Simrin Lubaba
বেপর্দা নারী - ১
যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সরাসরি জাহান্নামের উল্লেখ করেছেন, বেপর্দা নারী তাদের অন্যতম। যা মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম। মানুষের ঈমান ধ্বংসেরও কারণ বটে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُوْنَ.
‘এবং তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হ’তে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে যাতে তোমরা তাদের নিকট শামিত্ম পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। চিমত্মাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে’ (রূম ২১)।
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلاَ تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الأُولَى- ‘তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীদের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করো না’ (আহযাব ৩৩)।
জাহেলী যুগে নারীরা নগ্ন, অর্ধনগ্ন হয়ে নিজেদেরকে প্রদর্শন করত যাকে বর্বরতা ও অসভ্য বলা হয়েছে। আমাদের নারীদেরকে এ নির্লজ্জতা, অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা পথ অবলম্বন করতে আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ وَبَنَاتِكَ وَنِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ يُدْنِينَ عَلَيْهِنَّ مِنْ جَلاَبِيبِهِنَّ ذَلِكَ أَدْنَى أَنْ يُعْرَفْنَ فَلاَ يُؤْذَيْنَ-
‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে বলে দিন যে, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না’ (আহযাব ৫৯)।
এ আয়াতে স্বাধীন নারীদেরকে এক বিশেষ ধরনের পর্দার আদেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন মাথার উপর দিক থেকে চাদর ঝুলিয়ে মুখ ঢেকে রাখে। যাতে সাধারণ দাসীদের থেকে তাদের স্বাতন্ত্র্য ফুটে উঠে এবং দুষ্টদের কবল থেকে নিরাপদ থাকে। আল্লাহ্ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلاَ يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلاَّ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ-
‘হে নবী! আপনি ঈমানদার নারীদের বলে দিন। তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান থাকে তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তাদের গ্রীবা ও হবদেশ চাদর দ্বারা ঢেকে রাখে’ (নূর ৩১)।
অত্র আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা নারীদেরকে দৃষ্টি নত রাখার জন্য আদেশ করেছেন। কারণ যেসব দৃশ্য পুরুষের জন্য ক্ষতিকর, সেসব দৃশ্য নারীর জন্যও ক্ষতিকর। আল্লাহ্ তা‘আলা অন্যত্র বলেন
وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ-
‘তোমরা তাদের নিকট কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাও। এটা তোমাদের এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ’ (আহযাব ৫৩)।
অত্র আয়াতের সারমর্ম এই যে, নারীদের কাছ থেকে অন্য কোন পুরুষ কোন ব্যবহারিক পাত্র, বস্ত্র ইত্যাদি নেয়া যরুরী হ’লে সামনে এসে নিবে না; বরং পর্দার অন্তরাল থেকে চাইবে। দেয়াল, দরজা ও পোশাক অন্তরাল হ’তে পারে। অত্র আয়াতে আরও বলা হয়েছে যে, পর্দার এই বিধান পুরুষ ও নারী উভয়ের অন্তরকে মানসিক কুমন্ত্রণা থেকে পবিত্র রাখে।
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন,
وَالْقَوَاعِدُ مِنْ النِّسَاءِ اللاَّتِي لاَ يَرْجُونَ نِكَاحًا فَلَيْسَ عَلَيْهِنَّ جُنَاحٌ أَنْ يَضَعْنَ ثِيَابَهُنَّ غَيْرَ مُتَبَرِّجَاتٍ بِزِينَةٍ وَأَنْ يَسْتَعْفِفْنَ خَيْرٌ لَهُنَّ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ-
‘বৃদ্ধ নারী যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের বহির্বাস পোষাক (চাদর, বোরকা ইত্যাদি) খুলে রাখলে কোন অপরাধ হবে না। তবে এটা হতে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ’ (নূর ৬০)
অত্র আয়াতে পর্দার বিশেষ পোষাক পরা ভাল বলা হয়েছে। যদিও সমাজে এ আয়াতের সরাসরি বিরোধিতা করা হয়। অর্থাৎ বয়ঃপ্রাপ্তা মা বোরকা পরিধান করেন অথচ সাথে পূর্ণ যুবতী মেয়ে নগ্ন-অর্ধনগ্ন হয়ে থাকে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ
ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘আমি জান্নাতের প্রতি লক্ষ্য করলাম দেখলাম জান্নাতের অধিকাংশ অধিবাসী দরিদ্র। অতঃপর জাহান্নামের প্রতি লক্ষ্য করলাম এবং দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী নারী’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫২৩৪; বাংলা ৯ম খন্ড, হা/৫০০৫ ‘মন ভোলানো’ অধ্যায়)।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لاَ يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ وَلاَ الْمَرْأَةُ إِلَى عَوْرَةِ الْمَرْأَةِ وَلاَ يُفْضِي الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ وَلاَ تُفْضِي الْمَرْأَةُ إِلَى الْمَرْأَةِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ.
আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক পুরুষ অপর পুরুষের গুপ্তাঙ্গের প্রতি লক্ষ্য করতে পারে না। তেমনি এক নারী অপর নারীর গুপ্তাঙ্গের প্রতি লক্ষ্য করতে পারে না। দু’জন পুরুষ একটি কাপড়ের নীচে শয্যা গ্রহণ করতে পারে না। তেমনি দু’জন নারী একটি কাপড়ের নীচে শয্যা গ্রহণ করতে পারে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩১০০; বাংলা ৬ষ্ঠ খন্ড, হা/২৯৬৬ ‘বিবাহ’ অধ্যায়)।
অত্র হাদীছে রাসূল (ছাঃ) অনেক বিষয়ে পুরুষকে পুরুষ থেকে এবং নারীকে নারী থেকে পর্দা করতে বলেছেন। বিশেষ করে হাতের কব্জি ও মুখমণ্ডল ব্যতীত একজন নারী অপর নারীর বাকী অঙ্গের প্রতি লক্ষ্য করতে পারে না’।
عَنْ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ تُبَاشِرُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ فَتَنْعَتْهَا لِزَوْجِهَا كَأَنَّه
20/05/2026
আজ রামিসার ,! কাল কার মেয়ে?
মাত্র ৭ বছরের একটা শিশু...
যে বয়সে তার হাসিখুশি শৈশব থাকার কথা ছিল, সেই বয়সেই তাকে নির্মমভাবে পৃথিবী থেকে কেড়ে নেওয়া হলো।
আমরা যদি আজ চুপ থাকি, তাহলে কাল আরেকটা নিরীহ প্রাণ এভাবেই শেষ হবে।
না হলে এই অন্ধকার চলতেই থাকবে।
ইসলাম নারীদের সম্মান, নিরাপত্তা আর মর্যাদা দিয়েছে।
যে নারীকে অপমান করে, নির্যাতন করে, হত্যা করে—সে শুধু আইন না, আল্লাহর কাছেও বড় জালিম।
যে নিরপরাধের উপর জুলুম করে, সে শুধু আইনের কাছেই না, আল্লাহর কাছেও জালিম।
বাংলাদেশকে বদলাতে হলে আমাদের নীরবতা ভাঙতে হবে।
কারণ অন্যায়ের সামনে চুপ থাকা কখনো সমাধান না।
রামিসার জন্য বিচার শুধু একটা পরিবারের দাবি না — এটা পুরো দেশের বিবেকের দাবি।
#বাংলাদেশ
14/05/2026
⚔️ আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু কে? ⚔️
একবার চিন্তা করুন তো! আপনার বাইরের শত্রু, যারা আপনার ক্ষতি করতে চায়, তারা কি আসলেই আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু? 🤔
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) কত সুন্দর কথাই না বলেছেন:
"বাহিরের শত্রু আমার কী ক্ষতি করবে? যখন আমার সবচেয়ে বড় শত্রু আমার নিজের নফস!"
