Islam - Peace
জিকিরের মাধ্যমে অর্জিত হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি। দিল থেকে দূর হয় যাবতীয় দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি। এটি শয়তানের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। শয়তানের শক্তিকে রুখে দেয়।
হাদিসে বেশ কিছু জিকিরের কথা বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ অন্যতম। এই জিকিরের যেমন আছে মর্যাদা, তেমনি আছে কিছু শিক্ষণীয় দিক। নিম্নে তা তুল ধরা হলো—
একাত্ববাদের স্বীকারোক্তি : এতে রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকারোক্তি। এই জিকির যে পাঠ করবে সে এই বিশ্বাস লালন করে যে আল্লাহ তাআলা হলেন এই পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। তিনিই দোজাহানের প্রতিপালক। সব কিছু তাঁর হুকুমেই হয়। দুনিয়ার সব সৃষ্টি তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। তিনি মহাক্ষমতাবান। মহামহিম ও শক্তিধর।
নবীজির অসিয়ত : রাসুল (সা.) অনেক সাহাবিকে এই জিকির পাঠ করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। যেমন—আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘‘আমাকে রাসুল (সা.) সাতটি জিনিসের উপদেশ দিয়েছেন। তন্মধ্যে একটি হলো আমি যেন বেশি বেশি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ পড়ি। ’ কারণ এটি জান্নাতের খনি। ’’
(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২১৪১৫)
জান্নাতের খনি : এটি জান্নাতের খনি। হাজেম ইবনু হারমালা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘একদা আমি রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে পথ চলছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, হে হাজেম! তুমি বেশি বেশি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ পড়ো। কারণ এটি জান্নাতের খনি। ’ (সহিহুিল জামে লিল আলবানি, হাদিস : ৭৯০৭)
আল্লাহর সত্যায়ন : আল্লাহ তাআলা যাকে সত্যায়ন করেন তার জন্য রয়েছে ভরপুর কল্যাণ। তার জন্য রয়েছে কল্যাণ ও মঙ্গলের সুসংবাদ। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘যখন কোনো বান্দা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার বলে, তখন আল্লাহ তাআলা তাকে সত্যায়ন করেন। আর তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো ইলাই নেই আর আমি এক ও অদ্বিতীয়। আর বান্দা যখন লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ বলে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমি ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। ’ (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৩০৭৬)
শয়তান থেকে রক্ষা : আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘‘রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ‘বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে—তখন তাকে বলা হয়, তোমাকে সঠিক পথের দিশা দেওয়া হলো, তোমাকে যথেষ্টতা দান করা হলো, তোমাকে বাঁচিয়ে নেওয়া হলো। এবং শয়তান থেকে রক্ষা করা হলো। ’’
(তিরমিজি, হাদিস : ৩৪২৬)
পাপ মার্জনাকারী : আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর বুকে যদি কোনো বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলে তাহলে সব গুনাহ মাফ হয়ে যায় যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়।
(মুসনাদু আহমাদ, হাদিস : ৬৪৭৯)
মিরাজ রজনীতে হাবিব ও মাহবুবের এই একান্ত সাক্ষাতে যে বিষয়গুলো ঘোষণা হয়: আল্লাহকে ছাড়া কারও ইবাদত করবে না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে, নিকট স্বজনদের অধিকার দিতে হবে; মিসকিন ও পথসন্তানদের (তাদের অধিকার দিতে হবে); অপচয় করা যাবে না, অপচয়কারী শয়তানের ভাই; কৃপণতা করা যাবে না; সন্তানদের হত্যা করা যাবে না; ব্যভিচারের ধারেকাছেও যাওয়া যাবে না; মানব হত্যা করা যাবে না, (আত্মসাতের উদ্দেশ্যে) এতিমের সম্পদের কাছেও যাওয়া যাবে না; প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে হবে; মাপে পূর্ণ দিতে হবে; তা করা বা বলা যাবে না যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই; পৃথিবীতে গর্বভরে চলা যাবে না। এসবই মন্দ, তোমার রবের কাছে অপছন্দ। (সুরা-১৭ ইসরা, আয়াত: ২২-৪৪।)
তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সে ব্যক্তির জন্য জাহান্নাম হারাম করেছেন যে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪২৩)
আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তোষ অর্জনের উদ্দেশ্যে একাধারে ৪০ দিন তাকবিরে উলার (প্রথম তাকবির) সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারলে তাকে দুটি নাজাতের ছাড়পত্র দেওয়া হয়; জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ এবং মুনাফিকি থেকে মুক্তি। ’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৪১)
Click here to claim your Sponsored Listing.