Musafir

Musafir

Share

30/09/2025

একদিন হঠাৎ করে মনে হবে, তুমি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলে কারো জীবনে। একজন ছিলো, যে প্রতিদিন তোমার খোঁজ নিতো, যে প্রতিটি ক্ষুদ্র মুহূর্তে তোমার কথা ভাবতো, যার কাছে তুমি শুধুই তার শখের মানুষ।

তুমি তখন বুঝবে, এই পৃথিবীতে কেউ তোমার জন্য এতটা যত্নশীল হতে পারে এতটা খোঁজ রাখতে পারে এমন একজন মানুষ ছিলো।

যখন তোমার সব কিছু থাকবে, তবুও বুকের ভেতর এক ফাঁকা জায়গা খা-খা করবে। কারণ তখনই তোমার উপলব্ধি হবে, একজন মানুষ ছিলো, যার কাছে তুমি তার পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি, তার সবচেয়ে প্রিয় শখের মানুষ কিন্তু তুমি কখনো সেই মূল্য দিতে শিখোনি।

30/09/2025

মানুষের ভেতরে একটা স্পার্ক থাকে। সেটা কিন্তু দেখা যায়।
আমি পড়ি, দেখি, শুনি এবং উজ্জীবিত থাকার চেষ্টা করি।
আমার পরে কারা কী করছে, নতুন প্রজন্মের বিশেষ ভূমিকা কী, সেগুলো যদি আমি না দেখতে পারি, না বুঝি, তাহলে তো আমি মৃত।

মানুষের জীবন তো একটা দীর্ঘ যাত্রা৷ সেই যাত্রাপথে নানা বাঁক রয়েছে৷ সেই সেই বাঁকে বাঁকে কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে থাকে। আরেকটুখানি পথ এগিয়ে দেওয়ার জন্যে৷
একজন মানুষকে শোনা, এটা অনেক বড় ব্যাপার৷ বর্তমানে আমরা কাউকে শুনি না৷ শোনাতে চাই৷
আমি ভালো হতে পারি তখনই, যখনই আমি আরেকজন মানুষকে ভালো ভাবতে পারি।

মানুষ মানুষকে সুযোগ দিতে চায় না।
নারী পুরুষের প্রেম দৈর্ঘ্যে প্রস্থে তেমন বিস্তৃত নয়, কিন্তু বন্ধুত্ব অনেক বড় ব্যাপার৷ বন্ধুত্বের মধ্যেও প্রেম থাকে।
নির্লোভ থাকলে জটিলতাবিহীন একটা জীবন পাওয়া যায়।
তোমার যদি কাজের শেষে ঘরে ফেরার টান না থাকে, তুমি কী জীবন বহন করছো?

আমরা শুধু কথা বলে যাই৷ আমরা কিন্তু অনুভব করতে চাই না।
সৌন্দর্য দেখা মানুষ কখনো পাপ করতে পারে না।

আমাদের প্রত্যেকের আকাশে জোছনা আসে৷ আমরা কয়জন দেখি?
প্রত্যেকের জীবনে ভোর আসে, আমরা কয়জন দেখি?
যা কিছু সুন্দর, তা যদি উপভোগ করার ইচ্ছা আমার মনে থাকে, তাহলে যা মন্দ, তা আমাকে স্পর্শ করবে না সহজে৷

আমি শুধু অভাব অভিযোগের কথা বলবো, এটা তো আমার দায়িত্ব না৷ নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে- আমি কী করছি? আমার দ্বারা কোনো অনিষ্টসাধন হচ্ছে কিনা, মানুষের, সম্পর্কের, দেশের।
প্রত্যেকের নিজের একটা বৃত্ত আছে, ওই বৃত্তের মধ্যে আমরা ঘোরাফেরা করি, আরেক বৃত্ত সম্পর্কে আসলে খুব জানা হয় না।

যারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তারা কিন্তু বিনিময়ে কিছু পাচ্ছে না। প্রশংসাও পায় না৷ একজন টমেটো চাষী, সে তো ঋণ করে চাষ করছে৷ সেই টমেটো যখন কারওয়ান বাজারে এসে পৌঁছায়, তখন যা দাম হয়, সেটার অর্ধেক পয়সা তো ওই চাষীটা পায় না৷ সে কি চাষ বন্ধ রাখে? তার জীবনে স্বচ্ছলতা ফেরে না৷ তার হাহাকার কমে না। তবু সে চাষটা করে বলে আমরা ভালো থাকি।

ঘৃণা যে কেউ করতে পারে৷ ভালোবাসতে পারার জন্য যোগ্যতা থাকা লাগে।
সব মানুষই তো আসলে সমান সংবেদনশীল না৷ এজন্য কারো কথায় বেদনার্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

23/09/2025

পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো 🙏
ছুটি কাটিয়ে দেশ থেকে আসার তিন মাস পরে জানলাম, আমি নাকি বাপ হবো! ফোনে খবরটা দিতে গিয়ে বউডা আমার লজ্জায় মইরা যাইতেছিলো।
ছেলে হইবো নাকি মেয়ে- এই নিয়ে রোজ খুনসুটি করতাম দুইজনে। ইচ্ছা করতো, চাকরি ফেলে এক্ষণই দেশের বিমানে উঠে বসি, চলে যাই বউয়ের কাছে।

