Wild Collection
14/02/2026
সুন্দরবন দিবস ২০২৬💚
আসুন সুন্দরবনকে ভালোবাসি
১৪ ফেব্রুয়ারি পালিত ‘সুন্দরবন দিবস’ বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন ও ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ‘সুন্দরবন’-এর অনন্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা।
সুন্দরবনে রয়েছে ৫ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ, ১৯৮ প্রজাতির উভচর প্রাণী, ১২৪ প্রজাতির সরীসৃপ, ৫৭৯ প্রজাতির পাখি, ১২৫ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী ও ৩০ প্রজাতির চিংড়ি মাছ। এর বাইরে এই বন অজস্র উদ্ভিদ-প্রাণিকূলের আশ্রয়স্থল।
সুন্দরবন দিবসের প্রধান গুরুত্বসমূহ:
🌲জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা
🌲জনসচেতনতা সৃষ্টি
🌲প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে সুরক্ষা
🌲অর্থনৈতিক ও বাস্তুতান্ত্রিক গুরুত্ব
Wild Collection Wild Collection🍁
06/11/2025
#জানা_অজানাঃ- ৮২
“সাকার ফিশ (Suckermouth Catfish)”
যতক্ষণ কাচের অ্যাকুয়ারিয়ামে, ততক্ষণ নিরাপদ । বাইরে এলেই সাকার ফিশ হয়ে ওঠে জলাশয় ও জলজ জীববৈচিত্র্যের নীরব মৃত্যুদূত!
আমাদের দেশের নদী, খাল, বিল আর জলাশয়গুলো একসময় ছিল দেশীয় মাছের স্বর্গরাজ্য। কিন্তু আজ সেই শান্ত জলে নেমেছে এক বিদেশি আতঙ্ক, Pterygoplichthys spp. যাকে সবাই চেনে Suckermouth catfish বা common pleco নামে। বাংলাদেশে একে আবার লোকজন রোহিঙ্গা মাছও বলে তবে দেখতে কুমিরের মতো চওড়া মাথা, শরীরে বর্মের মতো শক্ত আঁশ থাকায় তাই অনেকেই একে ক্রোকোডাইল ফিশও বলে। অ্যাকুয়ারিয়ামের কাচ পরিষ্কার করে বলে একে অনেকে অন্যান্য রঙিন মাছের সাথে কিনে আনে। এরা দক্ষিণ আমেরিকার নদী থেকে এসেছে মানুষের ঘরে ঘরে ছোট্ট অ্যাকুয়ারিয়ামে । কিন্তু বড় হয়ে গেলেবা জায়গা না থাকলে, অনেকে একে স্থানীয় পুকুর খালে ছেড়ে দেওয়ায় শুরু হয় এক নীরব আগ্রাসন।
এই মাছ একটা ইনভেসিভ প্রজাতি। একবার কোনো জলাশয়ে ঢুকে পড়লে, একে থামানো প্রায় অসম্ভব। এরা অক্সিজেন কম, দূষিত এমনকি কাদাযুক্ত জলেও দিব্যি টিকে থাকে। মুখের বিশেষ আকৃতির কারণে তারা পাথর, বাঁধ বা ট্যাংকের দেয়ালে শক্তভাবে লেগে থাকে, এবং এরা সর্বভুক ! মৃত উদ্ভিদ, শৈবাল, পচা জৈব , মরা মাছ ,ছোট মাছ ,মাছের ডিম খেয়ে বেঁচে যায়। ফলে দেশীয় মাছদের সঙ্গে খাদ্যের জন্য ও বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক হলো এদের প্রজনন কৌশল। তারা জলাশয়ে গর্ত খুঁড়ে ডিম পাড়ে ,ফলে নদী বা পুকুর ঘোলা হয়ে যায়, এবং দেশীয় মাছদের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হয়। স্ত্রী মাছ একবারে 150-200 ডিম পাড়ে, আর পুরুষ মাছ সেই ডিম পাহারা দেয় ফলে অল্প সময়েই এদের সংখ্যা বিস্ফোরকভাবে বেড়ে যায়। এরা বছরে একাধিক বার ডিম পারতে পারে । এই আগ্রাসনের প্রভাব এখন চোখে দেখা যাচ্ছে। ,ল্যাঠা , চ্যাং,কই ,শিঙ্গি ,খোলসে ,শোল, টেংরার মতো দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জেলেদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর সাকার ফিশ, যা বিক্রি হয় না ! উপরন্তু এদের শক্ত আঁশ জাল ছিঁড়ে দেয়। অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে, আর জলাশয়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে।
অনেকেই ভাবছেন যে মাছ দক্ষিণ আমেরিকায় জন্ম নিয়েছে, সেখানে কেন কোনো সমস্যা নেই?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রকৃতির ভারসাম্যে। দক্ষিণ আমেরিকার নদীগুলিতে রয়েছে এদের প্রাকৃতিক শত্রু যেমন পিরানহা, আরাপাইমার মতো মাছ থেকে বড় মাংসাশী ক্যাটফিশ এবং কুমির যারা এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া, ওখানে আরও অনেক দেশীয় ক্যাটফিশ প্রজাতি আছে, যাদের সঙ্গে খাদ্য ও জায়গার প্রতিযোগিতায় এরা খুব বেশি সংখ্যায় বাড়তে পারে না। কিন্তু ভারতে এই মাছের প্রাকৃতিক শত্রু বা প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই। এখানকার জলাশয়ে বড় শিকারি মাছ কমে গেছে, নদীগুলির প্রবাহ দুর্বল, আর জলাশয়ের মানও বদলে গেছে। ফলে সাকার মাছ এখানে একপ্রকার রাজত্ব করছে কোনো বাধা নেই, কোনো শিকারি নেই, শুধু দ্রুত প্রজনন আর দখল।
এই আগ্রাসন রুখতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অ্যাকুয়ারিয়ামের মাছ কখনোই স্থানীয় জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সরকার ও প্রশাসনের উচিত জলাশয়গুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা, আর সাধারণ মানুষকেও জানতে হবে এই সুন্দর দেখতে বিদেশি মাছও একদিন আমাদের দেশীয় জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মৃত্যুবার্তা হতে পারে।
@ Aditi Prakriti Kannya
Wild Collection Wild Collection🍁
Click here to claim your Sponsored Listing.
Category
Website
Address
Badda