Finally Divorced

Finally Divorced

Share

29/07/2025

বিশ্বাসের ঘর

মিথিলার ছোটবেলা কেটেছে ভালোবাসার উষ্ণ ছায়ায়। তার পৃথিবীটা ছিল একটা কাঁচের ঘরের মতো, যেখানে প্রতিটি ইঁট গাঁথা ছিল বিশ্বাস দিয়ে। আর সেই ঘরের প্রধান স্তম্ভ ছিল তার বিশ্বাস। সে বিশ্বাস করত, এই পৃথিবীতে মানুষ ঠকায় না, ভালোবাসা মিথ্যা হয় না। তার এই সরল বিশ্বাস অনেক সময় তাকে বন্ধুদের কাছে হাসির পাত্র বানাত, কিন্তু মিথিলা তার জায়গায় অটল ছিল।
কলেজে পা রাখার পর মিথিলার জীবনে আসে রাফিদ। রাফিদ ছিল স্মার্ট, বুদ্ধিমান এবং কথায় পটু। প্রথম দেখাতেই রাফিদ মিথিলার সেই কাঁচের ঘরে একটা নতুন জানালা খুলে দিয়েছিল। মিথিলা রাফিদকে ভালোবেসেছিল তার সবটা দিয়ে। রাফিদও তাকে বোঝাতো যে, মিথিলার বিশ্বাসই তাদের সম্পর্কের ভিত্তি। মিথিলা তার সব গোপন কথা, সব স্বপ্ন রাফিদকে বলতো। রাফিদ ছিল তার জীবনে সেই নির্ভুল আশ্রয়, যেখানে মিথিলা চোখ বন্ধ করে ভরসা করতে পারত।
দিন যাচ্ছিল, মিথিলার কাঁচের ঘরটা আরও মজবুত হচ্ছিল রাফিদকে ঘিরে। কিন্তু মিথিলা জানত না, সেই ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক বিষাক্ত পোকা। রাফিদ ধীরে ধীরে মিথিলার এই সরলতার সুযোগ নিতে শুরু করে। সে মিথিলার পারিবারিক তথ্য, আর্থিক অবস্থা, এমনকি বন্ধুদের ব্যক্তিগত বিষয়গুলোও কৌশলে জেনে নিত। মিথিলা ভাবত, এটা রাফিদুলের ভালোবাসা আর আগ্রহের প্রকাশ।
একদিন মিথিলার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ফোন করে জানাল, তাদের কোম্পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে, যা শুধু মিথিলা আর তার বস জানতেন। একই সময়ে, মিথিলার পারিবারিক ব্যবসায় কিছু আর্থিক জটিলতা দেখা দিল, যেখানে বাইরের কেউ জড়িত না থাকলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। মিথিলার মাথায় বাজ পড়ল। তার কাঁচের ঘরটা হঠাৎই কেঁপে উঠল। সে রাফিদকে ফোন করল, কিন্তু রাফিদ ছিল অন্য শহরে, এমনই জানাল।
এরপর মিথিলা যখন বন্ধুদের সাথে কথা বলতে শুরু করল, তখন সে জানতে পারল, রাফিদ তার সম্পর্কে কিছু অপ্রীতিকর গুজব ছড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাফিদ মিথিলার দুর্বল জায়গাগুলো ব্যবহার করে তার নিজের সুবিধার জন্য কাজ করছিল। মিথিলার মাথায় হাত। তার ভালোবাসার বিশ্বাসের ঘরে রাফিদ তিল তিল করে ভাঙন ধরিয়েছে। যে বিশ্বাস নিয়ে সে এতদিন বেঁচে ছিল, সেই বিশ্বাসই আজ ধুলোয় মিশে গেল।
মিথিলা রাফিদুলের মুখোমুখি হলো। রাফিদ প্রথমে সব অস্বীকার করার চেষ্টা করল, কিন্তু মিথিলার সামনে যখন সব প্রমাণ তুলে ধরল, তখন রাফিদ নিরুপায় হয়ে সব স্বীকার করে নিল। রাফিদ বলেছিল, "আমি অপরাধি। তোমার ভালোবাসার বিশ্বাসের ঘরে আমি বিশ্বাস ভেঙে হয়েছি বিশ্বাসঘাতক।"
সেই মুহূর্তে মিথিলার পৃথিবীটা যেন শূন্য হয়ে গেল। তার কাঁচের ঘরটা ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। কিন্তু সেই ভাঙা টুকরোগুলো থেকে মিথিলা নতুন করে শিখল। সে বুঝল, বিশ্বাস যেমন মানুষকে বাঁচার রসদ যোগায়, তেমনি অন্ধ বিশ্বাস মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। মিথিলা সেই ভাঙা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে তার পথচলা শুরু করল। এবার সে ঘর বানাবে, তবে তা অন্ধ বিশ্বাস দিয়ে নয়, বরং সতর্ক আর অভিজ্ঞতার শক্ত গাঁথুনি দিয়ে।

07/05/2025

ডিভোর্সের মতো একটা কঠিন সিদ্ধান্ত কখন নেয় মানুষ

02/05/2025

এটা আমার কাছে খুবই অবাক লাগে, দুইটা মানুষের শারীরিক গঠনে এত মিল কি করে হয় !!!
আমার আর ওর মধ্যে শারীরিক গঠনে অনেক মিল ছিল , প্রেমটাও ছিল ঐশ্বরিক ।‌প্রচন্ড ভালোবাসতাম তাকে আমি , অনেক বেশি, অনেক বেশি ভালোবাসা ছিল তার জন্য আমার । কিন্তু তার অতি লোভে সেই ভালোবাসাটা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি । ওর মনের মধ্যে একটাই চিন্তা ছিল , কি করে আমার সব কিছু মেরে ধরে ওর মেয়েদের জন্য সম্পদ বানাবে ।
এখন যে আমি সরে গিয়েছি এখন কি করে হঠাৎ সম্পদ বানানোর চিন্তা করবে ?
ওর মনের ভিতরে এই লোভ না থাকলে সে আজীবন আমার সাথে খুবি ভালো থাকতো হাসি , ঠাট্টা, আনন্দ, খুনসুটির মধ্যে দুইজনের জীবনটা খুবই ভালো কাটতো জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত।‌ কিন্তু বোকা মানুষ না বুঝে আমার উপর অনেক অত্যাচার করতো ।‌তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আমি বাধ্য হয়ে সরে আসলাম ।‌

কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করবো তার জন্য যদি ফিরে আসে ভালো মানুষ হয়ে !!

Want your business to be the top-listed Media Company in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Website

Address

Dhaka
DHAKA