কিন্ত সেটা করলে তো নতুন মেহমানরে না খেয়ে থাকা লাগবে। কোম্পানীতে বলে রাখলাম ছুটির কথা। তাদের আবার নিয়ম, একবার ছুটি কাটানোর এক বছর পার হওয়ার আগে আবার ছুটি নেয়া যায় না। হিসাব করে দেখলাম, বাচ্চার বয়স দুইমাস হইলে পরে আমি দেশে যাইতে পারব।

জুন মাসে আমার মেয়েটা দুনিয়ার আলো দেখলো, ভিডিও কলে আমিও দেখলাম আমার মায়েরে। আকিকা দিয়া নাম রাখা হইলো লামিয়া। আগস্টের শেষ সপ্তায় দেশে আসবো, ছুটি পাইলাম ১৫ দিনের, বিমানের টিকেটও করা শেষ। মেয়ের জন্যে কি কিনবো, মেয়ের মায়েরে কি উপহার দিব সেই চিন্তায় পেরেশান হয়ে আছি, কারো বুদ্ধিই মনে ধরে না। প্রথম বাবা হওয়ার অনুভূতি বলে কথা।

ঢাকায় তখন ডেঙ্গু ছড়াইতেছে, হাজার হাজার মানুষ হাসপাতালে ভর্তি। আমি তখনও কিছু জানি না, নিজের চিন্তায় ব্যস্ত। একদিন ফোনে বউ বললো, মেয়েটার নাকি জ্বর দুইদিন ধরে। ডেঙ্গুর কথা মাথায়ও আসে নাই, এই সর্বনাশা "ঘা ত ক" যে ঢাকা থেকে এতদূরে গিয়া হাজির হবে, কে জানতো? বউরে বললাম, ডাক্তার দেখাইতে। আরও একদিন গেল, শুনলাম জ্বর নামছে, কিন্ত বাচ্চার খাওয়াদাওয়া বন্ধ, শরীর খুব দুর্বল, কান্নাকাটিও করে না।

একদিন পরে শুনি, আমার মেয়েটার নাকি ডেঙ্গু হইছে, তারে ভর্তি করা হইছে হাসপাতালে! আমার মাথার উপরে যেন গোটা আসমান ভেঙে পড়লো, দুনিয়াটা ছোট হইয়া আসলো এক মূহুর্তে! দেড়মাসের বাচ্চাটা যখন হাসপাতালে যু-দ্ধ করতেসে ডেঙ্গুর সাথে, আমি তখন কাতারে যু - দ্ধ করতেসি প্লেনের টিকেট আগায়ে আনার জন্যে।

অফিসে জানাইলাম, ছুটি না আগাইলে আমি চাকরি ছাইড়া দিব। মেয়ের চাইতে দামী কিছু আমার কাছে নাই। তারা রাজী হইলো। তিনদিন পরের টিকেটও ম্যানেজ করে ফেললাম। আর তিন-চারটা দিন পরেই আমি আমার মেয়েটারে কোলে নিতে পারবো! ফোনে খবর পাই, মেয়ের অবস্থা নাকি ভালো না, তারে আইসিইউতে রাখা হইছে। আমার কাছে প্রতিটা মিনিটরে তখন একেকটা দিনের সমান লম্বা মনে হয়!

যেদিন প্লেনে উঠবো, তার আগেরদিন ফোনটা আসলো। মেয়েটা আমার মা-রা গেছে, ডেঙ্গুর কারনে,, ফোনে আমি শুধু বললাম, আমার বউটারে একটু দেখে রাইখেন, আমি আসতেছি। দুইদিন পরে আমি বাড়ির উঠানে পা রাখলাম, ঘর থেকে শুধু আগরবাতির গন্ধ নাকে আসে।

এই বাড়িতে একটা ফুটফুটে ফেরেশতা জন্ম নিছিলো, আমার বাচ্চা, আমার সন্তান। সেই সন্তানরে আমি একটাবারের জন্যে কোলে নিতে পারি নাই, একটু আদর করতে পারি নাই। আমার মেয়েটা দেড়মাস পৃথিবীতে থাকলো, হাসলো, কান্না করলো, রোগে ভুগে দুনিয়া ছেড়ে চইলাও গেল, অথচ একটাবার সে তার বাবার স্প'র্শ পাইলো না! বাপ হইয়া আমি নিজেরে কেমনে ক্ষমা করি বলেন?

কাতারে থাকি শুনলে অনেকেই ভাবেন টাকার বিছানায় ঘুমাই বুঝি। আমরা প্রবাসীরা আসলে ক'ষ্টের সাগরে ভাসতে থাকি। কাজের ক'ষ্ট, খাওয়ার ক'ষ্ট, এগুলা তো গায়ে লাগে না। ক'ষ্ট লাগে আপনজনের কাছ থেকে দূরে থাকতে, প্রিয় মানুষগুলার কাছ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকার যে কি য'ন্ত্রণা, সেইটা সবাই বুঝবে না। নিজের সন্তানরে একটাবারও না দেখে তার ক'ব'র জেয়ারত করার যে কি ক'ষ্ট, সেইটা কাউরে বলে বুঝানো যাবে না! কাউরে নাহ।

কাতার থেকে এক ভাই inbox এ পাঠিয়েছে

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Address

Dhaka