আমাদের সবার ভেতরেই এই শত্রুটা বাস করে। যার নাম 'নফস' (النَّفْس)। এই নফসকে যদি কন্ট্রোল বা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তবে তা একজন ঈমানদারের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
❓ নফস আসলে কী?
সহজ কথায়, নফস হলো আমাদের ভেতরের 'আমি', আমাদের প্রবৃত্তি, ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা। ইসলামে নফসকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. নফসে আম্মারা: যে নফস মানুষকে খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে।
২. নফসে লাওয়্যামা: যে নফস খারাপ কাজ করার পর অনুতপ্ত হয়, নিজেকে তিরস্কার করে।
৩. নফসে মুতমাইন্না: যে নফস আল্লাহর আনুগত্যে প্রশান্তি লাভ করে।
আমাদের লড়াইটা মূলত 'নফসে আম্মারা'র বিরুদ্ধে, যাতে আমরা 'নফসে মুতমাইন্না'র স্তরে পৌঁছাতে পারি।
📖 কুরআন ও সুন্নাহ কী বলে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুরআনে ইউসুফ (আঃ) এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে নফসের কথা উল্লেখ করেছেন:
إِنَّ النَّفْسَ لَأَمَّارَةٌ بِالسُّوءِ
"নিশ্চয়ই মানুষের নফস খারাপ কাজের দিকে প্ররোচনা দেয়।"
(সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৫৩) 📖
দেখুন, আল্লাহ নিজেই আমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন যে আমাদের ভেতরের এই সত্তাটা মন্দের দিকেই বেশি টানে।
আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) নফসের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে 'জিহাদে আকবর' বা 'সবচেয়ে বড় জিহাদ' বলেছেন। কারণ বাইরের শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা সহজ, কিন্তু নিজের ভেতরের শত্রুর সাথে যুদ্ধ করা অনেক বেশি কঠিন। তিনি (ﷺ) নিজেও সবসময় নফসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
🥀 যখন নফস শত্রু হয়ে যায়...
যখন আমরা নফসের গোলাম হয়ে যাই, তখন কী হয়?
• আমরা জেনে-বুঝে গুনাহের কাজে লিপ্ত হই। 😔
• ইবাদতে মন বসে না, গাফিলতি চলে আসে। 😮💨
• অন্তরে অহংকার, হিংসা, লোভ জন্মায়। 😣
• আল্লাহর স্মরণ থেকে আমরা দূরে সরে যাই। 😭
• দুনিয়ার মোহে আমরা অন্ধ হয়ে পড়ি। 💔
🛡️ নফসকে কন্ট্রোলে আনার ৫টি উপায়:
তাহলে এই শক্তিশালী শত্রুকে দমন করার উপায় কী? আসুন জেনে নেই কিছু পরীক্ষিত পদ্ধতি:
১. তাকওয়া অবলম্বন করা (আল্লাহকে ভয় করা): ☝️
যখনই কোনো গুনাহ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করলে সে তাকে নির্লজ্জতা ও অপকর্মের আদেশ দেবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের একজনও কক্ষনো পবিত্রতা লাভ করতে পারতো না। অবশ্য যাকে ইচ্ছে আল্লাহ পবিত্র করে থাকেন, আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সর্ববিষয়ে অবগত।
- সূরা আন নূর - ২১
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱسْتَعِينُوا۟ بِٱلصَّبْرِ وَٱلصَّلَوٰةِ ۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّـٰبِرِينَ ١٥٣
"O believers! Seek comfort in patience and prayer. Allah is truly with those who are patient"~ Sura Al-Baqarah 153.
অর্থ: হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের (নামাযের) মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন। সূরা আল বাকারা ১৫৩।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the public figure
Address
1206