Goalmath RL High school
24/11/2024
17/01/2022
, #ছবি_প্রতিকৃতি_হয়ে_ওঠার_রসায়ন☺️
"অমর আত্মার আবেদন" কবিতা টি লেখা শেষে ছবিটা অংকন করার জন্য হাত বাড়াই। ছেলেবেলা থেকেই ছবি আঁকার সখ ছিল বলেই আবেদনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতেই সৃষ্টিকর্তার নাম নিয়ে শুরু করলাম। কিন্তু তাঁর মত বিরাট ব্যক্তিত্বের ছবি আঁকা আমার মত ক্ষুদে সখের শিল্পীর পক্ষে কত যে কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা৷ সাধারণ মানুষের বা কোনো কাল্পনিক মানুষের ছবি আঁকা অতটা কঠিন নয়। যেহেতু মুখাকৃতি ,নাক ,চোখ ইত্যাদি অনুরুপ হলেই তার ছবি সঠিক হয়েছে বলে স্বীকৃত হয়। কিন্তু তাঁর মত বড়মাপের মানুষের ছবির বেলায় সামনে এসে যায় ব্যক্তিত্বের প্রশ্নটি। অবয়বের সবকিছু অনুরুপ হলেও ব্যক্তিত্বটা ছবিতে বাঁধা না পড়লে তা ছবি হতে পারে, শিল্পকর্ম হতে পারে কিন্তু তা প্রতিকৃতি হতে পারে না।
তাকে চোখে দেখিনি, শুধু স্বপ্নে দেখেছি, তাতো কাল্পনিক প্রতিকৃতি। বাস্তবে তারপরে ভর করে ছবি করা চলেনা । ধ্বংস প্রায় ছবিটার মুখের অধিকাংশ পোঁকায় খাওয়া, বাকী বাম পাশের অংশটা মোটামুটি বোঝা যায়। তার পরেও সাহসে বুক বেঁধে কাজ শুরু করলাম। দু'দিনের বিরতিহীন চেষ্টার ফলে ছবিটা শেষ হল। রং - তুলির আঁচড়ে মূর্তমান হয়ে উঠলো ছবি। শিল্পীর স্বভাবসুলভ মনোভাব নিয়ে কয়েক গজ দূরে গিয়ে ছবির দিকে ফিরে তাকাতেই আনন্দে চোখ দুটো অশ্রুসজল হয়ে উঠলো। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, আমার স্বপ্নে পাওয়া মহাপুরুষ কে।সেই গাম্ভীর্য্য নিয়েই স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে। ভালো যে কি লাগছিলো,তা বোঝাতে পারবো না। আনন্দে কয়েক ফোঁটা চোখের জল গড়িয়ে পরলো মেঝেতে। সাফল্যের আনন্দে কানায় কানায় ভরে উঠলো আমার হৃদয়। মূহুর্তের মধ্যে উবে গেল কঠিন শ্রমক্লান্তি।তবু মনের মাঝে কোথায় যেনো একটু ছায়া রয়েই গেল। এটা কি শুধু ছবি নাকি প্রতিকৃতিও হয়েছে !!! এ প্রশ্নের জবাব কে দেবে? দিতে পারে এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমার আব্বা স্যারের(বাবু রসিকলাল চক্রবর্তী) সরাসরি ছাত্র ছিলেন। কিন্তু তিনিও বেঁচে নেই, তাই আমার স্বপ্ন পূরণের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। এমন সময় আল্লাহ এর আশীর্বাদের মত একটা সুযোগ এসে গেল। একদিন বিকেল বেলা খেলার মাঠে যাওয়ার আগে চা- এর জন্য সুধীর দা'র রেস্টুরেন্টে ঢুকে দেখি একজন অশীতিপর বৃদ্ধ, মাথায় টুপি, সাদা চুলদাড়ি। আমার অচেনা-অনাত্মিয় হলেও শুধু মাত্র বয়সের কারণে আমি ছালাম করে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছিলাম। উনি আমাকে কাছে ডেকে নাম, বাবার নাম জানতে চাইলেন। আব্বার নাম শুনেই উঠে সজোরে আমাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে প্রায় কেঁদে ফেললেন। বল্লেন, " তুমি আমার বন্ধু নওয়াবজান সরদারের ছেলে !! আমি আঃ আজিজ খান। তোমার বাবা আর আমি এই স্কুলে একসাথে পড়াশোনা করেছি। আর আজ তুমি সেই স্কুলেরই শিক্ষক।"
