Science and Tech Infinity
28/08/2024
ধোঁয়া কী?
কাঠ, কয়লা কিংবা অন্য কোন বস্তু যখন জ্বলে তখন তার থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে আসে। প্রকৃতপক্ষে জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। যদি জ্বালানির পূর্ণ দহন সংঘটিত হয়, তাহলে কোন ধোঁয়াই উৎপন্ন হবে না।
অধিকাংশ জ্বালানির ভিতর থাকে কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন এবং অল্প পরিমাণ সালফার। যখন কোন জ্বালানি জ্বলতে থাকে তখন তার থেকে আমরা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, জলীয়বাষ্প, নাইট্রোজেন এবং সামান্য পরিমাণ সালফার ডাই-অক্সাইড পাই। জ্বালানির পূর্ণ দহনের জন্য প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কারণ প্রজ্বলন হলো জারণ প্রক্রিয়া (oxidation)। এই প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন সংযুক্ত হয়। অক্সিজেনের ঘাটতি হলে জ্বালানির দহন পূর্ণ হয় না। তার ফলে ধোঁয়া বেরিয়ে আসে। প্রধানতঃ কার্বন-ডাই- অক্সাইড, জলীয়বাষ্প এবং কার্বনকণা নিয়েই ধোঁয়া গঠিত। ধোঁয়ায় যখন কার্বনকণার উপস্থিতি বেশি মাত্রায় হয় তখন সেই ধোঁয়া কালো বা ধূসর বর্ণের দেখায়। চিমনি বা নির্গম চোঙের দেওয়ালে এই কার্বনকণা জমা হয়। এই জমাকৃত কার্বনকণাকে ঝুলকালি (soot) বলে।
হাওয়াকে দূষিত করার সব থেকে বড় কলুষক (pollutent) হলো এই ধোঁয়া। স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে এই ধোঁয়া ভীষণ ক্ষতিকারক। শহরে জীবনে আজ এ এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি বায়ুমণ্ডলের হাওয়া একে ছড়িয়ে ছিটিয়ে না দিয়ে যায় ত শহুরের বায়ুমণ্ডল ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ভীষণভাবে। বিশেষ করে হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের পক্ষে এ ভীষণ ক্ষতিকারক।
অনেক রকম রোগ ব্যাধির কারণ হলো এই ধোঁয়া।
অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধোঁয়ার প্রয়োজন হয়। শীতের হাত থেকে ফলের বাগানকে রক্ষা করার কাজে ধোঁয়া ব্যবহৃত হয়। যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষকে প্রতারণা করার কাজে ধোঁয়াকে ব্যবহার করা হয়। বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্পকে একত্রীভূত করে বৃষ্টি আনতেও এ সাহায্য করে।
18/08/2024
এমন কোন পদার্থ আছে কি যা আগুনে পুড়ে না?
যখনই কোন বস্তু আগুনে ফেলা হয় তখনই তা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কিন্তু এ্যাসেসটস্ এমনই এক পদার্থ যা আগুনে জ্বলে না। আর এই জন্যই কোন আগুন লাগা বাড়িতে ঢুকবার সময় দমকলকর্মীরা এই এ্যাসেসটসের তৈরি জামা-কাপড় পরে নেয়। প্রকৃতপক্ষে তাদের জামা-কাপড়, জুতা, দস্তানা (Gloves). মাথার শক্ত টুপি বা শিরস্ত্রাণ (Helmet) প্রভৃতি সবই এই পদার্থের তন্তু দিয়ে তৈরি।
'এ্যাস্টেস্' কথাটি একটি গ্রীক শব্দ। এর অর্থ হলো অদাহ্য। এ পদার্থটির আবিষ্কার নতুন নয়। রোমদেশীয় লোকেরা ২,০০০ বছর আগেও এর ব্যবহার করত। তারা মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য এ্যাস্বেস্টসের পাত দিয়ে মৃতদেহকে মুড়ত।
খনি থেকে এ্যাস্টেস্ পাওয়া যায়। অলিভীন (Olivine) নামক এক প্রকার ধূসর সবুজ বর্ণের পদার্থের পৃথকীকরণের (Dissociation) ফলেই এর সৃষ্টি। এই অলিভীন-ক্যালসিয়ামও ম্যাগনেসিয়ামের সিলিকেট লবণ ছাড়া আর কিছুই নয়। খনি থেকে তোলা এ্যাস্বস্টস্কে প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। তারপর যন্ত্রের সাহায্যে এর তন্ত্রকে পৃথক করা হয়। এই তন্তু থেকে সরু সুতো বা দড়ি তৈরি হয়। তারপর এর থেকে তৈরি হয় কাপড়, পাত (sheet), মাদুর প্রভৃতি।
এস্বেস্টস্ খুব প্রয়োজনীয় পদার্থ। অদাহ্য কাপড়, কাগজ প্রভৃতি তৈরিতে এবং চুল্লীতে তাপ অপরিবাহী হিসেবে একে ব্যবহার করা হয়। বিল্ডিং এর ছাদের জন্য অদাহ্য বা অগ্নি-সহ (Fire-proof) টালি তৈরির কাজেও এ্যাস্বেস্টস্ ব্যবহৃত হয়। শীত প্রধান দেশে জলের পাইপের মধ্যে যাতে জল জমে না যায় তার জন্য পাইপের উপর এই এ্যাস্বস্টসের আবরণ লাগিয়ে দেওয়া হয়। আগুন সহ্যকারী রঞ্জক (paints), রবার, প্লাস্টার, এবং পোর্সেলিন তৈরির কাজে এ ব্যবহৃত হয়। এ্যাস্টেস্ তাপ ও বিদ্যুৎ কু-পরিবাহী। অম্ল (Acid) ও ক্ষার (Alkalies)- এর বিশেষ কোন ক্ষতি করতে পারে না। ২০০০ থেকে ৩০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়ও এ পুড়ে না। আজকাল এক বিশেষ ধরনের এ্যাস্বেসটস্ পাওয়া যায় যা ৫০০০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায়ও পুড়ে না। গবেষণাগারে গবেষণার কাজে একে ব্যবহার করা হয়।
পৃথিবীর মোট উৎপাদিত এ্যাস্বস্টসের শতকরা ৭৫ ভাগ উৎপাদিত হয় কেনাডায়। এ্যাস্পেসটসের তৈরি সব থেকে বেশি সংখ্যক জিনিস আমেরিকাই উৎপাদন করে—যদিও কাঁচামালের পরিমাণ সেখানে মাত্র শতকরা ৫ ভাগ ।
23/08/2023
অভিনন্দন ISRO. সফলভাবে চাঁদের মাটিতে অবতরন করার জন্য ।
তথ্য : ভারতের তৈরি মহাকাশযান চন্দ্রনারায়ণ-৩ সফলভাবে চাঁদের বুকে অবতরণ করেছে। এর মাধ্যমে ইতিহাস গড়লো ভারত৷ চাঁদে অবতরণ করা বিশ্বের চতুর্থ দেশ এখন ভারত। এবং চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণ করা একমাত্র দেশ এখন ভারত!
Source: ISRO
Click here to claim your Sponsored Listing.