Rafi Minhaz

Rafi Minhaz

Share

26/11/2025

শূন্য থেকে পার্সোনাল ব্র্যান্ড তৈরির যাত্রা শুরু করা আসলে কেমন?

প্রথমেই একটা ভুল ধারণা ভাঙা দরকার। পার্সোনাল ব্র্যান্ড মানে আগে কিছু 'হয়ে যাওয়া' না। এটা ঠিক উল্টো। আগে শুরু করা, তারপর ধীরে ধীরে হওয়া।
আমি যখন প্রথম অনলাইনে টক শো হোস্ট করেছিলাম, তখন কোনো পরিষ্কার আইডেন্টিটি ছিল না। আমি নিজেও জানতাম না পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চাই। আমি শুধু একটা জিনিস জানতাম। আমি শিখতে চাই, মানুষকে বুঝতে চাই, আর যেটা শিখছি সেটা বলতে চাই।
এখান থেকেই আসল শুরুটা।

শূন্য থেকে শুরু করার মানে কিন্তু হঠাৎ বড় কিছু করা না। মানে হলো নিজের দিকে একটু পরিষ্কারভাবে তাকানো।
তুমি এখন স্টুডেন্ট। তোমার কাছে হয়তো অভিজ্ঞতার পাহাড় নেই, কিন্তু শেখার পথ জানা আছে আর রিসোর্সও আছে। এই পথটাই তোমার ব্র্যান্ডের র ম্যাটেরিয়াল।

শুরুটা হয় তিনটা সহজ জিনিস দিয়ে।
প্রথমত, তুমি কী শিখছ এখন। ক্লাসে না, বাস্তবে। কোন স্কিলটা চেষ্টা করছ, কোন কাজে স্ট্রাগল করছ, কোন বিষয়টা তোমার মাথা ঘুরাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, তুমি কীভাবে ভাবো। দুইজন একই জিনিস শিখলেও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক হয় না। এই পার্থক্যটাই মানুষ মনে রাখে। তৃতীয়ত, তুমি কোন ধরনের কাজ করতে ভালোবাসো। লিড দেওয়া, প্ল্যান করা, কথা বলা, বিশ্লেষণ করা, নাকি চুপচাপ কাজ করা।
এই তিনটা পরিষ্কার হলে, কনটেন্ট আপনাআপনি আসে।
অনেকেই ভাবে কী লিখব বুঝি না। আসলে 'কী শিখছি' আর 'কীভাবে শিখছি' বলা শুরু করলেই লেখা তৈরি হয়ে যায়। বড় নলেজ শেয়ার করার দরকার নেই। শেখার মুহূর্তগুলোই যথেষ্ট।

আরেকটা জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একদিন একদম নিখুঁত হয়ে উঠতে হবে এমন ভাবনা বাদ দাও। পার্সোনাল ব্র্যান্ড নিখুঁত মানুষের তৈরি করা কিছু না। এটা তৈরি হয় ধারাবাহিক মানুষের হাত ধরে। আমি নিজে কখনো একদিনে ভাবিনি এটাই আমার কাজ। ছোট ছোট স্টেপ, ছোট স্টেজ, ছোট অডিয়েন্স। সেখান থেকেই পরিচয়টা দাঁড়ায়।

স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কমন ভুল হলো অপেক্ষা করা। ভাবা, আরেকটু শিখি, আরেকটু রেডি হই, তারপর শুরু করব। এই 'তারপর' বেশিরভাগ সময় আর আসে না।
তাই দ্বিতীয় পর্বের মূল কথা খুব সিম্পল। পার্সোনাল ব্র্যান্ড শুরু হয় প্রশ্ন দিয়ে না, কাজ দিয়ে। যেটুকু জানো, যেভাবে ভাবো, সেটা আজ থেকেই বলা শুরু করো।

পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং ফর স্টুডেন্টস সিরিজ
পর্ব - ২
Rafi Minhaz

19/11/2025

কিভাবে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারের ইলেকশন ক্যাম্পেইনের এগেইনস্টে গিয়ে এই ৩৪ বছর বয়সী ইমিগ্র্যান্ট মুসলিম রাজনীতিবিদ নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হলেন এটা একটা বিশাল কেইস স্টাডি হতে পারে।

মার্কেটিং প্র্যাকক্টিশনারদের জন্য এখানে চিন্তার খোরাক আছে। কিভাবে অর্গানিক কন্টেন্ট তাকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসল এগুলো নিয়ে রীতিমত রিসার্চ প্রয়োজন।

