Saoda's Kitchen
11/11/2021
জন্ডিস কোনো রোগ নয়। জন্ডিস মানে যকৃতের প্রদাহ বা হেপাটাইটিস। এটি রোগের লক্ষণ বা উপসর্গ মাত্র। অনেক সময় দেখা যায়- লহিত কণিকার ভাঙ্গনজনিত জন্ডিস (সাধারন সমস্যার) ক্ষেত্রে একটি নিদিষ্ট মেয়াদের মধ্যে এই রোগ এমনিতেই সেরে যায়।
জন্ডিস কী?
জন্ডিস বলতে আমরা বুঝি, লিভারের যেকোনো জটিলতার কারণে চোখ হলুদ হওয়া, প্রস্রাব হলুদ হওয়া, খাওয়ায় অরুচি, মুখগহ্বর হলুদ হওয়া এবং কারো কারোর ক্ষেত্রে চামড়া প্রযন্ত হলুদ হয়ে যাওয়া। এটাকে আমরা জন্ডিসের লক্ষণ হিসেবেও বলে থাকি। মানুষের রক্তে অনেক উপাদানের মধ্যে বিলিরুবিন একটি। এই বিলিরুবিনের উৎপত্তি রক্তের লোহিত কণিকা থেকে। রক্তের লোহিত কণিকা যখন স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়, তখনই লিভারে এই বিলিরুবিন তৈরি হয় এবং পরবর্তী সময়ে রক্তে প্রবাহিত হয়ে মল ও প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়। এই বিলিরুবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে এটি জমা হতে থাকে শরীরের বিভিন্ন কোষকলায়। আর তখন কোষকলার স্বাভাবিক রং পরিবর্তন হয়ে হলুদাভ হয়ে যায়। ত্বক ও চোখের ঝিল্লি হলুদ রং ধারণ করলে তা দৃশ্যমান হয় এবং জন্ডিস হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়। তবে জন্ডিস হওয়া মানে আমরা ধরে নেই লিভার কোনা কোনাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা আক্রান্ত।
জন্ডিস কেন হয় : একটা ভাইরাসজনিত কারণ, আর একটা ভাইরাসের বাহিরে। আমাদের শরীরে জন্ডিস হয় মুলত হেপাটাইটিস এ, বি, সি ও ই ভাইরাসের সংক্রমনের কারনে (অন্য কারন গুলা যেমন পিত্ত থলির সমস্যা, লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার ইত্যাদি কারন গুলা এই লেখায় বিবচেনায় নিলাম না)।
হেপাটাইটিস - এ ভাইরাস সংক্রমন জনিত জন্ডিস :
হেপাটাইটিস এ একটা ভাইরাস। যা ছড়ায় দূষিত পানি আর খাবারের মাধ্যমে। হেপাটাইটিস এ ছড়ানোর মাধ্যম হলো পানি ও খাবার। এই রোগ প্রাথমিকভাবে একজনের মুখ থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয় লিভার (যকৃৎ)। লিভারে হেপাটাইটিস এ হলে সাধারণত জন্ডিস হয়, ৩০-৩৫ শতাংশ হেপাটাইটিস এ আক্রান্ত রোগীর জন্ডিস হয়, বাকিরা টেরও পান না কবে, কোথায়, কীভাবে তাঁকে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসে আক্রান্ত করল।
হেপাটাইটিস এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সাধারণত নিজে থেকেই ভালো হয়ে যান। তবে যাঁদের জন্ডিস বেশি, বিশেষ করে যাঁদের রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা ১০ মিলিগ্রাম বা তার বেশি কিংবা জটিল সমস্যা আছে, তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জরুরি। কখনো কখনো এই রোগের কারণে লিভার ফেইলিউরের ঘটনা ঘটে। হেপাটাইিটস এ-র কোন কার্যকরী চিকিৎসা নেই। স্বাভাবিক ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস এ ভাইরাসে আক্রান্ত জন্ডিস কিছুদিন পর আপনা আপনিই ভাল হয়ে যায়।
মন্তব্য : যেহেতু হেপাটাইটিস - এ ভাইরাস সংক্রমন জনিত জন্ডিস এর কোন নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই (কোন ধরনের রিস্ক ফ্যাক্টর যেমন, ক্রনিক লিভার ডিজিজ, সিরোসিস, এস ও এল ইন লিভার, ডায়বেটিস, বয়স ইত্যাদি না থাকলে) চিকিৎসার দরকার ও নেই। সাধারনত হেপাটাইটিস - এ ভাইরাস সংক্রমন জনিত জন্ডিস আপনাআপনিই ভাল হয়ে যায়, তাই এই সুযোগটাই এই ভন্ড কবিরাজ রা নিয়ে থাকে। কিন্তু যদি বি, সি, ই ভাইরাস বা সিরোসিস, ক্যান্সার জনিত জন্ডিস হয় তাহেলে কিন্তু ওরা এটা ঠিক করতে পারবে না। এ ভাইরাস ছাড়া অন্য জন্ডিস গুলা কিন্তু মারাত্মক উপসর্গ্ তৈরি করে তাই দেখবেন সে গুলা কিন্তু তারা ভাল করতে পারে না। যেহেতু এ ভাইরাস জনিত জন্ডিসই বেশি হয় তাই ভাল ও হয় বেশি এবং এই ভন্ডদের কেরামতির খবর দেশে দেশে রটে যায়।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Contact the business
Telephone
Website
Address
Chittagong