিতে চাইনি যখন রাশিয়ানরা আফগানিস্তানের দিকে প্রভাব বাড়াচ্ছিল আফগানিস্তান দখল করতে চাইলো। ব্রিটিশ কোনভাবে চাইত না ভারতের এত কাছে রাশিয়ানরা চলে আসুক। 1826 সালে আফগানিস্তানের আমীর নিযুক্ত হয় দোস্ত মোহাম্মদ খান। রাশিয়ার প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন।দোস্ত মোহাম্মদকে হাত করতে না পেরে 1839 সালে সেনাবাহিনী পাঠিয়ে শাহ সুজাকে ক্ষমতায় বসান।পরবর্তীতে 1840 সালে আবার দোস্ত মোহাম্মদ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।যুদ্ধে এবারও হেরে যান তিনি। কিন্তু আফগান জনগণ ভিতরে ভিতরে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। বিদেশ শাসক যেমন তারা মানে নি, তেমনি তারা বিদেশি শাসকের মনোনীত শাসককেও মানতে পারেনি।বিদ্রোহী আফগানদের হাতে ব্রিটিশ বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় নিহত হন তাবেদার শাহ সুজা। অবস্থা বেগতিক দেখে, ব্রিটিশ গভর্নর লর্ড এলেনবুরো দোস্ত মোহাম্মদের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেন।ঠান্ডা হয় আফগানিস্তানদের পরিস্থিতি। ব্রিটিশরা জান মাল নিয়ে আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে দ্বিতীয় ব্রিটিশ আফগান যুদ্ধ চলমান থাকবে।
সোর্স:গল্পে গল্পে বিংশ শতাব্দী
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
1212