Lx RATOL

Lx RATOL

Share

27/09/2022

''অহনা আপু, আমার ভাইয়ার সাথে ১৫ দিন ভালোবাসার অভিনয় করবেন?'

'এই কি বলো এসব?'

'প্লিজ আপু মানা করেন না।'

'মাথা কি গেছে তোমার?'

মেয়েটা আমার হাত দুটো ধরে কাঁদো কাঁদো সুরে বললো,

'প্লিজ আপু, আপনি আমার কথায় রাজী হয়ে যান।'

আমি হাত ঝাড়া মেরে রাগত্ব স্বরে বললাম,
'তুমি তো বোন নামে কলঙ্ক। কেউ ভাইয়ের সাথে অভিনয় করার জন্য এভাবে কাউকে ফোর্স করে তোমাকে না দেখলে জানতামই না।'

মেয়েটা বিষাদের হাসি হাসলো। চোখ নামিয়ে নিচুস্বরে উত্তর দিলো,

'ভাইকে কয়েকটা দিন ভালো রাখতে যদি এতোটা নিচে নামতে হয় যে লোক ধিক্কার জানাবে। তাহলে আমি তাতেও রাজী।'

চকিতে তাকালাম মেয়েটার দিকে। চোখ বেয়ে তার নোনাজল গড়াচ্ছে। মনে হলো, এখানে ভিন্ন কোন কাহিনি আছে। ওকে বললাম,

'চলো সামনের পার্কটায় বসে তোমার কথা শুনি। কেন তুমি এমন আজব আবদার করলে আমার কাছে।'

মেয়েটা চোখ মুছে আমার সাথে হাঁটতে লাগলো। পার্কের ভোতরে গিয়ে একটা উঁচু সিমেন্টের টিলায় আমরা দুজন বসলাম। স্বাভাবিক গলায় জিজ্ঞেস করলাম,

'এবার বলো, তোমার ভাইয়ের সাথে অভিনয় করতে কেন বলছো?'

মেয়েটা করুন চোখে তাকিয়ে বলতে আরম্ভ করলো,
'আমার নাম সেতু। আমার ভাইয়ার নাম হাসান।আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। বাবা মারা গেছে বহু আগে। ভাইয়া আমাদের পরিবারের সব কিছু দেখাশোনা করে। আমাদের দুই বোনের যাবতীয় খরচ, মায়ের ঔষধপাতি সবদিকে সমান নজর তার। আমাদের পড়াশোনা করাতে গিয়ে ভাইয়া নিজে পড়াশোনা করতে পারেনি৷ এসএসসি পাস করার পর স্থানীয় এক বেকারি দোকানে কাজ নেয়। ধীরে ধীরে পুঁজি জমিয়ে একটা ছোট বেকারি দিয়েছে। এই বছরের শুরুর দিকে ভাইয়া জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। ভাইয়া নিজের ব্যাপারে অনেক উদাসীন। রোগটাকে সে একদম হেলা করেছে। যার দরুন তা গাঢ়িয়ে গেছে। পাশের গ্রামের কবিরাজের চিকিৎসা করেছে। কিন্তু ফলাফল ভালো নয়। ভাইয়া আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু ভাইয়াকে কিছুতেই শহরের ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজী করাতে পারিনি। কিছু বললে বলতো, এমনি ভালো হয়ে যাবো। ডাক্তারের কাছে গেলে কত খরচ হবে। এতো টাকা পাবো কোথায়? অবস্থা যখন অনেক খারাপ তখন আমরা জোর করে ভাইয়াকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছিলাম।'

সেতু এতটুকু বলে কান্নায় ভেঙে পরলো। আমি ওর মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

'তারপর ডাক্তার কি বললো?'

'ডাক্তার বললো আপনারা অনেক দেরী করে ফেলছেন। জন্ডিসকে অবহেলা করে ভাইয়া ঠিক করেনি।লিভারের ভেতরের দিকে পচন ধরে গেছে।অবস্থা অনেক খারাপ। তাকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তার হাতে সময় আছে ধরেন ১৬-১৭ দিন। আমরা কিছু করতে পারবো না। তাকে বাসায় নিয়ে যান। এই কথা শোনার পর আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পরছে আপু। কিছুতেই স্বাভাবিক থাকতে পারছি না। তবুও ভাইয়ার সামনে হাসিমুখে থাকতে হচ্ছে।'

'সবই বুঝলাম কিন্তু আমাকে অভিনয় করতে কেন বলছো?'

