Syed junaed Abir
05/03/2024
আমার প্রথম গল্পগ্রন্থ “রক্তাক্ত লাল গোলাপ”, দ্বিতীয় উপন্যাস “ইট পাথরের শহরে স্বপ্নের খোঁজে এবং তৃতীয় উপন্যাস “চৌকাঠ” রকমারীতে পাওয়া যাচ্ছে।
রকমারী লিংকঃ
https://www.rokomari.com/book/286864/roktakro-lal-golap
https://www.rokomari.com/book/287171/it-pathorer-shohore-shopner-khoje
https://www.rokomari.com/book/388596/chowkat
21/11/2021
# কক্ষপথের শেষ সীমানায়
আজ আমি ইট কাঠের এই প্রাণহীন শহরে
সদা ব্যস্ত নিজের জীবনের হিসেব কষতে
দিন শেষে আর সবার মতো
আমার নিজেরও অনেকটা সময় কেটে যায়
পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে
ইচ্ছা ছিলো যে শহরের আলো বাতাস গায়ে মেখে আমি বড় হয়েছি
সেই শহরের জীর্ন-শীর্ণ এক কুটিরে বাস করে
প্রতিনিয়িত পাওয়া না পাওয়ার হিসাব কষব
পাওয়ার চেয়ে যদি না পাওয়ার পাল্লা ভারী হয়
তবে হতাশার সাগরে ডুব না পেরে
জীবনের রেওয়ামিলকে একটা ভদ্রস্থ চেহারায় দেখার জন্য
নিজেই নিজের কাছে শপথ নিয়ে নবরুপে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বো
কিন্তু হায় বড় আফসোস
এ শহর আমাকে রাখলো না
আমার চির চেনা বড় আপন এই শহরের বুকে আমার ঠাই হলো না
নিজের প্রাণের শহরে ঠাই না হওয়ায়
চিরচেনা পরিচিত নিজস্ব গন্ডীর আবহ থেকে
বের হয়ে আমি চলে এসেছি
ইট কাঠ পাথরের কাঠামোয় মোড়া
প্রথম শ্রেণীর প্রানহীন রাজকীয় নগরীতে
প্রাণহীন নগরীতে পা রেখে প্রথমে খানিকটা থিতু হয়ে
এখন স্বপ্ন দেখি গদবাঁধা জগৎ থেকে বের হয়ে
নিজের মতো পথ তৈরী করে সে পথে পথচলার
চলামান নাগরিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা
আমাকে প্রতিনিয়ত স্বরণ করিয়ে দেয় স্বপ্ন দেখা
আমার জন্য বিলাসিতা ব্যতিত আর কিছু নয়
তবু হাল না ছেড়ে নতুন কিছু করার জন্য
আমি আপন মনে স্বপ্নের জাল বুনে যাচ্ছি
আমি কোনদিন স্বপ্নপূরণ করতে পারবো কিনা জানিনা
তবে গতানুগতিক ধারার বাইরেও যে নতুন কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়
এই উপলদ্ধী বোধহয় এই প্রাণহীন শহরে পা না রাখলে
আমার মনের মধ্যে কভু উদয় হতো না
এজন্য চিরচেনা প্রাণের শহরের প্রতি
রইলো আমার ভালোবাসার শতকোটি লাল সালাম
এখন আমি ধৈ্র্যের প্রতিমূর্তি হয়ে বিরুদ্ধ স্রোতের বিপরীতে দাড়িয়ে
প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে চলেছি সেই সোনালী প্রভাতের প্রত্যাশায়
হয়তো একদিন আমি এই যুদ্ধের সফল পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে
আমি পৌছে যাবো আমার দেখা সেই কক্ষপথের শেষ সীমানায়
-----------------------------------------
17/11/2021