এমন একজন ব্যক্তি নিউইয়র্কের মত শহরে মেয়র হলেন যিনি ছিলেন একজন একজন দক্ষিণ এশীয় উগান্ডার ইমিগ্র্যান্ট। উগান্ডা থেকে আমেরিকা আসলেন মাত্র ৭ বছর বয়সে। ২০১৮ সালে নাগরিকত্ব পাওয়া এই ইমিগ্র্যান্ট মুসলিম যুক্ত হন সোশ্যালিস্ট ডেমোক্র্যাট পার্টিতে যার রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন।

কেন আমি এই বিজয়কে অসাধ্য সাধন বলছি তার একটু কনটেক্সট দিই আগে তাহলে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। মামদানি নির্বাচন করেন বিলীয়নার মডারেট/সেন্ট্রিস্ট ডেমোক্র্যাট এন্ড্রো কিউমো যার কিনা দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস আর রয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা। তার বিরোধী প্রার্থীরা এবং তাদের সমর্থক ব্যবসায়িক গ্রুপগুলো খরচ করেছে ১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি (কমেন্টে ছবি দেওয়া আছে)। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া হাউসগুলো ছিল এন্ড্রু কিউমো এর দখলে। নিউইয়র্কে ১২% ইহুদী বসবাস করে এবং তাদের মধ্যে থেকেই মামদানি বলেছেন নে;তা*নি'য়া/হু নিউইয়র্কে আসলে গ্রেফতার করবেন। তারপরেও তিনি সমর্থন পেয়েছেন নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের।

কিন্তু এত টাকার এবং মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার বিপরীতে গিয়ে মামদানি করেন সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর ক্যাম্পেইন। তিনি যাওয়া শুরু করলেন বিভিন্ন পডকাস্টে। একই কাজ আমেরিকার জাতীয় নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও করতে দেখা যায়।

আমি শুধুমাত্র তিনটা লেসন শেয়ার করি তার এই কেইস থেকে। তিনটা ফলো করে অ্যাপ্লাই করতে পারলে বহুদূর এগিয়ে যাবেন।

মামদানির ইন্সটাগ্রামে রয়েছে প্রায় ৭.১ মিলিয়ন ফলোয়ার এবং ইউটিউবে রয়েছে ২ লাখ ৩৩ হাজার সাবস্ক্রাইবার! মামদানি কনটেন্টকে নিয়ে গেছেন নেক্সট লেভেলে। নিউইয়র্ক শহর এতটাই এক্সপেন্সিভ হয়ে গিয়েছিল যে ২০২০ এর পর থেকে প্রায় ১ মিলিয়ন মানুষ নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে অন্যান্য স্টেটে চলে গিয়েছিল। তাই মামদানি তার ক্যাম্পেইনে বারবার বলেছেন, "I am going to make this city affordable" যেটা তার ক্যাম্পেইনের মেসেজকে খুবই অর্থবহ করেছে।

মামদানি ১৫ দিনের "হাঙ্গার স্ট্রাইক" করেছেন ট্যাক্সি ওয়ার্কারদের জন্য। নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া তিনি ফ্রিজ করে দিবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি আরো প্রমিজ করেছেন তিনি বাস ফ্রি করে দিবেন এবং গ্রোসারি সহজলভ্য করবেন। তিনি কাজ করেছেন নিউইয়র্কে বসবাসরত ইমিগ্র্যান্টদের জন্য। তিনি তার প্রমিজে এমন কিছু রাখেননি যা মানুষ কানেক্ট করতে পারবেনা। মার্কেটিংয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল অডিয়েন্সকে কানেক্ট করতে পারা - সহজ এবং সরল ভাষায়। সেটাই তিনি কন্টেন্টের মাধ্যমে করেছেন।

মার্কেটিংয়ে অথেন্টিসিটির গুরুত্ব অনেক বেশি। মানুষ সেই এডভার্টাইজমেন্টে একশন নেয় যেটা অথেনটিক। মামদানির প্রত্যেকটা কন্টেন্টে অথেনটিসিটি ফুটে উঠেছিল। তার হাস্যোজ্জ্বল চেহেরা এবং আত্মবিশ্বাসী কন্ঠস্বর মানুষকে তার উপর ভরসা করতে বাধ্য করেছে।

আপনার কি মনে হয় মামদানি খুব নিকট ভবিষ্যতে আমেরিকার জাতীয় রাজনীতিতে একজন এমন গুরুত্বপূর্ণ ফিগারে পরিণত হতে যাচ্ছেন যে তিনি প্রেসিডেনশ্যাল ইলেকশানে রিপাবলিকানদেরকে টেক্কা দিবেন?

26/05/2024

সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে মার্কেটিং বিভাগ আর আমাদের ভালোবাসার Marketing Society for Leadership Proliferation - MSLP ♥️

Want your business to be the top-listed Media Company in Chattogram?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Culinary Team

Attire

Address

Chattogram
Chattogram