'আপনাকে অনেক আগের থেকে আমার ভাইয়া ভালোবাসে। কিন্তু বলেনি। আপনার পরিবার কখনও আমাদের মতো পরিবারে আপনাকে বিয়ে দিবে না তাই। কিন্তু এই শেষ মুহুর্তে ভাইয়ার মুখে হাসি ফুটাতে আমার আপনার কাছে আসতেই হলো। আমার ভাইটা অন্ততপক্ষে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আগে একটু খুশি নিয়ে যাক।'

'কিন্তু এটা তো তাকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে।'

'তাকে ভালো রাখার জন্য আপাতত আর কোন অপশন নেই আমার। প্লিজ অহনা আপু। আপনি রাজী হয়ে যান।'

মেয়েটার জোরজবরদস্তি আর করুন চেহারা দেখে আমি মানা করলাম না। ওকে বলে দিলাম আগামীকাল ওর ভাইকে যেনো বলে আমাকে প্রপোজ করতে। খুশিমনে সেতু আমায় জড়িয়ে ধরে প্রস্থান করলো।

পরেরদিন যথারীতি ওর ভাইয়ের সাথে সেতু হাজির। আমি পার্কের ভেতরের দিকে ছিলাম। হাসান আমায় দেখে উসখুস করছে। আমি হাসিমুখে সামনে এগিয়ে এসে বললাম,

'কি মিস্টার শুনলাম আমায় নাকি ভালোবাসেন?'

সে মাথা নিচু করে ফেললো। বোকার মতো মাথার পেছনটা চুলকে লাজুক হাসি দিলো। সেতু হাসানকে দিয়ে আমাকে প্রপোজ করালো। আমি পূর্বের কথার ন্যায় তার তা এক্সেপ্ট করলাম। মনে মনে আল্লাহর কাছে তোওবা কাটলাম। কাউকে কিছু দিন ভালো রাখার জন্য এভাবে অভিনয় করতে হবে কখনও ভাবিনি।

এরপর প্রতিদিন আমার ও হাসানের দেখা হতো।আমরা পার্কে বসে কখনো একসাথে বাদাম চিবুতাম।কখনো বা নদীর পাড়ে বসে গল্প জমাতাম। ছেলেটা ভীষণ সহজ সরল। চুপচাপ, ঠান্ডা স্বভাবের। চেহারা মা শা আল্লাহ! রোগা শরীরে মলিন হাসি সবসময় লেগে থাকতো। প্রথম প্রথম ভেবেছিলাম কথা জানে না। কিন্তু আমার ধারণা ভুল করে দিয়ে দেখা গেলো সে অনেক ফাজিল। কথা বলার অঙ্গিভঙ্গি দিয়ে প্রচুর হাসাতে পারে। এর সাথে থাকলে সময় ঘোড়ার দৌড়ের গতিতে পেরিয়ে যায়। মন ভালো করার ম্যাজিকাল পাওয়ার আছে হাসানের কাছে। সপ্তাহ ঘুরতেই তাকে আমার ভালো লেগে গেলো। একদিন বিকেলে তার সাথে নদীর পাড় ঘেঁষে হাঁটছি। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে উদাস কন্ঠে বললো,

'অহনা, যদি কখনো তোমায় ছেড়ে চলে যাই তুমি কি আমায় মিস করবে?'

আমি চমকে উঠলাম। কোনভাবে হাসানকে জেনে গেলো ও যে বেশি দিন বাঁচবে না? আমি নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখে কপট রাগ দেখিয়ে বললাম,

'কি ধরনের কথা এটা?'