ক্লাস থ্রিতে ওঠার পর পাঠ্য বই এর পাশাপাশি গল্পের বই পড়া শুরু করি। আর ওপেনিং টা ছিল কমিকস এর বই দিয়ে।তখন স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হলে লাইব্রেরী থেকে চাচা চৌধুরি, বিল্লু, পিংকি সিরিজের একগাদা কমিকস এর বই কিনে আনতাম।ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন সময়ে গোয়েন্দা সিরিজ আর ভূতের গল্পই বেশি পড়া হত।।গোয়েন্দা গল্পের মধ্যে সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা সিরিজের বইগুলো বেশী পড়া হত।এর পাশাপাশি বাংলাদেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর ফরিদপুর জেলা শাখার লাইব্রেরী থেকে বিভিন্ন আমলের রাজা, বাদশা আর নবাবদের জীবনী অবলম্বনে লেখা বইগুলো পড়ার জন্য নিয়মিত কিনতাম।যথাযথ সংরক্ষণহীনতার অভাবে আমার সোনালী সময়ের নিত্যসঙ্গী সেইসব বইগুলো আমি চিরতরে হারিয়ে ফেলেছি।এস.এস.সি পরীক্ষার পর পাওয়া ছুটির সেই দিনগুলির বেশির ভাগ সময় কেটেছে আমার গল্পের বই পড়েই।এইচ.এস.সির বেড়া টপকানোর পর পরবর্তীতে আর কখনোই গল্পের বই কিনে পড়া হইনি। ছোট বোন প্রত্যেক ফি বছর কৃতি ছাত্রী হওয়ায় ও স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে বিজয়ীদের দলে নিজের নামটা লেখানোর সুবাদে স্কুল থেকে যে বইগুলো উপহারস্বরুপ পেত, শুধুমাত্র সেই বইগুলোই বারবার পড়া হত।এছাড়া, একটা সময় দুই ভাই মামাতো ভাই ঋদ্ধ আর ধ্রুবর কাছ থেকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ তিন গোয়েন্দা এবং হুমায়ন আহমেদ ও জাফর ইকবাল রচিত বেশ কিছু গল্প উপন্যাস এনে আমি পড়েছি।
নানাবাড়িতে দৈনিক পত্রিকার রাখার বিষয়টা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। আমার নানা বাসায় রাখতেন দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা।দীর্ঘ একটা সময় ধরে টানা ইনকিলাব পত্রিকাটা পড়ার সুবাদে এই পত্রিকাটির প্রতি মনে এক ধরণের ভালোবাসার জন্ম নেয় এবং সেই সাথে নিয়মত পত্রিকা পড়ার একটা অভ্যাস নিজের মধ্যে গড়ে ওঠে।ক্লাস সিক্সে ওঠার পর আম্মুকে অনেক বলে রাজী করিয়ে আমাদের বাসায়ও পেপার রাখার ব্যবস্থা করি।তবে বিষয়টা দুই মাসের বেশি নিজের স্বায়িত্ব বজায় রাখতে পারিনি। ফলে তখন প্রতিদিন না হলেও সময় বের করে মাঝে মধ্যে নানাবাড়িতে গিয়েই পত্রিকা পড়ে আসতাম।পরবর্তীতে ২০০৩ সালের শুরুতে পুনরায় বাসায় প্রথম আলো পত্রিকা রাখা শুরু হয়।কিন্তু্ এর মাস ছয়েক পর আম্মু পত্রিকা রাখা বন্ধ করে দেন। এরপর রুটিন মাফিক না হলেও মাঝে-মধ্যে দোকান থেকে পত্রিকা কিনে পড়তাম। আবার রুটিনমাফিক না হলেও পুরোনো অভ্যসের জেরে কোন সময় ছোট মামার বাসায় গিয়ে সমকাল আর প্রথম আলো আবার কোন সময় ছোট খালার বাসায় গিয়ে কালের কন্ঠ পত্রিকাটা পড়তাম।
ফেসবুকে লেখালেখি অব্যাহত রাখার মধ্যেই মধ্যেই দুই বছর সময় নিয়ে লিখে ফেলি ছোট ছোট সাতটা গল্প। পরবর্তীতে এ বছর অমর একুশে বইমেলায় বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দিকদর্শন প্রকাশনীর অন্যতম অঙ্গ প্রতিষ্ঠান গ্রন্থকুটির এর ব্যানারে আমার লেখা সেই গল্পগুলো “রক্তাক্ত লাল গোলাপ” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে।আগামী বইমেলাকে সামনে রেখে জীবনে প্রথমবারের মতো “কক্ষপথের শেষ সীমানা” নামে একটি উপন্যাস লিখেছি।ইনশাল্লাহ এই উপন্যাস টাও গ্রন্থকুটির এর ব্যানারে প্রকাশিত হবে।এছাড়া, নতুন একটা উপন্যাস লেখা শুরু করেছি এবং আরো ভিন্নধর্মী তিনটা উপন্যাস এবং বারোটা ছোট গল্প লেখার প্লান করেছি।