এটা শোনার সাথে সাথে আমি যেন আনন্দে আত্মহারা, আমার স্বপ্ন বুঝি এবার সফল হয়। আমি ওনাকে কিছু বলতে যাবো কিন্তু ওনার বলা তখনো একটুও থামেনি। উনি চোখ বন্ধ করে বলে চলেছেন,"তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন রায় সাহেব রসিক লাল চক্রবর্তী। আজও স্পষ্ট মনে আছে তাঁর চেহারা, তার সেই রাশভারি ব্যক্তিত্ব, সাক্ষাৎ দেবতা !!" বলে ঠিক সনাতন ধর্মাবলম্বিদের মত হাত জোড় করে কপালে ঠেকে স্যারের উদ্দেশ্যে প্রণাম করলেন। আমি চোখ মুছলাম, উনিও চোখের জল মুছে বললেন, আমার বাড়ি চিংড়িখালি হলেও এই স্কুলে পড়ার সুবাদে তোমার বাবার সাথে ছিল আমার দারুন ভাব ছিল। অনেকবার গিয়েছি-খেয়েছি তোমাদের বাড়িতে। তোমার দাদু আ্ঃ গফুর সরদার ছিলেন দারুণ প্রভাবশালী ব্যক্তি। স্থানীয় জমিদারও ওনাকে দারুন সমীহ করে চলতেন"৷ তার শেষের দিকের কথা গুলোর দিকে আমার এতটুকুও মনোযোগ ছিল না। ওনাকে একটু থামতে দেখেই বলে ফেললাম, " আপনি একটু কষ্ট করে যাবেন আপনার বিদ্যালয়ে? লাইব্রেরীর চাবি আমার কাছে আছে।" " অবশ্যই, অবশ্যই যাবো, চলো চলো ।" বলেই যেন আমার আগেই চলতে শুরু করলেন। আমি বললাম, " আপনি আস্তে আস্তে আসুন কাকা, আমি লাইব্রেরীটা খুলে আপনাকে সব দেখানোর ব্যবস্থা করি।" বলে দ্রুত পা বাড়ালাম। মনে মনে ভাবছি ছবিটা দেখে না জানি উনি কি মন্তব্য করেন। দুরু দুরু বক্ষে এগিয়ে তড়িঘড়ি করে লাইব্রেরীর ভেতরের সবকটা আলো জ্বেলে প্রবেশ পথের ঠিক মুখোমুখি আলমারির উপরে ছবিটা রেখে দেই যাতে করে ঢুকতেই চোখে পড়ে,পেছন ফিরতেই দেখি উনি বারান্দায় উঠে এসেছেন। "
" আসুন কাকা আসুন " বলেই হাত ধরে ভেতরে আনার চেষ্টা করতে উনি বিস্ময়কর একটা কান্ড করে ফেললেন।ছবিটার দিকে চোখ পড়তেই আমার হাত খানা জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে হঠাৎ করে নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ এর মত হাত জোড় করে মেঝেতে যসরাসরি উপুড় হয়ে প্রণাম করলেন।এভাবে কিছুক্ষণ রইলেন। এবার আমার মনের অবস্থা কাউকে আর বোঝানোর প্রয়োজন হবে না বোধকরি।
বুঝলাম আমি স্বার্থক শিল্পী, বুঝলাম এই মহা পুরুষের মহান ব্যক্তিত্ব তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি। মনে মনে শতবার বললাম " আলহামদুলিল্লাহ " "Thanks God"। যে সময়ে ঘটনা তখন আগের দিনের মানুষ হিন্দু - মুসলিম নির্বিশেষে একে অন্যের সাথে দেখা হলে "নমস্কার" বলে ভাব বিনিময় করতো।, প্রণাম ও করতো তাতে কেউ কিছু মনে নিতো না। উনি প্রণাম ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে বললেন " বহুদিন পরে আমার প্রথম জীবনের শিক্ষা গুরুকে যেন জীবন্ত দেখলাম। সেই চাহুনি, সেই গাম্ভীর্য্য,সেই রাস ভারী ব্যক্তিত্ব যেন স-শরীরে আমার সামনে । একেবারে আমার জীবন্ত স্যারকে দেখলাম। " আমার আনন্দ আরও বেড়ে গেল। তার পায়ে হাত ঠুকে ছালাম করে বললাম" কাকা, এই ছবিটা কিন্তু আমার হাতে আঁকা"
"তাই !! "
"জী ।"
উনি আমাকে আরও একবার বুকে জড়িয়ে ধরলেন।
*** লেখাটি প্রিয় সুধা স্যার এর ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগ্রহীত ***।
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Telephone
Website
Address
Bagerhat
9311