হাসান ম্লান হেসে বললো,
'আমি জানি আমার কপালে এতো সুখ সইবে না।'

আমি কিছু বলার আগে সে কথা ঘুরিয়ে ফেললো।আমি শান্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুখন। জীবনটা দু পাতার মতো। এক পাতা পড়ে বুঝতে বুঝতে আরেক পাতা শেষ হয়ে যায়। তবে বইয়ের পাতা তো ফের পড়া যায়। কিন্তু জীবনের পাতা! আর পড়ার সুযোগ নেই।

পরেরদিন সেতু এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে খুশিতে আত্মহারা। আমি কারণ জিজ্ঞেস করতে সে বললো,

'ভাইয়াকে আজকাল অনেক খুশি দেখায়। যা তোমার কারণে সম্ভব হয়েছে। ধন্যবাদ অহনাপু!'

সময়ের কাটা বোধহয় খুব দ্রুত চলে গেলো। হাসানের সাথে অভিনয় করতে করতে কখন যে সত্যি সত্যি পছন্দ করে ফেলেছি নিজেই জানি না। দুই সপ্তাহ পরের ঘটনা। ১৪ দিনের মাথায় হাসানকে কল করে মোবাইল বন্ধ পেলাম। বুকের ভেতর ঢিপঢিপ করছে। সময় তো ঘনিয়ে এসেছে। কোন খারাপ সংবাদ নয় তো। সেতুর নাম্বারে কল করে ব্যস্ত পাচ্ছি। আমার হাত-পা কাপছে। হাসানের মোবাইল কখনও বন্ধ পাইনি। গতকাল রাতে বললো শরীরটা বেশি ভালো লাগছে না। মনটা আমার কু ডাকছে। অস্থিরতায় আমার সারা শরীর ঘেমে দরদর করে ঘাম পরছে। প্রায় বিশ মিনিট পর সেতুর কল। আমি রিসিভ করে দ্রুত জিজ্ঞেস করলাম,

'সেতু, হাসান কোথায়? ওর মোবাইল বন্ধ। ও ঠিক আছে তো?কথা বলছো না কেন?'

সেতুর চাপা স্বরের কান্না শুনে আমার হৃৎপিণ্ড অনরবত লাফাতে আরম্ভ করেছে। কিছু সময় সেতুর কান্নায় হেঁচকি উঠে গেছে। আমি রিতীমত বিরক্ত। হাসানের কোন খবর দিচ্ছে না কেন? সেতু নিজেকে একটু সামলে বললো,

'তোমার ঋণ কিভাবে শোধ করবো জানি না আপু। তুমি আমাদের অনেক বড় উপকার করছো।'

আমি অস্থির গলায় বললাম,
'এসব কথা রাখো। আগে বলো হাসান কেমন আছে?'

'অনেক ভালো আছে আপু। ঐ যে,উঠানের খাটটায় শান্তিতে ঘুমিয়ে আছে।'

'মানে?'

'আমার ভাইয়া আর নেই গো আপু। ফজরের পর সে না ফেরার দেশে চলে গেছে।'

#সমাপ্ত

দু_পাতার_জীবন

ভুল হলে অবশ্যই ধরিয়ে দিবেন। কিন্তু বকা দিয়েন না☹️।

27/09/2022

আমি বিয়ে করেছি ২০০১ সালের ৭ই জুন।

সেই হিসেবে এই বছর ৭ই জুন ছিল আমাদের ২১তম বিয়ে বার্ষিকী।

বিয়ের দুই তিন বছর,বাচ্চা হওয়ার আগ পর্যন্ত বিয়ে বার্ষিকী পালন করতাম।

বউকে বাইরে নিয়ে যেতাম,পছন্দের ড্রেস কিনে দিতাম। ফুল কিনে দিতাম।পছন্দের মুভি দেখতাম। ফেরার পথে ভালো কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়াদাওয়া করতাম।

বাচ্চা হওয়ার পর এসব বন্ধ হয়ে গেলো।

স্বাভাবিক কারনেই বাচ্চা হওয়ার পর বউয়ের কাছে স্বামীর গুরুত্ব কমে যায়। হয়তো ভালবাসাও। এই সময়ে এসে ভালবাসা বাচ্চার সাথে ভাগাভাগি হয়ে যায়।

আমার দুই বাচ্চা। ওদেরকে নিয়েই বউয়ের জগৎ। আমার চেয়ে বাচ্চাদের দিকেই তার মনোযোগ বেশি। হয়তো সব মায়েরাই তা করেন।