নিজের লেখা ইপ্রুভ করার জন্য এবং পাশাপাশি নতুন কিছু জানার জন্য ও শেখার জন্য হকশপ.কম আর বইপোক.কম থেকে থেকে প্রখ্যাত সহিত্যিক সমরেশ মজুমদার, বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায় আর বন্ধ্যোপাধ্যায় এর লেখা কালজয়ী কিছু উপন্যাস সংগ্রহ করেছি।আস্তে আস্তে এ তালিকায় এপার ওপার বাংলার আরো কিছু বিখ্যাত ও শক্তিমান লেখকদের গল্প, উপন্যাস যুক্ত হবে। বই পড়ার সেই পুরোনো অভ্যাসটা যদি পুনরায় আমার রপ্ত হয়ে যায় তাহলে হয়তোবা ফেসবুক ও ইউটিউবের বিষাক্ত মরণকামড় থেকে যতটা সম্ভব নিজেকে দূরে রেখে আগের মতো অবসর সময় কাটবে বই এর পাতায় চোখ রেখে.........................
13/11/2021
ছোটবেলা থেকেই আমি ক্রিকেটভক্ত একজন মানুষ।আগের মতো না হলেও এখনও প্রতিনিয়ত শুধুমাত্র মনের খোরাক মেটানোর জন্য মাঝে-মধ্যে আমার নিজ দলের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্ন্তজাতিক দলগুলোর ক্রিকেট ম্যাচ দেখে যাচ্ছি।এখন আমরা সবাই মনে-প্রাণে শুধু আমাদের জাতীয় ক্রিকেট টীম টাকে সার্পোট করলেও নব্বই দশকের শুরু থেকে এ্কটা সময় পর্যন্ত আমরা বাংলাদেশীরা কম বেশি সবাই উপমহাদেশের তিন ক্রিকেট পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার রীতিমত অন্ধভক্ত ছিলাম। শুধু আমরা এই তিন দলের অন্ধভক্তই ছিলাম না, সনাথ জয়সুরিয়া, অর্জনা রানাতুঙ্গা, চামিন্দা ভাস, শচীন টেনন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি, সাইদ আনোয়ার, ওয়াসিম আকরাম, সাকলাইন মুস্তাক প্রমুখ সব মেগাস্টাররা সবসময় আমাদের মনের গহীনে বসত করতেন। আমি নিজেও এই সিলেবাসের বাইরের কোন মানুষ ছিলাম না।শুরুতে সাইদ আনোয়ার, আমির সোহেল, রমিজ রাজা, ইনজামামুল হক, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস এবং পরবতীর্তে মইন খান, আব্দুল রাজ্জাক, আজাহার মাহমুদ সহ আরো কিছু খেলোয়ারদের পারফর্মেন্স দেখতে দেখতে বড় হয়েছি বিধায় আমি ছিলাম পাকিস্তান ক্রিকেট দলের একজন সার্পোটার।দীর্ঘ একটা সময় শুধুমাত্র পাকিস্তান ক্রিকেট টীমকেই সার্পোট করার কারনেই হয়তোবা সময়ের সাথে সাথে আমার জীবনের গতিপথটা অনেকাংশে হয়ে গেছে পাকিস্তান ক্রিকেট টীমের মতোই আনপ্রেডিক্টেবল।জীবনের রানওয়েতে চলতে গিয়ে নিশ্চিত জেতা ম্যাচ যেমন হেরেছি, ঠিক তেমনি খানিকটা ভাগ্যের সহয়তায় জিতে গেছি নিশ্চিত ভাবে হেরে যাওয়া কিছু ম্যাচ।
ছোটবেলায় আমাদের বাসায় টিভিতে ক্যাবল টিভির কোন সংযোগ ছিলো না। আমার পড়াশুনার ক্ষতি হবে ভেবেই আম্মু এই কঠিনতম সিন্ধান্তটা সেই সময় নিয়েছিলেন। আব্বুও খবর দেখা ছাড়া খুব একটা টিভি দেখতেন না বিধায় আমার অনুরোধ সংসোদের নিয়মিত অধিবেশনগুলোতে কখনোই খুব একটা ধোপে টিকতো না। তাই সেই সময়টাতে শুধুমাত্র বিটিভিতে যে আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হত, শুধু সেই খেলাগুলো দেখার সুযোগ পেতাম।