আজকাল বিয়ে বার্ষিকীর কথা মনেই থাকে না। কেউ হয়তো মনে রাখার চেষ্টাও করি না। নিজেদের জম্মদিনও তেমন একটা পালন করা হয় না।

এই বছর ৭ই জুনের ঘটনা।

আমি ডায়াবেটিস রোগী। সকাল বেলা রুটি সবজি আর একটা সিদ্ধ ডিম খেয়ে বেরিয়ে গেলাম। বউকে বলে গেলাম, দুপুরবেলা বাসায় এসে খাবো।

নারায়ণগঞ্জ গিয়ে কাজে আটকা পড়ে গেলাম। দুপুর গড়িয়ে রাত হয়ে গেল।

এই সময়ের মধ্যে বাসা থেকে কয়েকবার ফোন চলে এলো।

সন্ধ্যার পর একটা কফিশপে গিয়ে একজনের সাথে কফি খাচ্ছি। পাশে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সে তাদের বিয়ে বার্ষিকীর কেক নিতে এসেছে। তখন আমার মনে হলো, আরে! আজকে তো আমাদেরও বিয়ে বার্ষিকী!

হিসাব করে দেখলাম,সেদিন আমাদের ২১তম বিয়ে বার্ষিকী! মনে মনে বললাম, বউকে একটা সারপ্রাইজ দিলে কেমন হয়?

বাসায় ফোন দিলাম। ধরলো মেয়ে। আমি বললাম, মামুনি, আজকে বাসায় খেও না,তোমার জন্য নানরুটি আর গ্রিল আনবো। মাকেও খেতে নিষেধ কর।

গ্রিল আর নানরুটি আমার মেয়ের ভীষন পছন্দ।

কিছুক্ষণ পরই বউ ফোন দিয়ে বলল, কিছু আনার দরকার নাই, দুপুর এবং রাতের খাবার রান্না করা আছে। তুমি এমনিতেই দুপুরে খাও নাই। খাবার নষ্ট হবে।

আমি বললাম, নষ্ট হয় হউক। একদিনের ব্যাপার। ছেলেকেও খেতে নিষেধ কর। তোমার জন্য কী আনবো?

বউ বলল, কিছুই আনতে হবে না। শুধু শুধু টাকা নষ্ট করার দরকার নাই। ফ্রিজে খাবার আছে, গরম করে নিলেই হবে।

আমি জানি, বউ কাচ্চি বিরিয়ানি আর টিক্কা বেশ পছন্দ করে। সাথে বাদামের জুস।

আমি একটা দুই পাউন্ড কেক অর্ডার করে smartex এর দোকানে গেলাম। দোকানদার আমার বেশ ঘনিষ্ঠ। ঈদ উপলক্ষে তো এমনিতেই বউকে কিছু দিতে হবে। এই উপলক্ষে বউয়ের পছন্দের কালারের একটা ড্রেস কিনে ফেললাম।

এখন কিনলে ঈদে আর লাগবে না।

'সুগন্ধা' রেস্টুরেন্টে গিয়ে চারটা গ্রিল, নানরুটি আর বোরহানি নিলাম।

চাষাড়ায় 'কাচ্চিভাই' বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ওখানে গিয়ে কাচ্চি বিরানি আর বাদামের জুস নিলাম। সাথে টিক্কা।

তারপর কেক নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

বাসায় ফিরতে ফিরতে দশটা বেজে গেল।

আমার এক ছেলে এক মেয়ে।
ওরা বসে বসে টিভি দেখছে। ওদের মা পাশের রুমে কাপড় গোছাচ্ছে।

মেয়েকে সব খুলে বললাম।

মেয়ে দ্রুতই টেবিলে সব কিছু সাজিয়ে ফেলল। কেকের চারপাশে একুশটা মোমবাতি জ্বালিয়ে দিলো। সব কিছু গুছিয়ে মাকে ডাকতে গেলো।

বউ এসেই হৈ চৈ শুরু করলো, রাগী রাগী গলায় আমার দিকে তাকিয়ে বলল, বুড়ো বয়সে এইসব কী ঢং ! আহ্লাদ করার আর জায়গা পাও না, নাকি!!