তবে মাঝে-মধ্যে কিছু গুরত্বপূর্ণ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের খেলাগুলো দেখার জন্য তিন তলায় ছোটমামার বাসায় চলে যেতাম ক্রিকেট ম্যাচ দেখার জন্য। ছোটমামার বাসায় ২০ ইঞ্চি প্যানাসনিক কালার টিভিতে সবাই মিলে হইহই করে খেলা দেখতাম। খেলা দেখার সময় রাত বেশি হয়ে গেলে বাসায় বাইরে থাকার অনুমতি অটো ডিএক্টিভেটেড হয়ে যেতো বিধায় যদি অনুমতিটা নতুনরুপে রিনিউ না হয়, সেই ভয়ে খেলার টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ মূহুর্ত্বে খেলা না দেখেই বাসায় ফিরে আসতাম।মাঝে-মধ্যে সবার সাথে হইহই করে খেলা দেখার জন্য নানা বাসার নীচ তলায় সৌরভদের বাসায় চলে যেতাম।সেখানে অনেক সময় ক্লাব ঘরের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হত। এ কারনে অনেক সময় আন্টি বিরক্ত বোধ করতেন। কিন্তু তারপরও হাসিমুখে আমাদের এই মধুর অত্যাচার তিনি সবসময় মেনে নিয়েছেন।আবার অনেকসময় ক্রিকেট ম্যাচগুলো দেখার জন্য নানাবাড়ী সংলগ্ন ট্রান্সপোর্টের অফিসে চলে যেতাম। সেখানে সবার সাথে কিছুটা সময় ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগ করে বাসায় ফিরে আসতাম।
আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই ফরিদপুর শহরে। ১৯১৮ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য প্রথম বড়মাপের আর্ন্তজাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট উইলস মিনি বিশ্বকাপের সময় বিশ্বের সেরা সেরা খেলোয়ারদের নিজ চোখের সামনে দেখার জন্য কেন যেন বার বার আমার মন যেতে চাইতো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।তখন মাত্রই ক্লাস সিক্সের ছাত্র হওয়ায় তৎকালীন সময়ে আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।এর ফলস্বরুপ সাদাকালো আবার কখনো কালার টিভির পর্দায় পুরো টুর্নামেন্টটাই আমাকে দেখতে হয়েছিলো। পরবর্তীতে ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সময়ও আমার মনের মধ্যে সেই একই ইচ্ছা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তখনও সেই ইচ্ছা আমার পূরণ হয়নি। তখন থেকেই মনে মনে প্লানিং করলাম যদি কখনো ঢাকায় থাকার সুযোগ পাই তাহলে সবার আগে এই ইচ্ছা টা পূরণ করব।আল্লাহপাক একটু দেরীতে হলেও আমার ফরিয়াদ শুনেছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে জীবিকার তাগিদে এখন ঢাকাতেই থাকি।শুধু তাই নয় আমাদের বাসা থেকে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুরত্ব খুব বেশি নয়। তারপরও পূরণ না হওয়া সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটার সাময়িক মৃত্যু ঘটায় এখনো গ্যালারীতে বসে সাকিব, তামিম, মুশফিক দের খেলা দেখা হয়নি। যদি কখনো বা সেই অতৃপ্ত ইচ্ছা জীবন্ত হয়ে আমার মনের মধ্যে পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে তাহলে হয়তোবা আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি সিরিজের যে কোন একটা ম্যাচ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারীতে বসে সরাসরি উপভোগ করার মধ্য দিয়ে আমার সেই অতৃপ্ত ইচ্ছাটা এবার পূরণ হয়ে যাবে....................
Click here to claim your Sponsored Listing.