আমি বললাম, আজকের দিনটার কথা তোমার মনে ছিল?

বউ অভিমানের গলায় বলল, মনে থাকবে না কেন?

আমাকে বল নাই কেন?

সে যেন নিজেই নিজেকে বলছে এমন করে বলল, সব কথা সব সময় বলতে নাই। কিছু কিছু প্রিয় কথা থাকে, বলতে ইচ্ছা করে না। কাউকে না!

বুঝলাম, তার বুকে অভিমান জমেছে।

আমি কথা বলতে পারলাম না। ভাষা হারিয়ে ফেললাম। বুঝতে পারলাম, এক বুক অভিমান নিয়েও মেয়েরা হাসি মুখে সংসার করে যায়। কোন অভিযোগ না করেও!

তারা সুখের অভিনয় ভালো পারে।

আমরা মেয়ের জম্মদিন পালন করি, কন্যা দিবস পালন করি, বউয়ের কথা মনে করি না।

মেয়ে বলল,মা, বাবা তোমার জন্য সুন্দর একটা ড্রেস এনেছে,এক্ষুনি পরে এসো তো!

বউ কিছুতেই নতুন ড্রেস পরবে না। সে বলল,খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে। তোরা খেতে শুরু কর।

মেয়ে বলল,খাবার ঠান্ডা হয় হউক। তুমি নতুন ড্রেস না পরলে আমরা কেউ কিছু খাবো না।

অগত্যা বউ নতুন ড্রেস নিয়ে অন্য রুমে চলে গেলো। মেয়ের অনুরোধে আমি কাপড় চেইন্জ করে নতুন একটা পান্জাবি পরলাম।

দশ মিনিটের মাথায় বউ নতুন ড্রেস পরে সাজগোছ করে বেড়িয়ে এলো। মেয়ে দৌড়ে মোবাইল নিয়ে এলো ছবি তোলার জন্য।

মেয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে বলল,মা তোমাকে তো অসাধারন লাগছে, একেবারে তামিল নায়িকাদের মতো!

মা মেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে হাসতে লাগলো।

বউয়ের মুখে এখন আর রাগী ভাবটা নাই,তার মুখে সুখী সুখী একটা ভাব চলে এসেছে।

আমরা সবাই মিলে কেক কাটলাম।

কেক কাটার সময় বউ প্রান খুলে হাসছে। আমার দিকে বারবার লজ্জা নিয়ে তাকাচ্ছে। সবার মুখে কেক তুলে দিচ্ছে।

আমি মনে করতে পারলাম না, লাস্ট কবে বউয়ের এমন আনন্দময় মুখ দেখেছি। নিজেকে কেন যেন অপরাধী মনে হতে লাগল।

কেক কাটতে কাটতে মেয়ে বলল,হ্যাপি বিবাহ বার্ষিকী, মা। বাবা, তোমাকেও ধন্যবাদ।

আনন্দে আমার চোখে পানি চলে এলো।

মনে হল, হায়! এই ছোট ছোট আনন্দ গুলোই তো মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরনা। মানুষ তো আনন্দের জন্যই বাঁচে।

আমার মনে হলো, অনেকদিন হয়,বউয়ের মুখে এমন প্রানখোলা হাসি দেখি নাই। অথচ, এই হাসি দেখার জন্য খুব বেশি অর্থ খরচ করতে হয় না।

বউকে তো ঈদের ড্রেস কিনে দিতেই হতো। যেহেতু ঈদ কাছাকাছি চলে এসেছে। সে বাহুল্য খরচ পছন্দ করে না।

কেক আর খাবার বাবদ খরচ হয়েছে চার হাজার টাকার মতো। অথচ, এরচেয়ে অনেক বেশি টাকা অকারণে খরচ করে ফেলি।

মাত্র চার হাজার টাকা খরচ করে আমি একটা বিশাল আনন্দের মূহুর্ত কিনে ফেললাম!

Want your business to be the top-listed Realtor/realty Service in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

নরসিংদী
Dhaka
FFRAHMOTUL